০১:০৫ এম
বাবুগঞ্জ প্রতিনিধিঃ বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার পাংশা মৌজার ২.১০ একর জমিতে আদালতের স্থিতাবস্থা বজায় রাখা নির্দেশ অমান্য করে ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও বিবাদীপক্ষ জোরপূর্বক ভবন নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। আদালতের নথি সূত্রে জানা যায়, মুনসুর আলী হাওলাদার গং ও ফয়সাল হাওলাদার গং-এর মধ্যে ২.১০ একর জমির মালিকানা নিয়ে মামলা নং-৮৯/১১ বিচারাধীন রয়েছে। মামলায় ২০২০ সালের ৫ নভেম্বর আদালত বিরোধপূর্ণ সম্পত্তির ওপর স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ প্রদান করেন। অভিযোগ ওঠেছে, সেই নির্দেশ উপেক্ষা করে বিবাদীপক্ষ বিরোধপূর্ণ জমিতে ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে।
বাদীপক্ষের অভিযোগের মধ্যে রয়েছে, আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও বিবাদীপক্ষ নির্মাণসামগ্রী নিয়ে এসে শ্রমিক নিয়োগের মাধ্যমে ভবন নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এতে আদালতের আদেশ লঙ্ঘিত হওয়ার পাশাপাশি এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ভুক্তভোগী মুনসুর আলী হাওলাদার বলেন, “আমরা আদালতের প্রতি পূর্ণ আস্থা রেখে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করছি।
কিন্তু আদালতের নির্দেশ অমান্য করে জোরপূর্বক ভবন নির্মাণের কাজ করা হচ্ছে, এবং এতে আদালতের আদেশ অবমাননার কারণে যে কোনও সময় অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।” তিনি আরও জানান, “আদালতের আদেশের অনুলিপি সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রদান করা হয়েছে। তারপরও নির্মাণকাজ বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় আমরা উদ্বিগ্ন। আজকের ঘটনাও আদালতকে অবহিত করা হয়েছে। আদালত বিষয়টি শুনানির জন্য পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেছেন। আমরা আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।” স্থানীয়রা বলেছেন, জমিটির ওপর দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এর আগে একাধিকবার উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। তাদের মতে, বিচারাধীন জমিতে আদালতের নির্দেশ অমান্য করে নির্মাণকাজ চালানোর সুযোগ দেওয়া হলে আইনশাসনের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ন হবে। তাই আদালতের নির্দেশ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন ও বিরোধপূর্ণ জমিতে সব ধরনের নির্মাণকাজ বন্ধে দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য তারা আবেদন জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
অন্যথায় বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে বলেও তাদের অভিমত। অভিযোগের বিষয়ে বিবাদী ফয়সাল হাওলাদার গং-এর বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে এয়ারপোর্টথানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আল-আমিন বলেন, “আদালতের নির্দেশনা অনুসারে বিরোধপূর্ণ জমিতে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার জন্য নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। যদি নির্দেশ অমান্য করে কেউ নির্মাণকাজ পরিচালনা করেন, তবে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ কারও নেই।”
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন