০১:৫১ এম
বরিশালের হিজলা উপজেলার মাউলতলা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার গভর্নিং বডি গঠনের ঘটনায় অনিয়ম ও ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে।
এই ঘটনার প্রমাণ হিসেবে মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এবং নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এক গোপন ‘পকেট কমিটি’ গঠনের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের কাছে লিখিত আবেদন করে মাদ্রাসার তালিকাভুক্ত দাতা সদস্য মো. আবদুর রাজ্জাক। অভিযোগ নিষ্পত্তির আগেই কমিটি অনুমোদনের ফলে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে আরও জানা গেছে, গভর্নিং বডি গঠনের উদ্দেশ্যে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ছালাহ উদ্দিন কাওসার একটি ভোটার তালিকা প্রস্তুত করেন। পরে গত ২৮ এপ্রিল একটি খসড়া তৈরি করে এবং ১৩ মে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা অনুমোদন করা হয়। অভিযোগ রয়েছে যে, প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও উপজেলা একাডেমি সুপারভাইজার মো. নজরুল ইসলাম এবং সহকারী শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ বিধিমালা অনুসরণ না করে ভোটার তালিকা গোপন রেখেই কমিটি গঠনের কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করেছেন। এরপর ওই গঠিত কমিটি ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানো হলে ২ জুলাই তা অনুমোদিত হয়।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, কোনো ক্যাটাগরির নির্বাচনী তফসিল প্রকাশ করা হয়নি। তালিকাভুক্ত তিনজন দাতা সদস্যের মধ্যে দুজনকে অবহিত না করেই একজনের নাম পাঠানো হয়েছে। অভিভাবক সদস্য নির্বাচনে দাখিল ও ফাজিল স্তরের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করা হলেও আলিম স্তরের জন্য কেউ রাখা হয়নি। এর পাশাপাশি শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচনে সাধারণ শিক্ষকদের কোনো অনুমতি ছাড়াই গোপনে নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। অভিযোগকারী দাতা সদস্য মো. আবদুর রাজ্জাক জানান, বিধিমালা লঙ্ঘন করে গভর্নিং বডি গঠন করা হয়েছে। তিনি তদন্ত এবং কমিটি বাতিলের দাবি জানিয়ে গত ২৮ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ে ১০ হাজার টাকা ফি প্রদান করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর দাবি, অভিযোগের তদন্ত ছাড়াই ২ জুলাই কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যা অভিভাবক এবং দাতা সদস্যদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। এ ব্যাপারে মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ছালাহ উদ্দিন কাওসার মন্তব্য করেছেন, ‘গভর্নিং বডি গঠনে কিছুটা অনিয়ম হয়েছে। তবে স্থানীয় একটি মহলের চাপে অনুমোদনের জন্য কমিটি পাঠানো হয়েছিল। পরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তা অনুমোদন দিয়েছে।’ প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও উপজেলা একাডেমি সুপারভাইজার মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘অভিভাবক সদস্য ও শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচনে যথানিয়মে হয়েছে। দাতা ও অন্যান্য ক্যাটাগরির সদস্য নির্বাচনে কোনো অনিয়ম হয়েছে কিনা, তা আমার জানা নেই।’
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন