প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
নেত্রকোনা জেলায় ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলার কারণে আলোচিত কনটেন্ট নির্মাতা মো. রিপন মিয়াকে (৩৩) গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১৪।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাত ১২টার সাথে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার মহিষারন এলাকার অচিন্তপুরে র্যাব অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
র্যাব জানায়, মামলার পর থেকেই রিপন মিয়া আত্মগোপনে চলে যান। পরে গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে এবং গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে তাকে আটক করা হয়। এরপর আইনি ব্যবস্থা নিতে তাকে নেত্রকোনা সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ভুক্তভোগী কিশোরী ও রিপন একই এলাকায় বাস করেন এবং তারা প্রতিবেশী। রিপন একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত কনটেন্ট নির্মাতা হিসেবে নিজের পরিচয় ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরেই কিশোরীকে ভিডিও বানানোর প্রলোভন দেখাতেন এবং কুপ্রস্তাব দিতেন।
অভিযোগের অনুসারে, গত ৩০ জুলাই রাত ৮টার দিকে জরুরি কথা বলার প্রলোভন দিয়ে কিশোরীকে বাড়ির পাশের এক জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করেন রিপন।
এ ঘটনার প্রেক্ষিতে, গত ৫ আগস্ট ভুক্তভোগীর বাবা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে নেত্রকোনা সদর থানায় মামলা দায়ের করেন।
নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের জানান, অভিযুক্ত রিপন মিয়াকে র্যাব গ্রেফতার করেছে। তাকে আদালতে পাঠানোর কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
পেশায় কাঠমিস্ত্রি রিপন মিয়া ২০১৬ সাল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও তৈরি করে পরিচিতি লাভ করেন। ‘হাই আই এম রিপন ভিডিও’ এবং ‘আই লাভ ইউ, এটাই বাস্তব’ এর মতো সংলাপের ভিডিও দ্বারা তিনি জনপ্রিয় হন। ২০১৯ সালে রিপন মিয়া নামে একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেজ চালু করেন, যেখানে বর্তমানে অনুসারীর সংখ্যা ১৯ লাখেরও বেশি।
ভুক্তভোগীর পরিবার অভিযোগ করেছে, ঘটনার রাতে কিশোরীর বাবা বাজারে এবং মা বাইরে কাজ করছেন। এ সুযোগে রিপন বাড়িতে গিয়ে কিশোরীকে জোর করে পাশের জঙ্গলে নিয়ে ধর্ষণ করেন। পরে চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে অভিযুক্ত পালিয়ে যান।
পরিবারের দাবি, ভিডিও বানানোর কথা বলে রিপন কিশোরীকে আগে থেকেই উত্যক্ত করে আসছিলেন। লোকলজ্জার ভয়ে প্রথমে তারা বিষয়টি প্রকাশ না করলেও পরে ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাজারে সালিশ বসানো হয়।
সালিশে উপস্থিত বিভিন্ন ব্যক্তির দাবি, ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ফজলুর রহমানের নেতৃত্বে সেই বৈঠকে রিপন অভিযোগ স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেছিলেন। পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে তাকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা এবং এলাকা ছেড়ে যেতে হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন