বৃহস্পতিবার, ৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৮:০০ পি.এম
কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে তাঁর স্ত্রী ও পাঁচ বছর বয়সী ছেলেকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় তাদের অন্য একটি ছেলে গুরুতর আহত অবস্থায় রয়েছে। ঘটনার পর অভিযুক্ত ব্যক্তি পালিয়ে গেছেন।
বুধবার (৮ জুলাই) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে কুতুপালং ৬ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বি-৬ ব্লকে এই ঘটনা সংঘটিত হয়েছে।
নিহতদের পরিচয় হলো— রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা এহেসামুল হকের (৩৭) স্ত্রী শহীদ নুর ওরফে সুফিয়া (৩০) এবং শিশু সন্তান মোহাম্মদ শামীম (৫)। এই ঘটনায় তাদের বড় ছেলে মোহাম্মদ আফছার ওরফে বাপ্পী (১৪) গুরুতর আহত হয়েছে।
কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মাঝি মোহাম্মদ হুসাইন জানান, বুধবার (৮ জুলাই) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে পারিবারিক কলহের জেরে রোহিঙ্গা এহেসামুল হক ও তার স্ত্রী শহীদ নুর ওরফে সুফিয়ার মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয়। একপর্যায়ে এহেসামুল হক ধারালো দা দিয়ে তার স্ত্রী এবং দুই ছেলে শামীম ও বাপ্পীকে কুপিয়ে ও গলা কেটে গুরুতর জখম করে ফেলেন। এই হামলায় ঘটনাস্থলেই তার স্ত্রী ও ছোট ছেলে প্রাণ হারান।
গুরুতর আহত বড় ছেলে বাপ্পীকে স্থানীয় রোহিঙ্গাদের সহায়তায় কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন। ঘটনার পর অভিযুক্ত এহেসামুল হক পালিয়ে গেছেন বলে এসব তথ্য জানান মোহাম্মদ হুসাইন।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান জানিয়েছেন, ঘটনার দিন রাতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে একই পরিবারের দুই সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনায় মরদেহ উদ্ধারের জন্য পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছে। মরদেহ উদ্ধার হওয়ার পর সেগুলো ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান আছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কুড়িগ্রামে গ্রীনহাউসে গাঁজা চাষের অভিযোগে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অর্ধশতাধিক গাঁজার গাছ জব্দ করেছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে, জেলার ভূরুঙ্গামারীর সীমান্তবর্তী দক্ষিণ বাঁশজানি গ্রামে অভিযান চালিয়ে একটি সুপারি বাগান থেকে প্রায় অর্ধশতাধিক ছোট-বড় গাঁজার গাছ উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, তাপ ও বৃষ্টি প্রতিরোধী বিশেষ বেষ্টনীর ভেতরে গাছগুলোর পরিচর্যা করা হচ্ছিল। অভিযানের সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্ত বাবা-ছেলে সীমান্তের কাঁটাতারের নিচের ড্রেনেজ লাইন দিয়ে ভারতে পালিয়ে যান।
ভূরুঙ্গামারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) মুনতাসির মামুন মুন জানিয়েছেন, সীমান্তবর্তী এলাকার মাদক কারবারিরা ভারতীয় গাঁজার বিকল্প বাজার তৈরির উদ্দেশ্যে নিজেরা গাঁজা চাষের চেষ্টা করছে। তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
উদ্ধার করা গাঁজার গাছ এবং গ্রীনহাউসের বেষ্টনী জব্দ করা হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা নীতিমালায় পরিমার্জন করে ভোটার সংখ্যা বৃদ্ধি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
আজ নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সহকারী সচিব (নির্বাচন সহায়তা-৩) মো. রশিদ মিয়া কর্তৃক স্বাক্ষরিত গেজেট বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্যটি প্রকাশ করা হয়েছে।
সংশোধিত ‘স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০২৫’ অনুসারে, প্রতি দুই হাজার ভোটারের জন্য একটি ভোটকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করার নির্দেশনা রয়েছে। অধিকন্তু, একটির মধ্যে ৬০০ জন পুরুষ ভোটার এবং ৫০০ জন নারী ভোটারের জন্য একটি করে ভোটকক্ষ নির্ধারণ করা হবে।
নীতিমালায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, যখন একটি পদে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, তখন সাধারণভাবে ৬০০ জন পুরুষ ভোটার এবং ৫০০ জন নারী ভোটারের জন্য একটি করে ভোটকক্ষ নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী প্রতিটি ভোটকক্ষে একাধিক গোপন কক্ষ (সিক্রেট বুথ) স্থাপন করার অনুমতি থাকবে।
এছাড়া, প্রতিটি সাধারণ ওয়ার্ডের সীমানার মধ্যে অন্তত একটি ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা আবশ্যক। তবে বাস্তবতার উপযোগী হলে একাধিক ভোটকেন্দ্র স্থাপনের সুযোগও রাখা হয়েছে।
সাবেক নীতিমালায় সাধারণ নির্বাচনের জন্য ৪০০ জন পুরুষ এবং ৩০০ থেকে ৩৫০ জন নারী ভোটারের জন্য একটি করে ভোটকক্ষ নির্ধারণ করা হয়েছিল। উপনির্বাচনে ৫০০ জন পুরুষ ও ৪০০ জন নারী ভোটারের জন্যও একটি করে ভোটকক্ষ থাকতো। তবে, সংশোধিত নীতিমালায় ভোটার সংখ্যা এইবার বাড়ানো হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ এবং সাংগু নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ার প্রভাবে বান্দরবান পৌর এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে উঠেছে।
নদীর পানি প্রবেশের কারণে পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে, আর বহু ঘর-বাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে শিশু, নারী ও বয়স্কসহ অসংখ্য মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছেন।
বান্দরবান পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা করুণা বড়ুয়া জানান, পৌর এলাকাতে মোট ১৯টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু রয়েছে। এ সকল আশ্রয়কেন্দ্রে এ পর্যন্ত প্রায় ৪ হাজার মানুষ আশ্রয় গ্রহণ করেছেন।
তিনি আরও জানান, আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরতদের জন্য প্রতিদিন দুপুর এবং রাতে দু’বেলা রান্না করা খিচুড়ি সরবরাহ করছে বান্দরবান পৌরসভা।
বান্দরবান পৌরসভার প্রশাসক এস এম মনজুরুল হক বাসসকে বলেন, আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রিত সকলের জন্য নিয়মিত খাবারের পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানি নিশ্চিত করতে পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য মশার কয়েল বিতরণ করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, পৌরসভার পক্ষ থেকে বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের একমাত্র বেসামরিক পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের আশপাশের এলাকা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা পরিচালনা করেছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বুশেহর প্রদেশের ডেপুটি গভর্নরের বরাত দিয়ে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এই তথ্য প্রকাশ করে। খবর এএফপির।
বুশেহর প্রদেশের ডেপুটি গভর্নর এহসান জাহানিয়ান জানান, মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র আজ বুশেহর প্রদেশের বেশ কয়েকটি এলাকায় আঘাত করেছে। এর মধ্যে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের আশপাশে, চোগাদাক শহরের একটি সামরিক ঘাঁটি এবং দক্ষিণ অঞ্চলে অবস্থিত একটি মাছ ধরার ঘাট রয়েছে। তিনি আরও জানান, এই হামলায় এখনও পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
চোগাদাক শহর বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে মাত্র ২০ কিলোমিটারের কিছু বেশি দূরে অবস্থিত এবং শহরের বাসিন্দারা পরপর বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র বিস্ফোরণের শক্তিশালী শব্দ শোনার পর হামলার খবর সামনে আসে। চলমান মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের সময় পূর্বে এই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকায় সামরিক হামলা পরিচালিত হয়েছিল।
গত এপ্রিল মাসে জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইএইএ সতর্ক করে বলেছিল, এই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছাকাছি অঞ্চলে যেকোনো ক্ষেপণাস্ত্র বা সামরিক হামলা পারমাণবিক নিরাপত্তার জন্য একটি মারাত্মক বিপদ ডেকে আনবে এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে এটি অবশ্যই বন্ধ হওয়া উচিত।
রাশিয়ার সহায়তায় নির্মিত বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে বর্তমানে একটি সচল রিয়্যাক্টর রয়েছে এবং আরও দুটি রিয়্যাক্টর নির্মাণাধীন অবস্থায় রয়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতি তীব্র হওয়ার পর রাশিয়া ইতিমধ্যে এই বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে তাদের কর্মরত সব কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সরিয়ে নিয়েছে।
অলাভজনক যুদ্ধ পর্যবেক্ষণ সংস্থা এসিএলইডি-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলমান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকায় চারবার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। এবারের হামলাটি পারমাণবিক কেন্দ্রের সবচেয়ে কাছাকাছি হওয়ায় তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি নিয়ে নতুন আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ