১০:২৯ এম
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ১৫ দিনের সশস্ত্র সংঘাত চলাকালে মার্কিন বাহিনীর ১১টি যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার ধ্বংস করার দাবি করেছে ইরান। দেশটির সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, পাল্টাহামলায় যুক্তরাষ্ট্রের বহু সামরিক স্থাপনা ও সরঞ্জাম ধ্বংস হয়েছে। এছাড়াও শতাধিক মার্কিন সেনা হতাহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
তবে তেহরানের এই দাবির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
আইআরজিসির মুখপাত্র মোহেব্বি দাবি করেন, ধ্বংস হওয়া সামরিক সরঞ্জামের মধ্যে ১৭টি নজরদারি ও অভিযান পরিচালনায় ব্যবহৃত ড্রোন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যাদের মধ্যে ৮টি ছিল একেবারে নতুন। সুরক্ষিত হ্যাঙ্গারে রাখা ১টি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান, ১টি পি-৮ সামুদ্রিক টহল বিমান, ১টি সি-১৭ সামরিক পরিবহন বিমান এবং আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী ৮টি বিমানও ওই হামলায় ধ্বংস করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
মোহেব্বির ভাষ্যমতে, এসব বিমান যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটিতে থাকা অবস্থায় ধ্বংস হয়ে যায়। তবে তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ করেননি, যে কি সুনির্দিষ্ট ঘাঁটিতে এসব হামলা চালানো হয়েছে।
আইআরজিসির মুখপাত্র আরও দাবি করেন, ইরানের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের ৯টি কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার, ৫টি স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা, ৬টি প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা রাডার, ৩টি বিমান ও নৌবাহিনীর নজরদারি রাডার, ৮টি গোয়েন্দা ও আগাম সতর্কীকরণ রাডার এবং ৭টি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা রাডার ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই হামলায় বেশ কয়েকটি লজিস্টিকস কেন্দ্র, যুদ্ধবিমান রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র, জ্বালানি ট্যাংক ও অস্ত্রের গুদামও গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
মোহেব্বি ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘন করে যুক্তরাষ্ট্রের আগে হামলা চালানোর বিষয়ে উল্লেখ করেন। তিনি দাবি করেন, ইরানের পাল্টা হামলায় ২০০ জনের বেশি মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। ওয়াশিংটন হতাহতের যে সংখ্যা প্রকাশ করেছে, তা ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে দাবি করেন তিনি।
মোহেব্বি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাসদস্যদের অবস্থান করা ৮টি স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে, যার মধ্যে ২০টি আশ্রয়কেন্দ্র পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়। তিনি নিরপেক্ষ সাংবাদিকদের হামলার স্থানগুলোতে প্রবেশের অনুমতি দিতে ওয়াশিংটনের প্রতি আহ্বান জানান, যাতে বাস্তব পরিস্থিতি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
আইআরজিসির মুখপাত্র হুঁশিয়ারি করে বলেন, যুক্তরাজ্য কিংবা উপসাগরীয় কোনো দেশ যদি ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযানে সহায়তা করে, তবে তাদের উপরও হামলা চালানো হবে যা 'বৈধ লক্ষ্যবস্তু' হিসেবে গণ্য হবে। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের বিমানঘাঁটি ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের বি-১ বোমারু বিমান পরিচালনা করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, লন্ডন এই সহায়তা অব্যাহত রাখলে তাদের ওপরও হামলা করা হবে।
এদিকে ইসরায়েলকে নতুন করে কোনো সামরিক অভিযান শুরু না করার বিষয়ে সতর্ক করে মোহেব্বি বলেন, যুদ্ধ আবার শুরু হলে ইসরায়েলকে কঠোর পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ভুল গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে এ অঞ্চলে মার্কিন সামরিক শক্তি ব্যবহারে প্ররোচিত করছে ইসরায়েল।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন