০১:০৮ এম
বরিশালের মুলাদীতে পুলিশের কাছে থেকে হাতকড়াসহ এক আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার একটি ঘটনা ঘটেছে, যার প্রতিবাদে মামলা করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরের সময় মুলাদী থানার উপপরিদর্শক মনির হোসেন বাদী হয়ে ১৭ জনকে আসামি করে মামলা করেন। এর আগে গতকাল বুধবার বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের রামারপোল বাজার এলাকায় রাশেদুল ইসলাম সেতুভূঁইয়া (৪০) নামে এক আসামিকে তাঁর পরিবারের সদস্যরা ছিনিয়ে নেন। রাশেদুল ইসলাম সেতুভঁইয়া, রামারপোল গ্রামের মৃত সেলিম ভূঁইয়ার ছেলে।
তিনি গত ২৩ জুন রাতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানের আয়োজন করার অভিযোগে পুলিশ কর্তৃক করা মামলায় ৫ নম্বর আসামি ছিলেন। থানা-পুলিশ জানায় যে, সুনির্দিষ্ট মামলা এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকায় গতকাল বিকেল ৫টার সময় রামারপোল বাজার থেকে সেতুভঁইয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁকে হাতকড়া পরিয়ে মোটরসাইকেলে করে থানায় নিয়ে যাওয়ার সময়, রামারপোল গ্রামের আলমগীর ভূঁইয়ার ছেলে কামরুজ্জামান বাবু এবং সামসুল হক ভূঁইয়ার ছেলে সুমন ভূঁইয়ার নেতৃত্বে ১৮-২০ জন লোক রাস্তায় তাদের পথ রোধ করেন।
তাঁরা সেতুভঁইয়াকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য পুলিশকে চাপ দিতে থাকেন। পুলিশ গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে ছেড়ে দিতে অস্বীকার করলে তাঁদের মধ্যে ধ্বস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে তাঁরা সেতুভঁইয়াকে হাতকড়া সমেত ছিনিয়ে নিতে সক্ষম হন। এর পরে, গতকাল রাতেই মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে হাতকড়াসহ আসামি উদ্ধারের চেষ্টা করেন। রাত ১টার দিকে সেতুভঁইয়ার স্বজনরা কৌশলে পুলিশের কাছ থেকে চাবি নিয়ে হাতকড়া ফেরত দেন, তবে পুলিশ আসামিকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়নি। এ ঘটনায় এসআই মনির হোসেন কামরুজ্জামান বাবু, সুমন ভূঁইয়াসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে পুলিশের কাজে বাধা এবং আসামি ছিনতাইয়ের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন। মুলাদী থানার ওসি খন্দকার মো. সোহেল রানা উল্লেখ করেছেন, রামারপোল বাজারে হাতকড়াসহ আসামি ছিনতাইয়ের ঘটনায় মামলা হয়েছে। ছিনিয়ে নেওয়া আসামি এবং অন্যান্য আসামিরা পলাতক রয়েছেন, তাঁদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন