প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম বা পিসিওএস (PCOS) বর্তমানে অনেক নারীর জন্য একটি পরিচিত সমস্যা। এটি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শুধুমাত্র ওষুধের ওপর নির্ভর করা যথেষ্ট নয়, বরং জীবনযাপনে পরিবর্তন আনা অত্যন্ত জরুরি। নিয়মিত শরীরচর্চা, স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ এবং পর্যাপ্ত ঘুমের পাশাপাশি রাতে কিছু অভ্যাস পিসিওএস ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
বিশেষ করে, ঘুমানোর আগে মোবাইল ফোন বা অন্যান্য পর্দার যন্ত্র ব্যবহার, রাতে দেরিতে ভারী খাবার খাওয়া এবং অনিয়মিত ঘুমের অভ্যাস শরীরের হরমোনের ভারসাম্য ও বিপাকীয় স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করতে পারে। তাই, পিসিওএস নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাতে এই তিনটি অভ্যাসে পরিবর্তন আনা অপরিহার্য।
ঘুমের আগে পর্দার যন্ত্র নয়
ঘুমাতে যাওয়ার সময় মোবাইল, কম্পিউটার বা টেলিভিশন দেখা থেকে বিরত থাকা উচিত। এসব যন্ত্রের আলো ঘুমের জন্য প্রয়োজনীয় মেলাটোনিন হরমোনের উৎপাদনে বাধা সৃষ্টি করতে পারে, যা ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।
যদি পর্যাপ্ত ঘুম না হয়, তাহলে শরীরে চাপের সঙ্গে সম্পর্কিত হরমোনের মাত্রাতেও পরিবর্তন আসতে পারে। পিসিওএস থাকলে পর্যাপ্ত ও নিয়মিত ঘুম বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
রাতে দেরি করে ভারী খাবার নয়
অনেকে রাত ১১টা বা ১২টার দিকে রাতের খাবার খান, এবং সেই খাবারও হতে পারে ভারী বা অস্বাস্থ্যকর। পিসিওএস থাকলে এমন অভ্যাস এড়িয়ে চলা উচিত।
পিসিওএসের সঙ্গে ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমে যাওয়ার সমস্যা থাকতে পারে। দেরিতে খাবার খাওয়া এবং অস্বাস্থ্যকর খাবারের অভ্যাস শরীরের বিপাকক্রিয়া এবং রক্তে শর্করার মাত্রায় প্রভাব ফেলতে পারে।
তাহলে ঘুমাতে যাওয়ার অন্তত দুই থেকে তিন ঘণ্টা আগে হালকা ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা যেতে পারে। খাবারে পর্যাপ্ত আমিষ রাখা জরুরি।
ঘুম ও খাবারের নির্দিষ্ট সময় রাখুন
কখনো তাড়াতাড়ি ঘুমানো, আবার কখনো অনেক রাত পর্যন্ত জেগে থাকা—এমন অনিয়মিত জীবনযাপন শরীরের জৈবিক ঘড়ির স্বাভাবিক ছন্দে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।
একইভাবে, প্রতিদিন ভিন্ন সময়ে ঘুম থেকে ওঠা বা সকালের খাবার বাদ দেওয়ার অভ্যাসও শরীরের বিপাকীয় স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করতে পারে। এর ফলে ইনসুলিনের ভারসাম্য ও ওজন নিয়ন্ত্রণে সমস্যা দেখা দিতে পারে এবং মাসিকের নিয়মিততাও ব্যাহত হতে পারে।
তাহলে পিসিওএস নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো, ঘুম থেকে ওঠা এবং খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি।
শুধু রাতের অভ্যাস নয়
পিসিওএস নিয়ন্ত্রণে জীবনযাপন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই রাতের এসব অভ্যাসের পাশাপাশি নিয়মিত শরীরচর্চা, স্বাস্থ্যকর খাবার এবং পর্যাপ্ত ঘুমের দিকে নজর দিতে হবে। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা গ্রহণ করাও জরুরি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন