০৩:৪৯ পি.এম
ঐতিহ্যবাহী গিরিজা খালে পানি নিষ্কাশন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এটি শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয় এবং এতে ময়লা আবর্জনা পরিষ্কারের জন্য বিজিবির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাতের দিকে, দিনাজপুর ৪২ বডার গার্ড ব্যাটালিয়ন-বিজিবি মিডিয়া সেল থেকে বাসসকে প্রেরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। সূত্রটির তথ্য অনুযায়ী, শহরের মিশন রোড, ষষ্ঠীতলা ও দক্ষিণ বালুয়াডাঙ্গা এলাকার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা, দুর্গন্ধ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ দূরীকরণের লক্ষ্যে, বিজিবি দিনাজপুর সেক্টর ও সদর ব্যাটালিয়ন ৪২ বিজিবির উদ্যোগে গিরিজা খালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও পুনঃখনন কার্যক্রম চলমান রাখা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয় যে, গিরিজা খালটি দীর্ঘদিন ধরে শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে স্থানীয় গৃহস্থালী বর্জ্য, পরিত্যক্ত আবর্জনা, ময়লা ও নোংরা পানি নিষ্কাশনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও রক্ষণা-বেক্ষণের অভাবের কারণে গিরিজা খালে বিপুল পরিমাণ বর্জ্য, পলি, কচুরিপানা ও আগাছা জমা হয়ে গিয়ে পানি প্রবাহ প্রায় সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে গেছে। ফলস্বরূপ, খালের বিস্তীর্ণ অংশ বর্তমানে জঙ্গলাকীর্ণ হয়ে পড়েছে। জমে থাকা পচনশীল বর্জ্য থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে আশপাশের পরিবেশ অস্বাস্থ্যকর হয়ে উঠেছে।
এ ধরনের পরিস্থিতি খালের সংলগ্ন এলাকায় সপরিবারে বসবাসরত বিজিবি সদস্য, তাদের পরিবারবর্গ, স্থানীয় বেসামরিক ব্যক্তি এবং সাধারণ জনগণের জন্য চরম ভোগান্তি এবং স্বাস্থ্য-ঝুঁকির সৃষ্টি করছে। পানি জমে থাকার ফলে মশা, মাছি, সাপসহ নানা ক্ষতিকর পোকা-মাকড়ের উপদ্রব বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া এবং অন্যান্য পানিবাহিত রোগের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশেষ করে উল্লেখযোগ্য যে, খালের পাশে শহীদ কর্ণেল কুদরত ইলাহী পাবলিক স্কুল এবং কুঠিবাড়ী বিজিবি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অবস্থিত। এই দুটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিন ধরে দুর্গন্ধ এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের মধ্যে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে।
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, দুর্গন্ধ দূরীকরণ, মশা-বাহিত রোগ প্রতিরোধ, এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সচল রাখতে বিজিবি দিনাজপুর সেক্টরের উদ্যোগে ও সদর ৪২ বিজিবির তত্ত্বাবধানে এই খালটির পরিষ্কার এবং খনন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
জেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সমন্বয়ে, ২২ জুলাই থেকে ৩ আগস্ট পর্যন্ত বিজিবির নিজস্ব জনবল এবং শ্রমিকদের সহায়তায় খালের ময়লা-আবর্জনা, কচুরিপানা এবং আগাছা অপসারণ করা হয়েছে। এরপর ৪ আগস্ট থেকে দিনাজপুর সড়ক ও জনপদ বিভাগের একটি এক্সকাভেটর মেশিনের সহায়তায় খালে ড্রেজিং ব্যবহারে পুনঃখনন ও সংস্কার কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যা এখন পর্যন্ত চলমান রয়েছে।
দিনাজপুর সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ ফয়সল হাসান খান, পিএসসি জানিয়েছেন যে, গিরিজা খাল সম্পূর্ণ পরিষ্কার ও পুনঃখনন শেষ হলে, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা স্বাভাবিক হবে, জলাবদ্ধতা দূর হবে এবং মশা, মাছি, সাপ এবং অন্যান্য ক্ষতিকর পোকা-মাকড়ের উপদ্রব উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। এতে শিক্ষার্থী, বিজিবি সদস্য এবং তাদের পরিবার এবং স্থানীয় জনগণ স্বাস্থ্য ঝুঁকি এবং পরিবেশগত ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাবেন।
তিনি আরও জানিয়েছেন যে, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণ, জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন এবং জনগণের জীবনমান উন্নয়নে বিজিবি আগামীতে এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে বলে আশ্বস্ত করেছেন।
আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন