শনিবার, ১৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০২:০৪ পি.এম
অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের দায়ে আটক হওয়ার পর ৩৩ মাস কারাবাস শেষে দেশে ফিরে এসেছেন তিন বাংলাদেশি নাগরিক, যাদের মধ্যে একজন নারীও রয়েছেন।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারীর সোনাহাট সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) নারীসহ তিনজনকে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে। পরে বিজিবি তাদের ভূরুঙ্গামারী থানায় হস্তান্তর করে।
ফেরত আসা তিনজন নাগরিক হলেন কুড়িগ্রামের কচাকাটা থানার কেদার ইউনিয়নের শোভারকুটি গ্রামের আব্দুল জলিল, মুজাফফর হোসেন এবং ঢাকা জেলার শারমিন আক্তার।
এছাড়া একই অভিযোগে আটক আরও দুইজনকে রৌমারী সীমান্ত দিয়ে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে বিএসএফ। তাদের নাম আব্দুল হাই ও ওসামা বীন হাসান সজিব।
ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের কারণে তারা সেখানকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হন। ৩৩ মাস কারাভোগ শেষে মুক্তি পাওয়ার পর বিএসএফ নিয়মিত প্রক্রিয়ায় তাদের বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে।
তিনি আরও জানান, তিনজনের পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়েছে। তারা থানায় আসলে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করা হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড পাওয়ার জন্য অভিবাসীদের জন্য নতুন নিয়ম চালু করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। এই নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যদি আবেদনকারী সরকারি সহায়তা গ্রহণ করেন অথবা ভবিষ্যতে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তাহলে অভিবাসন কর্মকর্তারা আবেদনকারীর গ্রিন কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে এটি বিবেচনায় নেবেন। নিয়মটি শুক্রবার থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে, তবে এর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করা হয়েছে।
নতুন নিয়মের ফলে বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অনেক অভিবাসী ও তাদের পরিবার সরকারি সহায়তা গ্রহণ থেকে বিরত থাকতে বাধ্য হতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব পরিবারের একজন সদস্য যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক এবং অন্য সদস্য গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করছেন, তাদের ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে।
‘জনস্বার্থের বোঝা’ বলতে কী বোঝায়
গ্রিন কার্ডের আবেদন যাচাইয়ের সময় আবেদনকারী নিজের খরচ নিজে চালাতে সক্ষম কি না, তা যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে বিবেচনা করে আসছেন। সরকারি সহায়তার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন—এমন ব্যক্তিকে ‘জনস্বার্থের বোঝা’ হিসেবে বিবেচনা করার বিধান যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইনে রয়েছে।
১৯৯৯ সালে বিল ক্লিনটন প্রশাসন এই ধারণার একটি সীমিত ব্যাখ্যা প্রদান করে। তখন মূলত নগদ সরকারি সহায়তা এবং দীর্ঘমেয়াদি সরকারি প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসার জন্য দেওয়া সহায়তা বিবেচনায় নেওয়া হতো।
তবে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ২০১৯ সালে এই সংজ্ঞা আরও বিস্তৃত করা হয়। খাদ্য সহায়তা, চিকিৎসা সহায়তা ও আবাসন সহায়তার মতো নগদ নয়—এমন সুবিধাকেও বিবেচনায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পরে আদালতের সিদ্ধান্তের পর জো বাইডেন প্রশাসন সেই নিয়ম বাতিল করে ২০২২ সালে নতুন নিয়ম চালু করে।
এবার কী বদলাচ্ছে
নতুন নিয়মটি ২০২২ সালের বিধান বাতিল করে সরকারি সহায়তা বিবেচনার পরিধি আবার বাড়িয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় আবেদনকারী সরকারি সুবিধা নিচ্ছেন কি না, ভবিষ্যতে নেওয়ার সম্ভাবনা আছে কি না—এসব বিষয় বিবেচনা করা হতে পারে। কোন কোন সুবিধা অবশ্যই বিবেচনায় নেওয়া হবে, তার নির্দিষ্ট তালিকা না দিয়ে নিয়মে বলা হয়েছে, আয় ও আর্থিক অবস্থার ভিত্তিতে দেওয়া সরকারি সুবিধা বিবেচনায় নেওয়া যেতে পারে।
এতে খাদ্য সহায়তা, চিকিৎসা সহায়তা, শিশুদের চিকিৎসা কর্মসূচি, আবাসন সহায়তা, শিশুদের যত্নে সহায়তা এবং শিশুদের শিক্ষা ও পুষ্টি কর্মসূচির মতো সুবিধা অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। এমনকি আবেদনকারীর পরিবারের সদস্যদের জন্য নেওয়া সরকারি সুবিধাও বিবেচনায় আসতে পারে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক সন্তানদের জন্য নেওয়া সুবিধাও রয়েছে।
বছরে প্রায় ৫ লাখ ৮৮ হাজার আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, বছরে গড়ে প্রায় ৫ লাখ ৮৮ হাজার গ্রিন কার্ড আবেদনকারীকে ‘জনস্বার্থের বোঝা’ সংক্রান্ত যাচাইয়ের আওতায় পড়তে হয়।
তবে নতুন নিয়মের প্রভাব এর চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ গ্রিন কার্ড না পাওয়ার ভয়ে আবেদনকারী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা বৈধভাবে পাওয়ার যোগ্য সরকারি সুবিধা গ্রহণ থেকে বিরত থাকতে পারেন।
স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৯ লাখ ৫০ হাজার মানুষ ছয় ধরনের সরকারি সুবিধা থেকে সরে যেতে পারেন বা এসব সুবিধায় নতুন করে যুক্ত না হওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। এর মধ্যে চিকিৎসা সহায়তা, খাদ্য সহায়তা, শিশুদের স্বাস্থ্য কর্মসূচি ও কেন্দ্রীয় আবাসন সহায়তা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
অবৈধ অভিবাসীদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম সরাসরি প্রযোজ্য নয়, কারণ তারা সাধারণত এসব সরকারি সুবিধার জন্য যোগ্য নন।
শিশু ও পরিবারের ওপর প্রভাবের আশঙ্কা
অভিবাসন অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো বলছে, নতুন নিয়মের কারণে যোগ্য পরিবারগুলোও সরকারি সহায়তা নিতে ভয় পেতে পারে। এর মধ্যে স্কুলের খাবার ও গর্ভবতী নারী, নতুন মা এবং ছোট শিশুদের পুষ্টি সহায়তার মতো কর্মসূচিও রয়েছে।
জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত নিয়মের কারণে অভিবাসী পরিবারের প্রায় ৩৭ লাখ সদস্য চিকিৎসা, খাদ্য, আবাসনসহ বিভিন্ন সরকারি সহায়তা হারাতে পারেন। এর প্রভাব অঙ্গরাজ্যগুলোর অর্থনীতিতেও পড়তে পারে। গবেষণাটিতে প্রায় ২৭৪০ কোটি ডলার অর্থনৈতিক ক্ষতি এবং সর্বোচ্চ ২ লাখ ১২ হাজার কর্মসংস্থান হারানোর সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে।
২২ অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসির মামলা
নতুন নিয়ম ঠেকাতে নিউইয়র্কের নেতৃত্বে ২২টি অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসি আদালতে মামলা করেছে। নিউইয়র্ক সিটির নেতৃত্বে একদল শহরও আলাদা মামলা করেছে।
অঙ্গরাজ্যগুলোর দাবি, অভিবাসীরা ভয় পেয়ে সরকারি সহায়তা নেওয়া বন্ধ করলে তারা কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে পাওয়া বিপুল অর্থ হারাতে পারে। এতে মিশ্র নাগরিকত্বের পরিবারগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
অন্যদিকে শহরগুলোর দাবি, নিয়মটি কার্যকর হলে স্বাস্থ্যসেবা, খাদ্য ও আবাসনের ব্যয় তাদের ওপর আরও বেশি চাপতে পারে এবং স্থানীয় শ্রমবাজারেও প্রভাব পড়তে পারে।
নিউইয়র্কের মামলায় আদালত প্রাথমিক শুনানির জন্য ৯ অক্টোবর দিন নির্ধারণ করেছে। আদালত থেকে নিয়মটি স্থগিত করা না হলে এটি শুক্রবার থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।
সূত্র: সিএনএন, গালফ কোস্ট নিউজ
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ভারতের নয়াদিল্লিতে চিকিৎসাধীন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তার চিকিৎসায় সহায়তার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন সহকর্মীরা। উল্লেখ্য, মিজানুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দলের আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
প্রায় আড়াই মাস ধরে তিনি নয়াদিল্লিতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সহকর্মীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তার চিকিৎসার প্রথম ধাপ সম্পন্ন হয়েছে এবং বর্তমানে তিনি দ্বিতীয় ও গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ের চিকিৎসা গ্রহণ করছেন। চিকিৎসা শুরু হওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
সর্বশেষ PET-CT Scan ও Contrast Analysis-এর প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ক্যানসার শরীরের অন্য কোথাও ছড়িয়ে পড়েনি। তবে মূল টিউমারটির আকার কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, টিউমারটি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অপসারণ করা সম্ভব এবং দ্রুত অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করার প্রয়োজন রয়েছে।
এই অস্ত্রোপচারের জন্য সম্ভাব্য ব্যয় ১৫ থেকে ১৬ লাখ টাকা হতে পারে। দীর্ঘ চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে বলে তার সহকর্মীরা জানিয়েছেন। পরিবারের নিজস্ব সামর্থ্য ও বন্ধু, সহকর্মী, শিক্ষার্থী এবং শুভানুধ্যায়ীদের সহযোগিতায় এতদিন চিকিৎসা চালিয়ে নেওয়া সম্ভব হলেও নতুন করে অর্থ সংগ্রহ করা পরিবারের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
এ অবস্থায় অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমানের চিকিৎসা অব্যাহত রাখতে দেশের ও বিদেশের বন্ধু, সহকর্মী, বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থী এবং শুভানুধ্যায়ীদের কাছে সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়েছে।
চিকিৎসা সহায়তা পাঠাতে—
BRAC Bank
Account Name: MD. Asraful Alam
Account No.: 108075471001
Branch: Mymensingh Notun Bazar Branch, Mymensingh
Routing No.: 060611750
Agrani Bank
Account Name: Rahima Khatun
Account No.: 0200026309596
Branch: GSTU Branch, Gopalganj
Routing No.: 010350061
বিকাশ (পার্সোনাল): +8801716-961310
অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমানের দ্রুত সুস্থতা ও অস্ত্রোপচার সফলতার জন্য তার সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও শুভানুধ্যায়ীরা সবার কাছে দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
নওগাঁর নুনিয়াপট্টি ও সুইপার কলোনি অঞ্চলে পরিচালিত এক বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযানে পুলিশ ১ হাজার ১৭০ পিস ইয়াবাসহ তিন মাদক কারবারিসহ মোট ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) এবং নওগাঁ সদর থানা পুলিশ যৌথভাবে এই অভিযান পরিচালনা করে।
পুলিশের সূত্রে জানা গেছে, সুইপার কলোনির ২ নম্বর গেটের সামনে স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে শ্রী মুনি (৪৫) নামের এক নারীকে নারী পুলিশ সদস্যের মাধ্যমে দেহ তল্লাশি করা হয়। তল্লাশির সময় তার কাছ থেকে কালো পলিথিনে মোড়ানো ৪টি নীল রঙের পলি প্যাকেটে বিশেষ কায়দায় রাখা মোট ১ হাজার ১৭০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার হয়। এই সময় মানিক (৩৮) ও শাওন (৪২) নামের ওই নারীর দুই সহযোগীকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
একই অভিযানে এলাকায় মাদক সেবন এবং সামাজিক শৃঙ্খলা বিনষ্ট করার (পাবলিক নুইসেন্স) অপরাধে আরও ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন— সিয়াম (১৯), রাকিব (১৯), আবির হোসেন (১৯), মাসুদ রানা (৩২), মনোয়ার হোসেন (৪৮) এবং রাজু মিয়া (৩২)।
গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে নওগাঁ সদর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে।
অভিযান সম্পর্কে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, নুনিয়াপট্টি ও সুইপার কলোনি এলাকা পুরোপুরি মাদকমুক্ত করার জন্য জেলা পুলিশ দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করে তিনি বলেন, এসব এলাকায় প্রতি সপ্তাহে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে এবং প্রয়োজন হলে প্রতিদিনই অভিযান চালানো হবে। মাদকের ভয়াল থাবা থেকে সমাজকে রক্ষা করতে সকল স্তরের মানুষকে সোচ্চার হতে হবে এবং পুলিশকে সঠিক তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, দেশের সব ডিপ ও শ্যালো সেচ পাম্পকে পর্যায়ক্রমে সোলারে রূপান্তরিত করে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) যশোর সদর উপজেলা প্রশাসন ও জেলা তথ্য অফিসের যৌথ আয়োজনে নদীয়ার মোড়, বর্মনপাড়া ও চাঁচড়া এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার কর্মসূচি নিয়ে আয়োজিত উঠান বৈঠকে তিনি এ তথ্য জানান।
এ সময় প্রতিমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য গ্যাস ও কয়লা আমদানি করতে হয়। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাসের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। পূর্বে প্রতি ইউনিট গ্যাস ৮ থেকে ৯ ডলারে কেনা হলেও বর্তমানে তা ২৮ ডলারে পৌঁছেছে। এই কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সাময়িক সমস্যা দেখা দিয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের উদ্দেশ্য হলো নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে জোর দেওয়া। তিনি জানান, রোদ, বাতাস ও পানি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সেচ মৌসুমে ডিজেলের দাম বৃদ্ধি এবং বিদ্যুতের ঘাটতির কারণে কৃষকদের সেচব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে এবং উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে। এই কারণে বিদ্যুৎ ও ডিজেলচালিত সব সেচ পাম্পকে ধাপে ধাপে সোলার পাম্পে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে কৃষকরা বিদ্যুৎ ঘাটতি ও ডিজেলের উচ্চ মূল্যের মধ্যে সাশ্রয়ী খরচে সেচ সুবিধা পেতে পারেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, যশোর সদরের লেবুতলা ইউনিয়নে ইতোমধ্যে এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়েছে। সেখানে সৌরশক্তিচালিত একটি পাম্পের মাধ্যমে ৫০ থেকে ৬০ বিঘা জমিতে সেচ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।
প্রথম ধাপে বরেন্দ্র প্রকল্পসহ সারা দেশে প্রায় ৩৬ হাজার সেচ পাম্প চিহ্নিত করে সোলারে রূপান্তরের কাজ শুরু হবে। এ জন্য সরকার নিজস্ব বাজেট অথবা বৈদেশিক সহায়তা থেকে অর্থের সংস্থান করবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোর জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খান খোকন।
এ সময় সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত অগ্রাধিকার কর্মসূচি ও স্থানীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও এলাকার সাধারণ মানুষ এতে অংশগ্রহণ করেন। সূত্র: বাসস
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ