বৃহস্পতিবার, ৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৮:০৫ পি.এম
স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা নীতিমালায় পরিমার্জন করে ভোটার সংখ্যা বৃদ্ধি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
আজ নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সহকারী সচিব (নির্বাচন সহায়তা-৩) মো. রশিদ মিয়া কর্তৃক স্বাক্ষরিত গেজেট বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্যটি প্রকাশ করা হয়েছে।
সংশোধিত ‘স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০২৫’ অনুসারে, প্রতি দুই হাজার ভোটারের জন্য একটি ভোটকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করার নির্দেশনা রয়েছে। অধিকন্তু, একটির মধ্যে ৬০০ জন পুরুষ ভোটার এবং ৫০০ জন নারী ভোটারের জন্য একটি করে ভোটকক্ষ নির্ধারণ করা হবে।
নীতিমালায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, যখন একটি পদে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, তখন সাধারণভাবে ৬০০ জন পুরুষ ভোটার এবং ৫০০ জন নারী ভোটারের জন্য একটি করে ভোটকক্ষ নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী প্রতিটি ভোটকক্ষে একাধিক গোপন কক্ষ (সিক্রেট বুথ) স্থাপন করার অনুমতি থাকবে।
এছাড়া, প্রতিটি সাধারণ ওয়ার্ডের সীমানার মধ্যে অন্তত একটি ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা আবশ্যক। তবে বাস্তবতার উপযোগী হলে একাধিক ভোটকেন্দ্র স্থাপনের সুযোগও রাখা হয়েছে।
সাবেক নীতিমালায় সাধারণ নির্বাচনের জন্য ৪০০ জন পুরুষ এবং ৩০০ থেকে ৩৫০ জন নারী ভোটারের জন্য একটি করে ভোটকক্ষ নির্ধারণ করা হয়েছিল। উপনির্বাচনে ৫০০ জন পুরুষ ও ৪০০ জন নারী ভোটারের জন্যও একটি করে ভোটকক্ষ থাকতো। তবে, সংশোধিত নীতিমালায় ভোটার সংখ্যা এইবার বাড়ানো হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ এবং সাংগু নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ার প্রভাবে বান্দরবান পৌর এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে উঠেছে।
নদীর পানি প্রবেশের কারণে পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে, আর বহু ঘর-বাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে শিশু, নারী ও বয়স্কসহ অসংখ্য মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছেন।
বান্দরবান পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা করুণা বড়ুয়া জানান, পৌর এলাকাতে মোট ১৯টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু রয়েছে। এ সকল আশ্রয়কেন্দ্রে এ পর্যন্ত প্রায় ৪ হাজার মানুষ আশ্রয় গ্রহণ করেছেন।
তিনি আরও জানান, আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরতদের জন্য প্রতিদিন দুপুর এবং রাতে দু’বেলা রান্না করা খিচুড়ি সরবরাহ করছে বান্দরবান পৌরসভা।
বান্দরবান পৌরসভার প্রশাসক এস এম মনজুরুল হক বাসসকে বলেন, আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রিত সকলের জন্য নিয়মিত খাবারের পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানি নিশ্চিত করতে পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য মশার কয়েল বিতরণ করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, পৌরসভার পক্ষ থেকে বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের একমাত্র বেসামরিক পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের আশপাশের এলাকা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা পরিচালনা করেছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বুশেহর প্রদেশের ডেপুটি গভর্নরের বরাত দিয়ে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এই তথ্য প্রকাশ করে। খবর এএফপির।
বুশেহর প্রদেশের ডেপুটি গভর্নর এহসান জাহানিয়ান জানান, মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র আজ বুশেহর প্রদেশের বেশ কয়েকটি এলাকায় আঘাত করেছে। এর মধ্যে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের আশপাশে, চোগাদাক শহরের একটি সামরিক ঘাঁটি এবং দক্ষিণ অঞ্চলে অবস্থিত একটি মাছ ধরার ঘাট রয়েছে। তিনি আরও জানান, এই হামলায় এখনও পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
চোগাদাক শহর বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে মাত্র ২০ কিলোমিটারের কিছু বেশি দূরে অবস্থিত এবং শহরের বাসিন্দারা পরপর বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র বিস্ফোরণের শক্তিশালী শব্দ শোনার পর হামলার খবর সামনে আসে। চলমান মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের সময় পূর্বে এই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকায় সামরিক হামলা পরিচালিত হয়েছিল।
গত এপ্রিল মাসে জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইএইএ সতর্ক করে বলেছিল, এই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছাকাছি অঞ্চলে যেকোনো ক্ষেপণাস্ত্র বা সামরিক হামলা পারমাণবিক নিরাপত্তার জন্য একটি মারাত্মক বিপদ ডেকে আনবে এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে এটি অবশ্যই বন্ধ হওয়া উচিত।
রাশিয়ার সহায়তায় নির্মিত বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে বর্তমানে একটি সচল রিয়্যাক্টর রয়েছে এবং আরও দুটি রিয়্যাক্টর নির্মাণাধীন অবস্থায় রয়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতি তীব্র হওয়ার পর রাশিয়া ইতিমধ্যে এই বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে তাদের কর্মরত সব কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সরিয়ে নিয়েছে।
অলাভজনক যুদ্ধ পর্যবেক্ষণ সংস্থা এসিএলইডি-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলমান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকায় চারবার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। এবারের হামলাটি পারমাণবিক কেন্দ্রের সবচেয়ে কাছাকাছি হওয়ায় তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি নিয়ে নতুন আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এক যৌথ পরামর্শক কমিশন গঠনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন, যা বাংলাদেশ ও আলজেরিয়ার মধ্যে দক্ষ ও আধা-দক্ষ কর্মী নিয়োগে সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিচ্ছে।
আজ, আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত আবদেলওয়াহাব সাইদানি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় উভয় পক্ষ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
বৈঠকের সময়, উভয় পক্ষ বাংলাদেশ এবং আলজেরিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব এবং বর্ধমান অংশীদারিত্বের বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তারা বিভিন্ন খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও জোরদার করার উপায় নিয়ে আলোচনা করেছেন।
শামা ওবায়েদ বলেন, বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূতকে অনুরোধ জানান। এছাড়া, উভয় পক্ষ বাণিজ্য, বিনিয়োগ, ওষুধ শিল্প, কৃষি, মৎস্য ও অ্যাকুয়াকালচার, জাহাজ নির্মাণ এবং জনশক্তি খাতে সহযোগিতা জোরদার করার সুযোগ নিয়েও আলোচনা করেন।
শামা ওবায়েদ দুই ভ্রাতৃপ্রতিম দেশের মধ্যে অংশীদারিত্ব আরও সুসংহত করতে জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং উচ্চপর্যায়ের সফর বিনিময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, রাষ্ট্রদূত সাইদানি জ্বালানি, কৃষি, ওষুধ শিল্প এবং জাহাজ নির্মাণ খাতে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা সম্প্রসারণে আলজেরিয়ার আগ্রহের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি উচ্চপর্যায়ের সফর বিনিময়ের ক্ষেত্রে তার দেশের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন, যা বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও জোরদার করবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারের মনুনদীতে রাজনগর উপজেলার উজিরপুর ও কমলগঞ্জের ধলাই নদী মখাবিল নামক এলাকায় বাঁধের দুটি স্থানে ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। ফলে রাজনগর ও কমলগঞ্জ উপজেলার বেশকিছু গ্রাম ঢলের পানিতে নিমজ্জিত হয়ে গেছে।
স্থানীয়রা জানান যে, উজিরপুর গ্রামের লোকজন বৃহস্পতিবার ভোর থেকে স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে মাটির বস্তা ফেলে বাঁধ আটকানোর চেষ্টা করছেন। বিকেল সাড়ে পাঁচটায়, পানির চাপে আকস্মিকভাবে রাজনগর উপজেলার উজিরপুর এলাকার বাঁধ মুহূর্তেই ভেঙে যায়। এই ভাঙনের ফলে টেঙ্গরা ইউনিয়নের বেশকয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।
অপরদিকে, কমলগঞ্জের মখাবিল এলাকায় ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ না থাকায় গত ভোর রাত থেকেই বাঁধের দুটি স্থান দিয়ে ঢলের পানি প্রবাহিত হয়ে এ উপজেলার আদমপুর, ইসলামপুর ইউনিয়নসহ বেশকিছু গ্রাম পানিতে তলিয়ে যায়। এই পরিস্থিতিতে রাস্তাঘাটও পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. খালেদ বিন অলীদ মনু এবং ধলাই নদীর বাঁধ ভাঙন সম্পর্কে তথ্য প্রদান করে জানান, উজানে বৃষ্টিপাত কমে আসায় এখন জেলার সবকটি নদনদীর পানি কমতে শুরু করেছে। তবে মনু ও ধলাই নদী দুটিটি এখনও বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ