প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ফিটনেস, ত্বকের যত্ন, স্বাস্থ্যকর খাবার এবং সম্পর্ক—এসব বিষয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ পাওয়া যায়। সম্পর্ক নিয়ে নির্মিত বিভিন্ন রিলস ভিডিওতে কখনও সঙ্গীর আচরণকে খারাপ, বিষাক্ত বা মানসিক নির্যাতন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এসব ভিডিও দেখে অনেকে নিজেদের সঙ্গীর আচরণের সঙ্গে মিল খুঁজতে শুরু করেন।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতিটি বিষয় বাস্তব জীবনের সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না। একটি রিলস ভিডিও দেখে সঙ্গীকে বিচার করা বা সম্পর্কের মধ্যে সন্দেহ সৃষ্টি করা উল্টো সম্পর্কের জন্য সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দেখানো বিষয় এবং বাস্তব সম্পর্কের সমস্যার মধ্যে পার্থক্য বোঝা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞ কী বলছেন?
কাউন্সেলর ও পরিবারবিষয়ক বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সব বিষয়কে নেতিবাচকভাবে দেখা উচিত নয়। কারণ, সম্পর্কের সীমারেখা তৈরি, মানসিক নির্যাতন বা অশালীন আচরণের মতো বিষয় সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করতেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভূমিকা রয়েছে।
তবে অনেক সময় একেবারে সাধারণ বিষয়কেও সেখানে জটিলভাবে উপস্থাপন করা হয়। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা বিষয় নিজের সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করার আগে বাস্তব পরিস্থিতি বুঝে নেওয়া প্রয়োজন।
একটি ভুলেই সঙ্গীকে ‘বিষাক্ত’ ভাবা উচিত নয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাল সংকেত, বিষাক্ত সম্পর্ক বা মানসিকভাবে প্রভাবিত করা—এ ধরনের শব্দের ব্যবহার খুব বেশি দেখা যায়। কিন্তু বাস্তব সম্পর্ক সব সময় এসব শব্দের সহজ সংজ্ঞার মধ্যে পড়ে না।
সঙ্গী যদি একবার কোনো ভুল করে, তবে তাকে বিষাক্ত মানুষ হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। বরং দেখতে হবে, তিনি কি একই ধরনের ভুল বারবার করছেন, নিজের ভুল বুঝতে পারছেন কি না এবং ভুল বুঝতে পারলে আচরণ পরিবর্তনের চেষ্টা করছেন কি না।
একটি মাত্র রিলস ভিডিও দেখে কারও মানসিক অবস্থা বা ব্যক্তিত্ব বিচার করাও সঠিক নয়। বাস্তব পরিস্থিতি বুঝতে হলে আচরণের ধারাবাহিকতা এবং ঘটনার প্রেক্ষাপট বিবেচনা করা জরুরি।
মতবিরোধ মানেই সম্পর্ক খারাপ নয়
দুজন মানুষের মধ্যে মতের অমিল থাকতেই পারে। তাই মতবিরোধ হলেই সঙ্গী আপনার জন্য সঠিক মানুষ নন—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত নয়।
বরং সম্পর্কের মধ্যে একে অন্যের কথা শোনা, অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া এবং সমস্যার সমাধান খোঁজার চেষ্টা করা গুরুত্বপূর্ণ। দুজনের মধ্যে মতের অমিল থাকলেও আলোচনার মাধ্যমে তা সমাধানের সুযোগ থাকে।
তবে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে, যদি সঙ্গীর আচরণ বারবার অসম্মানজনক হয় অথবা আপনাকে নিয়ন্ত্রণ বা প্রভাবিত করার চেষ্টা করতে থাকে। এমন আচরণ নিয়মিত হলে সম্পর্কের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে ভাবা প্রয়োজন।
সুতরাং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা কোনো ভিডিওকে নিজের সম্পর্কের চূড়ান্ত মাপকাঠি হিসেবে না নিয়ে বাস্তব আচরণ, পরিস্থিতি ও সম্পর্কের ধারাবাহিকতা বোঝার চেষ্টা করাই জরুরি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন