ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

প্রতিবছর ভরাট হচ্ছে ব্রহ্মপুত্র


প্রতিবছর ভরাট হচ্ছে ব্রহ্মপুত্র

প্রতি বর্ষায় উজানের ঢল ও নদীভাঙনে উত্তরের বিস্তীর্ণ জনপদ তছনছ হয়ে যাচ্ছে। যমুনা ও ব্রহ্মপুত্রের তীব্র ভাঙনের ফলে প্রতিবছর গ্রামের পর গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে, উদ্বাস্তু হচ্ছেন লাখো মানুষ। নদীগুলোর তলদেশ পলিতে ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে অল্প পানিতেই সৃষ্টি হচ্ছে বন্যা। বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক নদী ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি এই আগ্রাসী ভাঙন ও বন্যা রোধে, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো।

পলিতে ভরাট হওয়ার ফলে ব্রহ্মপুত্র নদ তার নাব্যতা হারাচ্ছে। ১৯৯৯ সালে জাপানের নাগোয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জরিপ অনুযায়ী, ব্রহ্মপুত্র নদে প্রতিবছর প্রবাহিত হচ্ছে ৭২১ মিলিয়ন টন পলি এবং গঙ্গা নিয়ে আসছে ৩১৬ মিলিয়ন টন। তার মধ্যে ৫১ শতাংশ পলি বাংলাদেশে জমা হয়। বাকি ৫১২ মিলিয়ন টন জমা হয় নদ-নদীর তলদেশে। ২৮ শতাংশ প্লাবন ভূমিতে এবং ২৩ শতাংশ অর্থাৎ ২২৩ মিলিয়ন টন পলি নদীর বুকে জমা হয়। এ কারণে প্রতিবছর নদীর তলদেশ ৩ দশমিক ৯ সেন্টিমিটার ভরাট হচ্ছে। নদের নাব্যতা হ্রাস পাওয়া ও এই বিপুল পরিমাণ পলি সময়মতো অপসারণের স্থায়ী উদ্যোগ না থাকায় সামান্য বর্ষার পানিতেও ভাটির অঞ্চলগুলো ভয়াবহ প্লাবন ও ভাঙনের শিকার হয়।

নদী অববাহিকার বাসিন্দারা চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন। তারা বলছেন, নদীর তলদেশ ভরাট হওয়ার ফলে অল্প পানিতেই নদী উপচে আশপাশের এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। যাতে তাদের ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ভেঙে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। লাখ লাখ মানুষ চরম অসহায়ত্বের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

বালাসীঘাটের পাপুল সরকার উল্লেখ করেছেন, নদীর তলদেশ ভরে যাওয়ার কারণে এ ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে। গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার এক বাসিন্দা বলছেন, 'বাড়িঘর ভেঙে নদীতে চলে যাচ্ছে। রাস্তাটাও এখন না টিকতে পারে। আমরা নদী এলাকার লোক, কী করব? আমরা অসহায়।' অন্য এক ভুক্তভোগী বলেন, 'ভিটেমাটি হারিয়ে এখন কী করি! নদী এখন পাগলা। আগে যদি কাজ করতো, জায়গাটা ভাঙতো না।'

অন্যদিকে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আধুনিক পানি ব্যবস্থাপনার মডেলের উদাহরণ দেখা যায়। নেদারল্যান্ডস তাদের বিখ্যাত 'রুম ফর দ্য রিভার' (Room for the River) নীতির মাধ্যমে নদীর অববাহিকা চওড়া ও গভীর করে পানি ধরে রেখেছে। সেই পানি তারা কৃষিকাজ ও নৌ-যোগাযোগে ব্যবহার করছে। চীন, সিঙ্গাপুর, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও ভারত কৃত্রিম জলাধার ও নদী নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বন্যার পানি জমিয়ে রেখে শুষ্ক মৌসুমে সেচ, জলবিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্পকারখানায় কাজে লাগাচ্ছে। চীনের উদাহরণ দেখালে, তারা দক্ষিণ অঞ্চলের ইয়াংসি নদীর উদ্বৃত্ত পানি হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ খালের মাধ্যমে উত্তরের শুষ্ক অঞ্চলে নিয়ে যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশও এই বৈশ্বিক মডেলগুলো অনুসরণ করতে পারে। গণ উন্নয়ন কেন্দ্রের নির্বাহী প্রধান এম আব্দুস সালাম বলেন, 'ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা ও ধরলার মতো বড় নদীগুলোর সঙ্গে অভ্যন্তরীণ ছোট শাখা নদীগুলোর সংযোগ ঘটিয়ে সেগুলোকে প্রাকৃতিক জলাধার (রিজার্ভার) হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব। এর ফলে বর্ষার উদ্বৃত্ত পানি শুষ্ক মৌসুমের জন্য ধরে রাখা যাবে।' বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন জানান, 'পানি ব্যবস্থাপনার প্রতি গুরুত্ব দেয়া দরকার। সেই সাথে বন্যা নিয়ন্ত্রণের বদলে বন্যা ব্যবস্থাপনার দিকে বেশি নজর দেয়া দরকার।'

তিনি আরও বলেন, '৯৬ লাখ বর্গকিলোমিটারের দেশ চীন কীভাবে নদী ব্যবস্থাপনা করেছে, সেখান থেকে শিক্ষা নেয়া উচিত।' গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম এই ব্যাপারে মন্তব্য করেন যে, 'যেহেতু পদ্মা ব্যারেজ হচ্ছে, সরকার চাইলে ধাপে ধাপে এদিকেও মনোযোগ দিতে পারে।'

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

দেশের মোট পানিপ্রবাহের প্রায় ৬৭ শতাংশই ব্রহ্মপুত্র নদ বহন করে। যমুনা ও ব্রহ্মপুত্রের অববাহিকার গাইবান্ধা, বগুড়া ও সিরাজগঞ্জসহ প্রায় পাঁচ শতাধিক চরে ১০ লক্ষাধিক মানুষ বসবাস করছেন। এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে স্থায়ী বন্যা ও ভাঙন থেকে রক্ষা করতে হলে ড্রেজিংয়ের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি নীতিনির্ধারণী পানি ব্যবস্থাপনা জোরদার করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৫ ইউনিট চালু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৪০ এম


কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৫ ইউনিট চালু

টানা কয়েকদিনের ভারি বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে এখন রাঙ্গামাটির কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের সবকটি ইউনিট একযোগে সচল করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা থেকে ইউনিটগুলো থেকে সীমিত বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করেছে।

পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, টানা বৃষ্টিতে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে গত কয়েকদিন ধরে কাপ্তাই লেকের পানির স্তর (ওয়াটার লেভেল) ক্রমাগত বাড়ছে। ফলে পানির ওপর নির্ভরশীল এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৫টি ইউনিটই আজ সন্ধ্যা ৬টা থেকে একসাথে চালু করা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে এই ৫টি ইউনিট থেকে মোট ১৪৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে।

বিদ্যুৎ কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মোট উৎপাদন সক্ষমতা ২৪০ মেগাওয়াট। তবে বর্তমানে পানির প্রাপ্যতা অনুযায়ী ১৪৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। বর্তমানে ১ ও ২ নম্বর ইউনিট থেকে প্রতিটিতে ৩২ মেগাওয়াট করে মোট ৬৪ মেগাওয়াট, ৩ নম্বর ইউনিট থেকে ৩০ মেগাওয়াট এবং ৪ ও ৫ নম্বর ইউনিট থেকে প্রতিটিতে ২৫ মেগাওয়াট করে মোট ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে।

এদিকে কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কন্ট্রোল রুমে দায়িত্বরত প্রকৌশলীরা জানান, মঙ্গলবার রাত ৮টা পর্যন্ত কাপ্তাই লেকে পানির পরিমাণ রেকর্ড করা হয়েছে ৭৯.৮৬ ফুট মিনস সি লেভেল (MSL)। তবে রুলকার্ভ অনুযায়ী বছরের এই সময়ে লেকে পানি থাকার কথা ৮৪.৯৬ ফুট মিন সি লেভেল। উল্লেখ্য, কাপ্তাই লেকের সর্বোচ্চ পানি ধারণ ক্ষমতা ১০৮ ফুট মিনস সি লেভেল।

প্রসঙ্গত, কাপ্তাই হ্রদে পানির তীব্র স্বল্পতার কারণে বিগত কয়েক মাস ধরে কেন্দ্রটি চরম সংকটে ছিল। বাধ্য হয়ে কখনো মাত্র ১টি ইউনিট চালু রেখে সীমিত পরিসরে বিদ্যুৎ উৎপাদন সচল রাখা হয়েছিল। তবে পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় সোমবার (৭ জুলাই) ৩টি ইউনিট এবং আজ মঙ্গলবার সকালে ৪টি ইউনিট চালু করা হয়। সবশেষ আজ সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৫টি ইউনিটই একযোগে সচল করা হয়েছে।

অন্যদিকে রাঙ্গামাটি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্য মতে, মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা এই ১২ ঘণ্টায় ২০৯ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হযেছে। যাকে অতি ভারি বর্ষণ বলছেন তারা।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বরিশালে কুপিয়ে হাত বিচ্ছিন্নের ঘটনায় একজন গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৪৯ এম


বরিশালে কুপিয়ে হাত বিচ্ছিন্নের ঘটনায় একজন গ্রেপ্তার

বরিশালের নগরীর নলিদাস পোল এলাকায় কলেজছাত্র দ্বীন ইসলাম খান মুন্নাকে কুপিয়ে হাত বিচ্ছিন্ন করার ঘটনায় দায়ের করা মামলার ৩ নম্বর আসামি হিমেল হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৮। গত রোববার দুপুরে র‌্যাব-৮ এবং র‌্যাব-১০ তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে ঢাকার শ্যামপুর থানার উল্টো জুরাইন ধোলাইপাড় এলাকা থেকে হিমেলকে গ্রেপ্তার করে।

গতকাল সোমবার, র‌্যাব হিমেলকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার মাধ্যমে কোতোয়ালী মডেল থানায় হস্তান্তর করে। পরে আদালতে হাজির করার পর বিচারক তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আল মামুন উল ইসলাম জানান, মামলার ১ ও ২ নম্বর আসামিসহ পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তাদের দ্রুতভাবে আইনের আওতায় আনা হবে।

এদিকে, গত ৪ জুলাই পুলিশ এজাহারভুক্ত আসামিদের একটি দোকানে অভিযান চালিয়ে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্রসহ অন্যান্য আলামত আদালতে পাঠানো হয়েছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এম. রবি আহসান বলেন, “ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। দ্রুতই সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।” পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, নির্মাণাধীন একটি বাড়ির জন্য আনা বালুরাখা নিয়ে গত ৩০ মে প্রতিবেশীদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে বিষয়টির মীমাংসা হলেও ৩১ মে সকালে পূর্বপরিকল্পিতভাবে মুন্নার উপর হামলা চালায় প্রতিপক্ষরা। তারা হত্যার উদ্দেশ্যে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে রাস্তায় ফেলে রাখে।

আহত মুন্নার বাবা লিটন খান জানান, আগের রাতেই বিরোধের নিষ্পত্তি হয়েছিল। কিন্তু পরদিন সকালে নলিদাস পোল এলাকায় কাজে যাওয়ার পথে আগে থেকেই ওৎ পেতে থাকা সন্ত্রাসীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার ছেলেকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে পালিয়ে যায়। হামলায় মুন্নার একটি হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। বর্তমানে মুন্না ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক (পঙ্গু) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি বরিশালের সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজের ডিগ্রি প্রথমবর্ষের শিক্ষার্থী। পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, হামলায় একই এলাকার মিলন খান, কালাম খান, রানা খান, হিমেল হাওলাদার, নার্গিস বেগমসহ আরও কয়েকজন অংশ নেয়।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বরিশালের মাদ্রাসার গভর্নিং বডি গঠনে অনিয়মের অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৫১ এম


বরিশালের মাদ্রাসার গভর্নিং বডি গঠনে অনিয়মের অভিযোগ

বরিশালের হিজলা উপজেলার মাউলতলা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার গভর্নিং বডি গঠনের ঘটনায় অনিয়ম ও ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে।

এই ঘটনার প্রমাণ হিসেবে মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এবং নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এক গোপন ‘পকেট কমিটি’ গঠনের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের কাছে লিখিত আবেদন করে মাদ্রাসার তালিকাভুক্ত দাতা সদস্য মো. আবদুর রাজ্জাক। অভিযোগ নিষ্পত্তির আগেই কমিটি অনুমোদনের ফলে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে আরও জানা গেছে, গভর্নিং বডি গঠনের উদ্দেশ্যে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ছালাহ উদ্দিন কাওসার একটি ভোটার তালিকা প্রস্তুত করেন। পরে গত ২৮ এপ্রিল একটি খসড়া তৈরি করে এবং ১৩ মে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা অনুমোদন করা হয়। অভিযোগ রয়েছে যে, প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও উপজেলা একাডেমি সুপারভাইজার মো. নজরুল ইসলাম এবং সহকারী শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ বিধিমালা অনুসরণ না করে ভোটার তালিকা গোপন রেখেই কমিটি গঠনের কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করেছেন। এরপর ওই গঠিত কমিটি ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানো হলে ২ জুলাই তা অনুমোদিত হয়।

লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, কোনো ক্যাটাগরির নির্বাচনী তফসিল প্রকাশ করা হয়নি। তালিকাভুক্ত তিনজন দাতা সদস্যের মধ্যে দুজনকে অবহিত না করেই একজনের নাম পাঠানো হয়েছে। অভিভাবক সদস্য নির্বাচনে দাখিল ও ফাজিল স্তরের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করা হলেও আলিম স্তরের জন্য কেউ রাখা হয়নি। এর পাশাপাশি শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচনে সাধারণ শিক্ষকদের কোনো অনুমতি ছাড়াই গোপনে নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। অভিযোগকারী দাতা সদস্য মো. আবদুর রাজ্জাক জানান, বিধিমালা লঙ্ঘন করে গভর্নিং বডি গঠন করা হয়েছে। তিনি তদন্ত এবং কমিটি বাতিলের দাবি জানিয়ে গত ২৮ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ে ১০ হাজার টাকা ফি প্রদান করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর দাবি, অভিযোগের তদন্ত ছাড়াই ২ জুলাই কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যা অভিভাবক এবং দাতা সদস্যদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। এ ব্যাপারে মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ছালাহ উদ্দিন কাওসার মন্তব্য করেছেন, ‘গভর্নিং বডি গঠনে কিছুটা অনিয়ম হয়েছে। তবে স্থানীয় একটি মহলের চাপে অনুমোদনের জন্য কমিটি পাঠানো হয়েছিল। পরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তা অনুমোদন দিয়েছে।’ প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও উপজেলা একাডেমি সুপারভাইজার মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘অভিভাবক সদস্য ও শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচনে যথানিয়মে হয়েছে। দাতা ও অন্যান্য ক্যাটাগরির সদস্য নির্বাচনে কোনো অনিয়ম হয়েছে কিনা, তা আমার জানা নেই।’

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পরীক্ষায় ফেল করানোর অভিযোগ, অনশনে ববি শিক্ষার্থী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৫৩ এম


পরীক্ষায় ফেল করানোর অভিযোগ, অনশনে ববি শিক্ষার্থী

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) জিওলজি অ্যান্ড মাইনিং বিভাগের এক ছাত্র পুনঃপরীক্ষা ও খাতা পুনর্মূল্যায়নের জন্য ক্যাম্পাসে অনশন করছেন। গতকাল রোববার সকাল ১০টা থেকে আজ সোমবার বিকেল পর্যন্ত একই দাবিতে অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। ওই ছাত্র অভিযোগ করেছেন যে, বিভাগীয় প্রধান তাঁকে ইচ্ছাকৃতভাবে ফেল করিয়ে দিয়েছেন।

ববি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, সাকিবকে পুনর্ভর্তি হয়ে প্রচলিত নিয়মে পাঠদান চালিয়ে যেতে হবে। জানা গেছে, সাকিব মিয়া জিওলজি অ্যান্ড মাইনিং বিভাগের ২০২১-২২ সেশনের ছাত্র। দ্বিতীয় বর্ষে তিনি ছয়টি বিষয়ে ফেল করেন। গত ২০২৫ সালে এই পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়। সাকিব দাবি করেছেন, বিভাগীয় প্রধানসহ কয়েকজন শিক্ষক ইচ্ছাকৃতভাবে কম নম্বর দিয়ে তাঁকে ছয় বিষয়ে ফেল করিয়ে দিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, গত ২২ এপ্রিল তিনি উপাচার্য বরাবর আবেদন করেছিলেন খাতা পুনর্মূল্যায়ন এবং পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ চেয়ে। তবে ১ জুলাই একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় তাঁর আবেদন বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। সাকিব বলেন, এটা বিভাগীয় প্রধানের কারসাজি। যদিও এর আগে অনশনকালে তাঁকে সুযোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তত্কালীন উপাচার্য তৌফিক আলম।

সাকিব আরও জানান, তাঁর অনশন করার কারণে আজ দুপুরে সহকারী প্রক্টর প্রভাষক গাজি সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, আনসার দিয়ে পিটিয়ে তাঁকে বের করে দেবেন। তবে সহকারী প্রক্টর গাজী সাখাওয়াত শিক্ষার্থীর এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

জানতে চাইলে জিওলজি অ্যান্ড মাইনিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. ধীমান কুমার রয় জানান, সাকিব মিয়া বিভাগের কাছে যে বিষয়গুলোতে আবেদন করেছেন, সেগুলো একাডেমিক কাউন্সিলে তোলা হয়েছে। একাডেমিক কাউন্সিলে কী সিদ্ধান্ত হয়েছে, তা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলতে পারবে। তিনি আরও জানান, খাতা পুনর্মূল্যায়ন কিংবা পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ নেই। তিনি দ্বিতীয় বর্ষে পরীক্ষা দিয়েছিলেন। ফেল করিয়ে দেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পরীক্ষার খাতা দুজন পরীক্ষক পৃথকভাবে দেখেন। এ ক্ষেত্রে নম্বর কম দিয়ে ফেল করানোর সুযোগ নেই।

এ প্রসঙ্গে ববির পরীক্ষার নিয়ন্ত্রকের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহযোগী অধ্যাপক সাদিকুর রহমান বলেন, সাকিব মিয়ার একাডেমিক ঘাটতি আছে। তিনি ২০২১-২২ সেশনে দ্বিতীয় বর্ষে ছয়টি কোর্সে ফেল করেছেন। তিনি একদিকে কতিপয় শিক্ষকের বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃতভাবে নম্বর কম দেওয়ার অভিযোগ করেছেন আর অন্যদিকে খাতা পুনর্মূল্যায়ন ও পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। কিন্তু একাডেমিক কাউন্সিল তাঁর আবেদন গ্রহণ করেনি এবং তাঁকে নিয়মিত ব্যাচের সঙ্গে দ্বিতীয় বর্ষে পুনর্ভর্তি হতে হবে।

এ ব্যাপারে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. মামুন অর রশিদ জানান, সাকিব মিয়া তাঁদের ছাত্র। তিনি প্রচলিত নিয়মে লেখাপড়া করতে পারবেন। যেখান থেকে তিনি ফেল করেছেন (দ্বিতীয় বর্ষ) সেখান থেকে শুরু করতে হবে। তবে তিনি কারও কথা শোনেন না। উপাচার্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী খাতা পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ নেই। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, শিক্ষক, সহপাঠীরা তাঁকে বুঝিয়েছেন, কিন্তু তিনি কারও কথা শুনছেন না। তাঁর অভিভাবকদের জানানো হয়েছে এবং তাঁরা এসে উদ্যোগ নেবেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%