প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্দার ভুচিচ পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ছাত্রদের নেতৃত্বে চলমান আন্দোলন এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চলছিল। সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বৃদ্ধি পাচ্ছিল। এই পরিস্থিতিতে তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
রাজধানী বেলগ্রেডের প্রেসিডেন্ট ভবনের বাইরে সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন ভুচিচ। তিনি উল্লেখ করেন, তার নয় বছরের শাসনকালে দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় ছিল। জুন মাসে তিনি পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। বর্তমানে তিনি আসন্ন সংসদ নির্বাচনে নিজের দলের প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হতে আগ্রহী। সংবিধান অনুযায়ী, তিনি তৃতীয়বার প্রেসিডেন্ট পদে দাঁড়াতে পারবেন না।
রাশিয়াপন্থী এই জনতুষ্টিবাদী নেতার সরকার শুরু থেকেই জনগণের ক্ষোভের মুখে ছিল। অভিযোগ ছিল, নির্মাণকাজে নিয়ম না মেনে খরচ কমানোর কারণে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে।
২০২৪ সালে নভি সাদ রেলস্টেশনের ছাদ ভেঙে পড়ার ঘটনায় ১৬ জনের মৃত্যু হয়। এই ঘটনাটি সরকারের বিরুদ্ধে জনরোষ সৃষ্টি করে।
বিভিন্ন পেশার মানুষ আন্দোলনে অংশ নেন। ছাত্র, শিক্ষক, শ্রমিক ও কৃষকরা রাস্তায় নেমে আসেন। দেশটির টেনিস তারকা নোভাক জকোভিচও আন্দোলনকে সমর্থন করেছিলেন। তবে এই কিংবদন্তি টেনিস খেলোয়াড়কে শেষ পর্যন্ত দেশ ত্যাগ করতে হয়েছিল।
আন্দোলনকারীরা মনে করেন, ওই দুর্ঘটনা আসলে ভুচিচের দল প্রোগ্রেসিভ পার্টির দীর্ঘ শাসনের ব্যর্থতার প্রতিফলন। স্টেশনটির সংস্কারের সঙ্গে ভুচিচের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। এটি সার্বিয়ার অগ্রগতির প্রতীক হওয়ার কথা ছিল। ভুচিচের অধীনে থাকা কয়েকজন কর্মকর্তা পদত্যাগ করেন, কিন্তু আন্দোলনকারীরা শান্ত হননি। গ্রীষ্মজুড়ে বিক্ষোভ চলতে থাকে। পুলিশের নির্যাতনের অভিযোগের কারণে বিক্ষোভ অশান্ত হয়ে ওঠে।
ভুচিচের মেয়াদ আগামী বছর শেষ হওয়ার কথা ছিল। সংবিধান অনুযায়ী, পদত্যাগের তিন মাসের মধ্যে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করতে হয়। তাই বছরের শেষের আগে সার্বিয়ার জনগণ দুইবার ভোট দিতে হবে। ভুচিচ জানিয়েছেন, অক্টোবরের শেষ দিকে আগাম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হবে তার এক মাসেরও বেশি পরে। আন্দোলনের চাপেই এই আগাম সংসদ নির্বাচনের ডাক দেওয়া হয়েছে। আন্দোলনকারীদের দাবির তালিকায় ভোটের দাবি অন্তর্ভুক্ত ছিল।
ভুচিচ আগেই জানিয়েছিলেন, তিনি ওই নির্বাচনে প্রোগ্রেসিভ পার্টির নেতা হিসেবে লড়বেন। ফলে সার্বিয়ার রাজনীতির শীর্ষ পদে তার থেকে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত সংসদের স্পিকার আনা ব্রনাবিচ অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করবেন। তিনিও প্রোগ্রেসিভ পার্টির সদস্য।
ভুচিচ সংবিধানের ক্ষমতা ব্যবহার করে ৪৯ জনকে ক্ষমা করেছেন। তাদের মধ্যে ২৩ জন ছাত্র এবং দলের অনুগত কয়েকজন রয়েছেন। সার্বিয়ার সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম আরটিএসের তথ্য অনুযায়ী, তারা গত দেড় বছরের ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন অপরাধের সন্দেহভাজন ছিলেন। ভুচিচ ওই ঘটনাগুলোকে ‘ভয়াবহ ঘটনা, যা আমরা গত দেড় বছরে পার করে এসেছি’ বলেছিলেন।
আসন্ন সংসদ নির্বাচনে ভুচিচের প্রোগ্রেসিভ পার্টির প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে দুটি পক্ষ। একটি হলো ছাত্রদের নেতৃত্বাধীন দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন ‘স্টুডেন্টস উইন’। অন্যটি পশ্চিমাপন্থী বিরোধী দলগুলোর জোট ‘ইউরোপীয় সার্বিয়া’।
ভুচিচ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে সার্বিয়ার রাজনীতির পরিচিত মুখ। ২০১৪ সালে তিনি প্রধানমন্ত্রী হন এবং ২০১৭ সালে প্রথমবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। তিনি প্রকাশ্যে বলেছেন, সার্বিয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগ দিতে চায়, এটাই তার ইচ্ছা। তবে একই সময়ে তিনি রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছেন এবং চীনের বিনিয়োগের জন্য দেশের দরজা খুলে দিয়েছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন