শনিবার, ১৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০২:০৩ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের গভর্নর নির্বাচনে নতুন একটি জরিপে ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থী জিনা হিনোজোসা রিপাবলিকান দলের বর্তমান গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটের তুলনায় এগিয়ে রয়েছেন। ১৭ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত রেকনএমআর ও টেক্সাস পালসের জরিপ অনুযায়ী, হিনোজোসা ৪৯ শতাংশ সমর্থন অর্জন করেছেন, যেখানে অ্যাবটের সমর্থন ৪৫ শতাংশ।
তবে, এই ৪ শতাংশ ব্যবধান জরিপের ৪ দশমিক ৩ শতাংশ ত্রুটিসীমার মধ্যে পড়ে। ফলে, এটিকে নিশ্চিত নির্বাচনী ফলাফল হিসেবে গ্রহণ করা সম্ভব নয়।
জরিপটি ৮ থেকে ১১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে টেক্সাসের ৬১৪ জন সম্ভাব্য ভোটারের ওপর পরিচালিত হয়।
স্বতন্ত্র ভোটারদের মধ্যে বড় ব্যবধান
স্বতন্ত্র ভোটারদের মধ্যে জরিপের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। তাদের মধ্যে ৬৫ শতাংশ হিনোজোসাকে সমর্থন করেছেন, অন্যদিকে অ্যাবটের পক্ষে রয়েছেন ২৭ শতাংশ। জুলাই মাসের জরিপে এই ব্যবধান ছিল ৪৯ শতাংশ বনাম ৩৬ শতাংশ।
হিনোজোসার প্রতি ইতিবাচক ধারণা বৃদ্ধি পেয়েছে। তার পক্ষে-বিপক্ষে জনমত বর্তমানে ৪৮ শতাংশ বনাম ২৭ শতাংশ। জুলাইয়ে এই হার ছিল ৪৩ শতাংশ বনাম ২৫ শতাংশ।
অন্যদিকে, অ্যাবটের প্রতি ইতিবাচক ধারণা ৪৫ শতাংশ এবং নেতিবাচক ধারণা ৫৩ শতাংশ। জুলাইয়ে এই হার ছিল যথাক্রমে ৪৬ ও ৫০ শতাংশ।
ভোটারদের জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে ধারণা ভিন্ন। জরিপে দেখা গেছে, ৪৯ শতাংশ ভোটার হিনোজোসাকে ভোট দেওয়ার কথা বললেও, ৬২ শতাংশ মনে করেন শেষ পর্যন্ত অ্যাবটই নির্বাচনে জিতবেন।
জরিপ বিশ্লেষক লিন্ডসে হেনড্রেন মন্তব্য করেন, গত তিন মাসে পরিবর্তনের বড় অংশই স্বতন্ত্র ভোটারদের অবস্থান বদলের সঙ্গে সম্পর্কিত। জুলাইয়ে স্বতন্ত্র ভোটারদের মধ্যে হিনোজোসার ব্যবধান ছিল ১৩ শতাংশ, যা সেপ্টেম্বরে বেড়ে ৩৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
কোন বিষয়ে কে এগিয়ে
ভোটারদের কাছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানো এবং টেক্সাসের পানির সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় হিনোজোসাকে তুলনামূলকভাবে বেশি উপযুক্ত মনে করা হয়েছে। দাম সাশ্রয়ী করার ক্ষেত্রে হিনোজোসার পক্ষে মত দিয়েছেন ৫১ শতাংশ, অ্যাবটের পক্ষে ৪৪ শতাংশ। পানির সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় হিনোজোসার পক্ষে ৪৯ শতাংশ এবং অ্যাবটের পক্ষে ৪৩ শতাংশ ভোটার মত দিয়েছেন।
অন্যদিকে, মেক্সিকো সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে অ্যাবট এগিয়ে রয়েছেন। এ বিষয়ে অ্যাবটের পক্ষে ৫৩ শতাংশ এবং হিনোজোসার পক্ষে ৩৯ শতাংশ ভোটার মত দিয়েছেন। টেক্সাসের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও অ্যাবট ৪৯ শতাংশ সমর্থন পেয়েছেন, যেখানে হিনোজোসা পেয়েছেন ৪৪ শতাংশ।
তথ্যকেন্দ্র নির্মাণের ব্যবস্থাপনায় দুই প্রার্থীর মধ্যে ব্যবধান কম—৪৫ শতাংশ ভোটার হিনোজোসার পক্ষে এবং ৪২ শতাংশ অ্যাবটের পক্ষে মত দিয়েছেন।
অন্য জরিপগুলোতে কী দেখা গেছে
সাম্প্রতিক অন্যান্য জরিপে অ্যাবটকে এগিয়ে থাকতে দেখা গেছে। ১৫ সেপ্টেম্বরের মেসন-ডিক্সন জরিপে অ্যাবট ৪৮ শতাংশ এবং হিনোজোসা ৪১ শতাংশ সমর্থন পেয়েছেন। ১৩ সেপ্টেম্বরের সো-ক্যাল স্ট্র্যাটেজিস জরিপে অ্যাবট ৫২ শতাংশ এবং হিনোজোসা ৪৪ শতাংশে ছিলেন। ৯ সেপ্টেম্বরের এন প্লাস ও ইউনিভিশন জরিপে দুই প্রার্থীই ৪৭ শতাংশ করে সমর্থন পেয়েছেন। ২৭ আগস্টের টেক্সাস পাবলিক ওপিনিয়ন রিসার্চ জরিপে অ্যাবট ৪৯ শতাংশ এবং হিনোজোসা ৪২ শতাংশে ছিলেন। ২৫ আগস্টের টেক্সাস পলিটিকস প্রজেক্টের জরিপে অ্যাবট ৪৫ শতাংশ এবং হিনোজোসা ৪০ শতাংশ সমর্থন পেয়েছিলেন।
সূত্র: ইউএসএ টুডে
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
পাবনার ১০ বছরের শিশু কামরুন্নাহার কলি হত্যার ঘটনার প্রেক্ষিতে গ্রেপ্তার হওয়া প্রধান আসামী মোস্তফা প্রামাণিকের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করেছে উত্তেজিত গ্রামবাসী।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা এবং শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে, পাবনা সদর উপজেলার দোগাছী ইউনিয়নের কুলুনিয়া ও আশেপাশের গ্রাম থেকে আসা উত্তেজিত জনতা একত্রিত হয়ে মোস্তফা প্রামাণিকের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় বাড়ির ভেতরে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়।
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিকুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ আগে থেকেই উপস্থিত ছিল, তবে গ্রামবাসীর তুলনায় পুলিশের সংখ্যা কম থাকায় তারা বাধা দিতে পারেননি। পরে অতিরিক্ত পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার পর বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় শিশু শিক্ষার্থী কামরুন্নাহার কলি। তার পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাকে খুঁজে পাননি।
নিখোঁজের সাতদিন পর, বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে কুলুনিয়া গ্রামে কলির বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এই ঘটনায় নিহত শিশুর প্রতিবেশী মোস্তফা প্রামাণিক এবং তার ভাড়াটিয়া ইয়াছিনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার বিকেলে পাবনার পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ সংবাদ সম্মেলনে জানান, ঘটনার দিন হত্যার আগে গ্রেপ্তারকৃতরা মোস্তফার মুদি দোকানের পেছনে ঘরের মধ্যে নিয়ে গিয়ে কলিকে জোর করে ধর্ষণ করে। পরে শিশুটিকে তারা হত্যা করে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের একটি হাই স্কুলের ফুটবল ম্যাচে বর্ণবাদী আচরণের অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করা হয়েছিল। তবে, জেফারসন সিটি স্কুলস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, দীর্ঘ তদন্তের পর এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
১১ সেপ্টেম্বর জেফারসন হাই স্কুল এবং মেনার্ড জ্যাকসন হাই স্কুলের মধ্যে অনুষ্ঠিত ফুটবল ম্যাচের পর এই অভিযোগগুলো সামনে আসে। অভিযোগের মধ্যে ছিল, মেনার্ড জ্যাকসনের খেলোয়াড় ও ব্যান্ড দলের সদস্যদের বিরুদ্ধে বর্ণবাদী শব্দ ব্যবহার, তাদের দিকে থুতু ছোড়া, খাবারে থুতু দেওয়া এবং ম্যাচে কনফেডারেট পতাকা প্রদর্শন করা।
জেফারসন সিটি স্কুলস অভিযোগের পর বিষয়টি তদন্তে নামার সিদ্ধান্ত নেয়। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত তদন্ত প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ করার মতো কোনো তথ্য তাদের হাতে আসেনি।
তদন্তের অংশ হিসেবে ৫০ জনের বেশি শিক্ষার্থী, কর্মী, স্বেচ্ছাসেবক ও নিরাপত্তাকর্মীর বক্তব্য এবং লিখিত বিবৃতি নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, মেমোরিয়াল স্টেডিয়ামের ৫৪টি ক্যামেরার ধারণ করা ভিডিও ফুটেজও পর্যালোচনা করা হয়েছে।
তবে, তদন্তে মেনার্ড জ্যাকসন ব্যান্ড দলের সদস্যদের স্টেডিয়াম থেকে বের হওয়ার সময় একটি হাতাহাতির ঘটনা সম্পর্কে তথ্য পাওয়া গেছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই ঘটনায় জড়িত প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি জেফারসন সিটি স্কুলসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নন।
জেফারসন সিটি স্কুলস জানিয়েছে, মেনার্ড জ্যাকসন স্কুল কর্তৃপক্ষ এই ঘটনার বিষয়ে আলাদাভাবে তদন্ত করছে।
ম্যাচের পর অভিযোগ উঠেছিল যে, মেনার্ড জ্যাকসনের দলের বাসগুলোকে স্টেডিয়ামের সামনে নামতে দেওয়া হয়নি। তবে, জেফারসন উচ্চবিদ্যালয় জানিয়েছে, প্রতিপক্ষ দলের সব বাসই দর্শনার্থীদের প্রবেশপথের সামনে যাত্রী নামানো ও ওঠানোর সুযোগ পেয়েছিল।
পার্কিং সংক্রান্ত বিষয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মেমোরিয়াল স্টেডিয়ামের নির্দিষ্ট জায়গাগুলো জেফারসন উচ্চবিদ্যালয়ের সমর্থক সংগঠনের সদস্যদের জন্য সংরক্ষিত। অতিরিক্ত গাড়ির জন্য কাছের একটি গির্জায় পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে এবং সেখান থেকে বাসে যাতায়াতের সুবিধা রয়েছে।
স্কুল কর্তৃপক্ষ বলেছে, এসব ব্যবস্থা নতুন নয় এবং কোনো দলের ক্ষেত্রে আলাদাভাবে পরিবর্তন করা হয় না।
তদন্তের তথ্য যাচাইয়ে সহযোগিতা করায় মেনার্ড জ্যাকসন স্কুল কর্তৃপক্ষ ও জর্জিয়া উচ্চবিদ্যালয় ক্রীড়া সংস্থার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে জেফারসন সিটি স্কুলস। একই সঙ্গে অভিযোগগুলোকে ঘিরে পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় তারা হতাশা প্রকাশ করেছে।
সূত্র: ইউএসএ টুডে
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের দায়ে আটক হওয়ার পর ৩৩ মাস কারাবাস শেষে দেশে ফিরে এসেছেন তিন বাংলাদেশি নাগরিক, যাদের মধ্যে একজন নারীও রয়েছেন।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারীর সোনাহাট সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) নারীসহ তিনজনকে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে। পরে বিজিবি তাদের ভূরুঙ্গামারী থানায় হস্তান্তর করে।
ফেরত আসা তিনজন নাগরিক হলেন কুড়িগ্রামের কচাকাটা থানার কেদার ইউনিয়নের শোভারকুটি গ্রামের আব্দুল জলিল, মুজাফফর হোসেন এবং ঢাকা জেলার শারমিন আক্তার।
এছাড়া একই অভিযোগে আটক আরও দুইজনকে রৌমারী সীমান্ত দিয়ে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে বিএসএফ। তাদের নাম আব্দুল হাই ও ওসামা বীন হাসান সজিব।
ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের কারণে তারা সেখানকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হন। ৩৩ মাস কারাভোগ শেষে মুক্তি পাওয়ার পর বিএসএফ নিয়মিত প্রক্রিয়ায় তাদের বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে।
তিনি আরও জানান, তিনজনের পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়েছে। তারা থানায় আসলে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করা হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড পাওয়ার জন্য অভিবাসীদের জন্য নতুন নিয়ম চালু করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। এই নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যদি আবেদনকারী সরকারি সহায়তা গ্রহণ করেন অথবা ভবিষ্যতে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তাহলে অভিবাসন কর্মকর্তারা আবেদনকারীর গ্রিন কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে এটি বিবেচনায় নেবেন। নিয়মটি শুক্রবার থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে, তবে এর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করা হয়েছে।
নতুন নিয়মের ফলে বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অনেক অভিবাসী ও তাদের পরিবার সরকারি সহায়তা গ্রহণ থেকে বিরত থাকতে বাধ্য হতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব পরিবারের একজন সদস্য যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক এবং অন্য সদস্য গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করছেন, তাদের ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে।
‘জনস্বার্থের বোঝা’ বলতে কী বোঝায়
গ্রিন কার্ডের আবেদন যাচাইয়ের সময় আবেদনকারী নিজের খরচ নিজে চালাতে সক্ষম কি না, তা যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে বিবেচনা করে আসছেন। সরকারি সহায়তার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন—এমন ব্যক্তিকে ‘জনস্বার্থের বোঝা’ হিসেবে বিবেচনা করার বিধান যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইনে রয়েছে।
১৯৯৯ সালে বিল ক্লিনটন প্রশাসন এই ধারণার একটি সীমিত ব্যাখ্যা প্রদান করে। তখন মূলত নগদ সরকারি সহায়তা এবং দীর্ঘমেয়াদি সরকারি প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসার জন্য দেওয়া সহায়তা বিবেচনায় নেওয়া হতো।
তবে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ২০১৯ সালে এই সংজ্ঞা আরও বিস্তৃত করা হয়। খাদ্য সহায়তা, চিকিৎসা সহায়তা ও আবাসন সহায়তার মতো নগদ নয়—এমন সুবিধাকেও বিবেচনায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পরে আদালতের সিদ্ধান্তের পর জো বাইডেন প্রশাসন সেই নিয়ম বাতিল করে ২০২২ সালে নতুন নিয়ম চালু করে।
এবার কী বদলাচ্ছে
নতুন নিয়মটি ২০২২ সালের বিধান বাতিল করে সরকারি সহায়তা বিবেচনার পরিধি আবার বাড়িয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় আবেদনকারী সরকারি সুবিধা নিচ্ছেন কি না, ভবিষ্যতে নেওয়ার সম্ভাবনা আছে কি না—এসব বিষয় বিবেচনা করা হতে পারে। কোন কোন সুবিধা অবশ্যই বিবেচনায় নেওয়া হবে, তার নির্দিষ্ট তালিকা না দিয়ে নিয়মে বলা হয়েছে, আয় ও আর্থিক অবস্থার ভিত্তিতে দেওয়া সরকারি সুবিধা বিবেচনায় নেওয়া যেতে পারে।
এতে খাদ্য সহায়তা, চিকিৎসা সহায়তা, শিশুদের চিকিৎসা কর্মসূচি, আবাসন সহায়তা, শিশুদের যত্নে সহায়তা এবং শিশুদের শিক্ষা ও পুষ্টি কর্মসূচির মতো সুবিধা অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। এমনকি আবেদনকারীর পরিবারের সদস্যদের জন্য নেওয়া সরকারি সুবিধাও বিবেচনায় আসতে পারে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক সন্তানদের জন্য নেওয়া সুবিধাও রয়েছে।
বছরে প্রায় ৫ লাখ ৮৮ হাজার আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, বছরে গড়ে প্রায় ৫ লাখ ৮৮ হাজার গ্রিন কার্ড আবেদনকারীকে ‘জনস্বার্থের বোঝা’ সংক্রান্ত যাচাইয়ের আওতায় পড়তে হয়।
তবে নতুন নিয়মের প্রভাব এর চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ গ্রিন কার্ড না পাওয়ার ভয়ে আবেদনকারী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা বৈধভাবে পাওয়ার যোগ্য সরকারি সুবিধা গ্রহণ থেকে বিরত থাকতে পারেন।
স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৯ লাখ ৫০ হাজার মানুষ ছয় ধরনের সরকারি সুবিধা থেকে সরে যেতে পারেন বা এসব সুবিধায় নতুন করে যুক্ত না হওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। এর মধ্যে চিকিৎসা সহায়তা, খাদ্য সহায়তা, শিশুদের স্বাস্থ্য কর্মসূচি ও কেন্দ্রীয় আবাসন সহায়তা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
অবৈধ অভিবাসীদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম সরাসরি প্রযোজ্য নয়, কারণ তারা সাধারণত এসব সরকারি সুবিধার জন্য যোগ্য নন।
শিশু ও পরিবারের ওপর প্রভাবের আশঙ্কা
অভিবাসন অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো বলছে, নতুন নিয়মের কারণে যোগ্য পরিবারগুলোও সরকারি সহায়তা নিতে ভয় পেতে পারে। এর মধ্যে স্কুলের খাবার ও গর্ভবতী নারী, নতুন মা এবং ছোট শিশুদের পুষ্টি সহায়তার মতো কর্মসূচিও রয়েছে।
জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত নিয়মের কারণে অভিবাসী পরিবারের প্রায় ৩৭ লাখ সদস্য চিকিৎসা, খাদ্য, আবাসনসহ বিভিন্ন সরকারি সহায়তা হারাতে পারেন। এর প্রভাব অঙ্গরাজ্যগুলোর অর্থনীতিতেও পড়তে পারে। গবেষণাটিতে প্রায় ২৭৪০ কোটি ডলার অর্থনৈতিক ক্ষতি এবং সর্বোচ্চ ২ লাখ ১২ হাজার কর্মসংস্থান হারানোর সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে।
২২ অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসির মামলা
নতুন নিয়ম ঠেকাতে নিউইয়র্কের নেতৃত্বে ২২টি অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসি আদালতে মামলা করেছে। নিউইয়র্ক সিটির নেতৃত্বে একদল শহরও আলাদা মামলা করেছে।
অঙ্গরাজ্যগুলোর দাবি, অভিবাসীরা ভয় পেয়ে সরকারি সহায়তা নেওয়া বন্ধ করলে তারা কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে পাওয়া বিপুল অর্থ হারাতে পারে। এতে মিশ্র নাগরিকত্বের পরিবারগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
অন্যদিকে শহরগুলোর দাবি, নিয়মটি কার্যকর হলে স্বাস্থ্যসেবা, খাদ্য ও আবাসনের ব্যয় তাদের ওপর আরও বেশি চাপতে পারে এবং স্থানীয় শ্রমবাজারেও প্রভাব পড়তে পারে।
নিউইয়র্কের মামলায় আদালত প্রাথমিক শুনানির জন্য ৯ অক্টোবর দিন নির্ধারণ করেছে। আদালত থেকে নিয়মটি স্থগিত করা না হলে এটি শুক্রবার থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।
সূত্র: সিএনএন, গালফ কোস্ট নিউজ
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ