০২:১৬ পি.এম
আন্তর্জাতিক নীতিমালা থাকা সত্ত্বেও ভারত সরকারের দাদাগীরীর কারণে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরেই তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা পায়নি। তবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুদু জানিয়েছেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে।
বর্ষাকাল চলমান থাকলেও উত্তরাঞ্চলের প্রাণভোমরা তিস্তা আজ যেন প্রাণহীন হয়ে এসে দাঁড়িয়েছে। কোথাও হাঁটুসমান পানি দেখা যাচ্ছে, আবার কোথাও বিস্তীর্ণ চর জেগে উঠেছে। যে নদী একসময় উত্তরাঞ্চলের মানুষের আশা-ভরসার প্রতীক ছিল, আজ সেটি পরিণত হয়েছে তাদের দীর্ঘশ্বাসের কারণ।
ভরা মৌসুমে তিস্তার এমন চিত্র বর্তমানে প্রায় নিয়মিত হয়ে পড়েছে। উত্তরাঞ্চলের মানুষের কাছে তিস্তা কেবল একটি নদী নয়, এটি তাদের জীবিকা ও জীবনধারণের প্রধান অবলম্বন। অথচ বর্ষার ভরা মৌসুমেও নদীটি পানিশূন্য হয়ে রয়েছে। আবার খুব প্রয়োজনের সময় পানির অভাব থাকলে উজান থেকে হঠাৎ করে পানি ছেড়ে দেওয়া হয়, ফলে সৃষ্টি হয় ভয়াবহ বন্যার।
আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য
উজানে পানি প্রত্যাহার এবং দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনার কারণে তিস্তা তার স্বাভাবিক রূপ হারিয়েছে। ভারতের একতরফা পানি ব্যবস্থাপনার ফলে তিস্তাপাড়ের বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ এখন দুর্যোগপ্রবণ হয়ে উঠেছে। পানির অভাবে কৃষকেরা সেচ সংকটে ভুগছেন এবং তারা কষ্ট করে কষ্টকরভাবে ফসল ফলাচ্ছেন। কিন্তু সেই পরিবারগুলোর ফসলও অনেক সময় রক্ষা করা সম্ভব হয় না। কেননা, পূর্বাভাস ছাড়া উজান থেকে হঠাৎ পানি ছেড়ে দিলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তিস্তা ভয়াবহ বন্যার মধ্যে পরিণত হয়ে যায়। ফলে হারিয়ে যায় পাকা ধান, সবজি ক্ষেত ও বসতঘর। পানি কমে গেলে কেবল ক্ষয়ক্ষতি ও হতাশাই পরবর্তী ফলস্বরূপ হয়ে দাঁড়ায়।
শনিবার (৪ জুলাই) তিস্তা পরিদর্শনে এসে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুদু বলেন, আন্তর্জাতিক নদীর পানিবণ্টনের নীতিমালা থাকার পরেও ভারতের দাদাগীরীর কারণে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান সরকার দ্রুত সময়ের মধ্যে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে উদ্যোগ নেবে।
কখনও কখনও পানির জন্য হাহাকার, আবার কখনও অতিরিক্ত পানির তাণ্ডব- এই দুটি চরম বাস্তবতায় বছরের পর বছর কাটছে তিস্তাপাড়ের মানুষের জীবন। তাদের বিশ্বাস, তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করা এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনার বাস্তবায়ন এই নদীটিকে তার প্রাণ ফিরিয়ে দিতে সক্ষম হবে এবং লাখো মানুষের জীবনে একটি স্বস্তির নতুন স্রোত বয়ে আনতে পারে।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন