প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) জিওলজি অ্যান্ড মাইনিং বিভাগের এক ছাত্র পুনঃপরীক্ষা ও খাতা পুনর্মূল্যায়নের জন্য ক্যাম্পাসে অনশন করছেন। গতকাল রোববার সকাল ১০টা থেকে আজ সোমবার বিকেল পর্যন্ত একই দাবিতে অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। ওই ছাত্র অভিযোগ করেছেন যে, বিভাগীয় প্রধান তাঁকে ইচ্ছাকৃতভাবে ফেল করিয়ে দিয়েছেন।
ববি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, সাকিবকে পুনর্ভর্তি হয়ে প্রচলিত নিয়মে পাঠদান চালিয়ে যেতে হবে। জানা গেছে, সাকিব মিয়া জিওলজি অ্যান্ড মাইনিং বিভাগের ২০২১-২২ সেশনের ছাত্র। দ্বিতীয় বর্ষে তিনি ছয়টি বিষয়ে ফেল করেন। গত ২০২৫ সালে এই পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়। সাকিব দাবি করেছেন, বিভাগীয় প্রধানসহ কয়েকজন শিক্ষক ইচ্ছাকৃতভাবে কম নম্বর দিয়ে তাঁকে ছয় বিষয়ে ফেল করিয়ে দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, গত ২২ এপ্রিল তিনি উপাচার্য বরাবর আবেদন করেছিলেন খাতা পুনর্মূল্যায়ন এবং পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ চেয়ে। তবে ১ জুলাই একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় তাঁর আবেদন বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। সাকিব বলেন, এটা বিভাগীয় প্রধানের কারসাজি। যদিও এর আগে অনশনকালে তাঁকে সুযোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তত্কালীন উপাচার্য তৌফিক আলম।
সাকিব আরও জানান, তাঁর অনশন করার কারণে আজ দুপুরে সহকারী প্রক্টর প্রভাষক গাজি সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, আনসার দিয়ে পিটিয়ে তাঁকে বের করে দেবেন। তবে সহকারী প্রক্টর গাজী সাখাওয়াত শিক্ষার্থীর এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
জানতে চাইলে জিওলজি অ্যান্ড মাইনিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. ধীমান কুমার রয় জানান, সাকিব মিয়া বিভাগের কাছে যে বিষয়গুলোতে আবেদন করেছেন, সেগুলো একাডেমিক কাউন্সিলে তোলা হয়েছে। একাডেমিক কাউন্সিলে কী সিদ্ধান্ত হয়েছে, তা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলতে পারবে। তিনি আরও জানান, খাতা পুনর্মূল্যায়ন কিংবা পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ নেই। তিনি দ্বিতীয় বর্ষে পরীক্ষা দিয়েছিলেন। ফেল করিয়ে দেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পরীক্ষার খাতা দুজন পরীক্ষক পৃথকভাবে দেখেন। এ ক্ষেত্রে নম্বর কম দিয়ে ফেল করানোর সুযোগ নেই।
এ প্রসঙ্গে ববির পরীক্ষার নিয়ন্ত্রকের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহযোগী অধ্যাপক সাদিকুর রহমান বলেন, সাকিব মিয়ার একাডেমিক ঘাটতি আছে। তিনি ২০২১-২২ সেশনে দ্বিতীয় বর্ষে ছয়টি কোর্সে ফেল করেছেন। তিনি একদিকে কতিপয় শিক্ষকের বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃতভাবে নম্বর কম দেওয়ার অভিযোগ করেছেন আর অন্যদিকে খাতা পুনর্মূল্যায়ন ও পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। কিন্তু একাডেমিক কাউন্সিল তাঁর আবেদন গ্রহণ করেনি এবং তাঁকে নিয়মিত ব্যাচের সঙ্গে দ্বিতীয় বর্ষে পুনর্ভর্তি হতে হবে।
এ ব্যাপারে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. মামুন অর রশিদ জানান, সাকিব মিয়া তাঁদের ছাত্র। তিনি প্রচলিত নিয়মে লেখাপড়া করতে পারবেন। যেখান থেকে তিনি ফেল করেছেন (দ্বিতীয় বর্ষ) সেখান থেকে শুরু করতে হবে। তবে তিনি কারও কথা শোনেন না। উপাচার্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী খাতা পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ নেই। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, শিক্ষক, সহপাঠীরা তাঁকে বুঝিয়েছেন, কিন্তু তিনি কারও কথা শুনছেন না। তাঁর অভিভাবকদের জানানো হয়েছে এবং তাঁরা এসে উদ্যোগ নেবেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন