ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ঝড়ের শঙ্কা, দুই সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত


দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ঝড়ের শঙ্কা, দুই সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত

আবহাওয়া অধিদপ্তর চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত প্রদর্শনের নির্দেশ দিয়েছে। মিয়ানমার উপকূলের নিকটবর্তী একটি গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে আজ থেকে ঝোড়ো হাওয়া প্রবাহিত হতে পারে। আগামীকালও এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক জানান, নিম্নচাপটি মূলত মিয়ানমার উপকূল হয়ে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম, হাতিয়া ও কক্সবাজার অঞ্চলে প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে আজ থেকেই এসব এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে এবং আগামীকালও এর প্রভাব অব্যাহত থাকতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, উত্তর আন্দামান সাগর ও এর নিকটবর্তী মিয়ানমার উপকূলে অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে গতকাল মধ্যরাতে একই এলাকায় অবস্থান করছিল। এটি আরও উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে আগামী দু-তিন ঘণ্টার মধ্যে মিয়ানমারের কিয়াইকতো এলাকার ওপর দিয়ে স্থলভাগ অতিক্রম করতে পারে।

আরও পড়ুন: আগামী চার দিন আবহাওয়া থাকবে প্রধানত শুষ্ক, চট্টগ্রামে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা

গভীর নিম্নচাপের কেন্দ্রের ৪৮ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার। দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে তা ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিম্নচাপ কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর উত্তাল রয়েছে।

এর প্রভাবে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরে কোনো সতর্কসংকেত নেই। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত গভীর সাগর ও উত্তর বঙ্গোপসাগরে বিচরণ না করতে বলা হয়েছে।

এদিকে, রাজধানীর আবহাওয়া সম্পর্কে আবুল কালাম মল্লিক জানান, আজ দিনের বেলায় ঢাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা কম। তবে রাতে সামান্য বৃষ্টি হতে পারে। বুধবারও (৩০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীতে বড় ধরনের বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) থেকে বৃষ্টি হতে পারে।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা সিলেটে ৩৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। রাজধানীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত তিন দিন ধরে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভ্যাপসা গরম অনুভূত হচ্ছে। চলতি মাসে ইতিমধ্যেই তিন দফায় তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে।

আরও পড়ুন: উপকূলীয় খুলনা, চট্টগ্রাম ও বরিশালে বৃষ্টির সম্ভাবনা, তাপমাত্রা কমার আশঙ্কা

আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্র জানায়, কোনো এলাকায় তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছালে সেটিকে তাপপ্রবাহের পর্যায়ে ধরা হয়। তবে সোমবার ঢাকায় ৩৬ ডিগ্রি তাপমাত্রা এক দিনের জন্য থাকায় তাপপ্রবাহ ঘোষণা করা হয়নি। মঙ্গলবার এবং বুধবারও গরমের অনুভূতি অব্যাহত থাকতে পারে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পিরোজপুরে গরুর ব্যবসার বিরোধে হাতুড়িপেটা, আহত আওয়াল মিয়া হাসপাতালে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৪৬ পি.এম


পিরোজপুরে গরুর ব্যবসার বিরোধে হাতুড়িপেটা, আহত আওয়াল মিয়া হাসপাতালে

মঠবাড়িয়া উপজেলার সাপলেজা বাজারে গরুর ব্যবসার বিরোধের কারণে মো. আওয়াল মিয়াকে (৫০) হাতুড়ি ও লাঠি দিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় তিনি আহত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন। তার স্ত্রী মোর্শেদা রওশন লাভলী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগে শামীম পহলান (৩৪), শাহীন পহলান (৪৩), ইয়াকুব হাওলাদার (২৬) ও মনির পহলান (৩২) কে আসামি করা হয়েছে।

মোর্শেদা রওশন লাভলী অভিযোগ করেন যে, তার স্বামী সাপলেজা বাজারে গরুর ব্যবসা করেন এবং অভিযুক্তদের মধ্যে কয়েকজনও একই বাজারে গরুর ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তাদের মধ্যে পূর্ব থেকেই ব্যবসা নিয়ে বিরোধ চলছিল, যার ফলে তার স্বামীকে বিভিন্ন সময় হুমকি দেওয়া হচ্ছিল।

২৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে সাপলেজা মাছ ও গরুর বাজারের ট্রালশেডের কাছে আওয়াল মিয়ার সঙ্গে অভিযুক্তদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। এই সময় হাতুড়ি ও লাঠি দিয়ে তার মাথা, হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়, ফলে তিনি রক্তাক্ত জখম হন। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আওয়ালের পকেটে থাকা ১৫ হাজার ৫০০ টাকা নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

তবে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শামীম পহলান। তিনি জানান, আওয়ালের সঙ্গে পূর্ব থেকেই একটি বিষয় নিয়ে বিরোধ ছিল। ওই দিন বাজারের টোলঘরে দুজনের মধ্যে উত্তেজিত হয়ে কথা-কাটাকাটি হয়, পরে স্থানীয় লোকজন এসে তাদের শান্ত করে দেন। তিনি দাবি করেন যে, কোনো মারধর বা হামলার ঘটনা ঘটেনি।

এ বিষয়ে সাপলেজা ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান বলেন, মাংস ব্যবসায়ীদের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে মারামারির ঘটনা ঘটে। এর আগে টাকা-পয়সাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ ছিল। মারামারির পর আহত ব্যক্তিকে চিকিৎসার জন্য মঠবাড়িয়া হাসপাতালে পাঠানো হয়। তিনি বলেন, ঘটনাটি সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন এবং সঠিক বিচার হওয়া উচিত।

মঠবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম জানান, সাপলেজায় কথা-কাটাকাটির জেরে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে এবং তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শেওলা স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি পুনরায় শুরু হচ্ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৪৬ পি.এম


শেওলা স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি পুনরায় শুরু হচ্ছে

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর, সিলেটের স্থলবন্দর থেকে ভারত থেকে কয়লা ও পাথর আমদানি আবার শুরু হচ্ছে।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সিলেট কয়লা আমদানিকারক গ্রুপ এবং সিলেট জেলা পাথর আমদানিকারক গ্রুপের সঙ্গে ভারতের করিমগঞ্জ এক্সপোর্টারস্ অ্যান্ড ইম্পোর্টারস্ কো-অর্ডিনেশন টিমের মধ্যে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সীমান্ত বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক সুবিধা বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে, সিলেটের বিয়ানীবাজারের শেওলা স্থলবন্দর দিয়ে আবারও কয়লা ও পাথর আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বাংলাদেশ ও ভারতের ব্যবসায়ীরা। দুই দেশের ব্যবসায়ী নেতারা আগামী অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ থেকে এই বাণিজ্যিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু করার বিষয়ে একমত হন।

শেওলা স্থলবন্দরের পোর্ট ভবনের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এই যৌথ মতবিনিময় সভায় দুই দেশের ব্যবসায়ীরা অংশগ্রহণ করেন।

সভায় সিলেট কয়লা আমদানিকারক গ্রুপের সভাপতি চন্দন সাহা সভাপতিত্ব করেন এবং সিলেট জেলা পাথর আমদানিকারক গ্রুপের আহ্বায়ক মো. আতিক হোসেন সভাটি সঞ্চালনা করেন।

ভারতের করিমগঞ্জ এক্সপোর্টারস অ্যান্ড ইম্পোর্টারস কো-অর্ডিনেশন টিম, সিলেট কয়লা আমদানিকারক গ্রুপ এবং সিলেট জেলা পাথর আমদানিকারক গ্রুপের নেতারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘ওস্তাদ বামে প্লাস্টিক, ডাইনে টেসলা’—ঢাকার রাস্তায় হেলপারদের সাংকেতিক ভাষা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৪৬ পি.এম


‘ওস্তাদ বামে প্লাস্টিক, ডাইনে টেসলা’—ঢাকার রাস্তায় হেলপারদের সাংকেতিক ভাষা

ঢাকার রাস্তায় চলাচল করার সময় প্রায়শই কানে আসে, ওস্তাদ, বামে প্লাস্টিক, ডাইনে টেসলা, বরাবর, সামনে ক্লিয়ার। প্রথমবার এ ধরনের কথা শুনলে যে কারও মনে হতে পারে, প্লাস্টিক এবং টেসলা হয়তো রাস্তার কোনো বস্তু বা গাড়ির নাম। তবে ঢাকার যানজটে নিয়মিত চলাচলকারী ব্যক্তিরা জানেন, এসব কথার রয়েছে ভিন্ন অর্থ।

ঢাকার ব্যস্ত রাস্তায় যানবাহনের ভিড়ের মাঝে দীর্ঘ কথোপকথনের সুযোগ থাকে না। কোন গাড়ি কোন দিকে যাবে, সামনে রাস্তা কতটা ফাঁকা, কোথা দিয়ে এগোতে হবে—এসব দ্রুত বোঝাতে বাসের হেলপাররা ব্যবহার করেন কিছু সংক্ষিপ্ত শব্দ। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এসব শব্দ ঢাকার রাস্তায় এক ধরনের সাংকেতিক ভাষায় পরিণত হয়েছে।

‘বামে প্লাস্টিক’ মানে কী

‘ওস্তাদ, বামে প্লাস্টিক’—এটি ঢাকার রাস্তায় একটি পরিচিত বাক্য। এখানে ‘প্লাস্টিক’ শব্দটি পরিবেশগত কোনো সমস্যা বোঝায় না। বরং চকচকে, সুন্দর এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ব্যক্তিগত গাড়ির জন্য হেলপাররা ‘প্লাস্টিক’ শব্দটি ব্যবহার করেন।

বিশেষ করে গাড়ির ধরন বা গায়ের উপাদান দেখে দ্রুত আলাদা করে বোঝানোর জন্য এই ধরনের নাম ব্যবহার করা হয়। ফলে দীর্ঘ বর্ণনা না দিয়েই একটি শব্দের মাধ্যমে আশপাশের গাড়ি সম্পর্কে চালককে ধারণা দেওয়া সম্ভব হয়।

‘বরাবর’ শব্দের বড় অর্থ

‘বরাবর’ শব্দটি ছোট হলেও ঢাকার যানজটে এর অর্থ বিস্তৃত। এর মাধ্যমে চালককে মূলত সামনে এগিয়ে যেতে বলা হয়।

প্রয়োজনে ডানে-বামে একটু এঁকেবেঁকে যেতে হতে পারে, রাস্তা সরু হলেও এগিয়ে যেতে হবে কিংবা পরিস্থিতি কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ হলেও থামা যাবে না—সব মিলিয়ে এগিয়ে চলার নির্দেশ বোঝাতে ‘বরাবর’ বলা হয়।

‘সামনে ক্লিয়ার’ মানে রাস্তা ফাঁকা নয়।

‘সামনে ক্লিয়ার’ শুনলে মনে হতে পারে সামনের রাস্তা পুরোপুরি ফাঁকা। কিন্তু যানজটে এর অর্থ সবসময় এমন নয়। অনেক সময় গাড়ির চাকা সামান্য নড়তে শুরু করলেও হেলপাররা এই বাক্যটি বলেন। কখনো আবার গাড়ি না নড়লেও চালককে এগিয়ে যাওয়ার জন্য উৎসাহিত করতে ‘সামনে ক্লিয়ার’ বলা হয়।

অর্থাৎ এটি অনেকটা আশাব্যঞ্জক সংকেত হিসেবেও কাজ করে।

এই ভাষা কোথা থেকে আসে

বাসের হেলপাররা সাধারণত কোনো নির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ নিয়ে ঢাকার এই সাংকেতিক ভাষা শেখেন না। বরং দীর্ঘদিন ঢাকার রাস্তায় কাজ করতে করতে নিজেরাই এসব শব্দ ও সংকেত শিখে নেন।

জীবিকার তাগিদে দেশের বিভিন্ন এলাকা, যেমন নোয়াখালী, বরিশাল, রংপুর ও ময়মনসিংহ থেকে অনেক মানুষ ঢাকায় এসে হেলপার হিসেবে কাজ শুরু করেন। তাদের কথাবার্তায় নিজ নিজ এলাকার আঞ্চলিক ভাষার প্রভাব থাকে। এক অঞ্চলের মানুষের কাছে অন্য অঞ্চলের আঞ্চলিক ভাষা অনেক সময় সহজে বোঝা যায় না।

কিন্তু ঢাকার ব্যস্ততা তাদের যোগাযোগের ধরন পরিবর্তন করে। এখানে দীর্ঘ বাক্য বা শুদ্ধ ব্যাকরণের চেয়ে দ্রুত ও স্পষ্টভাবে পরিস্থিতি বোঝানো বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ছোট ও সহজ কিছু শব্দ তাদের যোগাযোগের মাধ্যম হয়ে দাঁড়ায়।

যানজটই তৈরি করেছে এই ভাষা

ঢাকার যানজটে সামান্য ফাঁকা জায়গা পেলেই একাধিক গাড়ি সেখানে ঢোকার চেষ্টা করে। কে আগে যাবে, কোন দিক দিয়ে গাড়ি বের হবে—এসব বোঝাতে চালক ও হেলপারদের হাতে থাকে মাত্র কয়েক মুহূর্ত।

এই পরিস্থিতিতে বিস্তারিত কথা বলার সুযোগ নেই। তাই উচ্চস্বরে ছোট ছোট শব্দ ব্যবহার করেই আশপাশের পরিস্থিতি জানিয়ে দেওয়া হয়। যানবাহনের হর্ন ও মানুষের কোলাহলের মধ্যেও যাতে চালকের কানে কথা পৌঁছায়, সেভাবেই তৈরি হয়েছে এসব সংকেত।

শান্ত বা নিয়ম মেনে কথোপকথন না হলেও উদ্দেশ্য পূরণে এসব শব্দ বেশ কার্যকর হয়ে উঠেছে।

রিকশারও আছে নিজস্ব সাংকেতিক ভাষা

এই সাংকেতিক যোগাযোগ শুধু বাসের হেলপারদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ঢাকার রাস্তায় রিকশাচালকরাও নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন সংকেত ব্যবহার করেন। এর মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত হলো রিকশার ঘণ্টির শব্দ।

একবার ঘণ্টি বাজানোর অর্থ হতে পারে সামনে রিকশার উপস্থিতি জানান দেওয়া। দুইবার ঘণ্টি বাজালে সাধারণত আশপাশের কাউকে সতর্ক করা বোঝায়।

আর পরপর তিনবার ঘণ্টি বাজালে এর অর্থ আরও স্পষ্ট—সামনে থাকা মানুষ বা যানবাহনকে সরে যেতে বলা হচ্ছে। কারণ সামনে জায়গা না ছাড়লে যেকোনো সময় ধাক্কা লাগতে পারে।

ঢাকার যানজট তাই শুধু গাড়ি, হর্ন আর অপেক্ষার গল্প নয়। এই ব্যস্ত শহরের রাস্তায় প্রতিদিন তৈরি হচ্ছে এমন কিছু শব্দ, সংকেত ও অভ্যাস, যেগুলো বাইরে থেকে আসা মানুষের কাছে অদ্ভুত মনে হলেও নিয়মিত চালক, হেলপার ও রিকশাচালকদের কাছে হয়ে উঠেছে দ্রুত যোগাযোগের নিজস্ব মাধ্যম।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মার্কিন সেমিকন্ডাক্টর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কোম্পানি বাংলাদেশে ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগে আগ্রহী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৪৭ পি.এম


মার্কিন সেমিকন্ডাক্টর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কোম্পানি বাংলাদেশে ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগে আগ্রহী

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সেমিকন্ডাক্টর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) কোম্পানি বাংলাদেশে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। এ তথ্য প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ প্রকাশ করেছেন।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সিলিকন ভ্যালির ইস্ট পালো আল্টোর ফোর সিজনস হোটেলের সিনার্জি রুমে অনুষ্ঠিত ‘সিইও অ্যান্ড সিনিয়র এক্সিকিউটিভস রাউন্ড টেবিল’ বৈঠকে ‘বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির জন্য প্রযুক্তি, বিনিয়োগ ও কৌশলগত অংশীদারত্ব’ শীর্ষক আলোচনায় তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

ববি হাজ্জাজ মন্তব্য করেন, বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা বিদ্যমান। বিশেষ করে এআই ও সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর আগ্রহ বাংলাদেশের জন্য নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।

তিনি আরও বলেন, এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে প্রযুক্তি স্থানান্তর, দক্ষ জনশক্তি তৈরি, গবেষণা ও উদ্ভাবন এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা অপরিহার্য। বৈশ্বিক প্রযুক্তি খাতের দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশকে দক্ষ মানবসম্পদ, আধুনিক প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সমন্বয়ে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। এআই ও ডেটা অবকাঠামো, সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তি এবং উচ্চপ্রযুক্তিনির্ভর শিল্পে বিনিয়োগ দেশের অর্থনীতিতে বৈচিত্র্য আনার পাশাপাশি ভবিষ্যতে কর্মসংস্থানের নতুন ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে।

গোলটেবিল আলোচনায় এআই ও ডেটা অবকাঠামো উন্নয়ন, সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে বিনিয়োগ, প্রযুক্তি স্থানান্তর, দক্ষ জনশক্তি উন্নয়ন, গবেষণা, উদ্ভাবন, বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও কৌশলগত অংশীদারত্বের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। বাংলাদেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর সঙ্গে সহযোগিতার সম্ভাব্য ক্ষেত্র নিয়েও অংশগ্রহণকারীরা মতবিনিময় করেন।

বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।

আলোচনাটি পরিচালনা করেন কারম্যাক্সের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধান তথ্য ও প্রযুক্তি কর্মকর্তা শামীম মোহাম্মদ। এতে মার্কিন প্রযুক্তি খাতের জ্যেষ্ঠ নির্বাহীরা অংশগ্রহণ করেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%