প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গার স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও সক্রিয় ভূমিকা দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে তিনি এ সংকটের স্থায়ী সমাধানে বৈশ্বিক উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের একটি পরিকল্পনা প্রণয়ন, মানবিক সহায়তা বৃদ্ধি এবং সংকট নিরসনে সমন্বিত আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তাব তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রোহিঙ্গা বিষয়ক বক্তব্যের প্রেক্ষিতে বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত আইরিন খান মন্তব্য করেন, প্রকৃত সংকট আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অঙ্গীকারের ওপর নির্ভরশীল। তিনি বলেন, ১২ লাখ রোহিঙ্গার জন্য পর্যাপ্ত সহায়তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সংকটের স্থায়ী সমাধানে বিশ্বকে এগিয়ে আসতে হবে।
আইরিন খান উল্লেখ করেন, রোহিঙ্গা জনগণের জন্য অর্থসহায়তা কমছে এবং বিশ্বের মনোযোগও অন্যদিকে সরে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সহায়তা নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
জাতিসংঘের শরণার্থী সহায়তা ব্যবস্থা কক্সবাজারে থাকা দশ লাখের বেশি রোহিঙ্গার চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হচ্ছে কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে আইরিন খান বলেন, প্রকৃত সংকট আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অঙ্গীকারের ওপর নির্ভরশীল। প্রথমত, এই ১২ লাখ শরণার্থীকে সহায়তা দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, দেশের একটি কঠিন সময়ে বাংলাদেশ সরকারের পাশে দাঁড়াতে হবে। তৃতীয়ত, রোহিঙ্গা সঙ্কটের একটি স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করতে হবে।
বিশ্বের বৃহত্তম শরণার্থী রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী বর্তমানে অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। তারা জনাকীর্ণ আশ্রয় শিবিরে বসবাস করছে, যেখানে সহায়তা প্রয়োজনের তুলনায় কম এবং মানবিক সহায়তা ক্রমাগত কমছে।
আইরিন খান ‘রোহিঙ্গা শিশুরা আশ্রয় শিবিরে কঠিন পরিস্থিতিতে বেড়ে উঠছে’ উল্লেখ করে বলেন, রোহিঙ্গারা ৯ বছর ধরে আশ্রয় শিবিরে আছেন। শিশুরা সেখানেই বড় হচ্ছে। প্রতিবছর ১২ লাখ শরণার্থীর সংখ্যা আরও বাড়ছে। শিবিরগুলোতে বছরে প্রায় ৩০ হাজার শিশুর জন্ম হচ্ছে। তাদের ভবিষ্যৎ কী? শরণার্থী শিবিরে ৯ বছর কাটানো একটি দীর্ঘ সময়।
আইরিন খান বলেন, এ কারণেই আমাদের প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, জাতিসংঘ এবং অঞ্চলের ভেতরে ও বাইরের সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমাধানের লক্ষ্যে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। রোহিঙ্গা সংকটের মূল উৎস মিয়ানমারে। আমরা বিশ্বাস করি, এর সমাধানও সেখানেই নিহিত। শরণার্থীরাও নিজ দেশে ফিরতে আগ্রহী, তবে তারা নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে ফিরতে চান। আমরা চাই, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বিষয়টির প্রতি মনোযোগ দিক।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে কী ধরনের সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার আশা করছেন? এবং মিয়ানমার সমাধানের বিষয়ে কতটা আগ্রহী? এই প্রশ্নের উত্তরে আইরিন খান বলেন, আমরা চাই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, বিশেষ করে জাতিসংঘ, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আলোচনার টেবিলে আনুক। সেখানে থাকবে আশ্রয়দাতা দেশ বাংলাদেশ, এই অঞ্চলের অন্যান্য দেশ এবং অবশ্যই মিয়ানমার। আরও থাকবে দূরবর্তী সেই সব দেশ, যাদের মিয়ানমারের ওপর প্রভাব রয়েছে কিংবা এই প্রক্রিয়ায় অর্থায়নের সামর্থ্য আছে।
আমরা এমন একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া চাই, যার মাধ্যমে মিয়ানমার সরকারকে তার জনগণকে ফিরিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব পালন করতে হবে। পাশাপাশি মিয়ানমারের ভেতরেও প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে হবে, যাতে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা নিরাপদে ফিরতে পারে।
জাতিসংঘের ভূমিকা ও প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে ক্রমবর্ধমান সমালোচনা বিষয়ক প্রশ্নের উত্তরে আইরিন খান বলেন, জাতিসংঘের একার পক্ষে এসব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে নিজেদের দায়িত্ব আরও গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে, বিশেষ করে নিরাপত্তা পরিষদের ভেটো ক্ষমতাধারী দেশগুলোকে। তাদের আরও কার্যকরভাবে একসঙ্গে কাজ করা প্রয়োজন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন