মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:৪৬ পি.এম
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর, সিলেটের স্থলবন্দর থেকে ভারত থেকে কয়লা ও পাথর আমদানি আবার শুরু হচ্ছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সিলেট কয়লা আমদানিকারক গ্রুপ এবং সিলেট জেলা পাথর আমদানিকারক গ্রুপের সঙ্গে ভারতের করিমগঞ্জ এক্সপোর্টারস্ অ্যান্ড ইম্পোর্টারস্ কো-অর্ডিনেশন টিমের মধ্যে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
সীমান্ত বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক সুবিধা বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে, সিলেটের বিয়ানীবাজারের শেওলা স্থলবন্দর দিয়ে আবারও কয়লা ও পাথর আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বাংলাদেশ ও ভারতের ব্যবসায়ীরা। দুই দেশের ব্যবসায়ী নেতারা আগামী অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ থেকে এই বাণিজ্যিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু করার বিষয়ে একমত হন।
শেওলা স্থলবন্দরের পোর্ট ভবনের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এই যৌথ মতবিনিময় সভায় দুই দেশের ব্যবসায়ীরা অংশগ্রহণ করেন।
সভায় সিলেট কয়লা আমদানিকারক গ্রুপের সভাপতি চন্দন সাহা সভাপতিত্ব করেন এবং সিলেট জেলা পাথর আমদানিকারক গ্রুপের আহ্বায়ক মো. আতিক হোসেন সভাটি সঞ্চালনা করেন।
ভারতের করিমগঞ্জ এক্সপোর্টারস অ্যান্ড ইম্পোর্টারস কো-অর্ডিনেশন টিম, সিলেট কয়লা আমদানিকারক গ্রুপ এবং সিলেট জেলা পাথর আমদানিকারক গ্রুপের নেতারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকার রাস্তায় চলাচল করার সময় প্রায়শই কানে আসে, ওস্তাদ, বামে প্লাস্টিক, ডাইনে টেসলা, বরাবর, সামনে ক্লিয়ার। প্রথমবার এ ধরনের কথা শুনলে যে কারও মনে হতে পারে, প্লাস্টিক এবং টেসলা হয়তো রাস্তার কোনো বস্তু বা গাড়ির নাম। তবে ঢাকার যানজটে নিয়মিত চলাচলকারী ব্যক্তিরা জানেন, এসব কথার রয়েছে ভিন্ন অর্থ।
ঢাকার ব্যস্ত রাস্তায় যানবাহনের ভিড়ের মাঝে দীর্ঘ কথোপকথনের সুযোগ থাকে না। কোন গাড়ি কোন দিকে যাবে, সামনে রাস্তা কতটা ফাঁকা, কোথা দিয়ে এগোতে হবে—এসব দ্রুত বোঝাতে বাসের হেলপাররা ব্যবহার করেন কিছু সংক্ষিপ্ত শব্দ। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এসব শব্দ ঢাকার রাস্তায় এক ধরনের সাংকেতিক ভাষায় পরিণত হয়েছে।
‘বামে প্লাস্টিক’ মানে কী
‘ওস্তাদ, বামে প্লাস্টিক’—এটি ঢাকার রাস্তায় একটি পরিচিত বাক্য। এখানে ‘প্লাস্টিক’ শব্দটি পরিবেশগত কোনো সমস্যা বোঝায় না। বরং চকচকে, সুন্দর এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ব্যক্তিগত গাড়ির জন্য হেলপাররা ‘প্লাস্টিক’ শব্দটি ব্যবহার করেন।
বিশেষ করে গাড়ির ধরন বা গায়ের উপাদান দেখে দ্রুত আলাদা করে বোঝানোর জন্য এই ধরনের নাম ব্যবহার করা হয়। ফলে দীর্ঘ বর্ণনা না দিয়েই একটি শব্দের মাধ্যমে আশপাশের গাড়ি সম্পর্কে চালককে ধারণা দেওয়া সম্ভব হয়।
‘বরাবর’ শব্দের বড় অর্থ
‘বরাবর’ শব্দটি ছোট হলেও ঢাকার যানজটে এর অর্থ বিস্তৃত। এর মাধ্যমে চালককে মূলত সামনে এগিয়ে যেতে বলা হয়।
প্রয়োজনে ডানে-বামে একটু এঁকেবেঁকে যেতে হতে পারে, রাস্তা সরু হলেও এগিয়ে যেতে হবে কিংবা পরিস্থিতি কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ হলেও থামা যাবে না—সব মিলিয়ে এগিয়ে চলার নির্দেশ বোঝাতে ‘বরাবর’ বলা হয়।
‘সামনে ক্লিয়ার’ মানে রাস্তা ফাঁকা নয়।
‘সামনে ক্লিয়ার’ শুনলে মনে হতে পারে সামনের রাস্তা পুরোপুরি ফাঁকা। কিন্তু যানজটে এর অর্থ সবসময় এমন নয়। অনেক সময় গাড়ির চাকা সামান্য নড়তে শুরু করলেও হেলপাররা এই বাক্যটি বলেন। কখনো আবার গাড়ি না নড়লেও চালককে এগিয়ে যাওয়ার জন্য উৎসাহিত করতে ‘সামনে ক্লিয়ার’ বলা হয়।
অর্থাৎ এটি অনেকটা আশাব্যঞ্জক সংকেত হিসেবেও কাজ করে।
এই ভাষা কোথা থেকে আসে
বাসের হেলপাররা সাধারণত কোনো নির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ নিয়ে ঢাকার এই সাংকেতিক ভাষা শেখেন না। বরং দীর্ঘদিন ঢাকার রাস্তায় কাজ করতে করতে নিজেরাই এসব শব্দ ও সংকেত শিখে নেন।
জীবিকার তাগিদে দেশের বিভিন্ন এলাকা, যেমন নোয়াখালী, বরিশাল, রংপুর ও ময়মনসিংহ থেকে অনেক মানুষ ঢাকায় এসে হেলপার হিসেবে কাজ শুরু করেন। তাদের কথাবার্তায় নিজ নিজ এলাকার আঞ্চলিক ভাষার প্রভাব থাকে। এক অঞ্চলের মানুষের কাছে অন্য অঞ্চলের আঞ্চলিক ভাষা অনেক সময় সহজে বোঝা যায় না।
কিন্তু ঢাকার ব্যস্ততা তাদের যোগাযোগের ধরন পরিবর্তন করে। এখানে দীর্ঘ বাক্য বা শুদ্ধ ব্যাকরণের চেয়ে দ্রুত ও স্পষ্টভাবে পরিস্থিতি বোঝানো বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ছোট ও সহজ কিছু শব্দ তাদের যোগাযোগের মাধ্যম হয়ে দাঁড়ায়।
যানজটই তৈরি করেছে এই ভাষা
ঢাকার যানজটে সামান্য ফাঁকা জায়গা পেলেই একাধিক গাড়ি সেখানে ঢোকার চেষ্টা করে। কে আগে যাবে, কোন দিক দিয়ে গাড়ি বের হবে—এসব বোঝাতে চালক ও হেলপারদের হাতে থাকে মাত্র কয়েক মুহূর্ত।
এই পরিস্থিতিতে বিস্তারিত কথা বলার সুযোগ নেই। তাই উচ্চস্বরে ছোট ছোট শব্দ ব্যবহার করেই আশপাশের পরিস্থিতি জানিয়ে দেওয়া হয়। যানবাহনের হর্ন ও মানুষের কোলাহলের মধ্যেও যাতে চালকের কানে কথা পৌঁছায়, সেভাবেই তৈরি হয়েছে এসব সংকেত।
শান্ত বা নিয়ম মেনে কথোপকথন না হলেও উদ্দেশ্য পূরণে এসব শব্দ বেশ কার্যকর হয়ে উঠেছে।
রিকশারও আছে নিজস্ব সাংকেতিক ভাষা
এই সাংকেতিক যোগাযোগ শুধু বাসের হেলপারদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ঢাকার রাস্তায় রিকশাচালকরাও নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন সংকেত ব্যবহার করেন। এর মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত হলো রিকশার ঘণ্টির শব্দ।
একবার ঘণ্টি বাজানোর অর্থ হতে পারে সামনে রিকশার উপস্থিতি জানান দেওয়া। দুইবার ঘণ্টি বাজালে সাধারণত আশপাশের কাউকে সতর্ক করা বোঝায়।
আর পরপর তিনবার ঘণ্টি বাজালে এর অর্থ আরও স্পষ্ট—সামনে থাকা মানুষ বা যানবাহনকে সরে যেতে বলা হচ্ছে। কারণ সামনে জায়গা না ছাড়লে যেকোনো সময় ধাক্কা লাগতে পারে।
ঢাকার যানজট তাই শুধু গাড়ি, হর্ন আর অপেক্ষার গল্প নয়। এই ব্যস্ত শহরের রাস্তায় প্রতিদিন তৈরি হচ্ছে এমন কিছু শব্দ, সংকেত ও অভ্যাস, যেগুলো বাইরে থেকে আসা মানুষের কাছে অদ্ভুত মনে হলেও নিয়মিত চালক, হেলপার ও রিকশাচালকদের কাছে হয়ে উঠেছে দ্রুত যোগাযোগের নিজস্ব মাধ্যম।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সেমিকন্ডাক্টর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) কোম্পানি বাংলাদেশে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। এ তথ্য প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ প্রকাশ করেছেন।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সিলিকন ভ্যালির ইস্ট পালো আল্টোর ফোর সিজনস হোটেলের সিনার্জি রুমে অনুষ্ঠিত ‘সিইও অ্যান্ড সিনিয়র এক্সিকিউটিভস রাউন্ড টেবিল’ বৈঠকে ‘বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির জন্য প্রযুক্তি, বিনিয়োগ ও কৌশলগত অংশীদারত্ব’ শীর্ষক আলোচনায় তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
ববি হাজ্জাজ মন্তব্য করেন, বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা বিদ্যমান। বিশেষ করে এআই ও সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর আগ্রহ বাংলাদেশের জন্য নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে প্রযুক্তি স্থানান্তর, দক্ষ জনশক্তি তৈরি, গবেষণা ও উদ্ভাবন এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা অপরিহার্য। বৈশ্বিক প্রযুক্তি খাতের দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশকে দক্ষ মানবসম্পদ, আধুনিক প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সমন্বয়ে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। এআই ও ডেটা অবকাঠামো, সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তি এবং উচ্চপ্রযুক্তিনির্ভর শিল্পে বিনিয়োগ দেশের অর্থনীতিতে বৈচিত্র্য আনার পাশাপাশি ভবিষ্যতে কর্মসংস্থানের নতুন ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে।
গোলটেবিল আলোচনায় এআই ও ডেটা অবকাঠামো উন্নয়ন, সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে বিনিয়োগ, প্রযুক্তি স্থানান্তর, দক্ষ জনশক্তি উন্নয়ন, গবেষণা, উদ্ভাবন, বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও কৌশলগত অংশীদারত্বের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। বাংলাদেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর সঙ্গে সহযোগিতার সম্ভাব্য ক্ষেত্র নিয়েও অংশগ্রহণকারীরা মতবিনিময় করেন।
বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।
আলোচনাটি পরিচালনা করেন কারম্যাক্সের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধান তথ্য ও প্রযুক্তি কর্মকর্তা শামীম মোহাম্মদ। এতে মার্কিন প্রযুক্তি খাতের জ্যেষ্ঠ নির্বাহীরা অংশগ্রহণ করেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ফার্মেসি বিভাগের একদল গবেষক লেবু, টমেটো, ধনিয়াপাতা ও পালংশাকের মতো সহজলভ্য শাক-সবজির নির্যাস ব্যবহার করে একটি অ্যান্টিক্যানসার সাপ্লিমেন্ট সিরাপের প্রোটোটাইপ তৈরি করেছেন। এই প্রোটোটাইপটি ক্যানসার প্রতিরোধে এসব খাদ্য উপাদানের সম্ভাব্য কার্যকারিতা পরীক্ষার অংশ হিসেবে তৈরি করা হয়েছে।
গবেষকরা ‘প্রাইসলেস এডিবল ফুডস: অ্যান অলটারনেটিভ সোর্স অব এক্সপেনসিভ অ্যান্টিক্যানসার ড্রাগস’ শীর্ষক গবেষণায় দেশের বাজার থেকে সংগ্রহ করা ৬৮টি শাকসবজি, ফলমূল ও মসলাজাতীয় খাদ্য উপাদান নিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে কাজ করেন। পরবর্তীতে ক্যানসার সেল লাইনের ওপর পরীক্ষার ভিত্তিতে পালংশাক, লেবুর খোসা, ধনিয়াপাতা ও টমেটো নিয়ে আরও গবেষণা করা হয়।
গবেষণায় এসব নির্যাসের ক্যানসার কোষের বৃদ্ধি ও বিস্তার রোধ এবং অ্যাপোপটোসিস বা কোষমৃত্যু প্রক্রিয়ায় সম্ভাব্য কার্যকারিতা যাচাই করা হয়েছে। পরবর্তী পর্যায়ে মাউস মডেলেও সম্মিলিত নির্যাসের কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হয়। গবেষণার ফলাফলের ভিত্তিতে চারটি উপাদানের নির্যাস সমন্বয়ে অ্যান্টিক্যানসার সাপ্লিমেন্ট সিরাপের প্রোটোটাইপ তৈরি করা হয়েছে।
গবেষক দলের সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন—রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুনুর রশীদ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এ এইচ এম খুরশীদ আলম এবং মো. আরিফুল ইসলাম ও মো. রহমত আলী।
গবেষণাটির তথ্য ও ফলাফল গত ১২ সেপ্টেম্বর ঢাকার নভোথিয়েটারে আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করা হয়। এ সময় গবেষণার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের প্রকাশনার তথ্যও পোস্টারে তুলে ধরা হয়।
গবেষকেরা জানিয়েছেন, উদ্ভাবিত সিরাপটি এখনো গবেষণাগার পর্যায়ের একটি প্রোটোটাইপ। এটি ক্যানসারের চিকিৎসায় ব্যবহারের জন্য অনুমোদিত কোনো বাণিজ্যিক ওষুধ নয়। সিরাপের বোতলের লেবেলেও বিষয়টি স্পষ্ট করতে ‘ফর রিসার্চ পারপাস অনলি’ উল্লেখ করা হয়েছে।
গবেষকেরা বলছেন, সহজলভ্য দেশীয় খাদ্য উপাদানের সম্ভাব্য ঔষধি গুণকে বৈজ্ঞানিকভাবে অনুসন্ধানের এ উদ্যোগ ভবিষ্যতে খাদ্য উপাদান থেকে নতুন ঔষধি বা সহায়ক উপাদান তৈরির সম্ভাবনা যাচাইয়ে সহায়ক হতে পারে।
গবেষণার বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এ এইচ এম খুরশীদ আলম বলেন, আধুনিক ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও উচ্চমূল্যের বিষয়টি বিবেচনা করে আমরা দৈনন্দিন খাদ্য উপাদানের মধ্যে রোগ প্রতিরোধে সম্ভাবনাময় উপাদান খুঁজে বের করার উদ্যোগ নিই। প্রথম পর্যায়ে দেশের বাজার থেকে ৬৮টি শাকসবজি, ফলমূল ও মসলাজাতীয় খাদ্য উপাদান সংগ্রহ করে সেগুলোর নির্যাস তৈরি করা হয়। পরে ক্যানসার সেল লাইনের ওপর পরীক্ষা চালিয়ে পালংশাক, লেবুর খোসা, ধনিয়াপাতা ও টমেটো—এই চারটি উপাদান নিয়ে আরও গবেষণা করা হয়। এসব নির্যাসের ক্যানসার কোষের বৃদ্ধি ও বিস্তার রোধ এবং অ্যাপোপটোসিস বা কোষমৃত্যু প্রক্রিয়ায় সম্ভাব্য কার্যকারিতা যাচাই করা হয়েছে। পরবর্তী পর্যায়ে মাউস মডেলেও সম্মিলিত নির্যাসের কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হয়।
তিনি আরও বলেন, আমরা ক্যানসারের পাশাপাশি ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, আলজাইমারসহ অন্যান্য রোগের ক্ষেত্রেও সাপ্লিমেন্ট নিয়ে গবেষণা করছি।
গবেষণায় যুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুনুর রশীদ বলেন, বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ারে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারটি স্টলে ছয়টি প্রকল্পের উদ্ভাবন প্রদর্শন করা হচ্ছে। এ বিষয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং আমি এর আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে ই-মেইলের মাধ্যমে গবেষণালব্ধ ও বাজারজাতকরণের সম্ভাবনাময় উদ্ভাবন সম্পর্কে তথ্য আহ্বান করা হয়। সেখান থেকে যাচাই-বাছাই করে কয়েকটি প্রকল্প নির্বাচন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এসব উদ্ভাবনের মাধ্যমে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ও শিক্ষকদের সৃজনশীল চিন্তা এবং বাজারমুখী গবেষণার সম্ভাবনা তুলে ধরা হচ্ছে। এর বাইরে বিশ্ববিদ্যালয়ে আরও অনেক উদ্ভাবনী গবেষণা চলমান রয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার অবশেষে খুলে গেছে। দীর্ঘ প্রায় ৪ বছর বন্ধ থাকার পর বাংলাদেশিদের জন্য এই শ্রমবাজারটি আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়াই নীরবে পুনরায় চালু হলো।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) মালয়েশিয়ার সুপারমার্কেট চেইন এনএসকে ট্রেড সিটির চাহিদার প্রেক্ষিতে ২৮ বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের জন্য বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে চাহিদাপত্রের সত্যায়নের মাধ্যমে মূলত শ্রমবাজারটি আবার খুলে দেওয়া হয়।
হাইকমিশনের সূত্র জানায়, বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সি গুডনেস সার্ভিসেস লিমিটেডের অধীনে চাহিদাপত্রের সত্যায়ন সম্পন্ন হয়েছে।
যদিও সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়াই এই বহুল প্রত্যাশিত বাজারটি চালু হওয়ায় নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে, শ্রমবাজারটি পুনরায় চালু করতে দুই দেশের মন্ত্রী পর্যায়ে একাধিক বৈঠক, দীর্ঘ আলোচনা ও কূটনৈতিক তৎপরতার পরেও কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় উদ্বেগ বাড়তে থাকে। এরপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম বিদেশ সফর করেন মালয়েশিয়ায়। সফরের সময় বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগ পুনরায় শুরুর বিষয়ে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে আলোচনা করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরের মাধ্যমে নতুন করে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের পথ আবার উন্মুক্ত হয়। তবে এখন পর্যন্ত দুই দেশের পক্ষ থেকে নতুন শ্রমবাজার চালুর বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
এদিকে, মালয়েশিয়া সরকার প্রায় এক মাস আগে বাংলাদেশসহ বিদেশি কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া ও ধাপ প্রকাশ করলেও বাংলাদেশ থেকে কোন প্রক্রিয়ায় এবং কার মাধ্যমে, কত টাকা খরচে তারা মালয়েশিয়ায় যেতে পারবেন সে বিষয়ে এখনো কোনো ঘোষণা আসেনি। ফলে কিছু রিক্রুটিং এজেন্সি, দালাল ও মধ্যস্বত্বভোগী সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের প্রচারণা, চাকরির আশ্বাস এবং দ্রুত মালয়েশিয়া পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে চাকরিপ্রত্যাশীদের আকৃষ্ট করা হচ্ছে। এতে প্রতারিত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। এর আগে সরকার নির্ধারিত অভিবাসন খরচের কয়েকগুণ বেশি অর্থ দিয়ে কর্মীদের মালয়েশিয়ায় যেতে হয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, এবারও সেই ধারা অব্যাহত থাকবে। তবে কর্মীদের স্বার্থ রক্ষাসহ কম খরচে অভিবাসন নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারির কথা বলা হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে।
অন্যদিকে এবারের শ্রমবাজার কতটা স্বচ্ছ ও নিরাপদ হবে, তার ওপরই অনেকটা নির্ভর করবে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের কর্মসংস্থানের ভবিষ্যৎ। অতীতের অনিয়মের পুনরাবৃত্তি ঠেকানো এবং চাকরিপ্রত্যাশীদের দালালচক্রের হাত থেকে রক্ষা করাই এখন সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ