শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৮:১৭ পি.এম
চাঁদাবাজি, আইনশৃঙ্খলার অবনতি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের মূল্যবৃদ্ধির জন্য সরকারের ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে স্বরাষ্ট্র ও জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি করেছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে এনসিপির ঘোষিত গণবিক্ষোভ কর্মসূচির জন্য সপ্তাহব্যাপী লিফলেট বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এই দাবি তুলে ধরেন।
রাজধানীর কারওয়ান বাজারে জনসংযোগ কর্মসূচির সূচনা করার সময় নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘কারওয়ান বাজার এলাকা সবচেয়ে বেশি চাঁদাবাজির শিকার হয়। তাই এখান থেকেই আমরা এই গণসংযোগ কর্মসূচি শুরু করছি। সারা দেশে যে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে, তাদের বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিহত করতে হবে।’
সরকারের সমালোচনা করে এনসিপির আহ্বায়ক আরও বলেন, ‘দেশে আজ গণমাধ্যমের স্বাধীনতাহীনতা চরম আকার ধারণ করেছে। সাংবাদিকদের ওপর প্রকাশ্যে হামলা করার উসকানি দেয়া হচ্ছে। সরকারের সমালোচনা করার কারণে এরইমধ্যে ২২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনকে নাম বদলে সাইবার নিরাপত্তা আইন বানিয়ে আগের মতোই দমনপীড়ন চালানো হচ্ছে।’
দ্রব্যমূল্য ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বাজেট অধিবেশনে বিএনপি সরকার বলেছিল যে পণ্যের দাম বাড়বে না। কিন্তু বাস্তবে অকটেন ও ডিজেলের দাম পরপর তিনবার বাড়ানো হলো। ‘জনগণ আজ অসহায়’, সরকারের কোনো নির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেই। এই পরিস্থিতির পূর্ণ দায় স্বীকার করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং জ্বালানিমন্ত্রীকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে এবং মন্ত্রিপরিষদ পুনর্গঠন করতে হবে।”
অনুষ্ঠানে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলার ক্রমাবনতি নিয়ে সরকার কোনো ধরনের কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেনি। এই কারণে আজ থেকে এই লিফলেট বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আগামী ৩০ অক্টোবর ঢাকা মহানগরের উদ্যোগে এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।’
এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সরকারের সমালোচনা করে বলেন, ‘নির্বাচনের পর সাধারণ মানুষ পরিস্থিতির উন্নতির আশা করেছিল, কিন্তু বাজারে সবজি কিনতে গেলে মাংসের দাম এবং মুরগি কিনতে গেলে গরুর মাংসের দাম দিতে হচ্ছে। জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির রেকর্ড হয়েছে। জনগণের এ সমস্যা সমাধানে সরকার দায়িত্বশীল আচরণ করছে না। রাজপথ এবং সংসদ–দুই জায়গাতেই আমরা জনগণের কথা তুলে ধরব।’
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরের সময় ব্যবহৃত বাসের ছবি নিয়ে একটি ফেসবুক পোস্টে স্নাইপার দিয়ে গুলি করার ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করার অভিযোগে আবু বকর সিদ্দিককে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান এই আদেশ প্রদান করেন। প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) শাহ আলম গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের এসআই ইয়াছিন পাইক আসামিকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটকে রাখার আবেদন করেন। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, পরবর্তীতে আসামির রিমান্ড চেয়ে আবেদন করা হবে।
গত বুধবার গভীর রাতে রাজশাহীর পবা থানার কচুয়াতৈল এলাকার বাড়ি থেকে আবু বকর সিদ্দিককে আটক করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। পরে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগের এসআই মানিক হোসেন বাদী হয়ে রাজধানীর রমনা থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করেন, যার পর তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, গত মঙ্গলবার বিকেল ৩টার দিকে সামরিক বিমানে রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিমানবন্দর থেকে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) একটি বাসে চড়ে তিনি নগরীতে প্রবেশ করেন এবং ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত সমাবেশে যোগ দেন। পরে দুর্গাপূজা উপলক্ষে একটি মন্দির পরিদর্শন শেষে একই বাসে বিমানবন্দরে ফিরে যান।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে ‘দ্য বিউটি অব রাজশাহী’ নামের একটি ফেসবুক পেজে প্রধানমন্ত্রীর ব্যবহৃত বাসের ছবি দিয়ে করা একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে। পোস্টটিতে লেখা হয়–‘সবই বুঝলাম রাজশাহীতে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর লাল-সবুজ বুলেটপ্রুফ বাসটা কই, রুয়েটের বাসে কেন? আপনারা কি জানেন রাজশাহীবাসী?’
ওই পোস্টের মন্তব্য বক্সে ‘এমডি আবু বকর সিদ্দিক’ নামের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে লেখা হয়–‘ইস! একটা বড় সুযোগ ছিল। শুধু একটা স্নাইপারের অভাব ছিল।’
মন্তব্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোড়ন ও আলোচনা সৃষ্টি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ তাকে চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ফরিদপুরে বালুবাহী ট্রাকের চাপায় ইজিবাইকের দুই যাত্রী নিহত হয়েছেন। এছাড়াও, আহত হয়েছে আরও ৮ জন। আহতদের উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নিহত দুইজন মা-ছেলে হিসেবে পরিচিত। নিহতদের বাড়ি মাগুরা জেলার মহম্মদপুর উপজেলায় অবস্থিত।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের সদর উপজেলার তেতুলতলা এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ফরিদপুর থেকে একটি বালুবোঝাই ট্রাক তেতুলতলা এলাকায় পৌঁছালে তা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের উপর উল্টে যায়। এ সময় ট্রাকের বালুর নিচে চাপা পড়ে একটি ইজিবাইক ও একটি প্রাইভেটকার। গুরুতর আহত হয় ইজিবাইকে থাকা ৪ জন এবং প্রাইভেটকারে থাকা ৪ জন। গুরুতর আহতদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সুমী আক্তার (৩২) এবং তার ছেলে শাওন (০৭) কে মৃত ঘোষণা করেন। অন্য আহতরা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার শ্রীবাস বাড়ৈ জানান, আহতদের উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুই জনকে মৃত ঘোষণা করেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মক্কা নগরীর পবিত্র মসজিদুল হারামে জুমার নামাজ আদায় করার জন্য লাখো মুসল্লি একত্রিত হন। মসজিদুল হারাম এবং এর আশপাশের এলাকায় পবিত্র কাবা শরিফকে কেন্দ্র করে মুসল্লিদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) মসজিদুল হারামে জুমার নামাজের ইমামতি করেন শায়খ সালেহ বিন হুমাইদ। তিনি পবিত্র দুই মসজিদের কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী জুমার নামাজ পরিচালনা করেন।
শায়খ সালেহ বিন হুমাইদ সৌদি আরবের একজন প্রখ্যাত আলেম এবং মসজিদুল হারামের জ্যেষ্ঠ ইমাম। তিনি ১৯৫০ সালে সৌদি আরবের কাসিম প্রদেশের বুরাইদাহ শহরে জন্মগ্রহণ করেন। মক্কার উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শরিয়াহ বিষয়ে উচ্চশিক্ষা ও ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন।
১৯৮৪ সালে মসজিদুল হারামের ইমাম হিসেবে নিযুক্ত হওয়ার পর থেকে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে সেখানে ইমামতি ও খুতবা প্রদানের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ইসলামি জ্ঞানচর্চা ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে অবদানের জন্য তিনি সুপরিচিত।
পবিত্র মসজিদুল হারামে জুমার নামাজ আদায় করতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে মুসল্লিরা সমাগম ঘটান। বিশেষ করে ওমরাহ পালনকারীদের উপস্থিতিতে মসজিদ প্রাঙ্গণ সব সময় প্রাণবন্ত থাকে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ হুতিদের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে, যা সৌদি আরবের দাম্মাম বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত হয়েছে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি বিবৃতিতে এই অবস্থান প্রকাশ করা হয়।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, হুতিদের হামলার ফলে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে ২ জন বাংলাদেশিও রয়েছেন।
এছাড়াও, বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে।
সৌদি সরকার এবং জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ অবিলম্বে সব ধরনের হামলা বন্ধ করার এবং কূটনীতির মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে বিরোধ নিষ্পত্তির আহ্বান জানিয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ