ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

শেখ হাসিনাকে ঢুকতে দেওয়ার ছাড়া ভারতের আর কোনো বিকল্প ছিল না: দীনেশ ত্রিবেদী


শেখ হাসিনাকে ঢুকতে দেওয়ার ছাড়া ভারতের আর কোনো বিকল্প ছিল না: দীনেশ ত্রিবেদী

ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী মন্তব্য করেছেন যে, শেখ হাসিনাকে ভারতে প্রবেশ করতে দেওয়ার ছাড়া ওই সময় ভারতের কাছে অন্য কোনো বিকল্প ছিল না।

শনিবার (৩ অক্টোবর) ঢাকায় পঞ্চম বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনে এক সেশনে প্রশ্নের জবাবে তিনি এই কথা বলেন।

দীনেশ ত্রিবেদী জানান, ঐতিহাসিক ও পুরোনো বন্ধু হিসেবে সংকটময় পরিস্থিতিতে ভারত যা করা উচিত ছিল, সেটাই তারা করেছে। তিনি বলেন, শেখ হাসিনাকে বহনকারী উড়োজাহাজটিকে ভারতে অবতরণের অনুমতি না দিলে পরিস্থিতি কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারত, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, "অনুমতি না দিলে কী ঘটতে পারত তা কারও জানা নেই।"

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

তিনি আরও বলেন, ইতিহাসের দিকে ফিরে তাকালে দেখা যায়, শেখ হাসিনাকে আমাদের বিমানবাহিনী বা সেনাবাহিনী ভারতে নিয়ে যায়নি। সেসময় বাংলাদেশের মর্মান্তিক পরিস্থিতির কারণেই এমনটা হয়েছিল এবং তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এমন পরিস্থিতি যেন আর কখনো না ঘটে, যেখানে নির্দোষ মানুষ নিহত হয়। সেটা পৃথিবীর যে প্রান্তেই হোক না কেন।

তিনি বলেন, সামরিক বিমানটি ভারতে এসেছিল, যার জন্য ভারত প্রস্তুত ছিল না। তিনি টেলিভিশনে দেখছিলেন এবং স্ক্রলে লেখা আসছিল যে শেখ হাসিনা অন্য কোথাও, অন্য কোনো দেশে যাচ্ছেন। সেই সময়ে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। এ বিষয়ে তাদের কাছে বিকল্প ছিল না। প্রতিবেশী হিসেবে বাস্তবতাকে মেনে নেওয়া তাদের দায়িত্ব ছিল।

ভারতীয় হাইকমিশনার আরও বলেন, অনেক সময় পরিস্থিতি এমন হয় যেখানে আপনি এর জন্য প্রস্তুত থাকেন না। তিনি প্রশ্ন করেন, "আমাদের কাছে আর কী বিকল্প ছিল?" তিনি বলেন, "যদি বলতাম যে, না আমরা তাকে গ্রহণ করব না, আমরা ল্যান্ডিংয়ের অনুমতি দেব না, তবে পরিস্থিতি কী দাঁড়াত তা আমার জানা নেই।" তাই তিনি বলেন, এটিই হলো ঐতিহাসিক কারণ।

তিনি আরও বলেন, বাকিটা তার জানা নেই। আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে, সে বিষয়ে সবাইকে নিশ্চিত থাকতে বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের মতো ভারতও একটি প্রাণবন্ত গণতান্ত্রিক দেশ এবং আশা করেন যে, সবাই আইনি ব্যবস্থাকে সম্মান করবে। আইনি ব্যবস্থা তার কাজ করছে।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের জরুরি নির্দেশনা: ফুটপাত দখল প্রতিরোধে মনিটরিং টিম গঠন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:০৫ পি.এম


ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের জরুরি নির্দেশনা: ফুটপাত দখল প্রতিরোধে মনিটরিং টিম গঠন

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) মিরপুর-১০ নম্বরে ফুটপাত দখল করে দোকান বা অন্যান্য স্থাপনা বসানো প্রতিরোধের জন্য একটি মনিটরিং টিম গঠন করেছে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) ডিএনসিসির একটি জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনের নির্দেশে এই মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে। টিমটি নিয়মিতভাবে মিরপুর-১০ নম্বর এলাকা পর্যবেক্ষণ করবে।

যদি ফুটপাত দখল করে কোনো দোকান বা স্থাপনা বসানো হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট মালামাল ও সরঞ্জাম জব্দ করা হবে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, পাশাপাশি দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ডিএনসিসি জানিয়েছে, ফুটপাত দখল করে যাতে নতুন করে কোনো দোকান বা স্থাপনা গড়ে উঠতে না পারে, সেই বিষয়টি নিশ্চিত করতে মনিটরিং টিম নিয়মিত নজরদারি করবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জানুয়ারিতে নতুন বই বিতরণ ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ইউনিফর্ম: শিক্ষামন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:০৬ পি.এম


জানুয়ারিতে নতুন বই বিতরণ ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ইউনিফর্ম: শিক্ষামন্ত্রী

জানুয়ারিতে শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন বই বিতরণ করা হবে। একই সঙ্গে প্রাথমিকে ইউনিফর্ম ও প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণও দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন।

শনিবার (৩ অক্টোবর) ঢাকার সেগুনবাগিচায় অনুষ্ঠিত ‘কচুয়ার উন্নয়নে জনমনের ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য জানান।

মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিয়মিতভাবে শিক্ষাকার্যক্রমের তদারকি করছেন। সরকার দেশের বিদ্যমান শিক্ষা ব্যবস্থা পুনর্গঠনের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে।

শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন বই বিতরণ করা হবে। বইয়ের মান নিশ্চিত করতে এইবার ভালো মানের কাগজ ও কালি ব্যবহারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি উল্লেখ করেন, নিম্নমানের কারণে প্রকাশকদের কাছ থেকে তিন লাখ বই ফেরত নেওয়া হয়েছে। যদি কোনো প্রকাশকের কাজে মানের ঘাটতি দেখা দেয়, তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বই বিতরণের পর যদি কোনো অনিয়ম বা গাফিলতির অভিযোগ আসে, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এছাড়া ২০২৭ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ইউনিফর্মসহ প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং বিদ্যমান শিক্ষাব্যবস্থাকে আরো কার্যকর করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বন বিভাগ বন্যপ্রাণীর গায়ে মাইক্রোচিপ বসাবে, কিন্তু কেন?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:০৬ পি.এম


বন বিভাগ বন্যপ্রাণীর গায়ে মাইক্রোচিপ বসাবে, কিন্তু কেন?

বাংলাদেশ বন বিভাগ এবার বন্য প্রাণীদের নিরাপত্তা ও পাচার রোধে মাইক্রোচিপ বসানোর পরিকল্পনা করছে। এর আগে, দুর্বল ব্যবস্থাপনা, অপর্যাপ্ত নজরদারি এবং অরক্ষিত সীমানাদেয়ালের সুযোগ নিয়ে গাজীপুর সাফারি পার্ক থেকে একাধিকবার বন্য প্রাণী পাচারের ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি, পাচার হয়ে যাওয়া বন্য প্রাণী শনাক্তের জন্য ডিএনএ প্রোফাইলিংয়ের উদ্যোগও নিতে চায় পার্ক কর্তৃপক্ষ।

বন্য প্রাণীর ডিএনএ সনাক্তকরণ সম্ভব হলে নির্দিষ্ট প্রাণীর জেনেটিক ছাপ সংগ্রহ করে রাখা হবে, যা পরবর্তীতে সেই প্রাণী বা তার রক্তের সম্পর্কযুক্ত অন্য প্রাণীকে বৈজ্ঞানিকভাবে শনাক্ত করতে সহায়তা করবে, যা মানুষের ফরেনসিক ডিএনএ টেস্টের মতো।

মাইক্রোচিপ হলো একটি ছোট ইলেকট্রনিক চিপ, যার মধ্যে একটি মৌলিক নম্বর থাকে। শনাক্তকরণ যন্ত্রের মাধ্যমে পরীক্ষা করলে ওই নম্বরের মাধ্যমে প্রাণীটিকে শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

বন বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, বন্য প্রাণী হারিয়ে গেলে বা পাচারের পর উদ্ধার হলে সেগুলো সাফারি পার্কের কি না, তা নিয়ে সন্দেহ থেকে যায়। মাইক্রোচিপ বসানোর ফলে এ সংশয় দূর হবে এবং পাচার ঠেকাতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

দেশে বর্তমানে দুটি সাফারি পার্ক রয়েছে। একটি কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক এবং অন্যটি গাজীপুর সাফারি পার্ক। গাজীপুর সাফারি পার্ক দেশের বৃহত্তম সাফারি পার্ক, যা ২০১০ সালে গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলায় বন বিভাগের সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ৩ হাজার ৬৯০ একর এলাকা নিয়ে প্রতিষ্ঠা করা হয়। ২০১৩ সালে ৭৩ প্রজাতির ১ হাজার ৫০০ বন্য প্রাণী নিয়ে এ পার্কের কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে এখানে ৮৪ জন জনবল কর্মরত রয়েছে।

বন অধিদপ্তরের বন্য প্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চলের এক কর্মকর্তা জানান, ‘আমরা সংবেদনশীল ও দুর্লভ বন্য প্রাণীর ডিএনএ প্রোফাইলিং এবং মাইক্রোচিপ বসানোর উদ্যোগ নিয়েছি। এ কাজটি বন বিভাগের বন্য প্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট করবে। তাদের ফরেনসিক ল্যাব থেকে এটি সম্পন্ন হবে।’

বন্য প্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের প্রধান বন সংরক্ষক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, ‘দেশের দুটি সাফারি পার্কের বন্য প্রাণীর দেহে মাইক্রোচিপ বসানো এবং ডিএনএ প্রোফাইলিং করার জন্য আমরা একটি প্রস্তাব পেয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, কোন কোন বন্য প্রাণীর মাইক্রোচিপ ও ডিএনএ প্রোফাইলিং প্রয়োজন, তা সুনির্দিষ্ট করে কাজ শুরু করা হবে। কিছু মাইক্রোচিপ বন বিভাগের কাছে রয়েছে, বাকিগুলো সংগ্রহ করে কাজ শুরু হবে। ফরেনসিক ল্যাবে কিছু রিএজেন্টের ঘাটতি রয়েছে, যা এক মাসের মধ্যে চলে আসবে।

মাইক্রোচিপ বসালে কী উপকার হবে

২০২৪ সালের ২২ নভেম্বর গাজীপুর সাফারি পার্কের সাফারি কিংডম এলাকা থেকে গ্রিন উইং ম্যাকাও নামের দুটি পাখি চুরি হয়। এ ঘটনায় একটি পাখি উদ্ধার ও একজনকে আটক করা হলেও চুরির রহস্য উদ্‌ঘাটন করা যায়নি। এরপর ২০২৫ সালের ১৬ জানুয়ারি একটি নীলগাই হারিয়ে যায় পার্ক থেকে, যা আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। ২০২৫ সালের মার্চে ঘটে সাফারি পার্কের সবচেয়ে দুর্লভ প্রাণী মাদাগাস্কারের লেমুর চুরির ঘটনা। পার্ক থেকে তিনটি রিং-টেইলড লেমুর পাচার হয়ে যায়। এ ঘটনায় করা মামলার তদন্ত শেষে সিআইডি জানায়, এগুলো সীমান্ত পার হয়ে ভারতে পাচার হয়ে গেছে।

বারবার চুরির ঘটনা রোধে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সহকারী বন সংরক্ষক তারেক রহমান বন্য প্রাণীর নিরাপত্তার স্বার্থে মাইক্রোচিপ বসানোর জন্য বন অধিদপ্তরের বিভাগীয় কার্যালয়ে চিঠি দেন। এরপর বিভাগীয় বন কর্মকর্তা শারমীন আক্তারও চিঠিতে একমত পোষণ করেন।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, পার্কের বন্য প্রাণী পাচার বা চুরি হলে মাইক্রোচিপ থাকলে সেগুলো শনাক্ত করা সম্ভব হবে। এরপর এক বছর পর মাইক্রোচিপের সঙ্গে ডিএনএ প্রোফাইলিংয়ের উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে বন অধিদপ্তর।

সহকারী বন সংরক্ষক তারেক রহমান জানান, গাজীপুর সাফারি পার্কের আয়তন সাড়ে তিন হাজার একরের বেশি। বিশাল এ পার্কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বন্য প্রাণীদের নিরাপত্তার স্বার্থে মাইক্রোচিপ ও ডিএনএ প্রোফাইলিং করা অত্যাবশ্যক। এছাড়া, বন্য প্রাণীদের স্বাস্থ্য সম্পর্কেও উপাত্ত পাওয়া যাবে বলে তিনি জানান।

বিশিষ্ট বন্য প্রাণী বিশেষজ্ঞ রেজা খান, যিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই সাফারি পার্কে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন, বলেন, এটি একটি ভালো উদ্যোগ। বিশ্বব্যাপী সাফারি পার্কগুলোতে এ ধরনের চর্চা রয়েছে। তবে সাফারি পার্কে আরও নানা ধরনের অব্যবস্থাপনা বিদ্যমান।

তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, খাঁচাগুলো অস্বাস্থ্যকর। বন্য প্রাণীগুলো এ ধরনের আবদ্ধ অবস্থায় অস্বস্তি বোধ করে। বিষয়গুলো বোঝার মতো সাফারি পার্কে জ্ঞানসম্পন্ন লোকবল নেই। ৫০ দশকের পুরোনো পদ্ধতিতে বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা চলছে। সেখানে পরিবর্তন আনতে হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হাদিসের বর্ণনায় বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে যারা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:০৭ পি.এম


হাদিসের বর্ণনায় বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে যারা

মুমিনদের জীবনে আল্লাহর প্রতি পূর্ণ ভরসা বা তাওয়াক্কুলের গুরুত্ব অপরিসীম। মহান আল্লাহর অনন্য নেয়ামত হিসেবে বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করা একটি বিশেষ বিষয়। হাদিসের বর্ণনায় উল্লেখ রয়েছে, যারা প্রথমে জান্নাতে প্রবেশ করবেন, তাদের সম্পর্কে কি বলা হয়েছে? তাদের লক্ষণ কী হবে? এ বিষয়ে বিশ্বনবী কি বলেছেন?

বিশ্বনবী হাদিসের মাধ্যমে সর্বপ্রথম জান্নাতে প্রবেশকারী মানুষদের বর্ণনা করেছেন। আবার তারা কী আমলের বিনিময়ে বিনা হিসাবে জান্নাতে যাবেন, সেটিও উল্লেখ করেছেন। হাদিসে পাকে এসেছে-

হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, জান্নাতে প্রবেশকারী প্রথম দলটি পূর্ণিমা চাঁদের মতো উজ্জ্বল আকৃতিতে প্রবেশ করবে। এরপর আকাশের সবচেয়ে দীপ্তিমান তারকার মতো উজ্জ্বল আকৃতিতে প্রবেশ করবে। তাদের অন্তরগুলো মানুষের ন্যায় হবে। তারা পরস্পর কোনো ধরনের শত্রুতা ও হিংসা-বিদ্বেষ পোষণ করবে না। (বুখারি ও মুসলিম)

হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু আরও উল্লেখ করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘জান্নাতে প্রবেশকারী প্রথম দল পূর্ণিমা চাঁদের মত উজ্জ্বল আকৃতিতে প্রবেশ করবে। পরবর্তী দল হিসেবে প্রবেশ করবে আকাশের সবচেয়ে দীপ্তিমান তারকার সুরতে। সেখানে তারা পেশাব-পায়খানা করবে না। থুতু ফেলবে না। নাক ঝাড়বে না। তাদের চিরুনিগুলো হবে স্বর্ণের। ঘাম হবে মিশক আম্বরের মত সুগন্ধি। তাদের ধুপ হবে চন্দন কাঠের এবং স্ত্রীগণ হবে ‘হূরুলঈন’ (আয়তলোচন চির কুমারী হুরগণ)। সবার আকৃতি হবে তাদের বাবা (হজরত আদম আলাইহিস সালামের) মত। ষাট হাত লম্বা।’ (বুখারি, মুসলিম)

অন্য বর্ণনায় এসেছে, ‘(জান্নাতে) তাদের পাত্র হবে স্বর্ণের, তাদের গায়ের ঘাম হবে কস্তুরীর ন্যায় সুগন্ধময়। তাদের প্রত্যেকের জন্য এমন দু’জন স্ত্রী থাকবে, যাদের সৌন্দর্যের দরুন মাংসভেদ করে পায়ের নলার হাড়ের মজ্জা দেখা যাবে। তাদের মধ্যে কোনো মতভেদ থাকবে না। পারস্পরিক বিদ্বেষ থাকবে না। তাদের সবার অন্তর একটি অন্তরের মত হবে। তারা সকাল-সন্ধ্যায় তাসবিহ পাঠে রত থাকবে।’ (বুখারি ও মুসলিম)

বিনা হিসাবে জান্নাতে যাবেন যারা

বিনা হিসাবে জান্নাতে যাওয়ার জন্য কারা যোগ্য হবে এবং তাদের আমল কী হবে, এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একটি দীর্ঘ হাদিসে বর্ণনা করেছেন। সেখানে উল্লেখ রয়েছে-

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবায়ে কেরামের সামনে বর্ণনা করছিলেন, ‘আমার কাছে সব (নবির) উম্মত পেশ করা হল। আমি দেখলাম, কোনো নবির সঙ্গে কতিপয় (৩ থেকে ৭ জন) অনুসারী রয়েছে। কোনো নবির সঙ্গে এক অথবা দুইজন রয়েছে। আবার কোনো কোনো নবিকে দেখলাম তার সঙ্গে কেউই নেই। এমন সময় অনেক বড় একটি জামাআত আমার সামনে পেশ করা হল।

আমি মনে করলাম, এটিই আমার উম্মত। কিন্তু আমাকে বলা হল যে, এটি হল হজরত মুসা আলাইহিস সালাম ও তাঁর উম্মতের জামাআত। কিন্তু আপনি অন্য দিগন্তের দিকে তাকান।

অতপর আমি অন্য দিগন্তে তাকাতেই আরও বড় একটি জামাআত দেখতে পেলাম। আমাকে বলা হল যে- ‘এটি হল আপনার উম্মত। আর তাদের সঙ্গে রয়েছে এমন ৭০ হাজার ব্যক্তি; যারা বিনা হিসাব ও আজাব ভোগ কা ছাড়াই জান্নাতে প্রবেশ করবে।’

এ কথা বলেই প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উঠে নিজ বাসায় প্রবেশ করলেন। আর এদিকে উপস্থিত সাহাবায়ে কেরাম ওই সব বিনা হিসাবে জান্নাতিদের ব্যাপারে বিভিন্ন আলোচনা শুরু করে দেয়-

- কেউ কেউ বলল, ‘সম্ভবত ওইসব লোকেরা হল তারা, যারা আল্লাহর রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাহাবাগণ।

- কিছু লোক বলল, বরং সম্ভবত ওরা হল তারা, যারা ইসলামের ওপর জন্মগ্রহণ করেছে এবং আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক করেনি। এভাবে আরও অনেকে অনেক কিছু বলল।

কিছুক্ষণ পর...

আল্লাহর রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের কাছে বের হয়ে এসে জানতে চাইলেন- তোমরা কী ব্যাপারে আলোচনা করছ? সাহাবায়ে কেরাম জানালেন, বিনা হিসাবে জানাতে যাবেন; তারা কারা?

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘ওরা হল সেইসব ব্যক্তি-

-যারা ঝাঁড়ফুঁক করে না এবং ঝাঁড়ফুঁক করায় না।

- আর কোনো জিনিসকে অশুভ লক্ষণ বলেও মনে করেন না।

- বরং তারা শুধুই মহান আল্লাহ তাআলার প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস রাখেন।

এ কথাগুলো শুনেই হজরত উক্কাশাহ ইবনে মিহসান রাদিয়াল্লাহু আনহু উঠে দাঁড়ালেন এবং বললেন-

‘(হে আল্লাহর রাসুল!) আপনি আমার জন্য দোয়া করুন, যেন আল্লাহ তাআলা আমাকে তাদের দলভুক্ত করে দেন! রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (সঙ্গে সঙ্গেই) বললেন, তুমি তাদের মধ্যে একজন।’

অতপর আরও এক ব্যক্তি উঠে দাঁড়িয়ে বলল, আপনি আমার জন্যও দোয়া করুন, যেন আল্লাহ আমাকেও তাদের দলভুক্ত করে দেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘‘উক্কাশাহ (এ ব্যাপারে) তোমার চেয়ে অগ্রগামী।’ (বুখারি ও মুসলিম)

বিনা হিসাবে জান্নাতে যাওয়া ব্যক্তির সংখ্যা

বিনা হিসাবে জান্নাতে যাওয়া ব্যক্তির সংখ্যা কত হবে এ সম্পর্কেও হাদিসের বিখ্যাত কিছু গ্রণ্তে ওঠে এসেছে কিছু সুস্পষ্ট বর্ণনা।

- ‘শুধু ৭০ হাজারই নয়, বরং ওই ৭০ হাজারের প্রতি হাজারের সঙ্গে আরও ৭০ হাজার করে মুসলিম জান্নাতে প্রবেশের সুযোগ লাভ করবে।’ অর্থাৎ এ হিসেবে প্রায় ৪৯ লাখ ব্যক্তি। (সহিহুল জামে)

- অন্য বর্ণনায় এসেছে, ‘ওই ৭০ হাজারের প্রত্যেক ব্যাক্তির সঙ্গে আরও ৭০ হাজার করে মুসলিম জান্নাতে প্রবেশ করবে। অর্থাৎ এ হিসেবে উম্মতে মুহাম্মাদির ৪৯০ কোটি মানুষ বিনা হিসাব ও আজাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে।’ (মুসনাদে আহমাদ, সিলসিলা সহিহাহ)

প্রথম বর্ণনায় উল্লেখিত ৭০ হাজার ব্যক্তির বিনা হিসাবে জান্নাত লাভ অনুসারে মহান আল্লাহর তিন অঞ্জলি অতিরিক্ত মুসলিমকে বিনা হিসাব ও আজাবে জান্নাতে প্রবেশের অধিকার দেবেন। আর এর প্রকৃত সংখ্যা শুধু আল্লাহই ভালো জানেন।

জান্নাতে প্রবেশকারী প্রথম দল ও তাদের সম্পর্কে কুরআনুল কারিমের বর্ণনাই সুস্পষ্ট। আল্লাহ তাআলা এ সম্পর্কে অনেক সুরার একাধিক আয়াতে তা সুস্পষ্ট করে বলেছেন-

وَالسَّابِقُونَ السَّابِقُونَ أُولَٰئِكَ الْمُقَرَّبُونَ فِي جَنَّاتِ النَّعِيمِ (১২) ثُلَّةٌ مِّنَ الْأَوَّلِينَ وَقَلِيلٌ مِّنَ الْآخِرِينَ

‘আর অগ্রবর্তীগণ তো অগ্রবর্তী। তারাই হবে নৈকট্যপ্রাপ্ত। তারা থাকবে সুখময় জান্নাতসমূহে। বহুসংখ্যক হবে পূর্ববর্তীদের মধ্য থেকে এবং অল্প সংখ্যক হবে পরবর্তীদের মধ্য থেকে।’ (সুরা ওয়াকিয়া : আয়াত ১০-১৪)

وَأُزْلِفَتِ الْجَنَّةُ لِلْمُتَّقِينَ غَيْرَ بَعِيدٍ - هَذَا مَا تُوعَدُونَ لِكُلِّ أَوَّابٍ حَفِيظٍ - مَنْ خَشِيَ الرَّحْمَن بِالْغَيْبِ وَجَاء بِقَلْبٍ مُّنِيبٍ

আর জান্নাতকে উপস্থিত করা হবে আল্লাহকে ভয়কারী বান্দার খুব কাছাকাছি। প্রত্যেক অনুগরাী ও স্মরণকারীকে এরই প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল। যে না দেখে দয়াময় আল্লাহ তাআলাকে ভয় করত এবং বিনীত অন্তরে উপস্থিত হতো।’ (সুরা ক্বাফ : আয়াত ৩১-৩৩)

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর সবাইকে বিনা হিসাবে জান্নাত পাওয়ার জন্য উল্লেখিত ৩টি আমল যথাযথভাবে করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%