শুক্রবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:০৩ পি.এম
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থীদের কাছে ‘ঝুপড়ি’ একটি অতি পরিচিত শব্দ। কখনো এটি কলার ঝুপড়ি, কখনো সমাজবিজ্ঞান ঝুপড়ি, আবার কখনো লেডিস ঝুপড়ি হিসেবে পরিচিত। এই ঝুপড়িগুলো মূলত ক্যাম্পাসের চা-নাস্তা ও খাবারের ছোট ছোট দোকানের সমাহার। তবে শিক্ষার্থীদের কাছে এগুলো শুধুমাত্র খাবারের দোকান নয়। ক্লাসের ফাঁকে কিংবা ক্লাস শেষে ঝুপড়িগুলো তাদের আড্ডার ঠিকানা হয়ে ওঠে। চায়ের চুমুকে বন্ধুরা জমে ওঠে আড্ডায়, আবার কখনো দলবদ্ধ পড়াশোনা, গিটারের সুর কিংবা কাহন ও টেবিল চাপড়ে গানের আসরও বসে এখানে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসরুম, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার, শাটল ট্রেন, প্রশাসনিক ভবন কিংবা আবাসিক হলের মতো শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসজীবনের স্মৃতিকাতর অংশের সঙ্গেও এসব ঝুপড়ি জড়িত। ক্লাস থাকুক বা না থাকুক, প্রতিদিনই কোনো না কোনো ঝুপড়িতে জমে আড্ডা।
চবিতে সবচেয়ে পরিচিত ঝুপড়িগুলোর মধ্যে সমাজবিজ্ঞান ঝুপড়ি, কলার ঝুপড়ি ও লেডিস ঝুপড়ি উল্লেখযোগ্য। সমাজবিজ্ঞান ও কলা অনুষদের পার্শ্ববর্তী ঝুপড়িগুলোর নামকরণ হয়েছে সংশ্লিষ্ট অনুষদের নাম অনুসারে। মেয়েদের হলের কাছাকাছি অবস্থিত হওয়ায় একটি ঝুপড়ির নাম হয়েছে লেডিস ঝুপড়ি।
যদিও নাম শুনে এটি শুধু মেয়েদের জন্য—এমন ধারণা হওয়ার সুযোগ থাকলেও বাস্তবে লেডিস ঝুপড়ি সবার জন্য উন্মুক্ত। বরং সন্ধ্যার পর এখানে জমে ওঠে আড্ডা। সমাজবিজ্ঞান ও কলার ঝুপড়িতেও ক্লাসের ফাঁকে চলে আড্ডা ও গান। কখনো খেলাধুলা কিংবা রাজনৈতিক তর্কে এসব জায়গা হয়ে ওঠে যেন টকশোর মঞ্চ।
ঝুপড়ির অনেক দোকানি কয়েক যুগ ধরে ব্যবসা করে আসছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা ঘটনাপ্রবাহের সাক্ষী তারা। মো. আলমগীর নামের একজন দোকানি সমাজবিজ্ঞান ঝুপড়িতে ২৮ বছর ধরে ব্যবসা করছেন।
আলমগীর জানান, দীর্ঘ সময়ে তার দোকানের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থীর স্মৃতি জড়িয়ে গেছে। বহু সাবেক শিক্ষার্থী এখনও ক্যাম্পাসে এলে ঝুপড়িতে তার সঙ্গে দেখা করতে আসেন।
লেডিস ঝুপড়ি যেন একটি ছোট্ট ভ্রাম্যমাণ বাজার। এখানে মেয়েদের পোশাক, চুড়ি, স্যান্ডেল ও প্রসাধনসামগ্রীর পাশাপাশি রয়েছে বিভিন্ন খাবারের দোকানও।
ছাত্রী হলগুলোর আশপাশে খাবারের দোকান তুলনামূলক কম থাকায় হলের খাবারের পর অনেক শিক্ষার্থীর ভরসা হয়ে ওঠে লেডিস ঝুপড়ি। এখানে পাওয়া যায় নানা ধরনের খাবার ও নাশতা।
অন্যদিকে কলার ঝুপড়ির ভর্তা-ভাতের জন্য পরিচিত মোজাম্মেলের দোকান। মোজাম্মেল বলেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্কই তাকে এখানে ধরে রেখেছে। স্বল্প দামে খাবার বিক্রির পাশাপাশি অনেক শিক্ষার্থী খাবার খেয়ে পরে টাকা দেওয়ার ঘটনাও ঘটে বলে তিনি জানান।
বিশেষ দিবসগুলোতে ঝুপড়িগুলো ধারণ করে অন্যরকম রূপ। পয়লা বৈশাখ, স্বাধীনতা দিবস কিংবা বিজয় দিবসে এসব এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। শিক্ষার্থীদের ভিড়ে জমজমাট হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
সম্প্রতি চারুকলা ইনস্টিটিউট শহর থেকে মূল ক্যাম্পাসে ফিরে আসার পর কলার ঝুপড়ির আশপাশ আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে। রঙতুলির আঁচড়ে ঝুপড়ির দেয়াল, আঙিনা আর চায়ের টেবিলও যেন শিল্পের অংশ হয়ে গেছে।
এই তুলির আঁচড়ে যাদের হাত, তাদের একজন চারুকলার শিক্ষার্থী তানজিনা প্রমি। তিনি বলেন, ক্লাস শেষে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে প্রতিদিন এখানে আসা হয়। বিশেষ বিশেষ দিবস কিংবা উপলক্ষেও আঁকাআঁকি তো আছেই। অনেক স্মৃতিও জড়িয়ে আছে এই জায়গাটার সঙ্গে।
অর্থনীতির সাবেক শিক্ষার্থী তন্ময়ও একসময় ঝুপড়িতে গান-বাজনা করতেন। ঝুপড়ির কথা উঠতেই তিনিও স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েন। শিক্ষাজীবনের নানা আড্ডা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে এসব জায়গার সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন তিনি।
ক্যাম্পাসের বিভিন্ন প্রান্তে গড়ে ওঠা ঝুপড়ির দোকানগুলো যুগের পর যুগ শিক্ষার্থীদের আড্ডা, খাবার ও দৈনন্দিন প্রয়োজন মিটিয়ে আসছে। একই সঙ্গে এসব ঝুপড়িকে ঘিরে তৈরি হয়েছে বহু মানুষের জীবিকা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ। ফলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছে ঝুপড়ি শুধু চা-নাস্তার দোকান নয়, বরং ক্যাম্পাসজীবনের স্মৃতি ও সংস্কৃতির একটি অংশ।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ভোলার চরফ্যাশনে দুই শতাধিক কৃষকের প্রায় ২৩৪ একর জমি দখলের চেষ্টা এবং স্লুইসগেট খুলে রোপণ করা আমন ধান পানিতে ডুবিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী কৃষকরা জমি দখলের চেষ্টা ও হয়রানির প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) উপজেলার কাসেমগঞ্জ এলাকায় দুই শতাধিক কৃষক পরিবারের উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ মাদ্রাজ, পশ্চিম এওয়াজপুর ও উত্তর ফ্যাশন মৌজায় প্রায় ২৩৪ একর জমি মো. ইমাম হোসেন, মো. জাকির হোসেন ও মো. সিহাব ক্রয় করেন। ওই জমি নিয়ে মুনসুর গংয়ের সঙ্গে বিরোধ রয়েছে। জমি নিয়ে ২০১৫ সাল থেকে মুনসুর গং প্রায় ১৪টি মামলা করেছে এবং বিভিন্নভাবে হয়রানি ও জমি দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জমির মালিক ও কৃষকরা।
কৃষকরা জানান, তিন জমির মালিকের কাছ থেকে জমি লগ্নি নিয়ে দুই শতাধিক কৃষক দীর্ঘদিন ধরে সেখানে চাষাবাদ করে আসছেন। বর্তমানে তারা জমিতে আমন ধান রোপণ করেছেন। কিন্তু মুনসুর ও তার লোকজন জমি দখলের চেষ্টা করছেন। এরই মধ্যে স্লুইসগেট খুলে জমিতে পানি ঢুকিয়ে রোপণ করা ধান নষ্ট করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
তারা আরও বলেন, জমি নিয়ে বিরোধের কারণে একের পর এক মামলা ও হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। এতে কৃষকরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।
জমির মালিক মো. ইমাম হোসেন বলেন, ১৯৭৪ সালে হালিমুর রহমান গংয়ের কাছ থেকে এসএ খতিয়ানমূলে আব্দুস সালাম গং জমি ক্রয় করেন। পরে দিয়ারা জরিপ চলমান অবস্থায় হালিমুর গংয়ের ওয়ারিশরা জমি বিক্রির বিষয়টি গোপন করে এহতেশাম গংয়ের নামে দিয়ারা জরিপ করান। পরবর্তীতে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে দিয়ারা জরিপের বিরুদ্ধে আব্দুস সালাম গংয়ের পক্ষে রায় হয়।
ইমাম হোসেনের দাবি, মুনসুর এহতেশাম গংয়ের চাষি ছিলেন। তিনি গোপনে দুটি নোটারি করে ২০১৫ সাল থেকে তাদের বিরুদ্ধে ১৪টি মামলা করেছেন। বর্তমানে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালের রায় বহাল রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, মুনসুর গংয়ের পক্ষে জমির মালিকানা সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্র নেই। সম্প্রতি দুই শতাধিক কৃষক ওই জমিতে আমন ধান রোপণ করেছেন। কিন্তু স্লুইসগেট খুলে জমিতে পানি ঢুকিয়ে ধান নষ্ট করা হচ্ছে। পাশাপাশি মুনসুর ও তার লোকজন জমি দখলের চেষ্টা করছেন।
ইমাম হোসেন বলেন, বিষয়টির সমাধানের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। পরে সংসদ সদস্য উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শহিদুল আলম প্রিন্স ও সদস্যসচিব হাজী জাহিদুল ইসলাম রাসেল কমিশনারকে বিষয়টি দেখার দায়িত্ব দেন। স্থানীয়ভাবে বিচার চলমান থাকা অবস্থায় তাকে ও রাসেল কমিশনারকে জড়িয়ে মুনসুর মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানান ইমাম হোসেন।
অভিযোগের বিষয়ে মুনসুরের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ না করায় তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
চরফ্যাশন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদ আল ফরিদ ভূঁইয়া বলেন, কৃষকরা এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে প্রথমবারের মতো বৈঠক করেছেন।
এই বৈঠকটি স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে তিনি বাংলাদেশের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ককে আরও গভীর করার প্রতিশ্রুতি দেন। খবর আনাদোলু এজেন্সির
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাতিসংঘ অধিবেশনের সাইডলাইনে দুই দেশের নেতারা ‘পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং দুই দেশের জনগণের কল্যাণে সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো’ নিয়ে আলোচনা করেন। তারা পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বোঝাপড়া ও সহযোগিতার ভিত্তিতে বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়ার গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
বৈঠক শেষে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে একটি বিবৃতিও প্রকাশ করা হয়।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন শেহবাজ শরিফ ও তারেক রহমান। তারা বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সম্পর্কের ইতিবাচক অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
শেহবাজ শরিফ বিবৃতিতে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট সম্পর্ক আরও গভীর করার বিষয়ে পাকিস্তানের ‘দৃঢ় অঙ্গীকার’ পুনর্ব্যক্ত করেন।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানায়, শেহবাজ শরিফ দুই দেশের সম্পর্কের ইতিবাচক গতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্ক আরও জোরদারে তার সরকারের আগ্রহের কথা জানান। এ সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও একই ধরনের মনোভাব প্রকাশ করেন।
এছাড়া, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন বিষয় নিয়েও দুই নেতা মতবিনিময় করেন। বিশেষ করে জাতিসংঘসহ বহুপক্ষীয় বিভিন্ন ফোরামে দুই দেশের মধ্যে সমন্বয় অব্যাহত রাখার গুরুত্বের ওপর তারা জোর দেন।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ায় বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। তিনি বৈশ্বিক এই সংস্থাটির লক্ষ্য এগিয়ে নিতে বাংলাদেশের উদ্যোগের প্রতি পাকিস্তানের সমর্থনের কথাও জানান।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম বা পিসিওএস (PCOS) বর্তমানে অনেক নারীর জন্য একটি পরিচিত সমস্যা। এটি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শুধুমাত্র ওষুধের ওপর নির্ভর করা যথেষ্ট নয়, বরং জীবনযাপনে পরিবর্তন আনা অত্যন্ত জরুরি। নিয়মিত শরীরচর্চা, স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ এবং পর্যাপ্ত ঘুমের পাশাপাশি রাতে কিছু অভ্যাস পিসিওএস ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
বিশেষ করে, ঘুমানোর আগে মোবাইল ফোন বা অন্যান্য পর্দার যন্ত্র ব্যবহার, রাতে দেরিতে ভারী খাবার খাওয়া এবং অনিয়মিত ঘুমের অভ্যাস শরীরের হরমোনের ভারসাম্য ও বিপাকীয় স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করতে পারে। তাই, পিসিওএস নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাতে এই তিনটি অভ্যাসে পরিবর্তন আনা অপরিহার্য।
ঘুমের আগে পর্দার যন্ত্র নয়
ঘুমাতে যাওয়ার সময় মোবাইল, কম্পিউটার বা টেলিভিশন দেখা থেকে বিরত থাকা উচিত। এসব যন্ত্রের আলো ঘুমের জন্য প্রয়োজনীয় মেলাটোনিন হরমোনের উৎপাদনে বাধা সৃষ্টি করতে পারে, যা ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।
যদি পর্যাপ্ত ঘুম না হয়, তাহলে শরীরে চাপের সঙ্গে সম্পর্কিত হরমোনের মাত্রাতেও পরিবর্তন আসতে পারে। পিসিওএস থাকলে পর্যাপ্ত ও নিয়মিত ঘুম বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
রাতে দেরি করে ভারী খাবার নয়
অনেকে রাত ১১টা বা ১২টার দিকে রাতের খাবার খান, এবং সেই খাবারও হতে পারে ভারী বা অস্বাস্থ্যকর। পিসিওএস থাকলে এমন অভ্যাস এড়িয়ে চলা উচিত।
পিসিওএসের সঙ্গে ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমে যাওয়ার সমস্যা থাকতে পারে। দেরিতে খাবার খাওয়া এবং অস্বাস্থ্যকর খাবারের অভ্যাস শরীরের বিপাকক্রিয়া এবং রক্তে শর্করার মাত্রায় প্রভাব ফেলতে পারে।
তাহলে ঘুমাতে যাওয়ার অন্তত দুই থেকে তিন ঘণ্টা আগে হালকা ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা যেতে পারে। খাবারে পর্যাপ্ত আমিষ রাখা জরুরি।
ঘুম ও খাবারের নির্দিষ্ট সময় রাখুন
কখনো তাড়াতাড়ি ঘুমানো, আবার কখনো অনেক রাত পর্যন্ত জেগে থাকা—এমন অনিয়মিত জীবনযাপন শরীরের জৈবিক ঘড়ির স্বাভাবিক ছন্দে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।
একইভাবে, প্রতিদিন ভিন্ন সময়ে ঘুম থেকে ওঠা বা সকালের খাবার বাদ দেওয়ার অভ্যাসও শরীরের বিপাকীয় স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করতে পারে। এর ফলে ইনসুলিনের ভারসাম্য ও ওজন নিয়ন্ত্রণে সমস্যা দেখা দিতে পারে এবং মাসিকের নিয়মিততাও ব্যাহত হতে পারে।
তাহলে পিসিওএস নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো, ঘুম থেকে ওঠা এবং খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি।
শুধু রাতের অভ্যাস নয়
পিসিওএস নিয়ন্ত্রণে জীবনযাপন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই রাতের এসব অভ্যাসের পাশাপাশি নিয়মিত শরীরচর্চা, স্বাস্থ্যকর খাবার এবং পর্যাপ্ত ঘুমের দিকে নজর দিতে হবে। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা গ্রহণ করাও জরুরি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ফিটনেস, ত্বকের যত্ন, স্বাস্থ্যকর খাবার এবং সম্পর্ক—এসব বিষয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ পাওয়া যায়। সম্পর্ক নিয়ে নির্মিত বিভিন্ন রিলস ভিডিওতে কখনও সঙ্গীর আচরণকে খারাপ, বিষাক্ত বা মানসিক নির্যাতন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এসব ভিডিও দেখে অনেকে নিজেদের সঙ্গীর আচরণের সঙ্গে মিল খুঁজতে শুরু করেন।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতিটি বিষয় বাস্তব জীবনের সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না। একটি রিলস ভিডিও দেখে সঙ্গীকে বিচার করা বা সম্পর্কের মধ্যে সন্দেহ সৃষ্টি করা উল্টো সম্পর্কের জন্য সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দেখানো বিষয় এবং বাস্তব সম্পর্কের সমস্যার মধ্যে পার্থক্য বোঝা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞ কী বলছেন?
কাউন্সেলর ও পরিবারবিষয়ক বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সব বিষয়কে নেতিবাচকভাবে দেখা উচিত নয়। কারণ, সম্পর্কের সীমারেখা তৈরি, মানসিক নির্যাতন বা অশালীন আচরণের মতো বিষয় সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করতেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভূমিকা রয়েছে।
তবে অনেক সময় একেবারে সাধারণ বিষয়কেও সেখানে জটিলভাবে উপস্থাপন করা হয়। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা বিষয় নিজের সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করার আগে বাস্তব পরিস্থিতি বুঝে নেওয়া প্রয়োজন।
একটি ভুলেই সঙ্গীকে ‘বিষাক্ত’ ভাবা উচিত নয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাল সংকেত, বিষাক্ত সম্পর্ক বা মানসিকভাবে প্রভাবিত করা—এ ধরনের শব্দের ব্যবহার খুব বেশি দেখা যায়। কিন্তু বাস্তব সম্পর্ক সব সময় এসব শব্দের সহজ সংজ্ঞার মধ্যে পড়ে না।
সঙ্গী যদি একবার কোনো ভুল করে, তবে তাকে বিষাক্ত মানুষ হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। বরং দেখতে হবে, তিনি কি একই ধরনের ভুল বারবার করছেন, নিজের ভুল বুঝতে পারছেন কি না এবং ভুল বুঝতে পারলে আচরণ পরিবর্তনের চেষ্টা করছেন কি না।
একটি মাত্র রিলস ভিডিও দেখে কারও মানসিক অবস্থা বা ব্যক্তিত্ব বিচার করাও সঠিক নয়। বাস্তব পরিস্থিতি বুঝতে হলে আচরণের ধারাবাহিকতা এবং ঘটনার প্রেক্ষাপট বিবেচনা করা জরুরি।
মতবিরোধ মানেই সম্পর্ক খারাপ নয়
দুজন মানুষের মধ্যে মতের অমিল থাকতেই পারে। তাই মতবিরোধ হলেই সঙ্গী আপনার জন্য সঠিক মানুষ নন—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত নয়।
বরং সম্পর্কের মধ্যে একে অন্যের কথা শোনা, অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া এবং সমস্যার সমাধান খোঁজার চেষ্টা করা গুরুত্বপূর্ণ। দুজনের মধ্যে মতের অমিল থাকলেও আলোচনার মাধ্যমে তা সমাধানের সুযোগ থাকে।
তবে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে, যদি সঙ্গীর আচরণ বারবার অসম্মানজনক হয় অথবা আপনাকে নিয়ন্ত্রণ বা প্রভাবিত করার চেষ্টা করতে থাকে। এমন আচরণ নিয়মিত হলে সম্পর্কের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে ভাবা প্রয়োজন।
সুতরাং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা কোনো ভিডিওকে নিজের সম্পর্কের চূড়ান্ত মাপকাঠি হিসেবে না নিয়ে বাস্তব আচরণ, পরিস্থিতি ও সম্পর্কের ধারাবাহিকতা বোঝার চেষ্টা করাই জরুরি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ