ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

খাবার পরিবেশনে কাগজের ব্যবহার: স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে অজান্তেই


খাবার পরিবেশনে কাগজের ব্যবহার: স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে অজান্তেই

বাসে বসে জানালা দিয়ে আমড়া, শসা কিংবা পেয়ারা মাখা কেনার অভ্যাস অনেকের। পথে হাঁটতে হাঁটতে ঝালমুড়ি, ছোলা বা ভাজাপোড়া খাওয়ার দৃশ্যও দেখা যায়। অফিসের নিচে আড্ডার ফাঁকে গরম শিঙাড়া, পুরি কিংবা পিঠা খাওয়াও অনেকের নিত্যদিনের অভ্যাস। তবে, যদি এসব খাবার কাগজের ঠোঙা, পুরোনো পত্রিকা কিংবা সাধারণ ছাপানো কাগজে পরিবেশন করা হয়, তাহলে বিষয়টি নিয়ে সচেতন হওয়া প্রয়োজন।

খাবার পরিবেশনে কাগজ ব্যবহার অনেকের কাছে সহজ ও সাশ্রয়ী মনে হলেও, এতে খাবারের সঙ্গে কাগজের কালি ও বিভিন্ন জীবাণু মিশে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে গরম, তেলযুক্ত বা ভেজা খাবারের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।

কাগজের ঠোঙায় খাবার কতটা ঝুঁকিপূর্ণ

আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়ে ৪, হাসপাতালে ভর্তি ১৮৫১ জন

রাস্তার পাশে খাবারের দোকান বা ফেরিওয়ালাদের অনেক সময় পত্রিকার পাতা, সাধারণ কাগজ কিংবা কাগজের ঠোঙায় খাবার পরিবেশন করতে দেখা যায়। আচার, আমড়া, শসা, ঝালমুড়ি, ছোলা, পিঁয়াজু, বেগুনি, ফুচকা, শিঙাড়া, পুরি, জিলাপি, পরোটা কিংবা লুচির মতো খাবার এসব কাগজে পরিবেশন করা হয়।

অনেক সময় খাবারের বাড়তি তেল শুষে নেওয়ার জন্য কিংবা চামচের বিকল্প হিসেবেও কাগজ ব্যবহার করা হয়। এতে কাগজের কালি খাবারের সংস্পর্শে আসার সুযোগ তৈরি হয়। বিশেষ করে কাগজে পানি বা তেল লাগলে কালির কিছু উপাদান খাবারের সঙ্গে মিশে যেতে পারে।

কালির ক্ষতিকর উপাদান খাবারে মিশতে পারে। কাগজের ছাপার কালিতে বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক উপাদান থাকতে পারে। এসব উপাদান খাবারের সঙ্গে শরীরে প্রবেশ করলে দীর্ঘমেয়াদে নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

এর মধ্যে কিডনি ও লিভারের প্রদাহ, হৃদ্‌রোগ, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, স্নায়ুতন্ত্রের সমস্যা এবং প্রজননসংক্রান্ত জটিলতার মতো বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন এসব রাসায়নিকের সংস্পর্শে থাকলে খাদ্যনালী, পাকস্থলী, বৃহদান্তর ও লিভারের মতো অঙ্গের ক্যানসারের ঝুঁকির সঙ্গেও এর সম্পর্ক থাকতে পারে।

আরও পড়ুন: ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে ৫ শিশুর মৃত্যু

গরম ও তেলযুক্ত খাবারে ঝুঁকি বেশি

শিঙাড়া, সমুচা, পুরি, পরোটা বা ভাজাপোড়ার মতো গরম ও তেলযুক্ত খাবার কাগজে রাখলে কাগজের কালি খাবারের সঙ্গে মিশে যাওয়ার সুযোগ বাড়ে। একইভাবে শসা, আমড়া বা আচারের মতো ভেজা খাবারও কাগজের কালি ও অন্যান্য উপাদানের সংস্পর্শে আসে।

তেল ও পানি কাগজের কিছু রাসায়নিক উপাদান খাবারের দিকে স্থানান্তরে সহায়তা করতে পারে। ফলে কাগজে রাখা খাবার খাওয়ার সময় অজান্তেই এসব উপাদান শরীরে ঢুকে যেতে পারে।

পুরোনো কাগজে থাকতে পারে জীবাণু

আরও পড়ুন: ক্যানসার হাসপাতালগুলোতে রেডিওথেরাপি মেশিন স্থাপনের উদ্যোগ: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

শুধু কালিই নয়, অপরিষ্কার বা পুরোনো কাগজেও বিভিন্ন রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণু থাকতে পারে। এমন কাগজ খাবারের সংস্পর্শে এলে জীবাণু খাবারে চলে আসার আশঙ্কা থাকে।

পরে সেই খাবার খেলে পাকস্থলী ও অন্ত্রে প্রদাহ, হজমের সমস্যা এবং অন্যান্য পেটের অসুস্থতা দেখা দিতে পারে। তাই খাবার পরিবেশনের ক্ষেত্রে কাগজের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।

কারা বেশি ঝুঁকিতে

যারা দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত কাগজের ঠোঙা বা পত্রিকার পাতায় দেওয়া খাবার খান, তাদের এ বিষয়ে বেশি সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। নিয়মিত এমন খাবার খাওয়ার অভ্যাসের কারণে দীর্ঘমেয়াদে কাগজের কালি ও অন্যান্য ক্ষতিকর উপাদানের সংস্পর্শে আসার সুযোগ বাড়ে।

আরও পড়ুন: স্বাস্থ্যখাতের বাজেটের বড় অংশ ক্যানসার চিকিৎসায় ব্যয় হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

চিকিৎসকের পরামর্শ

চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী, কাগজের ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করার প্রয়োজন নেই; বরং খাবার রাখার ক্ষেত্রে নিরাপদ ও খাদ্য রাখার উপযোগী কাগজ ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি। সাধারণ ছাপানো কাগজ, পত্রিকার পাতা কিংবা হাতে লেখা কাগজে খাবার দেওয়া এড়িয়ে চলতে হবে।

খাবার পরিবেশনের জন্য পরিষ্কার সাদা কাগজ, টিস্যু বা কাগজের তোয়ালে ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে রঙিন টিস্যু ব্যবহার না করাই ভালো। বিশেষ করে গরম, তেলযুক্ত বা ভেজা খাবার পত্রিকার পাতা কিংবা সাধারণ ছাপানো কাগজে না রাখাই নিরাপদ।

ক্রেতাদেরও এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে। কাগজের ঠোঙা বা পত্রিকার পাতায় দেওয়া খাবার এড়িয়ে নিরাপদভাবে পরিবেশন করা খাবার বেছে নিলে বিক্রেতারাও ধীরে ধীরে এ ধরনের কাগজের ব্যবহার কমাতে উৎসাহিত হবেন।

আরও পড়ুন: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিনামূল্যে অনলাইন কোর্সে আবেদন করার পদ্ধতি

তাহলে রাস্তার খাবার খাওয়ার সময় শুধু খাবারটি কী, সেটিই নয়—কোন পাত্র বা কাগজে খাবারটি দেওয়া হচ্ছে, সেদিকেও নজর রাখা জরুরি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ঝড়ের শঙ্কা, দুই সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৪৫ পি.এম


দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ঝড়ের শঙ্কা, দুই সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত

আবহাওয়া অধিদপ্তর চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত প্রদর্শনের নির্দেশ দিয়েছে। মিয়ানমার উপকূলের নিকটবর্তী একটি গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে আজ থেকে ঝোড়ো হাওয়া প্রবাহিত হতে পারে। আগামীকালও এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক জানান, নিম্নচাপটি মূলত মিয়ানমার উপকূল হয়ে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম, হাতিয়া ও কক্সবাজার অঞ্চলে প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে আজ থেকেই এসব এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে এবং আগামীকালও এর প্রভাব অব্যাহত থাকতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, উত্তর আন্দামান সাগর ও এর নিকটবর্তী মিয়ানমার উপকূলে অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে গতকাল মধ্যরাতে একই এলাকায় অবস্থান করছিল। এটি আরও উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে আগামী দু-তিন ঘণ্টার মধ্যে মিয়ানমারের কিয়াইকতো এলাকার ওপর দিয়ে স্থলভাগ অতিক্রম করতে পারে।

গভীর নিম্নচাপের কেন্দ্রের ৪৮ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার। দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে তা ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিম্নচাপ কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর উত্তাল রয়েছে।

এর প্রভাবে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরে কোনো সতর্কসংকেত নেই। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত গভীর সাগর ও উত্তর বঙ্গোপসাগরে বিচরণ না করতে বলা হয়েছে।

এদিকে, রাজধানীর আবহাওয়া সম্পর্কে আবুল কালাম মল্লিক জানান, আজ দিনের বেলায় ঢাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা কম। তবে রাতে সামান্য বৃষ্টি হতে পারে। বুধবারও (৩০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীতে বড় ধরনের বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) থেকে বৃষ্টি হতে পারে।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা সিলেটে ৩৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। রাজধানীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত তিন দিন ধরে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভ্যাপসা গরম অনুভূত হচ্ছে। চলতি মাসে ইতিমধ্যেই তিন দফায় তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্র জানায়, কোনো এলাকায় তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছালে সেটিকে তাপপ্রবাহের পর্যায়ে ধরা হয়। তবে সোমবার ঢাকায় ৩৬ ডিগ্রি তাপমাত্রা এক দিনের জন্য থাকায় তাপপ্রবাহ ঘোষণা করা হয়নি। মঙ্গলবার এবং বুধবারও গরমের অনুভূতি অব্যাহত থাকতে পারে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পিরোজপুরে গরুর ব্যবসার বিরোধে হাতুড়িপেটা, আহত আওয়াল মিয়া হাসপাতালে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৪৬ পি.এম


পিরোজপুরে গরুর ব্যবসার বিরোধে হাতুড়িপেটা, আহত আওয়াল মিয়া হাসপাতালে

মঠবাড়িয়া উপজেলার সাপলেজা বাজারে গরুর ব্যবসার বিরোধের কারণে মো. আওয়াল মিয়াকে (৫০) হাতুড়ি ও লাঠি দিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় তিনি আহত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন। তার স্ত্রী মোর্শেদা রওশন লাভলী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগে শামীম পহলান (৩৪), শাহীন পহলান (৪৩), ইয়াকুব হাওলাদার (২৬) ও মনির পহলান (৩২) কে আসামি করা হয়েছে।

মোর্শেদা রওশন লাভলী অভিযোগ করেন যে, তার স্বামী সাপলেজা বাজারে গরুর ব্যবসা করেন এবং অভিযুক্তদের মধ্যে কয়েকজনও একই বাজারে গরুর ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তাদের মধ্যে পূর্ব থেকেই ব্যবসা নিয়ে বিরোধ চলছিল, যার ফলে তার স্বামীকে বিভিন্ন সময় হুমকি দেওয়া হচ্ছিল।

২৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে সাপলেজা মাছ ও গরুর বাজারের ট্রালশেডের কাছে আওয়াল মিয়ার সঙ্গে অভিযুক্তদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। এই সময় হাতুড়ি ও লাঠি দিয়ে তার মাথা, হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়, ফলে তিনি রক্তাক্ত জখম হন। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আওয়ালের পকেটে থাকা ১৫ হাজার ৫০০ টাকা নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

তবে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শামীম পহলান। তিনি জানান, আওয়ালের সঙ্গে পূর্ব থেকেই একটি বিষয় নিয়ে বিরোধ ছিল। ওই দিন বাজারের টোলঘরে দুজনের মধ্যে উত্তেজিত হয়ে কথা-কাটাকাটি হয়, পরে স্থানীয় লোকজন এসে তাদের শান্ত করে দেন। তিনি দাবি করেন যে, কোনো মারধর বা হামলার ঘটনা ঘটেনি।

এ বিষয়ে সাপলেজা ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান বলেন, মাংস ব্যবসায়ীদের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে মারামারির ঘটনা ঘটে। এর আগে টাকা-পয়সাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ ছিল। মারামারির পর আহত ব্যক্তিকে চিকিৎসার জন্য মঠবাড়িয়া হাসপাতালে পাঠানো হয়। তিনি বলেন, ঘটনাটি সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন এবং সঠিক বিচার হওয়া উচিত।

মঠবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম জানান, সাপলেজায় কথা-কাটাকাটির জেরে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে এবং তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শেওলা স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি পুনরায় শুরু হচ্ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৪৬ পি.এম


শেওলা স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি পুনরায় শুরু হচ্ছে

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর, সিলেটের স্থলবন্দর থেকে ভারত থেকে কয়লা ও পাথর আমদানি আবার শুরু হচ্ছে।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সিলেট কয়লা আমদানিকারক গ্রুপ এবং সিলেট জেলা পাথর আমদানিকারক গ্রুপের সঙ্গে ভারতের করিমগঞ্জ এক্সপোর্টারস্ অ্যান্ড ইম্পোর্টারস্ কো-অর্ডিনেশন টিমের মধ্যে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সীমান্ত বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক সুবিধা বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে, সিলেটের বিয়ানীবাজারের শেওলা স্থলবন্দর দিয়ে আবারও কয়লা ও পাথর আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বাংলাদেশ ও ভারতের ব্যবসায়ীরা। দুই দেশের ব্যবসায়ী নেতারা আগামী অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ থেকে এই বাণিজ্যিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু করার বিষয়ে একমত হন।

শেওলা স্থলবন্দরের পোর্ট ভবনের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এই যৌথ মতবিনিময় সভায় দুই দেশের ব্যবসায়ীরা অংশগ্রহণ করেন।

সভায় সিলেট কয়লা আমদানিকারক গ্রুপের সভাপতি চন্দন সাহা সভাপতিত্ব করেন এবং সিলেট জেলা পাথর আমদানিকারক গ্রুপের আহ্বায়ক মো. আতিক হোসেন সভাটি সঞ্চালনা করেন।

ভারতের করিমগঞ্জ এক্সপোর্টারস অ্যান্ড ইম্পোর্টারস কো-অর্ডিনেশন টিম, সিলেট কয়লা আমদানিকারক গ্রুপ এবং সিলেট জেলা পাথর আমদানিকারক গ্রুপের নেতারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘ওস্তাদ বামে প্লাস্টিক, ডাইনে টেসলা’—ঢাকার রাস্তায় হেলপারদের সাংকেতিক ভাষা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৪৬ পি.এম


‘ওস্তাদ বামে প্লাস্টিক, ডাইনে টেসলা’—ঢাকার রাস্তায় হেলপারদের সাংকেতিক ভাষা

ঢাকার রাস্তায় চলাচল করার সময় প্রায়শই কানে আসে, ওস্তাদ, বামে প্লাস্টিক, ডাইনে টেসলা, বরাবর, সামনে ক্লিয়ার। প্রথমবার এ ধরনের কথা শুনলে যে কারও মনে হতে পারে, প্লাস্টিক এবং টেসলা হয়তো রাস্তার কোনো বস্তু বা গাড়ির নাম। তবে ঢাকার যানজটে নিয়মিত চলাচলকারী ব্যক্তিরা জানেন, এসব কথার রয়েছে ভিন্ন অর্থ।

ঢাকার ব্যস্ত রাস্তায় যানবাহনের ভিড়ের মাঝে দীর্ঘ কথোপকথনের সুযোগ থাকে না। কোন গাড়ি কোন দিকে যাবে, সামনে রাস্তা কতটা ফাঁকা, কোথা দিয়ে এগোতে হবে—এসব দ্রুত বোঝাতে বাসের হেলপাররা ব্যবহার করেন কিছু সংক্ষিপ্ত শব্দ। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এসব শব্দ ঢাকার রাস্তায় এক ধরনের সাংকেতিক ভাষায় পরিণত হয়েছে।

‘বামে প্লাস্টিক’ মানে কী

‘ওস্তাদ, বামে প্লাস্টিক’—এটি ঢাকার রাস্তায় একটি পরিচিত বাক্য। এখানে ‘প্লাস্টিক’ শব্দটি পরিবেশগত কোনো সমস্যা বোঝায় না। বরং চকচকে, সুন্দর এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ব্যক্তিগত গাড়ির জন্য হেলপাররা ‘প্লাস্টিক’ শব্দটি ব্যবহার করেন।

বিশেষ করে গাড়ির ধরন বা গায়ের উপাদান দেখে দ্রুত আলাদা করে বোঝানোর জন্য এই ধরনের নাম ব্যবহার করা হয়। ফলে দীর্ঘ বর্ণনা না দিয়েই একটি শব্দের মাধ্যমে আশপাশের গাড়ি সম্পর্কে চালককে ধারণা দেওয়া সম্ভব হয়।

‘বরাবর’ শব্দের বড় অর্থ

‘বরাবর’ শব্দটি ছোট হলেও ঢাকার যানজটে এর অর্থ বিস্তৃত। এর মাধ্যমে চালককে মূলত সামনে এগিয়ে যেতে বলা হয়।

প্রয়োজনে ডানে-বামে একটু এঁকেবেঁকে যেতে হতে পারে, রাস্তা সরু হলেও এগিয়ে যেতে হবে কিংবা পরিস্থিতি কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ হলেও থামা যাবে না—সব মিলিয়ে এগিয়ে চলার নির্দেশ বোঝাতে ‘বরাবর’ বলা হয়।

‘সামনে ক্লিয়ার’ মানে রাস্তা ফাঁকা নয়।

‘সামনে ক্লিয়ার’ শুনলে মনে হতে পারে সামনের রাস্তা পুরোপুরি ফাঁকা। কিন্তু যানজটে এর অর্থ সবসময় এমন নয়। অনেক সময় গাড়ির চাকা সামান্য নড়তে শুরু করলেও হেলপাররা এই বাক্যটি বলেন। কখনো আবার গাড়ি না নড়লেও চালককে এগিয়ে যাওয়ার জন্য উৎসাহিত করতে ‘সামনে ক্লিয়ার’ বলা হয়।

অর্থাৎ এটি অনেকটা আশাব্যঞ্জক সংকেত হিসেবেও কাজ করে।

এই ভাষা কোথা থেকে আসে

বাসের হেলপাররা সাধারণত কোনো নির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ নিয়ে ঢাকার এই সাংকেতিক ভাষা শেখেন না। বরং দীর্ঘদিন ঢাকার রাস্তায় কাজ করতে করতে নিজেরাই এসব শব্দ ও সংকেত শিখে নেন।

জীবিকার তাগিদে দেশের বিভিন্ন এলাকা, যেমন নোয়াখালী, বরিশাল, রংপুর ও ময়মনসিংহ থেকে অনেক মানুষ ঢাকায় এসে হেলপার হিসেবে কাজ শুরু করেন। তাদের কথাবার্তায় নিজ নিজ এলাকার আঞ্চলিক ভাষার প্রভাব থাকে। এক অঞ্চলের মানুষের কাছে অন্য অঞ্চলের আঞ্চলিক ভাষা অনেক সময় সহজে বোঝা যায় না।

কিন্তু ঢাকার ব্যস্ততা তাদের যোগাযোগের ধরন পরিবর্তন করে। এখানে দীর্ঘ বাক্য বা শুদ্ধ ব্যাকরণের চেয়ে দ্রুত ও স্পষ্টভাবে পরিস্থিতি বোঝানো বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ছোট ও সহজ কিছু শব্দ তাদের যোগাযোগের মাধ্যম হয়ে দাঁড়ায়।

যানজটই তৈরি করেছে এই ভাষা

ঢাকার যানজটে সামান্য ফাঁকা জায়গা পেলেই একাধিক গাড়ি সেখানে ঢোকার চেষ্টা করে। কে আগে যাবে, কোন দিক দিয়ে গাড়ি বের হবে—এসব বোঝাতে চালক ও হেলপারদের হাতে থাকে মাত্র কয়েক মুহূর্ত।

এই পরিস্থিতিতে বিস্তারিত কথা বলার সুযোগ নেই। তাই উচ্চস্বরে ছোট ছোট শব্দ ব্যবহার করেই আশপাশের পরিস্থিতি জানিয়ে দেওয়া হয়। যানবাহনের হর্ন ও মানুষের কোলাহলের মধ্যেও যাতে চালকের কানে কথা পৌঁছায়, সেভাবেই তৈরি হয়েছে এসব সংকেত।

শান্ত বা নিয়ম মেনে কথোপকথন না হলেও উদ্দেশ্য পূরণে এসব শব্দ বেশ কার্যকর হয়ে উঠেছে।

রিকশারও আছে নিজস্ব সাংকেতিক ভাষা

এই সাংকেতিক যোগাযোগ শুধু বাসের হেলপারদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ঢাকার রাস্তায় রিকশাচালকরাও নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন সংকেত ব্যবহার করেন। এর মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত হলো রিকশার ঘণ্টির শব্দ।

একবার ঘণ্টি বাজানোর অর্থ হতে পারে সামনে রিকশার উপস্থিতি জানান দেওয়া। দুইবার ঘণ্টি বাজালে সাধারণত আশপাশের কাউকে সতর্ক করা বোঝায়।

আর পরপর তিনবার ঘণ্টি বাজালে এর অর্থ আরও স্পষ্ট—সামনে থাকা মানুষ বা যানবাহনকে সরে যেতে বলা হচ্ছে। কারণ সামনে জায়গা না ছাড়লে যেকোনো সময় ধাক্কা লাগতে পারে।

ঢাকার যানজট তাই শুধু গাড়ি, হর্ন আর অপেক্ষার গল্প নয়। এই ব্যস্ত শহরের রাস্তায় প্রতিদিন তৈরি হচ্ছে এমন কিছু শব্দ, সংকেত ও অভ্যাস, যেগুলো বাইরে থেকে আসা মানুষের কাছে অদ্ভুত মনে হলেও নিয়মিত চালক, হেলপার ও রিকশাচালকদের কাছে হয়ে উঠেছে দ্রুত যোগাযোগের নিজস্ব মাধ্যম।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%