মঙ্গলবার, ১৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:২০ পি.এম
নাটোরের বাগাতিপাড়ায় অজ্ঞাতপরিচয় দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, তারা ‘কালো জাদু’ করার ভয় দেখিয়ে এক পরিবারের কাছ থেকে প্রায় তিন লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছে।
এ ঘটনা ঘটে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার পাঁকা ইউনিয়নের বড় পাঁকা গ্রামে মো. আকছেদ আলীর বাড়িতে। আকছেদ আলী এ ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে বাগাতিপাড়া মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আকছেদ আলীর ছেলে মো. সিহাব আলী (২২) অসুস্থতার কারণে বাড়িতে ছিলেন। সোমবার দুপুর ১২টার দিকে অজ্ঞাতপরিচয় দুই ব্যক্তি বাড়ির সামনে এসে নিজেদের মাহফিলের লোক পরিচয় দিয়ে টাকা চান। সিহাব তাদের ২০ টাকা দিলে তারা এক গ্লাস পানি দিতে বলেন। পানি না দেওয়ায় তারা সিহাবকে তার মাকে ডাকতে বলেন।
সিহাবের মা বাইরে আসার পর ওই দুই ব্যক্তি তার ছেলেকে দেখিয়ে ‘কালো জাদু’ করার কথা বলেন। এতে ওই নারী ভয় পেয়ে কান্না শুরু করেন এবং তারা বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দেখান। একপর্যায়ে তারা এক গ্লাস পানি এনে তাতে কিছু করার পর ওই পানি পান করতে দেন।
এরপর তারা বাড়িতে থাকা স্বর্ণালংকার এনে ওই পানিতে ডুবিয়ে দিতে বলেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আকছেদ আলীর স্ত্রী একটি আংটি, একটি চেইন ও এক জোড়া কানের দুল পানিতে ডুবিয়ে দেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, একপর্যায়ে ওই দুই ব্যক্তি সিহাবকে বাইরে থেকে একটি খেজুরের কাঁটা নিয়ে আসতে বলেন। সিহাব বাইরে যাওয়ার পর তার স্ত্রী ও ছোট ছেলেকে ‘হিপনোটাইজ’ করে বাড়ি থেকে স্বর্ণালংকার নিয়ে তারা চলে যান বলে অভিযোগ করেছেন আকছেদ আলী।
আকছেদ আলীর দাবি, নেওয়া স্বর্ণালংকারগুলোর আনুমানিক মূল্য তিন লাখ টাকা। পরে সিহাব বাড়িতে ফিরে এলে ওই দুই ব্যক্তি বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। পরিবারের সদস্যরা স্বর্ণালংকার খুঁজে না পেয়ে বিষয়টি বুঝতে পারেন।
ঘটনার পর সোমবার রাতেই আকছেদ আলী বাগাতিপাড়া মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। তিনি জানান, ঘটনার সাক্ষ্য হিসেবে অভিযুক্তদের ছবি ও ভিডিও ফুটেজ তার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।
বাগাতিপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুমন চন্দ্র দাস বলেন, অভিযোগটি আমলে নিয়ে ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। জড়িতদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
দেশে কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে রবি ও বোরো মৌসুমে সারের চাহিদার তুলনায় ১৫ লাখ ৮৪ হাজার মেট্রিক টন অতিরিক্ত সরবরাহ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। কৃষকের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে সময়মতো সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার জেলাভিত্তিক চাহিদার বিপরীতে শতভাগ সার বরাদ্দের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, দেশে সারের মোট চাহিদা ৩৫ লাখ ৮৭ হাজার মেট্রিক টন। এর বিপরীতে প্রস্তুত সরবরাহ ৫১ লাখ ৭১ হাজার মেট্রিক টন। ফলে চাহিদার তুলনায় প্রায় ১৫ লাখ ৮৪ হাজার মেট্রিক টন অতিরিক্ত সরবরাহের প্রস্তুতি রয়েছে। অক্টোবর মাসের জন্য ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি সারের নির্ধারিত চাহিদার বিপরীতে সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোতে সমপরিমাণ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের সার ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিং অধিশাখার ১৪ সেপ্টেম্বরের এক চিঠি ও সংযুক্ত জেলাওয়ারি বরাদ্দ তালিকা থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। নথিতে ২০২৬ সালের অক্টোবর মাসের চাহিদার বিপরীতে বিভিন্ন উৎস থেকে সার বরাদ্দ দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
তথ্যানুযায়ী, অক্টোবর মাসে দেশের ৬৪ জেলার জন্য টিএসপি সারের মোট চাহিদা ৭০ হাজার ৫২ মেট্রিক টন এবং পুরো পরিমাণই বিএডিসির মাধ্যমে বরাদ্দ করা হয়েছে। ডিএপি সারের মোট চাহিদা ১ লাখ ৫০ হাজার ৯১০ মেট্রিক টন। এর মধ্যে বিসিআইসি ১ হাজার মেট্রিক টন এবং বিএডিসি ১ লাখ ৪৯ হাজার ৯১০ মেট্রিক টন বরাদ্দ করেছে। অর্থাৎ চাহিদার পুরো পরিমাণই বরাদ্দ নিশ্চিত করা হয়েছে।
এ ছাড়া অক্টোবর মাসে এমওপি সারের মোট চাহিদা ৯৩ হাজার ৬৫৪ মেট্রিক টন এবং সমপরিমাণ সারই জেলাওয়ারি বরাদ্দ করা হয়েছে। ফলে তিন ধরনের নন-ইউরিয়া সারের অক্টোবরের মোট জেলাভিত্তিক চাহিদা দাঁড়ায় প্রায় ৩ লাখ ১৪ হাজার ৬১৬ মেট্রিক টন, যার বিপরীতে সমপরিমাণ বরাদ্দের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের নথিতে দেখা যায়, চাহিদার ভিত্তিতে প্রতিটি জেলার জন্য আলাদা পরিমাণ নির্ধারণ করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ কোনো একক কেন্দ্রীয় বরাদ্দের পরিবর্তে মাঠ পর্যায়ের কৃষি চাহিদাকে বিবেচনায় নিয়ে জেলাভিত্তিক সরবরাহ পরিকল্পনা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা এ ব্যবস্থাকে কৃষকের প্রয়োজনের সঙ্গে সার সরবরাহের সরাসরি সমন্বয় হিসেবে দেখছেন।
সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখতে বর্তমান সরকার শুধু জেলাভিত্তিক বরাদ্দের ওপর নির্ভর না করে আমদানির ধারাবাহিকতাও বজায় রেখেছে। গত ৯ সেপ্টেম্বর সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখা এবং কৃষকদের জন্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে মোট ১ লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন এমওপি, ডিএপি ও ইউরিয়া সার আমদানির তিনটি প্রস্তাব অনুমোদন করে। এর মধ্যে বেলারুশ থেকে ৩০ হাজার টন এমওপি, মরক্কো থেকে ৪০ হাজার টন ডিএপি এবং সৌদি আরব থেকে ৪০ হাজার টন ইউরিয়া আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়।
আগস্টেও বিভিন্ন দেশ থেকে মোট ৩ লাখ ৬৫ হাজার মেট্রিক টন সার আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। এর মধ্যে সৌদি আরব থেকে ইউরিয়া এবং রাশিয়া থেকে এমওপি আমদানির প্রস্তাব ছিল।
এ ছাড়া সার ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করতে চলতি বছর জাতীয় পর্যায়ে সমন্বয় ও পরামর্শক কমিটি গঠন এবং ৬৪ জেলায় সার মনিটরিং সেল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ইউরিয়া ৪ লাখ ১৮ হাজার টন, টিএসপি ৩ লাখ ৪৩ হাজার টন, ডিএপি ৩ লাখ ২ হাজার টন এবং এমওপি ১ লাখ ৭৮ হাজার ৯০০ টন মজুত ছিল।
পাশাপাশি পরিবহনের পথে ছিল টিএসপি ১ লাখ ২৮ হাজার ২০০ টন, ডিএপি ১ লাখ ১৪ হাজার ৬০০ টন এবং এমওপি ১ লাখ ৮৯ হাজার ৪০০ টন। ৬৪ জেলায় সার মনিটরিং সেল গঠনের তথ্যও সংসদে জানানো হয়েছে।
বর্তমান বিএনপি সরকারের সার ব্যবস্থাপনায় জোর দেওয়া হচ্ছে চাহিদা নিরূপণ, জেলা-ভিত্তিক বরাদ্দ, আগাম আমদানি, পরিবহনাধীন মজুত এবং মাঠ পর্যায়ের মনিটরিং—এই সমন্বিত ব্যবস্থার ওপর। ২০২৬ সালের সমন্বিত সার ডিলার ও বিতরণ নীতিমালাও এ ব্যবস্থাপনার অংশ।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক নথিতে আগামী অক্টোবরের জন্য ৬৪ জেলার চাহিদা আলাদাভাবে বিবেচনায় নেওয়ার বিষয়টি বিশেষভাবে লক্ষণীয়। টিএসপি, ডিএপি ও এমওপির ক্ষেত্রে চাহিদার বিপরীতে পূর্ণ বরাদ্দ নিশ্চিত হওয়ায় সরবরাহ ঘাটতির ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি কৃষকের প্রয়োজনের সময় সার পাওয়ার সুযোগ বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
কৃষি উৎপাদনের অন্যতম প্রধান উপকরণ সার। ফলে উৎপাদন মৌসুমের আগে জেলা-ভিত্তিক চাহিদা নির্ধারণ করে আগাম বরাদ্দ দেওয়া এবং একই সঙ্গে আমদানি ও মজুত নিশ্চিত করার বর্তমান উদ্যোগকে কৃষি খাতে সরকারের আগাম প্রস্তুতি ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনার সক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর সার ব্যবস্থাপনায় সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হিসেবে উঠে আসছে—‘চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দ, আগাম আমদানি এবং মাঠ পর্যায়ে সরাসরি মনিটরিং’। অক্টোবরের জেলাভিত্তিক শতভাগ সার বরাদ্দকে বিএনপি সরকারের কৃষিবান্ধব নীতির বাস্তব প্রয়োগ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম বলেন, সার ব্যবস্থাপনায় বর্তমান সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হচ্ছে চাহিদাভিত্তিক পরিকল্পনা ও আগাম প্রস্তুতি। শুধু সার আমদানি বা মজুত করাই নয়, কোন এলাকায় কতটুকু সার প্রয়োজন, কখন প্রয়োজন এবং কীভাবে তা কৃষকের কাছে পৌঁছানো হবে— এসব বিষয় সমন্বিতভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে মাঠপর্যায়ে সার সরবরাহ ও বিতরণ কার্যক্রম নিবিড়ভাবে মনিটরিং করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, কৃষকের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সরকার সার সরবরাহে কোনো ধরনের ঘাটতি তৈরি হতে দেবে না। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে সার পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছেন। কোথাও চাহিদার তুলনায় সরবরাহে কোনো সমস্যা দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জানতে চাইলে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম খান বলেন, কৃষকের প্রয়োজনের সময় সার নিশ্চিত করতে সরকার শুরু থেকেই আগাম ও সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। মাঠপর্যায়ের প্রকৃত চাহিদা নিরূপণ করে জেলাভিত্তিক বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। অক্টোবর মাসের জন্য টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি সারের চাহিদার বিপরীতে শতভাগ বরাদ্দ নিশ্চিত করা হয়েছে। ফলে চলতি মৌসুমে সার নিয়ে কৃষকের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।
সচিব বলেন, কিছু জায়গায় বিতরণে অনিয়ম হওয়ায় কিছুটা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছিল। তবে সরকারের তৎপরতা এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার ফলে সমস্যার দ্রুত সমস্যার সমাধান হয়েছে।
তিনি বলেন, সার ব্যবস্থাপনায় সরকারের মূল লক্ষ্য হচ্ছে—কৃষকের কাছে সঠিক সময়ে, সঠিক পরিমাণে এবং ন্যায্যমূল্যে সার পৌঁছে দেওয়া। এজন্য আমদানি, মজুত, জেলাভিত্তিক বরাদ্দ, পরিবহন ও বিতরণ—প্রতিটি ধাপ সমন্বিতভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কোথাও কোনো ঘাটতি বা অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সচিব আরও বলেন, কৃষি উৎপাদনের ধারাবাহিকতা রক্ষায় সার সরবরাহকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকারের কৃষিবান্ধব নীতির অংশ হিসেবে উৎপাদন মৌসুমের আগেই চাহিদা নির্ধারণ ও বরাদ্দ নিশ্চিত করা হচ্ছে, যাতে কৃষককে শেষ মুহূর্তে সার সংগ্রহের জন্য বাড়তি চাপ বা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়তে না হয়।
তিনি বলেন, সরকারের এ উদ্যোগের ফলে একদিকে কৃষকের আস্থা বাড়বে, অন্যদিকে সময়মতো সার প্রয়োগের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা ধরে রাখা সম্ভব হবে। কৃষক ভালো থাকলে কৃষি ভালো থাকবে, আর কৃষি ভালো থাকলেই দেশের খাদ্যনিরাপত্তা ও অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে। কৃষকের স্বার্থ রক্ষায় কৃষি মন্ত্রণালয় সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও সতর্কতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। সূত্র: বাসস
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সফিজ উদ্দিন মোল্লা (৪৫) প্রতিদিনের মতো অটোরিকশা নিয়ে জীবিকার সন্ধানে বের হওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু অটোরিকশার চার্জের প্লাগ খুলতে গিয়ে ঘটে গেল একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।
বিদ্যুতায়িত হয়ে তিনি প্রাণ হারালেন বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের কারণে। মুহূর্তের মধ্যে থেমে গেল পরিবারের একমাত্র উপার্জনের উৎস। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে এলাকার পরিবেশ।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে নওগাঁর মান্দা উপজেলার পার-কালিকাপুর মাস্টারপাড়া গ্রামে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত সফিজ উদ্দিন মোল্লা ওই গ্রামের মৃত মফিজ উদ্দিন মোল্লার সন্তান ছিলেন। তিনি পেশায় অটোরিকশাচালক।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে সফিজ উদ্দিন অটোরিকশা নিয়ে কাজে বের হওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। বাড়ির ঘরে চার্জে থাকা অটোরিকশার প্লাগ খুলতে গিয়ে তিনি অসাবধানতাবশত বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের শিকার হন এবং বিদ্যুতায়িত হয়ে গুরুতর আহত হন।
বিকট শব্দ শুনে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সফিজ উদ্দিনকে উদ্ধার করে মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
সফিজ উদ্দিনের মৃত্যুতে পরিবারে শোকের মাতম নেমে এসেছে। যে ব্যক্তি প্রতিদিন অটোরিকশা চালিয়ে পরিবারের খরচ জোগাতেন, সেই ব্যক্তি জীবিকার উদ্দেশ্যে বের হওয়ার আগেই নিথর হয়ে ফিরলেন। স্বজনদের কান্না আর আহাজারিতে পুরো এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে।
মান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খোরশেদ আলম জানিয়েছেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। কোনো অভিযোগ না থাকলে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
নতুন স্মার্টফোন কেনার পর অনেকের পুরোনো ফোনটি আলমারিতে বা ড্রয়ারে পড়ে থাকে। এই অব্যবহৃত ফোনটিকে ব্যবহার করে বাড়ির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব। আলাদা সিসিটিভি ক্যামেরা কেনার প্রয়োজন না থাকলেও একটি পুরোনো স্মার্টফোনকে সাধারণ সিকিউরিটি ক্যামেরায় রূপান্তর করা যায়।
এটি করার জন্য প্রয়োজন হবে একটি পুরোনো স্মার্টফোন, একটি নতুন ফোন বা ট্যাব, স্থিতিশীল ওয়াইফাই সংযোগ এবং একটি উপযুক্ত ক্যামেরা অ্যাপ। আলফ্রেডক্যামেরার মতো অ্যাপের মাধ্যমে পুরোনো ফোনকে ক্যামেরা হিসেবে এবং নতুন ফোনকে ভিউয়ার হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব। এতে দূর থেকে লাইভ ভিডিও দেখা ছাড়াও নড়াচড়া শনাক্ত হলে নোটিফিকেশন পাওয়ার সুবিধা রয়েছে।
পুরোনো ফোনকে সিকিউরিটি ক্যামেরা বানাতে প্রয়োজন হবে-
ক্যামেরা হিসেবে ব্যবহারের একটি পুরোনো স্মার্টফোন
লাইভ ভিডিও দেখার জন্য আরেকটি ফোন বা ট্যাব
স্থিতিশীল ওয়াইফাই সংযোগ
ফোন রাখার জন্য স্ট্যান্ড বা হোল্ডার
দীর্ঘ সময় ব্যবহারের জন্য নিরাপদ চার্জার বা পাওয়ার সোর্স
বিশ্বস্ত একটি সিকিউরিটি ক্যামেরা অ্যাপ।
ফোনটি খুব শক্তিশালী হওয়া জরুরি নয়। তবে ক্যামেরা, ওয়াইফাই এবং প্রয়োজনীয় অ্যাপ চালানোর জন্য উপযুক্ত অপারেটিং সিস্টেম থাকা আবশ্যক।
যেভাবে সেটআপ করবেন
প্রথমে পুরোনো ফোনটি সম্পূর্ণ চার্জ দিয়ে প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার আপডেট করতে হবে। অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ ও ফাইল সরিয়ে কিছু স্টোরেজ খালি করে রাখা ভালো।
এরপর পুরোনো ফোন ও বর্তমান ফোন উভয় ডিভাইসে একই ক্যামেরা অ্যাপ ইনস্টল করতে হবে। অ্যাপ চালু করে প্রয়োজন অনুযায়ী অ্যাকাউন্টে সাইন ইন করে একটি ফোনকে ক্যামেরা এবং অন্যটিকে ভিউয়ার হিসেবে নির্ধারণ করতে হবে।
আলফ্রেডক্যামেরার মতো অ্যাপে একই অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে দুই ডিভাইস যুক্ত করা যায়। QR কোড স্ক্যান করেও ডিভাইস পেয়ার করার সুবিধা রয়েছে। সংযোগ হয়ে গেলে বর্তমান ফোন থেকেই পুরোনো ফোনের ক্যামেরার লাইভ ভিডিও দেখা যাবে।
অ্যাপ ব্যবহারের জন্য ক্যামেরা, মাইক্রোফোন এবং প্রয়োজনে মিডিয়া ব্যবহারের অনুমতি দিতে হতে পারে। তবে কোনো অ্যাপ অপ্রয়োজনীয় বা সন্দেহজনক অনুমতি চাইলে তা যাচাই না করে অনুমতি দেওয়া উচিত নয়।
কোথায় রাখবেন পুরোনো ফোন?
ক্যামেরা ফোনটি এমন জায়গায় রাখতে হবে, যেখান থেকে গুরুত্বপূর্ণ অংশ পরিষ্কারভাবে দেখা যায় এবং একই সঙ্গে ওয়াইফাই সিগন্যাল ভালো পাওয়া যায়। এটি দরজার সামনে, প্রবেশপথ, শিশুর ঘর বা পোষা প্রাণীর অবস্থান নজরে রাখার জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে।
ফোনটি এমন উচ্চতায় রাখা উচিত, যাতে প্রবেশ করা ব্যক্তির মুখ পরিষ্কারভাবে ক্যামেরায় আসে। জানালার একেবারে সামনে রাখলে দিনের আলোতে ভিডিও অতিরিক্ত উজ্জ্বল হতে পারে। আবার অন্ধকার ঘরে পুরোনো ফোনের ক্যামেরার নাইট ভিশন সীমিত হতে পারে। তাই দিন ও রাত—দুই সময়েই ক্যামেরার ভিডিও পরীক্ষা করে নেওয়া উচিত।
শুধু লাইভ ভিডিও নয়, আরও সুবিধা
সঠিক অ্যাপ ব্যবহার করলে পুরোনো ফোন দিয়ে তৈরি এই ব্যবস্থায় শুধু লাইভ ভিডিও দেখা নয়, আরও কিছু সুবিধা পাওয়া যেতে পারে। কিছু অ্যাপ ক্যামেরার সামনে নড়াচড়া শনাক্ত করে ভিউয়ার ফোনে নোটিফিকেশন পাঠায়। আবার কিছু অ্যাপে দুই দিকের অডিও এবং ভিডিও রেকর্ডের সুবিধাও রয়েছে।
তবে কোন সুবিধা বিনামূল্যে এবং কোনটি প্রিমিয়াম, তা অ্যাপভেদে আলাদা হতে পারে।
দীর্ঘ সময় চার্জে রাখার ক্ষেত্রে সতর্কতা
পুরোনো ফোনকে দীর্ঘ সময় ক্যামেরা হিসেবে ব্যবহার করতে হলে সেটিকে পাওয়ারে সংযুক্ত রাখতে হতে পারে। এ ক্ষেত্রে ফোনের তাপমাত্রার দিকে নজর রাখা জরুরি।
ফোনটি বালিশ, বিছানা বা এমন কোনো জায়গার নিচে রাখা উচিত নয়, যেখানে তাপ সহজে বের হতে পারে না। ভালো মানের চার্জার ও কেবল ব্যবহার করাও গুরুত্বপূর্ণ।
ব্যাটারি ফুলে যাওয়া, অতিরিক্ত গরম হওয়া কিংবা চার্জার বা কেবলে ক্ষতির চিহ্ন দেখা গেলে ফোনটিকে দীর্ঘ সময় ক্যামেরা হিসেবে ব্যবহার না করাই নিরাপদ।
ওয়াইফাই দুর্বল হলে সমস্যা হতে পারে
পুরোনো ফোনের ক্যামেরা থেকে লাইভ ভিডিও দেখতে সাধারণত নেটওয়ার্ক সংযোগ প্রয়োজন হয়। ওয়াইফাই দুর্বল হলে ভিডিও আটকে যেতে পারে অথবা ক্যামেরা অফলাইন হয়ে যেতে পারে।
তাহলে ক্যামেরা বসানোর আগে নির্ধারিত জায়গায় ওয়াইফাই সিগন্যাল কেমন, তা পরীক্ষা করে নেওয়া উচিত। রাউটার থেকে অনেক দূরে ফোন রাখলে সংযোগে সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
ডেটা নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ
পুরোনো ফোনকে সিকিউরিটি ক্যামেরায় রূপান্তরের ক্ষেত্রে ডেটা নিরাপত্তার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব দিতে হবে। ব্যবহারের আগে অ্যাপটির ডেভেলপার, গোপনীয়তা নীতি এবং কী কী অনুমতি প্রয়োজন তা দেখে নেওয়া উচিত।
আলফ্রেডক্যামেরার তথ্য অনুযায়ী, তাদের লাইভ ভিডিও ও অডিও স্ট্রিম ২৫৬-বিট AES এনক্রিপশনের মাধ্যমে সুরক্ষিত থাকে। তবে ব্যবহারকারীদের নিয়মিত অ্যাপ আপডেট করা, শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা এবং অ্যাকাউন্টে অপরিচিত কোনো ডিভাইস যুক্ত হয়েছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করা উচিত।
ব্যক্তিগত জায়গায় ক্যামেরা নয়
বাড়ির নিরাপত্তার জন্য ক্যামেরা ব্যবহার করলেও অন্যের গোপনীয়তা রক্ষা করা জরুরি। বাথরুম, পোশাক পরিবর্তনের স্থান কিংবা অন্য কারও ব্যক্তিগত জায়গায় অনুমতি ছাড়া ক্যামেরা বসানো উচিত নয়।
বাড়িতে অন্য সদস্য, অতিথি বা কর্মী থাকলে ক্যামেরা কোথায় বসানো হয়েছে, তা তাদের জানানো ভালো। বিশেষ করে অডিও রেকর্ডিংয়ের ক্ষেত্রে স্থানীয় আইন ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার নিয়ম মেনে চলতে হবে।
সিসিটিভির পুরো বিকল্প নয়
পুরোনো ফোন দিয়ে তৈরি এই ব্যবস্থা কম খরচে একটি ঘর, প্রবেশপথ বা নির্দিষ্ট জায়গা নজরদারির জন্য কার্যকর হতে পারে। তবে এটি পেশাদার সিসিটিভি ব্যবস্থার পুরো বিকল্প নয়।
পেশাদার ক্যামেরায় আবহাওয়া প্রতিরোধী বডি, নির্দিষ্ট নাইট ভিশন, স্থানীয় স্টোরেজ, দীর্ঘমেয়াদি নির্ভরযোগ্যতা এবং একাধিক ক্যামেরা ব্যবস্থাপনার মতো সুবিধা থাকতে পারে, যা পুরোনো স্মার্টফোনে সবসময় পাওয়া যাবে না।
তাহলে পুরোনো ফোনকে কম খরচের নজরদারি ব্যবস্থা হিসেবে ব্যবহার করাই বেশি যুক্তিযুক্ত।
ড্রয়ারে পড়ে থাকা পুরোনো স্মার্টফোন ফেলে না দিয়ে এভাবে বাড়ির নিরাপত্তার কাজে লাগানো যেতে পারে। একটি উপযুক্ত অ্যাপ, স্থিতিশীল ওয়াইফাই এবং সঠিক অবস্থানে ফোন বসিয়েই তৈরি করা সম্ভব সাধারণ একটি সিকিউরিটি ক্যামেরা ব্যবস্থা। তবে দীর্ঘ সময় চার্জে রাখার আগে ব্যাটারির অবস্থা পরীক্ষা এবং অ্যাপের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা নীতি যাচাই করা জরুরি।
সূত্র: রিডার্স ডাইজেস্ট
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করে সমাজের মূল স্রোতধারায় ফিরিয়ে আনতে সমাজসেবা অধিদপ্তরের শিক্ষা উপবৃত্তি কর্মসূচি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এই কর্মসূচি সুবিধাবঞ্চিত ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলতেও কার্যকর ভূমিকা রাখছে।
চাঁদপুরের কচুয়ায় প্রতিবন্ধী শিশুদের মূল স্রোতধারায় অন্তর্ভুক্তিতে সমাজসেবা অধিদপ্তরের শিক্ষা উপবৃত্তি কর্মসূচির তাৎপর্য বিষয়ক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা তুলে ধরেন।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের আয়োজনে এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার অমিত রায়।
উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মোঃ নাহিদ ইসলামের সঞ্চালনায় সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ আবু নাসির, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মোঃ জাহিদ হোসেন, কচুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আজিজুল ইসলাম আকাশ, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শাহিনা আক্তার এবং উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মৃণালিনী কর্মকার।
এছাড়া কচুয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি আতাউল করিমসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক, অভিভাবক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন।
সেমিনারে বক্তারা উল্লেখ করেন, প্রতিবন্ধী শিশুরাও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যদি যথাযথ শিক্ষা, পরিচর্যা ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা যায়, তাহলে তারাও সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে। তাই তাদের প্রতি সহানুভূতির পাশাপাশি অধিকারভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি ও কার্যকর সহযোগিতা প্রয়োজন।
বক্তারা আরও বলেন, শিক্ষা উপবৃত্তি কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। পরিবারের আর্থিক সংকট যেন কোনো শিশুর শিক্ষার পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।
সেমিনারে প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা, অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং তাদের মূলধারায় সম্পৃক্ত করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি সরকারি সহায়তা ও শিক্ষা উপবৃত্তি কর্মসূচির সুযোগ সঠিকভাবে পৌঁছে দিতে সংশ্লিষ্টদের সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ