মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:৪৭ পি.এম
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সেমিকন্ডাক্টর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) কোম্পানি বাংলাদেশে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। এ তথ্য প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ প্রকাশ করেছেন।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সিলিকন ভ্যালির ইস্ট পালো আল্টোর ফোর সিজনস হোটেলের সিনার্জি রুমে অনুষ্ঠিত ‘সিইও অ্যান্ড সিনিয়র এক্সিকিউটিভস রাউন্ড টেবিল’ বৈঠকে ‘বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির জন্য প্রযুক্তি, বিনিয়োগ ও কৌশলগত অংশীদারত্ব’ শীর্ষক আলোচনায় তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
ববি হাজ্জাজ মন্তব্য করেন, বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা বিদ্যমান। বিশেষ করে এআই ও সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর আগ্রহ বাংলাদেশের জন্য নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে প্রযুক্তি স্থানান্তর, দক্ষ জনশক্তি তৈরি, গবেষণা ও উদ্ভাবন এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা অপরিহার্য। বৈশ্বিক প্রযুক্তি খাতের দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশকে দক্ষ মানবসম্পদ, আধুনিক প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সমন্বয়ে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। এআই ও ডেটা অবকাঠামো, সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তি এবং উচ্চপ্রযুক্তিনির্ভর শিল্পে বিনিয়োগ দেশের অর্থনীতিতে বৈচিত্র্য আনার পাশাপাশি ভবিষ্যতে কর্মসংস্থানের নতুন ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে।
গোলটেবিল আলোচনায় এআই ও ডেটা অবকাঠামো উন্নয়ন, সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে বিনিয়োগ, প্রযুক্তি স্থানান্তর, দক্ষ জনশক্তি উন্নয়ন, গবেষণা, উদ্ভাবন, বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও কৌশলগত অংশীদারত্বের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। বাংলাদেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর সঙ্গে সহযোগিতার সম্ভাব্য ক্ষেত্র নিয়েও অংশগ্রহণকারীরা মতবিনিময় করেন।
বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।
আলোচনাটি পরিচালনা করেন কারম্যাক্সের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধান তথ্য ও প্রযুক্তি কর্মকর্তা শামীম মোহাম্মদ। এতে মার্কিন প্রযুক্তি খাতের জ্যেষ্ঠ নির্বাহীরা অংশগ্রহণ করেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ফার্মেসি বিভাগের একদল গবেষক লেবু, টমেটো, ধনিয়াপাতা ও পালংশাকের মতো সহজলভ্য শাক-সবজির নির্যাস ব্যবহার করে একটি অ্যান্টিক্যানসার সাপ্লিমেন্ট সিরাপের প্রোটোটাইপ তৈরি করেছেন। এই প্রোটোটাইপটি ক্যানসার প্রতিরোধে এসব খাদ্য উপাদানের সম্ভাব্য কার্যকারিতা পরীক্ষার অংশ হিসেবে তৈরি করা হয়েছে।
গবেষকরা ‘প্রাইসলেস এডিবল ফুডস: অ্যান অলটারনেটিভ সোর্স অব এক্সপেনসিভ অ্যান্টিক্যানসার ড্রাগস’ শীর্ষক গবেষণায় দেশের বাজার থেকে সংগ্রহ করা ৬৮টি শাকসবজি, ফলমূল ও মসলাজাতীয় খাদ্য উপাদান নিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে কাজ করেন। পরবর্তীতে ক্যানসার সেল লাইনের ওপর পরীক্ষার ভিত্তিতে পালংশাক, লেবুর খোসা, ধনিয়াপাতা ও টমেটো নিয়ে আরও গবেষণা করা হয়।
গবেষণায় এসব নির্যাসের ক্যানসার কোষের বৃদ্ধি ও বিস্তার রোধ এবং অ্যাপোপটোসিস বা কোষমৃত্যু প্রক্রিয়ায় সম্ভাব্য কার্যকারিতা যাচাই করা হয়েছে। পরবর্তী পর্যায়ে মাউস মডেলেও সম্মিলিত নির্যাসের কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হয়। গবেষণার ফলাফলের ভিত্তিতে চারটি উপাদানের নির্যাস সমন্বয়ে অ্যান্টিক্যানসার সাপ্লিমেন্ট সিরাপের প্রোটোটাইপ তৈরি করা হয়েছে।
গবেষক দলের সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন—রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুনুর রশীদ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এ এইচ এম খুরশীদ আলম এবং মো. আরিফুল ইসলাম ও মো. রহমত আলী।
গবেষণাটির তথ্য ও ফলাফল গত ১২ সেপ্টেম্বর ঢাকার নভোথিয়েটারে আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করা হয়। এ সময় গবেষণার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের প্রকাশনার তথ্যও পোস্টারে তুলে ধরা হয়।
গবেষকেরা জানিয়েছেন, উদ্ভাবিত সিরাপটি এখনো গবেষণাগার পর্যায়ের একটি প্রোটোটাইপ। এটি ক্যানসারের চিকিৎসায় ব্যবহারের জন্য অনুমোদিত কোনো বাণিজ্যিক ওষুধ নয়। সিরাপের বোতলের লেবেলেও বিষয়টি স্পষ্ট করতে ‘ফর রিসার্চ পারপাস অনলি’ উল্লেখ করা হয়েছে।
গবেষকেরা বলছেন, সহজলভ্য দেশীয় খাদ্য উপাদানের সম্ভাব্য ঔষধি গুণকে বৈজ্ঞানিকভাবে অনুসন্ধানের এ উদ্যোগ ভবিষ্যতে খাদ্য উপাদান থেকে নতুন ঔষধি বা সহায়ক উপাদান তৈরির সম্ভাবনা যাচাইয়ে সহায়ক হতে পারে।
গবেষণার বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এ এইচ এম খুরশীদ আলম বলেন, আধুনিক ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও উচ্চমূল্যের বিষয়টি বিবেচনা করে আমরা দৈনন্দিন খাদ্য উপাদানের মধ্যে রোগ প্রতিরোধে সম্ভাবনাময় উপাদান খুঁজে বের করার উদ্যোগ নিই। প্রথম পর্যায়ে দেশের বাজার থেকে ৬৮টি শাকসবজি, ফলমূল ও মসলাজাতীয় খাদ্য উপাদান সংগ্রহ করে সেগুলোর নির্যাস তৈরি করা হয়। পরে ক্যানসার সেল লাইনের ওপর পরীক্ষা চালিয়ে পালংশাক, লেবুর খোসা, ধনিয়াপাতা ও টমেটো—এই চারটি উপাদান নিয়ে আরও গবেষণা করা হয়। এসব নির্যাসের ক্যানসার কোষের বৃদ্ধি ও বিস্তার রোধ এবং অ্যাপোপটোসিস বা কোষমৃত্যু প্রক্রিয়ায় সম্ভাব্য কার্যকারিতা যাচাই করা হয়েছে। পরবর্তী পর্যায়ে মাউস মডেলেও সম্মিলিত নির্যাসের কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হয়।
তিনি আরও বলেন, আমরা ক্যানসারের পাশাপাশি ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, আলজাইমারসহ অন্যান্য রোগের ক্ষেত্রেও সাপ্লিমেন্ট নিয়ে গবেষণা করছি।
গবেষণায় যুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুনুর রশীদ বলেন, বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ারে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারটি স্টলে ছয়টি প্রকল্পের উদ্ভাবন প্রদর্শন করা হচ্ছে। এ বিষয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং আমি এর আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে ই-মেইলের মাধ্যমে গবেষণালব্ধ ও বাজারজাতকরণের সম্ভাবনাময় উদ্ভাবন সম্পর্কে তথ্য আহ্বান করা হয়। সেখান থেকে যাচাই-বাছাই করে কয়েকটি প্রকল্প নির্বাচন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এসব উদ্ভাবনের মাধ্যমে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ও শিক্ষকদের সৃজনশীল চিন্তা এবং বাজারমুখী গবেষণার সম্ভাবনা তুলে ধরা হচ্ছে। এর বাইরে বিশ্ববিদ্যালয়ে আরও অনেক উদ্ভাবনী গবেষণা চলমান রয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার অবশেষে খুলে গেছে। দীর্ঘ প্রায় ৪ বছর বন্ধ থাকার পর বাংলাদেশিদের জন্য এই শ্রমবাজারটি আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়াই নীরবে পুনরায় চালু হলো।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) মালয়েশিয়ার সুপারমার্কেট চেইন এনএসকে ট্রেড সিটির চাহিদার প্রেক্ষিতে ২৮ বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের জন্য বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে চাহিদাপত্রের সত্যায়নের মাধ্যমে মূলত শ্রমবাজারটি আবার খুলে দেওয়া হয়।
হাইকমিশনের সূত্র জানায়, বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সি গুডনেস সার্ভিসেস লিমিটেডের অধীনে চাহিদাপত্রের সত্যায়ন সম্পন্ন হয়েছে।
যদিও সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়াই এই বহুল প্রত্যাশিত বাজারটি চালু হওয়ায় নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে, শ্রমবাজারটি পুনরায় চালু করতে দুই দেশের মন্ত্রী পর্যায়ে একাধিক বৈঠক, দীর্ঘ আলোচনা ও কূটনৈতিক তৎপরতার পরেও কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় উদ্বেগ বাড়তে থাকে। এরপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম বিদেশ সফর করেন মালয়েশিয়ায়। সফরের সময় বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগ পুনরায় শুরুর বিষয়ে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে আলোচনা করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরের মাধ্যমে নতুন করে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের পথ আবার উন্মুক্ত হয়। তবে এখন পর্যন্ত দুই দেশের পক্ষ থেকে নতুন শ্রমবাজার চালুর বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
এদিকে, মালয়েশিয়া সরকার প্রায় এক মাস আগে বাংলাদেশসহ বিদেশি কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া ও ধাপ প্রকাশ করলেও বাংলাদেশ থেকে কোন প্রক্রিয়ায় এবং কার মাধ্যমে, কত টাকা খরচে তারা মালয়েশিয়ায় যেতে পারবেন সে বিষয়ে এখনো কোনো ঘোষণা আসেনি। ফলে কিছু রিক্রুটিং এজেন্সি, দালাল ও মধ্যস্বত্বভোগী সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের প্রচারণা, চাকরির আশ্বাস এবং দ্রুত মালয়েশিয়া পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে চাকরিপ্রত্যাশীদের আকৃষ্ট করা হচ্ছে। এতে প্রতারিত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। এর আগে সরকার নির্ধারিত অভিবাসন খরচের কয়েকগুণ বেশি অর্থ দিয়ে কর্মীদের মালয়েশিয়ায় যেতে হয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, এবারও সেই ধারা অব্যাহত থাকবে। তবে কর্মীদের স্বার্থ রক্ষাসহ কম খরচে অভিবাসন নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারির কথা বলা হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে।
অন্যদিকে এবারের শ্রমবাজার কতটা স্বচ্ছ ও নিরাপদ হবে, তার ওপরই অনেকটা নির্ভর করবে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের কর্মসংস্থানের ভবিষ্যৎ। অতীতের অনিয়মের পুনরাবৃত্তি ঠেকানো এবং চাকরিপ্রত্যাশীদের দালালচক্রের হাত থেকে রক্ষা করাই এখন সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা শুরু হয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ সভাকক্ষে এ সভার কার্যক্রম শুরু হয়।
এ তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি মোস্তফা জুলফিকার হাসান।
সভায় বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প এবং সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে বলে জানা গেছে। বৈঠকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত রয়েছেন।
সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বৈঠক শেষে বিকেল ৩টায় পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে সংবাদ ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হবে। পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকী সেখানে একনেক সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত এবং অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করবেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশের অনেক শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখছেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পাশাপাশি স্টুডেন্ট ভিসার জন্য ধাপে ধাপে প্রস্তুতি গ্রহণ করা প্রয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয় বাছাই, আবেদন, ভর্তি নিশ্চিত করা, আই-২০ সংগ্রহ, সেভিস ফি প্রদান, ডিএস-১৬০ পূরণ এবং ভিসা ইন্টারভিউ—প্রতিটি ধাপে সঠিক তথ্য ও প্রস্তুতির প্রয়োজন রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় বাছাইয়ে সময় দিন
যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করার পরিকল্পনা থাকলে অন্তত ১২ থেকে ১৮ মাস আগে বিশ্ববিদ্যালয় ও বিষয় নিয়ে গবেষণা শুরু করা উচিত। শিক্ষার্থীদের জন্য কোন বিষয়ে পড়তে হবে, ভবিষ্যতের ক্যারিয়ার পরিকল্পনা কী, শিক্ষার খরচ কত হবে, বৃত্তির সুযোগ আছে কি না এবং কোথায় থাকতে চান—এসব বিষয় বিবেচনা করে বিশ্ববিদ্যালয় বাছাই করা উচিত।
যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা বিভাগের এডুকেশনইউএসএ জানাচ্ছে, কোনো একটি বিশ্ববিদ্যালয় সবার জন্য সেরা নয়। শিক্ষার্থীর একাডেমিক, আর্থিক ও ব্যক্তিগত প্রয়োজনের সঙ্গে যেই প্রতিষ্ঠান সবচেয়ে ভালোভাবে মেলে, সেটিই তার জন্য উপযুক্ত। যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য সরকারি একক র্যাঙ্কিং ব্যবস্থা নেই।
বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন
বিশ্ববিদ্যালয় বাছাইয়ের পর আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সাধারণত শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ ও নম্বরপত্র, প্রয়োজনীয় পরীক্ষার ফল, ইংরেজি ভাষার দক্ষতার প্রমাণ, সুপারিশপত্র, ব্যক্তিগত প্রবন্ধ, জীবনবৃত্তান্ত এবং প্রয়োজন অনুযায়ী গবেষণাসংক্রান্ত কাগজপত্র জমা দিতে হয়।
কিন্তু কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে কী কী কাগজপত্র প্রয়োজন, তা প্রতিষ্ঠান ও বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি-সংক্রান্ত শর্তগুলো ভালোভাবে দেখে নেওয়া জরুরি।
ভর্তি নিশ্চিত হলে আই-২০
বিশ্ববিদ্যালয় আবেদন গ্রহণ করলে শিক্ষার্থীকে ভর্তি নিশ্চিত করার পরবর্তী প্রক্রিয়ায় যেতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটি অবশ্যই শিক্ষার্থী ও বিনিময় দর্শনার্থী কর্মসূচির অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান হতে হবে।
ভর্তি গ্রহণের পর শিক্ষার্থীকে সেভিসে নিবন্ধন করতে হয় এবং নির্ধারিত ফি প্রদান করতে হয়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আই-২০ প্রদান করা হয়। এই আই-২০ স্টুডেন্ট ভিসার আবেদনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র এবং ভিসা ইন্টারভিউয়ের সময় এটি দেখাতে হবে।
সেভিস ফি দিতে হবে
এফ বা এম শ্রেণির স্টুডেন্ট ভিসার আবেদনকারীদের জন্য সেভিসের আই-৯০১ ফি বর্তমানে ৩৫০ মার্কিন ডলার। এই ফি ভিসা আবেদনের ফি থেকে আলাদা।
ডিএস-১৬০ পূরণ
এরপর অনলাইনে ডিএস-১৬০ ফরম পূরণ করতে হবে। এখানে ব্যক্তিগত তথ্য, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পড়াশোনার পরিকল্পনা ও ভ্রমণসংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য দিতে হয়।
ডিএস-১৬০-এর তথ্য সঠিক ও সম্পূর্ণভাবে পূরণ করা গুরুত্বপূর্ণ। ফরম জমা দেওয়ার পর এর নিশ্চিতকরণ পৃষ্ঠাটি সংরক্ষণ করে রাখতে হবে এবং ভিসা ইন্টারভিউয়ের সময় সেটি সঙ্গে নিতে হবে। শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে আই-২০তে থাকা সেভিস নম্বর ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তথ্য ডিএস-১৬০ পূরণের সময় প্রয়োজন হতে পারে।
স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন ফি
স্টুডেন্ট ভিসাসহ এফ ও এম শ্রেণির অ-অভিবাসী ভিসার আবেদন প্রক্রিয়াকরণ ফি বর্তমানে ১৮৫ মার্কিন ডলার। এই ফি ফেরতযোগ্য নয়।
এরপর ভিসা ইন্টারভিউয়ের জন্য সময় নিতে হবে। সাক্ষাৎকারের সময় স্থান ও ভিসার ধরন অনুযায়ী অপেক্ষার সময় পরিবর্তিত হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর তথ্য অনুযায়ী, ঢাকায় এফ, এম ও জে শ্রেণির ভিসার পরবর্তী সাক্ষাৎকারের সময় পেতে অপেক্ষা অর্ধ মাসের কম দেখানো হয়েছে। তবে এই সময় নিয়মিত পরিবর্তিত হয়।
ভিসা ইন্টারভিউয়ের আগে যেসব কাগজপত্র প্রস্তুত রাখবেন
ভিসা ইন্টারভিউয়ের আগে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র গুছিয়ে রাখতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে—
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ভিসা ইন্টারভিউয়ের সময় আবেদনকারীর শিক্ষাগত প্রস্তুতি, যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার খরচ কীভাবে বহন করবেন এবং পড়াশোনা শেষে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরে যাওয়ার অভিপ্রায় সম্পর্কে অতিরিক্ত প্রমাণ চাওয়া হতে পারে।
ভিসা ইন্টারভিউতে কী জানতে চাওয়া হতে পারে
ভিসা ইন্টারভিউতে মূলত শিক্ষার্থীর পড়াশোনার পরিকল্পনা, কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে ও কোন বিষয়ে পড়বেন, কেন ওই বিষয়টি বেছে নিয়েছেন, পড়াশোনার খরচ কীভাবে বহন করবেন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী—এসব বিষয়ে প্রশ্ন আসতে পারে।
সুতরাং মুখস্থ করা উত্তর না দিয়ে নিজের পড়াশোনা, বিশ্ববিদ্যালয়, বিষয় এবং আর্থিক পরিকল্পনা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখা জরুরি। ডিএস-১৬০, আই-২০ এবং অন্যান্য কাগজপত্রে দেওয়া তথ্যের সঙ্গে সাক্ষাৎকারের উত্তরের সামঞ্জস্য থাকা গুরুত্বপূর্ণ।
তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া বা আই-২০ পাওয়া মানেই স্টুডেন্ট ভিসা নিশ্চিত হওয়া নয়। ভিসা ইন্টারভিউয়ের মাধ্যমে কনস্যুলার কর্মকর্তা আবেদনকারীর যোগ্যতা যাচাই করেন এবং ভিসা দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেন।
শেষ মুহূর্তে নয়, আগে থেকেই প্রস্তুতি
যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার পুরো প্রক্রিয়াটি কয়েকটি ধাপে ভাগ করা যায়—বিশ্ববিদ্যালয় ও বিষয় বাছাই, আবেদন, ভর্তি নিশ্চিত করা, আই-২০ সংগ্রহ, সেভিস ফি দেওয়া, ডিএস-১৬০ পূরণ, ভিসা আবেদন ফি দেওয়া এবং সবশেষে ভিসা ইন্টারভিউ।
বিশ্ববিদ্যালয় বাছাই থেকে ভিসা ইন্টারভিউ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে তথ্যের নির্ভুলতা ও সময়মতো প্রস্তুতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ভিসা ইন্টারভিউয়ের সময় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে রাখা এবং নিজের শিক্ষাগত ও আর্থিক পরিকল্পনা স্পষ্টভাবে তুলে ধরার প্রস্তুতি আগে থেকেই নেওয়া উচিত।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ