মঙ্গলবার, ১৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:২২ পি.এম
নতুন স্মার্টফোন কেনার পর অনেকের পুরোনো ফোনটি আলমারিতে বা ড্রয়ারে পড়ে থাকে। এই অব্যবহৃত ফোনটিকে ব্যবহার করে বাড়ির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব। আলাদা সিসিটিভি ক্যামেরা কেনার প্রয়োজন না থাকলেও একটি পুরোনো স্মার্টফোনকে সাধারণ সিকিউরিটি ক্যামেরায় রূপান্তর করা যায়।
এটি করার জন্য প্রয়োজন হবে একটি পুরোনো স্মার্টফোন, একটি নতুন ফোন বা ট্যাব, স্থিতিশীল ওয়াইফাই সংযোগ এবং একটি উপযুক্ত ক্যামেরা অ্যাপ। আলফ্রেডক্যামেরার মতো অ্যাপের মাধ্যমে পুরোনো ফোনকে ক্যামেরা হিসেবে এবং নতুন ফোনকে ভিউয়ার হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব। এতে দূর থেকে লাইভ ভিডিও দেখা ছাড়াও নড়াচড়া শনাক্ত হলে নোটিফিকেশন পাওয়ার সুবিধা রয়েছে।
পুরোনো ফোনকে সিকিউরিটি ক্যামেরা বানাতে প্রয়োজন হবে-
ক্যামেরা হিসেবে ব্যবহারের একটি পুরোনো স্মার্টফোন
লাইভ ভিডিও দেখার জন্য আরেকটি ফোন বা ট্যাব
স্থিতিশীল ওয়াইফাই সংযোগ
ফোন রাখার জন্য স্ট্যান্ড বা হোল্ডার
দীর্ঘ সময় ব্যবহারের জন্য নিরাপদ চার্জার বা পাওয়ার সোর্স
বিশ্বস্ত একটি সিকিউরিটি ক্যামেরা অ্যাপ।
ফোনটি খুব শক্তিশালী হওয়া জরুরি নয়। তবে ক্যামেরা, ওয়াইফাই এবং প্রয়োজনীয় অ্যাপ চালানোর জন্য উপযুক্ত অপারেটিং সিস্টেম থাকা আবশ্যক।
যেভাবে সেটআপ করবেন
প্রথমে পুরোনো ফোনটি সম্পূর্ণ চার্জ দিয়ে প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার আপডেট করতে হবে। অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ ও ফাইল সরিয়ে কিছু স্টোরেজ খালি করে রাখা ভালো।
এরপর পুরোনো ফোন ও বর্তমান ফোন উভয় ডিভাইসে একই ক্যামেরা অ্যাপ ইনস্টল করতে হবে। অ্যাপ চালু করে প্রয়োজন অনুযায়ী অ্যাকাউন্টে সাইন ইন করে একটি ফোনকে ক্যামেরা এবং অন্যটিকে ভিউয়ার হিসেবে নির্ধারণ করতে হবে।
আলফ্রেডক্যামেরার মতো অ্যাপে একই অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে দুই ডিভাইস যুক্ত করা যায়। QR কোড স্ক্যান করেও ডিভাইস পেয়ার করার সুবিধা রয়েছে। সংযোগ হয়ে গেলে বর্তমান ফোন থেকেই পুরোনো ফোনের ক্যামেরার লাইভ ভিডিও দেখা যাবে।
অ্যাপ ব্যবহারের জন্য ক্যামেরা, মাইক্রোফোন এবং প্রয়োজনে মিডিয়া ব্যবহারের অনুমতি দিতে হতে পারে। তবে কোনো অ্যাপ অপ্রয়োজনীয় বা সন্দেহজনক অনুমতি চাইলে তা যাচাই না করে অনুমতি দেওয়া উচিত নয়।
কোথায় রাখবেন পুরোনো ফোন?
ক্যামেরা ফোনটি এমন জায়গায় রাখতে হবে, যেখান থেকে গুরুত্বপূর্ণ অংশ পরিষ্কারভাবে দেখা যায় এবং একই সঙ্গে ওয়াইফাই সিগন্যাল ভালো পাওয়া যায়। এটি দরজার সামনে, প্রবেশপথ, শিশুর ঘর বা পোষা প্রাণীর অবস্থান নজরে রাখার জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে।
ফোনটি এমন উচ্চতায় রাখা উচিত, যাতে প্রবেশ করা ব্যক্তির মুখ পরিষ্কারভাবে ক্যামেরায় আসে। জানালার একেবারে সামনে রাখলে দিনের আলোতে ভিডিও অতিরিক্ত উজ্জ্বল হতে পারে। আবার অন্ধকার ঘরে পুরোনো ফোনের ক্যামেরার নাইট ভিশন সীমিত হতে পারে। তাই দিন ও রাত—দুই সময়েই ক্যামেরার ভিডিও পরীক্ষা করে নেওয়া উচিত।
শুধু লাইভ ভিডিও নয়, আরও সুবিধা
সঠিক অ্যাপ ব্যবহার করলে পুরোনো ফোন দিয়ে তৈরি এই ব্যবস্থায় শুধু লাইভ ভিডিও দেখা নয়, আরও কিছু সুবিধা পাওয়া যেতে পারে। কিছু অ্যাপ ক্যামেরার সামনে নড়াচড়া শনাক্ত করে ভিউয়ার ফোনে নোটিফিকেশন পাঠায়। আবার কিছু অ্যাপে দুই দিকের অডিও এবং ভিডিও রেকর্ডের সুবিধাও রয়েছে।
তবে কোন সুবিধা বিনামূল্যে এবং কোনটি প্রিমিয়াম, তা অ্যাপভেদে আলাদা হতে পারে।
দীর্ঘ সময় চার্জে রাখার ক্ষেত্রে সতর্কতা
পুরোনো ফোনকে দীর্ঘ সময় ক্যামেরা হিসেবে ব্যবহার করতে হলে সেটিকে পাওয়ারে সংযুক্ত রাখতে হতে পারে। এ ক্ষেত্রে ফোনের তাপমাত্রার দিকে নজর রাখা জরুরি।
ফোনটি বালিশ, বিছানা বা এমন কোনো জায়গার নিচে রাখা উচিত নয়, যেখানে তাপ সহজে বের হতে পারে না। ভালো মানের চার্জার ও কেবল ব্যবহার করাও গুরুত্বপূর্ণ।
ব্যাটারি ফুলে যাওয়া, অতিরিক্ত গরম হওয়া কিংবা চার্জার বা কেবলে ক্ষতির চিহ্ন দেখা গেলে ফোনটিকে দীর্ঘ সময় ক্যামেরা হিসেবে ব্যবহার না করাই নিরাপদ।
ওয়াইফাই দুর্বল হলে সমস্যা হতে পারে
পুরোনো ফোনের ক্যামেরা থেকে লাইভ ভিডিও দেখতে সাধারণত নেটওয়ার্ক সংযোগ প্রয়োজন হয়। ওয়াইফাই দুর্বল হলে ভিডিও আটকে যেতে পারে অথবা ক্যামেরা অফলাইন হয়ে যেতে পারে।
তাহলে ক্যামেরা বসানোর আগে নির্ধারিত জায়গায় ওয়াইফাই সিগন্যাল কেমন, তা পরীক্ষা করে নেওয়া উচিত। রাউটার থেকে অনেক দূরে ফোন রাখলে সংযোগে সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
ডেটা নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ
পুরোনো ফোনকে সিকিউরিটি ক্যামেরায় রূপান্তরের ক্ষেত্রে ডেটা নিরাপত্তার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব দিতে হবে। ব্যবহারের আগে অ্যাপটির ডেভেলপার, গোপনীয়তা নীতি এবং কী কী অনুমতি প্রয়োজন তা দেখে নেওয়া উচিত।
আলফ্রেডক্যামেরার তথ্য অনুযায়ী, তাদের লাইভ ভিডিও ও অডিও স্ট্রিম ২৫৬-বিট AES এনক্রিপশনের মাধ্যমে সুরক্ষিত থাকে। তবে ব্যবহারকারীদের নিয়মিত অ্যাপ আপডেট করা, শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা এবং অ্যাকাউন্টে অপরিচিত কোনো ডিভাইস যুক্ত হয়েছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করা উচিত।
ব্যক্তিগত জায়গায় ক্যামেরা নয়
বাড়ির নিরাপত্তার জন্য ক্যামেরা ব্যবহার করলেও অন্যের গোপনীয়তা রক্ষা করা জরুরি। বাথরুম, পোশাক পরিবর্তনের স্থান কিংবা অন্য কারও ব্যক্তিগত জায়গায় অনুমতি ছাড়া ক্যামেরা বসানো উচিত নয়।
বাড়িতে অন্য সদস্য, অতিথি বা কর্মী থাকলে ক্যামেরা কোথায় বসানো হয়েছে, তা তাদের জানানো ভালো। বিশেষ করে অডিও রেকর্ডিংয়ের ক্ষেত্রে স্থানীয় আইন ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার নিয়ম মেনে চলতে হবে।
সিসিটিভির পুরো বিকল্প নয়
পুরোনো ফোন দিয়ে তৈরি এই ব্যবস্থা কম খরচে একটি ঘর, প্রবেশপথ বা নির্দিষ্ট জায়গা নজরদারির জন্য কার্যকর হতে পারে। তবে এটি পেশাদার সিসিটিভি ব্যবস্থার পুরো বিকল্প নয়।
পেশাদার ক্যামেরায় আবহাওয়া প্রতিরোধী বডি, নির্দিষ্ট নাইট ভিশন, স্থানীয় স্টোরেজ, দীর্ঘমেয়াদি নির্ভরযোগ্যতা এবং একাধিক ক্যামেরা ব্যবস্থাপনার মতো সুবিধা থাকতে পারে, যা পুরোনো স্মার্টফোনে সবসময় পাওয়া যাবে না।
তাহলে পুরোনো ফোনকে কম খরচের নজরদারি ব্যবস্থা হিসেবে ব্যবহার করাই বেশি যুক্তিযুক্ত।
ড্রয়ারে পড়ে থাকা পুরোনো স্মার্টফোন ফেলে না দিয়ে এভাবে বাড়ির নিরাপত্তার কাজে লাগানো যেতে পারে। একটি উপযুক্ত অ্যাপ, স্থিতিশীল ওয়াইফাই এবং সঠিক অবস্থানে ফোন বসিয়েই তৈরি করা সম্ভব সাধারণ একটি সিকিউরিটি ক্যামেরা ব্যবস্থা। তবে দীর্ঘ সময় চার্জে রাখার আগে ব্যাটারির অবস্থা পরীক্ষা এবং অ্যাপের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা নীতি যাচাই করা জরুরি।
সূত্র: রিডার্স ডাইজেস্ট
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করে সমাজের মূল স্রোতধারায় ফিরিয়ে আনতে সমাজসেবা অধিদপ্তরের শিক্ষা উপবৃত্তি কর্মসূচি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এই কর্মসূচি সুবিধাবঞ্চিত ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলতেও কার্যকর ভূমিকা রাখছে।
চাঁদপুরের কচুয়ায় প্রতিবন্ধী শিশুদের মূল স্রোতধারায় অন্তর্ভুক্তিতে সমাজসেবা অধিদপ্তরের শিক্ষা উপবৃত্তি কর্মসূচির তাৎপর্য বিষয়ক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা তুলে ধরেন।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের আয়োজনে এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার অমিত রায়।
উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মোঃ নাহিদ ইসলামের সঞ্চালনায় সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ আবু নাসির, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মোঃ জাহিদ হোসেন, কচুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আজিজুল ইসলাম আকাশ, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শাহিনা আক্তার এবং উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মৃণালিনী কর্মকার।
এছাড়া কচুয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি আতাউল করিমসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক, অভিভাবক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন।
সেমিনারে বক্তারা উল্লেখ করেন, প্রতিবন্ধী শিশুরাও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যদি যথাযথ শিক্ষা, পরিচর্যা ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা যায়, তাহলে তারাও সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে। তাই তাদের প্রতি সহানুভূতির পাশাপাশি অধিকারভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি ও কার্যকর সহযোগিতা প্রয়োজন।
বক্তারা আরও বলেন, শিক্ষা উপবৃত্তি কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। পরিবারের আর্থিক সংকট যেন কোনো শিশুর শিক্ষার পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।
সেমিনারে প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা, অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং তাদের মূলধারায় সম্পৃক্ত করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি সরকারি সহায়তা ও শিক্ষা উপবৃত্তি কর্মসূচির সুযোগ সঠিকভাবে পৌঁছে দিতে সংশ্লিষ্টদের সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া মন্তব্য করেছেন যে, যদি বিদেশে তার এক টাকাও বিনিয়োগের প্রমাণ কেউ উপস্থাপন করতে পারে, তাহলে তিনি রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়াবেন।
সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায়, তিনি নিজের ভ্যারিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি লাইভ সেশনে এই বক্তব্য দেন।
আসিফ মাহমুদ বলেন, "শুধু প্রমাণ করুন যে আসিফ মাহমুদ বিদেশে এক টাকাও বিনিয়োগ করেছেন বা দেশের বাইরে সামান্য এক চিমটি ধুলাও কিনেছেন। বিদেশে কোথাও এক টাকাও পাওয়া গেলে সেদিনই আমি রাজনীতি ছেড়ে দেবো।"
তিনি নিজের বিরুদ্ধে উঠা সর্বশেষ অভিযোগগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন। আসিফের ভাষ্য, এসব অভিযোগের মাধ্যমে তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা চলছে।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালনকালে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্ত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এসব অভিযোগের ভিত্তিতে দুদক চার সদস্যের একটি তদন্ত দল গঠন করে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র চেয়েছে।
বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ সম্পর্কে আসিফ বলেন, তার বিরুদ্ধে দুবাইয়ে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, সিঙ্গাপুরে ৩ হাজার কোটি, অস্ট্রেলিয়ায় ২ হাজার কোটি এবং সুইজারল্যান্ডে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পাচারের যে অভিযোগ করা হয়েছে, সেসব অঙ্ক "আজকের কণ্ঠ" নামের একটি ফেসবুক পেজের ১১ ফেব্রুয়ারির পোস্টের তথ্যের সঙ্গে মিলে যায়।
তিনি ওই পেজটিকে আওয়ামী লীগের ‘প্রচারপেজ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, "আমরা জানি না আজকের কণ্ঠ দুদক চালায়, নাকি দুদক আজকের কণ্ঠ চালায়। বিষয়টি খুবই বিভ্রান্তিকর।"
এনসিপির এই নেতা একটি মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্পের ব্যয় প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা বাড়ানোর অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেন।
তিনি জানান, প্রকল্পটির আওতায় শুরুতে প্রায় ১৫০টি স্টেডিয়াম নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল। পরে তা প্রায় সব উপজেলায় সম্প্রসারণ করা হয়। জমি অধিগ্রহণ, প্যাভিলিয়ন ও দর্শকদের বসার ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা যুক্ত হওয়ায় প্রকল্পের ব্যয় বেড়েছে।
আসিফ বলেন, সংশোধিত প্রকল্পটি অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) অনুমোদিত হয় এবং এটি এখনো বাস্তবায়নাধীন। তিনি দুর্নীতি হয়ে থাকলে প্রকল্পের কাজ বন্ধ করে দেওয়ারও আহ্বান জানান।
সরকারের দায়িত্বে থাকাকালে তার কিছু কর্মকাণ্ডে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক নেতা অসন্তুষ্ট ছিলেন বলেও দাবি করেন আসিফ। তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই বর্তমান তদন্ত করা হচ্ছে। তবে তিনি ওই নেতাদের নাম বা দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ দেননি।
দুদকের তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই অভিযোগগুলোকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে উপস্থাপনের জন্য গণমাধ্যমের কিছু অংশের সমালোচনা করেন তিনি। আসিফ বলেন, "এই মিডিয়া ট্রায়ালের কারণে আমি ভুক্তভোগী হয়েছি।"
তিনি আরও বলেন, "হয়তো কয়েক মাস বা এমনকি কয়েক বছর পর দুদকের তদন্তে আমি নির্দোষ প্রমাণিত হব। কিন্তু ততদিনে যে ক্ষতি হওয়ার, তা হয়ে যাবে।"
এ সময় আসিফ তার দুই বোনজামাই ও এক ভাগ্নে অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িত এমন অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি দাবি করেন, তার মাত্র একজন বোনজামাই রয়েছেন এবং তার ভাগ্নের বয়স প্রায় আড়াই থেকে তিন বছর।
তিনি বলেন, "আপনারা অর্থ পাচারের অভিযোগে এমনকি একটি শিশুকেও টেনে আনছেন। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক।"
সবশেষে আসিফ মাহমুদ অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত উভয় পক্ষের বক্তব্য বিবেচনার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, "দয়া করে উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে বিচার করুন। শুধু ক্লিকবেইট শিরোনামের ওপর ভিত্তি করে কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন না।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২০২৬ সালে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য দুই দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এই ছুটির মধ্যে ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার মহানবমী এবং ২১ অক্টোবর বুধবার বিজয়া দশমী উপলক্ষে ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সরকারি ছুটির তালিকার তথ্য অনুযায়ী, দুর্গাপূজার মূল সরকারি ছুটি শুরু হবে ২০ অক্টোবর থেকে। মহানবমী উপলক্ষে ওই দিন নির্বাহী আদেশে ছুটি থাকবে এবং পরদিন বিজয়া দশমী উপলক্ষে সাধারণ ছুটি কার্যকর হবে।
এরপর ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার একদিনের ছুটি নেওয়ার সুযোগ থাকলে, সরকারি চাকরিজীবীরা শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে মিলিয়ে টানা পাঁচ দিনের ছুটি কাটাতে পারবেন। অর্থাৎ, ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিন ছুটি উপভোগ করা সম্ভব হবে।
এদিকে, মূল সরকারি ছুটির বাইরে হিন্দু ধর্মাবলম্বী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য দুর্গাপূজা উপলক্ষে আরও দুই দিনের ঐচ্ছিক ছুটির সুযোগ রাখা হয়েছে। নির্ধারিত নিয়ম ও অনুমোদনের ভিত্তিতে তারা অতিরিক্ত ছুটি ভোগ করতে পারবেন।
এ বছর মহালয়া অনুষ্ঠিত হবে ১০ অক্টোবর শনিবার। এরপর ১৬ অক্টোবর শুক্রবার মহাষষ্ঠী, ১৮ অক্টোবর রবিবার মহাসপ্তমী, ১৯ অক্টোবর সোমবার মহাষ্টমী, ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার মহানবমী এবং ২১ অক্টোবর বুধবার বিজয়া দশমী পালিত হবে।
অর্থাৎ, ১০ অক্টোবর মহালয়ার মাধ্যমে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হলেও সরকারি ছুটি শুরু হবে ২০ অক্টোবর থেকে। একদিনের ছুটি নেওয়ার মাধ্যমে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য পূজার ছুটি মিলিয়ে টানা পাঁচ দিনের অবকাশের সুযোগ তৈরি হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ছুটি মানে অফিসের ব্যস্ততা থেকে দূরে থাকার সময়। পাহাড়, সমুদ্র অথবা প্রিয়জনের সঙ্গে সময় কাটানোর কথা ভাবা হয়। কিন্তু অনেকের জন্য ছুটির সময়েও অফিসের চিন্তা যেন পিছু ছাড়ে না। সমুদ্রের তীরে বসে হঠাৎ মনে পড়ে, ‘কালকের কাজটা কে শেষ করবে?’ আবার কিছুক্ষণ পর মুঠোফোন হাতে নিয়ে মনে হয়, ‘অফিসের বার্তাটা একবার দেখি।’
একবার অফিসের বার্তা দেখতে গিয়ে কখন যে আধা ঘণ্টা কেটে যায়, তা বোঝা যায় না। শরীর ছুটিতে থাকলেও মন পড়ে থাকে অফিসের কাজে। কিন্তু কেন এমনটি ঘটে?
মনোবিজ্ঞানের গবেষণায় এর পেছনে কয়েকটি কারণ উঠে এসেছে।
অসমাপ্ত কাজ মাথায় ঘুরতেই থাকে
ছুটিতে গিয়েও অফিসের কথা মনে পড়ার একটি প্রধান কারণ হলো অসমাপ্ত কাজ। মানুষের মস্তিষ্ক শেষ হয়ে যাওয়া কাজের তুলনায় অসমাপ্ত কাজ বেশি মনে রাখতে পারে।
তাহলে, যদি কোনো কাজ শেষ না করে ছুটিতে যান, সেটি মনের মধ্যে খোলা হিসাবের মতো থেকে যায়। আপনি সমুদ্রের ঢেউ দেখছেন, কিন্তু মস্তিষ্কের এক কোণে পড়ে থাকা কাজটি বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছে—এখনো কাজটি শেষ হয়নি।
হঠাৎ চাপ কমলেও মস্তিষ্ক মানিয়ে নিতে পারে না।
প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে অফিসে যাওয়া, কাজের চাপ সামলানো, বার্তা পাওয়া, মুঠোফোনে খবর আসা এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া—এসব ধীরে ধীরে দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত হয়।
হঠাৎ ছুটিতে গিয়ে যখন এসব ব্যস্ততা বন্ধ হয়ে যায়, তখন মস্তিষ্ক সহজে নতুন পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে না। ফলে কাজের সেই পরিচিত ব্যস্ততা না থাকলেও মস্তিষ্ক নিজেই অফিসের চিন্তা তৈরি করতে পারে।
মুঠোফোনও ফিরিয়ে আনে অফিসের চিন্তা
অফিস থেকে ছুটি মানে সত্যিই অফিস থেকে দূরে থাকা। বর্তমানে মুঠোফোনের কারণে অফিস যেন পকেটের মধ্যে চলে এসেছে।
সারাদিন বার্তা, বৈদ্যুতিক চিঠি অথবা ফোনকলের অভ্যাস তৈরি হলে ছুটির দিনেও বারবার মুঠোফোন দেখার প্রবণতা তৈরি হতে পারে। এমনকি কোনো বার্তা না এলেও মনে হতে পারে, হয়তো নতুন কিছু এসেছে।
কাজের সঙ্গে মস্তিষ্কের এই অভ্যাসগত সম্পর্কের কারণে ছুটির দিনেও পুরোনো কর্মজীবনের অভ্যাস সহজে ফিরে আসে।
‘আমি না থাকলে অফিস চলবে তো?’
কিছু মানুষের কাছে নিজের কাজ শুধু দায়িত্ব নয়, বরং পরিচয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ফলে ছুটিতে গিয়েও মনে হতে পারে, ‘আমি না থাকলে কাজগুলো ঠিকভাবে হবে তো?’
নিজের কাজের প্রতি ভালোবাসা বা দায়িত্ববোধ অবশ্যই ইতিবাচক বিষয়। কিন্তু যখন এই দায়িত্ববোধ ছুটির সময়ও মস্তিষ্ককে বিশ্রাম নিতে দেয় না, তখন সমস্যা তৈরি হতে পারে।
কাজের কথা মনে পড়া সব সময় খারাপ নয়।
ছুটিতে হঠাৎ কাজের কথা মনে পড়লে সেটিকে সমস্যা বলা যাবে না। কোনো ভালো চিন্তা মাথায় আসতে পারে, অথবা কোনো কাজের সমাধানও মনে পড়তে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, কাজ নিয়ে ইতিবাচকভাবে ভাবা এবং কাজ থেকে কিছু সময়ের জন্য মানসিকভাবে দূরে থাকা—দুই ধরনের অভ্যাসই নেতিবাচক অনুভূতি কমাতে সাহায্য করতে পারে।
সমস্যা তখনই হয়, যখন ছুটির প্রায় পুরো সময়জুড়ে অফিসের চিন্তা মাথায় ঘুরতে থাকে।
সমুদ্র দেখতে গিয়ে অফিসের কথা, পরিবারের সঙ্গে বসে কাজের কথা, রাতে ঘুমানোর সময় পরদিনের কাজের কথা—এভাবে যদি পুরো ছুটিতেই কর্মজীবনের চিন্তা চলতে থাকে, তাহলে বুঝতে হবে শরীর ছুটিতে গেলেও মন এখনো অফিসেই আটকে আছে।
কাজ থেকে দূরে থাকতে পারলে ছুটিও অধিক উপভোগ্য।
২০১৬ সালের একটি গবেষণায় ৭৭৭ জন মার্কিন অংশগ্রহণকারীর ছুটির অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করা হয়। এতে দেখা যায়, যারা ছুটির সময় কাজ থেকে মানসিকভাবে দূরে থাকতে পেরেছেন, স্বস্তি পেয়েছেন এবং নিজেদের সময় ও কাজের ওপর নিয়ন্ত্রণ অনুভব করেছেন, তাদের ছুটির অভিজ্ঞতা ও সামগ্রিক জীবনসন্তুষ্টি বেশি ছিল।
আরেকটি বিশ্লেষণে ৩৮ হাজারের বেশি কর্মীর তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, কাজ থেকে মানসিকভাবে বিচ্ছিন্ন থাকার সঙ্গে কম ক্লান্তি, ভালো ঘুম, বেশি জীবনসন্তুষ্টি এবং উন্নত মানসিক সুস্থতার সম্পর্ক রয়েছে।
অর্থাৎ, শুধু অফিসে না যাওয়াই ছুটি নয়। কিছু সময়ের জন্য অফিসের চিন্তা থেকেও নিজেকে দূরে রাখা জরুরি।
ছুটিতে অফিস থেকে দূরে থাকার উপায়
ছুটিতে যাওয়ার আগে কয়েকটি বিষয় গুছিয়ে নিলে অফিসের চিন্তা অনেকটাই কমানো সম্ভব।
ছুটিতে গিয়ে হঠাৎ অফিসের কথা মনে পড়তেই পারে। এতে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। তবে সেই চিন্তা যদি পুরো ছুটির আনন্দ নষ্ট করে দেয়, তাহলে নিজের মানসিক বিশ্রামের দিকেও নজর দেওয়া দরকার।
কারণ ছুটির আসল উদ্দেশ্য শুধু অফিসে না যাওয়া নয়। কিছুদিনের জন্য কাজের চিন্তা থেকে নিজেকেও মুক্ত রাখা। তাই পাহাড়, সমুদ্র অথবা প্রিয়জনের সঙ্গে সময় কাটানোর মুহূর্তে মুঠোফোনটা একটু দূরে রাখুন। অফিসের কাজ অপেক্ষা করতেই পারে—আপনার বিশ্রামটাও জরুরি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ