০৩:১৫ পি.এম
মেহেরপুরের গাংনীতে এক মাদক কারবারির বাড়িতে অভিযান চলাকালে পুলিশের সদস্যদের দেহ তল্লাশির একটি ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ফলে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে ইতোমধ্যে।
গত ৪ আগস্ট বিকেলে গাংনী উপজেলার কাজীপুর ইউনিয়নে চলা মাদকবিরোধী যৌথ অভিযানের ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে গেছে। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, যে সময় মাদক কারবারির বাড়িতে প্রবেশের আগে উপস্থিত এক গণমাধ্যমকর্মীকে দিয়ে পুলিশের সদস্যদের দেহ তল্লাশি করা হচ্ছে। পরে পুলিশ সদস্যরা অভিযানের অংশ হিসেবে ওই বাড়িতে প্রবেশ করেছে। এই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এই বিষয়টি ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
এই তীব্র বিতর্কের মধ্যে গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী বিষয়টি নিয়ে বলেছেন যে, মাদকবিরোধী অভিযানে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য অভিযানের আগে পুলিশ সদস্যদের দেহ তল্লাশি করা হয়। তিনি বলেছেন যাতে পরবর্তীতে কেউ অভিযোগ করতে না পারে যে পুলিশ আলামত নিয়ে গিয়ে উদ্ধার দেখিয়েছে বা কাউকে ফাঁসিয়েছে।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
তিনি জানান, পুলিশ রেজুলেশনস অব বেঙ্গল (পিআরবি)-এর ২৮০ বিধির ‘ডি’ উপবিধি অনুযায়ী, তল্লাশি শুরুর আগে তল্লাশি পরিচালনাকারী পুলিশ কর্মকর্তা, উপস্থিত সাক্ষী এবং সংবাদদাতার দেহ তল্লাশি করার বিধান রয়েছে। এই তল্লাশি সাক্ষীদের পাশাপাশি যার বাড়ি বা স্থানে তল্লাশি চালানো হবে, তার বা তার প্রতিনিধির উপস্থিতিতেই সম্পন্ন করতে হয়। গাংনীর অভিযানে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি ওই বিধি অনুসরণের অংশ।
মেহেরপুরের পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায় জানিয়েছেন, নিয়ম মেনে মাদকবিরোধী অভিযানের আগে পুলিশ সদস্যদের দেহ তল্লাশি করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো, যাতে অভিযান নিয়ে যেন কোনো ধরনের প্রশ্ন বা সন্দেহের অবকাশ না থাকে। মাদক নির্মূলে জেলা পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখা হবে।
উল্লেখ্য, গত ৪ আগস্ট বিকেলে গাংনী উপজেলার সীমান্তবর্তী কাজীপুর ইউনিয়নের পাঁচটি স্থানে ঘণ্টাব্যাপী যৌথ অভিযান চালানো হয়েছিল। এই অভিযানে প্রায় ৫ কেজি গাঁজা, ২১ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং একটি নম্বরবিহীন মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। এ সময় নারীসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে গাংনী উপজেলার কাজীপুর বর্ডারপাড়ার বজলুর রহমানের ছেলে শিপন হোসেন (৪৫), ফজল আলীর স্ত্রী তানজিলা খাতুন (৪৭), ইয়াদ আলীর ছেলে ফজল আলী (৬৫), দুলাল হোসেনের ছেলে রানা হোসেন (২২) এবং কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার নাটনাপাড়া গ্রামের তাজ উদ্দিনের ছেলে জাহিদ হোসেন (২৮), হাবিবুল ইসলাম (৩৬) ও শাহিন আলম (৫০) রয়েছেন।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
এই ঘটনায় গাংনী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক পাঁচটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে গ্রেপ্তারদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন