ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের বার্তা


তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের বার্তা

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে প্রথমবারের মতো বৈঠক করেছেন।

এই বৈঠকটি স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে তিনি বাংলাদেশের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ককে আরও গভীর করার প্রতিশ্রুতি দেন। খবর আনাদোলু এজেন্সির

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাতিসংঘ অধিবেশনের সাইডলাইনে দুই দেশের নেতারা ‘পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং দুই দেশের জনগণের কল্যাণে সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো’ নিয়ে আলোচনা করেন। তারা পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বোঝাপড়া ও সহযোগিতার ভিত্তিতে বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়ার গুরুত্বের ওপর জোর দেন।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

বৈঠক শেষে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে একটি বিবৃতিও প্রকাশ করা হয়।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন শেহবাজ শরিফ ও তারেক রহমান। তারা বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সম্পর্কের ইতিবাচক অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

শেহবাজ শরিফ বিবৃতিতে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট সম্পর্ক আরও গভীর করার বিষয়ে পাকিস্তানের ‘দৃঢ় অঙ্গীকার’ পুনর্ব্যক্ত করেন।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানায়, শেহবাজ শরিফ দুই দেশের সম্পর্কের ইতিবাচক গতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্ক আরও জোরদারে তার সরকারের আগ্রহের কথা জানান। এ সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও একই ধরনের মনোভাব প্রকাশ করেন।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

এছাড়া, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন বিষয় নিয়েও দুই নেতা মতবিনিময় করেন। বিশেষ করে জাতিসংঘসহ বহুপক্ষীয় বিভিন্ন ফোরামে দুই দেশের মধ্যে সমন্বয় অব্যাহত রাখার গুরুত্বের ওপর তারা জোর দেন।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ায় বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। তিনি বৈশ্বিক এই সংস্থাটির লক্ষ্য এগিয়ে নিতে বাংলাদেশের উদ্যোগের প্রতি পাকিস্তানের সমর্থনের কথাও জানান।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পিসিওএস নিয়ন্ত্রণে রাতে ৩ অভ্যাস পরিবর্তনের গুরুত্ব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:০৬ পি.এম


পিসিওএস নিয়ন্ত্রণে রাতে ৩ অভ্যাস পরিবর্তনের গুরুত্ব

পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম বা পিসিওএস (PCOS) বর্তমানে অনেক নারীর জন্য একটি পরিচিত সমস্যা। এটি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শুধুমাত্র ওষুধের ওপর নির্ভর করা যথেষ্ট নয়, বরং জীবনযাপনে পরিবর্তন আনা অত্যন্ত জরুরি। নিয়মিত শরীরচর্চা, স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ এবং পর্যাপ্ত ঘুমের পাশাপাশি রাতে কিছু অভ্যাস পিসিওএস ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

বিশেষ করে, ঘুমানোর আগে মোবাইল ফোন বা অন্যান্য পর্দার যন্ত্র ব্যবহার, রাতে দেরিতে ভারী খাবার খাওয়া এবং অনিয়মিত ঘুমের অভ্যাস শরীরের হরমোনের ভারসাম্য ও বিপাকীয় স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করতে পারে। তাই, পিসিওএস নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাতে এই তিনটি অভ্যাসে পরিবর্তন আনা অপরিহার্য।

ঘুমের আগে পর্দার যন্ত্র নয়

ঘুমাতে যাওয়ার সময় মোবাইল, কম্পিউটার বা টেলিভিশন দেখা থেকে বিরত থাকা উচিত। এসব যন্ত্রের আলো ঘুমের জন্য প্রয়োজনীয় মেলাটোনিন হরমোনের উৎপাদনে বাধা সৃষ্টি করতে পারে, যা ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।

যদি পর্যাপ্ত ঘুম না হয়, তাহলে শরীরে চাপের সঙ্গে সম্পর্কিত হরমোনের মাত্রাতেও পরিবর্তন আসতে পারে। পিসিওএস থাকলে পর্যাপ্ত ও নিয়মিত ঘুম বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

রাতে দেরি করে ভারী খাবার নয়

অনেকে রাত ১১টা বা ১২টার দিকে রাতের খাবার খান, এবং সেই খাবারও হতে পারে ভারী বা অস্বাস্থ্যকর। পিসিওএস থাকলে এমন অভ্যাস এড়িয়ে চলা উচিত।

পিসিওএসের সঙ্গে ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমে যাওয়ার সমস্যা থাকতে পারে। দেরিতে খাবার খাওয়া এবং অস্বাস্থ্যকর খাবারের অভ্যাস শরীরের বিপাকক্রিয়া এবং রক্তে শর্করার মাত্রায় প্রভাব ফেলতে পারে।

তাহলে ঘুমাতে যাওয়ার অন্তত দুই থেকে তিন ঘণ্টা আগে হালকা ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা যেতে পারে। খাবারে পর্যাপ্ত আমিষ রাখা জরুরি।

ঘুম ও খাবারের নির্দিষ্ট সময় রাখুন

কখনো তাড়াতাড়ি ঘুমানো, আবার কখনো অনেক রাত পর্যন্ত জেগে থাকা—এমন অনিয়মিত জীবনযাপন শরীরের জৈবিক ঘড়ির স্বাভাবিক ছন্দে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।

একইভাবে, প্রতিদিন ভিন্ন সময়ে ঘুম থেকে ওঠা বা সকালের খাবার বাদ দেওয়ার অভ্যাসও শরীরের বিপাকীয় স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করতে পারে। এর ফলে ইনসুলিনের ভারসাম্য ও ওজন নিয়ন্ত্রণে সমস্যা দেখা দিতে পারে এবং মাসিকের নিয়মিততাও ব্যাহত হতে পারে।

তাহলে পিসিওএস নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো, ঘুম থেকে ওঠা এবং খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি।

শুধু রাতের অভ্যাস নয়

পিসিওএস নিয়ন্ত্রণে জীবনযাপন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই রাতের এসব অভ্যাসের পাশাপাশি নিয়মিত শরীরচর্চা, স্বাস্থ্যকর খাবার এবং পর্যাপ্ত ঘুমের দিকে নজর দিতে হবে। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা গ্রহণ করাও জরুরি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রিলস ভিডিও দেখে সঙ্গীকে বিচার করা সম্পর্কের জন্য বিপদ ডেকে আনতে পারে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:০৬ পি.এম


রিলস ভিডিও দেখে সঙ্গীকে বিচার করা সম্পর্কের জন্য বিপদ ডেকে আনতে পারে

ফিটনেস, ত্বকের যত্ন, স্বাস্থ্যকর খাবার এবং সম্পর্ক—এসব বিষয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ পাওয়া যায়। সম্পর্ক নিয়ে নির্মিত বিভিন্ন রিলস ভিডিওতে কখনও সঙ্গীর আচরণকে খারাপ, বিষাক্ত বা মানসিক নির্যাতন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এসব ভিডিও দেখে অনেকে নিজেদের সঙ্গীর আচরণের সঙ্গে মিল খুঁজতে শুরু করেন।

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতিটি বিষয় বাস্তব জীবনের সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না। একটি রিলস ভিডিও দেখে সঙ্গীকে বিচার করা বা সম্পর্কের মধ্যে সন্দেহ সৃষ্টি করা উল্টো সম্পর্কের জন্য সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দেখানো বিষয় এবং বাস্তব সম্পর্কের সমস্যার মধ্যে পার্থক্য বোঝা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষজ্ঞ কী বলছেন?

কাউন্সেলর ও পরিবারবিষয়ক বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সব বিষয়কে নেতিবাচকভাবে দেখা উচিত নয়। কারণ, সম্পর্কের সীমারেখা তৈরি, মানসিক নির্যাতন বা অশালীন আচরণের মতো বিষয় সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করতেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভূমিকা রয়েছে।

তবে অনেক সময় একেবারে সাধারণ বিষয়কেও সেখানে জটিলভাবে উপস্থাপন করা হয়। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা বিষয় নিজের সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করার আগে বাস্তব পরিস্থিতি বুঝে নেওয়া প্রয়োজন।

একটি ভুলেই সঙ্গীকে ‘বিষাক্ত’ ভাবা উচিত নয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাল সংকেত, বিষাক্ত সম্পর্ক বা মানসিকভাবে প্রভাবিত করা—এ ধরনের শব্দের ব্যবহার খুব বেশি দেখা যায়। কিন্তু বাস্তব সম্পর্ক সব সময় এসব শব্দের সহজ সংজ্ঞার মধ্যে পড়ে না।

সঙ্গী যদি একবার কোনো ভুল করে, তবে তাকে বিষাক্ত মানুষ হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। বরং দেখতে হবে, তিনি কি একই ধরনের ভুল বারবার করছেন, নিজের ভুল বুঝতে পারছেন কি না এবং ভুল বুঝতে পারলে আচরণ পরিবর্তনের চেষ্টা করছেন কি না।

একটি মাত্র রিলস ভিডিও দেখে কারও মানসিক অবস্থা বা ব্যক্তিত্ব বিচার করাও সঠিক নয়। বাস্তব পরিস্থিতি বুঝতে হলে আচরণের ধারাবাহিকতা এবং ঘটনার প্রেক্ষাপট বিবেচনা করা জরুরি।

মতবিরোধ মানেই সম্পর্ক খারাপ নয়

দুজন মানুষের মধ্যে মতের অমিল থাকতেই পারে। তাই মতবিরোধ হলেই সঙ্গী আপনার জন্য সঠিক মানুষ নন—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত নয়।

বরং সম্পর্কের মধ্যে একে অন্যের কথা শোনা, অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া এবং সমস্যার সমাধান খোঁজার চেষ্টা করা গুরুত্বপূর্ণ। দুজনের মধ্যে মতের অমিল থাকলেও আলোচনার মাধ্যমে তা সমাধানের সুযোগ থাকে।

তবে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে, যদি সঙ্গীর আচরণ বারবার অসম্মানজনক হয় অথবা আপনাকে নিয়ন্ত্রণ বা প্রভাবিত করার চেষ্টা করতে থাকে। এমন আচরণ নিয়মিত হলে সম্পর্কের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে ভাবা প্রয়োজন।

সুতরাং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা কোনো ভিডিওকে নিজের সম্পর্কের চূড়ান্ত মাপকাঠি হিসেবে না নিয়ে বাস্তব আচরণ, পরিস্থিতি ও সম্পর্কের ধারাবাহিকতা বোঝার চেষ্টা করাই জরুরি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মানসিক শান্তির খোঁজে ২০ বছরের ডাক্তারি পেশা ছেড়ে খুললেন বান রুটির দোকান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:০৭ পি.এম


মানসিক শান্তির খোঁজে ২০ বছরের ডাক্তারি পেশা ছেড়ে খুললেন বান রুটির দোকান

২০ বছরের দীর্ঘ কর্মজীবন চিকিৎসক হিসেবে। সম্মান, দায়িত্ব এবং মানুষের চিকিৎসার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ ছিল তার। কিন্তু মানসিক চাপের কারণে চিকিৎসা পেশা ছেড়ে বাষ্পে রান্না করা পুরভরা রুটির দোকান খুলেছেন চীনের এক নারী। তিন বছর পরে, তার দোকানটি শুধু টিকেই থাকেনি, বরং সফলভাবে চলতে শুরু করেছে। ইতোমধ্যে তিনি দ্বিতীয় দোকানও খুলেছেন।

৪৮ বছর বয়সী ওই নারীর নাম তুং মিন। চীনের হুপেই প্রদেশের উহানে তার দোকান অবস্থিত। চলতি বছরের জুলাই মাসে তিনি দ্বিতীয় দোকানটি চালু করেন।

তুং মিন ১৯৯৯ সালে উহান বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাবিজ্ঞান বিভাগ থেকে শিক্ষাজীবন শেষ করেন। এরপর শেনচেনে স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে, মাকে একটি বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র পরিচালনায় সহায়তা করার জন্য উহানে ফিরে আসেন।

মা অবসর নেওয়ার পর, তারা চিকিৎসাকেন্দ্রটি বন্ধ করে নিজ শহর থিয়ানমেনে ফিরে যান। সেখানে তুং একটি চিকিৎসকের পদে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি একটি ছোট কমিউনিটি হাসপাতালের আইনগত প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

চিকিৎসক হিসেবে সেই সময়টিকে তিনি বেশ চাপের বলে উল্লেখ করেছেন। রোগী দেখার পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি সংস্থার নিয়মিত পরিদর্শনসহ নানা অচিকিৎসাসংক্রান্ত কাজ সামলাতে হতো তাকে।

তিনি জানান, "চীনে হাসপাতাল ও রোগীর সম্পর্ক অনেক সময় উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে।" কোনো চিকিৎসাসংক্রান্ত বিরোধ দেখা দিলে হাসপাতালের আইনগত প্রতিনিধি হিসেবে পুরো দায়ও তাঁকেই নিতে হতো।

তুং বলেন, চিকিৎসক থাকাকালে প্রায়ই চাকরি ছেড়ে দেওয়ার কথা তার মনে হতো। কিন্তু এখন, প্রতিদিন ১০ ঘণ্টার বেশি কাজ করেও তিনি মানসিকভাবে কোনো চাপ অনুভব করেন না। বরং ব্যস্ততা ও ক্লান্তির মধ্যেও নিজেকে অনেক বেশি সুখী মনে হয়।

২০২৩ সালে এক বন্ধুর পরিবারের ভাপে রান্না করা পুরভরা রুটির দোকান দেখে তার ব্যবসার প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়। প্রথমে তিনি একটি দোকানে বিনিয়োগ করেন। কিন্তু একপর্যায়ে দোকানের রাঁধুনি হঠাৎ কাজ ছেড়ে দিলে নিজেই রুটি বানানো শেখার সিদ্ধান্ত নেন।

খুব দ্রুতই তিনি রুটি বানানোর কৌশল আয়ত্ত করে ফেলেন। কাজটি করতে গিয়ে আনন্দও পেতে শুরু করেন। একসময় চিকিৎসা পেশা পুরোপুরি ছেড়ে দিয়ে দোকান পরিচালনায় মনোযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

তবে শুরুতে তার পরিবার এই সিদ্ধান্ত মেনে নেয়নি। কারণ, চিকিৎসক পেশাকে পরিবার ও সমাজে সম্মানজনক ও মর্যাদাপূর্ণ কাজ হিসেবে দেখা হয়।

তুং অবশ্য অন্যদের মতামতকে গুরুত্ব দেননি। তার ভাষায়, "বয়স প্রায় ৫০ বছর। জীবনে অনেক অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছি।" তাই অন্যরা কী ভাবছে, তা নিয়ে তিনি আর ভাবতে চান না। নিজের পছন্দের জীবনই বেছে নিতে চান।

ধীরে ধীরে তার মা ও ভাইও সিদ্ধান্তটি মেনে নেন। এখন তারা মাঝে মাঝে দোকানের কাজে তাকে সহযোগিতা করেন।

তুং বলেন, "জীবনের জন্য কোনো নির্দিষ্ট উত্তর নেই। পরিবর্তন আনার জন্য কখনোই দেরি হয়ে যায় না।" যতদিন চলাফেরা করতে পারবেন, ততদিন তিনি নিজের রুটির দোকান চালিয়ে যেতে চান।

চীনে চিকিৎসকদের পেশা পরিবর্তনের এমন ঘটনা নতুন নয়। ২০২৪ সালে চেচিয়াং প্রদেশের ইউউ শহরের একটি বড় হাসপাতালের চিকিৎসাগারে ১৩ বছর কাজ করা এক চিকিৎসকও চাকরি ছেড়ে পথের পাশে খাবারের দোকান শুরু করেন। তিনি জানিয়েছিলেন, ওই দোকান থেকে তাঁর আয় আগের মাসিক ১০ হাজার ইউয়ানের কম বেতনের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

চীনের চিকিৎসকদের নিয়ে কাজ করা একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের হিসাবও জানিয়েছে, চিকিৎসকদের সমস্যা শুধু শারীরিক ক্লান্তিতে সীমাবদ্ধ নয়; মানসিক অবসাদও বড় সমস্যা। রোগী দেখার পাশাপাশি চিকিৎসকদের নানা অচিকিৎসাসংক্রান্ত কাজ এবং রোগীর অভিযোগের ঝুঁকি সামলাতে হয়। অথচ তাঁদের দীর্ঘ শিক্ষাজীবন ও পরিশ্রমের তুলনায় আয় সবসময় সেই অনুপাতে হয় না।

সূত্র: দ্য সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঝিনাইদহে সাংবাদিককে হুমকি ও ভিডিও ধারণের অভিযোগে সাবেক এসআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:০৮ পি.এম


ঝিনাইদহে সাংবাদিককে হুমকি ও ভিডিও ধারণের অভিযোগে সাবেক এসআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা

ঝিনাইদহ সদর থানার সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) মোন্তাহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপতি পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক মিরাজ জামান রাজের অভিযোগে জোরপূর্বক ভিডিও ধারণ, অশালীন আচরণ ও হুমকি দেওয়ার কারণে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি শৈলকুপা থানায় কর্মরত আছেন।

​

পুলিশের সংশ্লিষ্ট নথি থেকে জানা যায়, সাংবাদিকের পক্ষ থেকে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বরাবর লিখিত অভিযোগ করার পর তদন্তের ভিত্তিতে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু করা হয়। মামলার নং- ১০/২০২৬, তারিখ: ২১ জুলাই ২০২৬। ইতোমধ্যে অভিযুক্ত কর্মকর্তা ও সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

​

আইজিপি বরাবর পাঠানো ইমেইলে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালের ৩ নভেম্বর ঝিনাইদহ আদালতে একটি মামলায় হাজিরা দেওয়ার সময় বিতর্কিত নারী সাংবাদিক বিউটি খাতুন মিরাজ জামান রাজকে হুমকি দেন। এই ঘটনার পর তিনি ৫ নভেম্বর ঝিনাইদহ সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং- ৩৫২) করেন। পরে ১০ নভেম্বর ওই নারী পাল্টা একটি জিডি করেন। উক্ত নারীর কাউন্টার জিডির তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে তৎকালীন সদর থানার এসআই মোন্তাহারুল ইসলাম সাংবাদিক মিরাজ জামান রাজকে রাত ১০টার পর থানায় ডেকে পাঠান।

​

অভিযোগকারী সাংবাদিকের বক্তব্য অনুযায়ী, থানায় যাওয়ার পর পুলিশ কর্মকর্তা তাকে টেবিলের সামনে বসিয়ে মোবাইল ফোনের ভিডিও ক্যামেরা অন করে জোরপূর্বক ভিডিও ধারণ করতে শুরু করেন এবং অবান্তর প্রশ্ন করতে থাকেন। সাংবাদিক আপত্তি জানালে এবং নিজের পেশাগত পরিচয় দেওয়ার পরও ওই কর্মকর্তা তাকে গালিগালাজ করেন ও ভয়ভীতি দেখান।

অভিযোগপত্রে সাংবাদিক মিরাজ জামান রাজ আরও উল্লেখ করেন, উক্ত নারীর রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ও অতীতে বিতর্কের রেকর্ড রয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তা ওই নারীর পক্ষাবলম্বন করে এমন আচরণ করায় তিনি নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত ও বিব্রতবোধ করেন।

​

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী সাংবাদিক মিরাজ জামান রাজ বলেন, এসআই মোন্তাহারুল ইসলাম সাধারণ মানুষের সঙ্গেও অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। বিতর্কিত ওই নারীর কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা পেয়ে তিনি আমাকে হয়রানি করেছেন। আমি তদন্তপূর্বক এই কর্মকর্তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

​

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত এসআই (নিরস্ত্র) মো. মোন্তাহারুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, একটি জমি সংক্রান্ত বিষয়ে বিউটি খাতুন সাংবাদিক মিরাজ জামান রাজের বিরুদ্ধে ঝিনাইদহ সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। সেই সাধারণ ডায়েরির প্রেক্ষিতে তাকে থানায় ডেকেছিলাম, মিরাজ জামান রাজের সঙ্গে কোন অসৌজন্যমূলক আচরণ কিংবা তার ভিডিও ধারণ করা হয়নি। তিনি আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করেছেন তা সঠিক নয়।

এ বিষয়ে বিভাগীয় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঝিনাইদহ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) মো. মোসফেকুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, মামলাটির তদন্ত চলছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কিছু বলা যাচ্ছেনা।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%