প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ঢাকা, ২২ অক্টোবর, ২০২৬ : ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ৩০টির বেশি হিন্দু বাড়িতে আগুন দেওয়ার দৃশ্য দাবি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো একটি ভিডিওকে ভিন্ন ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত অপপ্রচার হিসেবে শনাক্ত করেছে ফ্যাক্টওয়াচ।
ফ্যাক্টওয়াচের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ফেসবুকে আগুনে পুড়তে থাকা কয়েকটি বাড়ির ভিডিও শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে যে, ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ৩০টির বেশি হিন্দু বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।
তবে ফ্যাক্টওয়াচের যাচাইয়ে প্রমাণিত হয়েছে যে, ভিডিওটির সঙ্গে সাম্প্রদায়িকতার কোনো সম্পর্ক নেই। এটি আসলে ধর্ষণের অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিযুক্তদের বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার ভিডিও।
ভিডিওটির কয়েকটি কি-ফ্রেম দিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করে ‘নব জাগরণ’ নামের একটি ফেসবুক পেজে একই ভিডিও পাওয়া যায়। গত ২৩ সেপ্টেম্বর ওই পেজে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়েছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির সঙ্গে এর মিল রয়েছে। পোস্টের ক্যাপশন থেকে জানা যায়, এটি ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে ঘটে যাওয়া ধর্ষণ-সংক্রান্ত একটি ঘটনার ভিডিও।
এ বিষয়ে ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টারে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনও পাওয়া গেছে। ওই প্রতিবেদনে, যা ২২ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হয়েছে, বলা হয়েছে যে, ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে জিম্মি করে তার মাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলার প্রধান আসামির বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়। পরে একই মামলার আরও তিন আসামির বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই দিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে চরআলগী ইউনিয়নের চর কালিবাড়ি এলাকায় মামলার প্রধান আসামি শরীফের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়। পরে সন্ধ্যা ৬টার দিকে একই মামলার আসামি ফাহিম, রাজিব ও এনামুলের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়।
দৈনিক আজকের পত্রিকার গফরগাঁও উপজেলা প্রতিনিধি ফ্যাক্টওয়াচকে জানান, ভিডিওটি নিয়ে প্রচারিত দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। এটি ধর্ষণের অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বাড়িতে এলাকাবাসীর অগ্নিসংযোগের দৃশ্য। উল্লেখ্য, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ও আসামি—উভয় পক্ষই মুসলিম।
এছাড়া, সাম্প্রতিক সময়ে গফরগাঁওয়ে হিন্দু সম্প্রদায় বা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ কিংবা হামলার কোনো খবর নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমে পাওয়া যায়নি। সার্বিক পর্যালোচনায় ফ্যাক্টওয়াচ দাবিটিকে মিথ্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
দেশে গুজব ও ভুয়া তথ্যের বিস্তার রোধে কাজ করছে ফ্যাক্টওয়াচ। এটি লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদিত এবং সেন্টার ফর ক্রিটিক্যাল অ্যান্ড কোয়ালিটেটিভ স্টাডিজের (সিকিউএস) পরিচালিত একটি স্বাধীন ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থা।
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া ভিডিও, বিভ্রান্তিকর তথ্য ও গুজব ছড়ানোর ঘটনা বেড়েছে। ফ্যাক্টওয়াচ নিয়মিত এসব তথ্য যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরছে এবং গুজব প্রতিরোধে কাজ করছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন