বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৬:২৮ পি.এম
ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মোড় এনে কাতারের রাজধানী দোহায় স্বাক্ষরিত হয়েছে চার জাতির একটি নতুন প্রতিরক্ষা সমঝোতা স্মারক, যা ‘বদর চুক্তি’ (Badr Memorandum of Understanding) নামে পরিচিত। এই চুক্তিটি তুরস্ক, পাকিস্তান, কাতার এবং ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছে। চুক্তির মূল উদ্দেশ্য হলো—প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের যৌথ উৎপাদন, প্রযুক্তি বিনিময়, সামরিক গবেষণা ও উন্নয়ন (R&D) এবং উন্নত কারিগরি প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেওয়া। অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর সামরিক সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে একটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষা শিল্প ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
ইসলামের ইতিহাসের ঐতিহাসিক ‘বদর যুদ্ধ’ এবং এর আরবি অর্থ ‘পূর্ণিমার চাঁদ’-এর সাথে মিলিয়ে এই চুক্তির নামকরণ করা হয়েছে ‘বদর’। বিশ্লেষকদের মতামত অনুযায়ী, এই চুক্তির মাধ্যমে চার দেশের নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোর সামরিক চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে। বিশেষ করে, তুরস্কের উন্নত ড্রোন প্রযুক্তি, সাঁজোয়া যান এবং ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেমের সাথে ইন্দোনেশিয়া ও পাকিস্তানের উৎপাদন সক্ষমতা এবং কাতারের বিশাল আর্থিক বিনিয়োগ এই চুক্তিকে বৈশ্বিক প্রতিরক্ষা বাজারে একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্লকে পরিণত করতে পারে।
ভারতের কৌশলগত উদ্বেগের কারণ
এই প্রতিরক্ষা চুক্তিটি দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে, বিশেষ করে ভারতের নিরাপত্তা মহলে নতুন উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তির ফলে পাকিস্তান তার সামরিক আধুনিকায়ন এবং অস্ত্র সংগ্রহের ক্ষেত্রে এককভাবে চীনের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে বিকল্প বা বহুমুখী উৎস খুঁজে পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।
এছাড়া, ইন্দোনেশিয়ার এই চুক্তিতে অংশগ্রহণ নতুন কূটনৈতিক জটিলতা তৈরি করেছে। কারণ, এর কিছুদিন আগে ভারতের সাথে সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল ‘ব্রহ্মোস’ ক্রয়ের চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল ইন্দোনেশিয়া। ফলে জাকার্তার এই বহুমুখী কূটনৈতিক ও সামরিক অবস্থান নয়া দিল্লির কৌশলগত নীতিনির্ধারকদের উদ্বিগ্ন করেছে। যদিও ‘বদর’ চুক্তিটি মূলত একটি সামরিক শিল্প ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার রূপরেখা—যেখানে ন্যাটো-রীতির কোনো যৌথ পারস্পরিক প্রতিরক্ষা বাধ্যবাধকতা (Mutual Defence Pact) নেই, তবুও বিগত আগস্টে তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’র সাথে এটি আঞ্চলিক নিরাপত্তায় সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ অফিসকক্ষে জাতীয় পতাকা প্রদর্শনের জন্য প্রচলিত বিধিমালা অনুসরণের নির্দেশনা প্রদান করেছে। সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি চিঠি সব সিনিয়র সচিব ও সচিবদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে, সরকারি ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কিছু কর্মকর্তা বা ব্যক্তি জাতীয় পতাকা প্রদর্শনের অধিকারী বা যোগ্য না হয়েও অফিসকক্ষে চেয়ার বা সোফার পেছনে খুঁটিতে খাঁড়াভাবে জাতীয় পতাকা প্রদর্শন করছেন।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের পতাকা বিধিমালা, ১৯৭২ অনুযায়ী, জাতীয় পতাকা কেবল সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত প্রদর্শনের বিধান রয়েছে, যা মোটরগাড়ি, জলযান ও বিমান ছাড়া প্রযোজ্য।
তবে কিছু অফিসে জাতীয় পতাকা সার্বক্ষণিকভাবে ঝুলিয়ে রাখা হচ্ছে। এছাড়া, জাতীয় পতাকার সঠিক আকার, অনুপাত ও রং বজায় না রেখে অফিসকক্ষে সজ্জা, অলংকরণ কিংবা ব্যক্তিগত ও দাপ্তরিক পটভূমি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
এসব কর্মকাণ্ড বাংলাদেশ জাতীয় সংগীত, পতাকা এবং প্রতীক আদেশ, ১৯৭২ এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের পতাকা বিধিমালা, ১৯৭২-এর সরাসরি লঙ্ঘন। চিঠিতে জাতীয় পতাকার প্রতি যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা প্রদর্শনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া, অধীন দপ্তর এবং সাংবিধানিক ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থাগুলোকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করতে বলা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আরও দুই জনের মৃত্যু ঘটেছে।
এই তথ্যটি বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদফতর কর্তৃক প্রকাশ করা হয়েছে।
একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৩১ জন হয়েছে।
গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গে ১ হাজার ১০৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
এছাড়া, হাম শনাক্ত হওয়ার পর ১০৪ শিশুর মৃত্যু ঘটেছে।
এই পরিস্থিতিতে হাম ও হামের উপসর্গে শিশুমৃত্যুর সংখ্যা বর্তমানে ১ হাজার ২০৭ জনে পৌঁছেছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২২ অক্টোবর, ২০২৬ : দেশে হাম উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আরও দুই শিশুর মৃত্যু ঘটেছে। ১৫ মার্চ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত হাম ও হাম উপসর্গে মৃত রোগীর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২০৭ জন।
আজ বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুমের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৯৯৫ জন এবং ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগীর মোট সংখ্যা ২ লাখ ১৭ হাজার ৭৬০ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ৩৬ জন। ১৫ মার্চ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত নিশ্চিত হাম রোগীর মোট সংখ্যা ২৩ হাজার ২৪৮ জন।
১৫ মার্চ থেকে ২২ অক্টোবরের মধ্যে সন্দেহজনক হাম রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৯৩ হাজার ৬০৮ জন। একই সময়ে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ লাখ ৮৫ হাজার ৯২৭ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় দুই শিশুর মৃত্যুর ঘটনা সহ, ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে মোট ১ হাজার ১০৩ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম রোগে কারো মৃত্যু হয়নি। ১৫ মার্চ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত নিশ্চিত হাম রোগে ১০৪ জনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের ধারাবাহিকতা নিয়ে আলোচনা চললেও, ব্যক্তিগত অর্জনে উজ্জ্বল হয়ে উঠেছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। আইসিসির ওয়ানডে অলরাউন্ডারদের র্যাঙ্কিংয়ে তিনি তৃতীয় স্থানে অবস্থান করছেন। ব্যাটিং এবং বোলিং—দুই ক্ষেত্রেই কার্যকর ভূমিকা রাখার জন্য তিনি এই র্যাঙ্কিংয়ে নিজের স্থান ধরে রেখেছেন।
আইসিসির অক্টোবর ২০২৬-এর র্যাঙ্কিং অনুযায়ী, মিরাজ ২৬০ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছেন। তার উপরে অবস্থান করছেন আফগানিস্তানের আজমতউল্লাহ ওমরজাই এবং জিম্বাবুয়ের সিকান্দার রাজা।
বাংলাদেশের ওয়ানডে দলের জন্য মিরাজের গুরুত্ব শুধুমাত্র একজন স্পিনার হিসেবে নয়, বরং ব্যাট হাতেও দলের প্রয়োজনে অবদান রাখার ক্ষেত্রে। মাঝের ওভারে প্রতিপক্ষের রান আটকে রাখা, গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট তুলে নেওয়া এবং ব্যাটিংয়ে প্রয়োজনীয় রান যোগ করার সক্ষমতা তাকে একজন কার্যকর অলরাউন্ডার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
২০২৬ সালের মার্চে পাকিস্তানের বিপক্ষে ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশের ২-১ ব্যবধানে জয় লাভে মিরাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ওই সিরিজে তিনি তিন ম্যাচে পাঁচটি উইকেট নিয়ে বল হাতে নিজের কার্যকারিতা প্রমাণ করেন। এরপর আইসিসির র্যাঙ্কিংয়ে উন্নতি করেন বাংলাদেশের অধিনায়ক।
বাংলাদেশের ক্রিকেটে অলরাউন্ডারদের ভূমিকা সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ। মিরাজের মতো একজন ক্রিকেটারের বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ তিনে থাকা দলটির জন্য ইতিবাচক খবর। এখন তার লক্ষ্য হবে এই অবস্থান ধরে রাখা এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আরও ধারাবাহিক পারফরম্যান্স প্রদর্শন করা।
আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ক্রিকেটের অলরাউন্ডার র্যাঙ্কিং
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ