০৪:৩২ পি.এম
নওগাঁর রানীনগরে ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ৩৪ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ও নির্দেশনায় পরিচালিত সাঁড়াশি অভিযানে এ ঘটনায় জড়িত ৬ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এ সময় ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত একটি রেজিস্ট্রেশনবিহীন মোটরসাইকেল, একটি আইফোনসহ মোট ৭টি মোবাইল ফোন এবং লুটের ১ লাখ ৪২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ অক্টোবর দুপুরে ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ক্যাশিয়ার মো. নাজমুল ইসলাম ও অফিস সহায়ক মো. রাসেল আদিমদিঘী রেলগেট থেকে মালিক ফিরোজ হোসেনের ৩৪ লাখ টাকা নিয়ে মোটরসাইকেলযোগে আবাদপুকুর বাজারের অফিসের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পথিমধ্যে রানীনগর থানাধীন পারইল বাজার পার হয়ে বাংলালিংক টাওয়ারের সামনে পৌঁছালে একটি মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা তাদের পথরোধ করে। পরে লোহার স্টিক দিয়ে মারধর করে নগদ ৩৪ লাখ টাকা ছিনিয়ে পালিয়ে যায়।
আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য
ঘটনার পর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে রানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও রানীনগর থানা পুলিশের একটি চৌকস টিমকে মাঠে নামান।
তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় এবং বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে ঘটনার রাতেই জেলা গোয়েন্দা শাখা ও রানীনগর থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি জব্দ করে এবং মোটরসাইকেলের মালিক রাব্বি আলীকে গ্রেপ্তার করে।
পরবর্তী সময়ে ৭ অক্টোবর রাতে পুলিশ সুপারের তত্ত্বাবধানে ডিবির একটি বিশেষ টিম জয়পুরহাটের আক্কেলপুর ও দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ থানা এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় ডাকাতির সঙ্গে জড়িত স্বপন (২৮) ও হাসান আলীকে (২৫) গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাদের হেফাজত থেকে লুটের ১ লাখ ৪২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ৮ অক্টোবর রানীনগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ব্যাংকের ভেতরের তিন কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন—অফিস সহায়ক ও সাজানো ভিকটিম রাসেল বাবু (২২), লোন কর্মকর্তা সুজন (২৭) এবং লোন কর্মকর্তা আবু তালেব (২২)।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে লোমহর্ষক তথ্য। জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃত ব্যাংক কর্মচারী রাসেল, সুজন ও আবু তালেব বেশ কিছুদিন ধরে অনলাইনে জুয়া খেলে ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা হেরে যান। গ্রাহকদের টাকা জমা না দিয়ে তারা জুয়ায় উড়িয়ে দেন। পরবর্তীতে ব্যাংক মালিক ফিরোজ হোসেনের ৩৪ লাখ টাকা লুটের পরিকল্পনা করেন তারা।
প্রায় একমাস ধরে এই পরিকল্পনা করা হয়। ঘটনার দিন অফিস সহায়ক রাসেল বাবু ক্যাশিয়ার নাজমুলকে সঙ্গে নিয়ে টাকা আনতে যান এবং টাকা নিয়ে ফেরার সময় নিয়মিত অবস্থান জানাতে থাকেন ছিনতাইকারী স্বপন ও হাসানকে। ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর স্বপন ও হাসান হামলা চালিয়ে টাকা ছিনিয়ে নেয়। এ সময় প্রকৃত ভিকটিম ক্যাশিয়ার নাজমুলকে লোহার পাইপ দিয়ে বেদম মারধর করা হয়, আর টাকা বহনকারী রাসেল বাবু সাজেন ‘মিথ্যা ভিকটিম’। পরিকল্পনা অনুযায়ী ৩৪ লাখ টাকার মধ্যে ব্যাংকের এই তিনজনকে ১০ লাখ টাকা এবং বাকি টাকা অন্য ছিনতাইকারীদের নেওয়ার কথা ছিল। প্রাথমিক অবস্থায় স্বপন ও হাসানকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা দিয়ে দ্রুত নওগাঁ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় মোট ৬ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পলাতক অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে এবং বাকি টাকা উদ্ধারে জেলা পুলিশের অভিযান ও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
আরও পড়ুন: ক্ষমা চাইলেন ‘পাপের লাশ বাংলাদেশে আসুক চাই না’ বলা এমপি রতন
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন