প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
দেশের সমস্ত সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে সরকার এখন ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, বাংলাদেশ বর্তমানে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের জন্য অন্যতম ঠিকানা।
শনিবার (৪ জুলাই) চট্টগ্রামে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন, দেশের কঠিন সময়ে প্রণীত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে দেশকে বের করে সম্ভাবনার নতুন পথে এগিয়ে নেবে। তিনি জানান, বাজেট বাস্তবায়নের মাধ্যমে অর্থনীতি আবার ঘুরে দাঁড়াবে। এ বাজেট দেশের প্রতিটি অঞ্চলের সম্ভাবনাকে বিবেচনায় রেখেই প্রণয়ন করা হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা হলো, সেই সম্ভাবনাগুলোকে সর্বোচ্চভাবে কাজে লাগানো।
তিনি আরও বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ, সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই), ক্যাপিটাল মার্কেটে বিনিয়োগ এবং ফান্ড ম্যানেজারদের বিনিয়োগ; সবকিছুই আসছে। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তর শহর চট্টগ্রামের সম্ভাবনা স্বাভাবিকভাবেই অনেক বেশি। কারণ এখানকার বন্দর, গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক, কৌশলগত অবস্থানসহ অন্যান্য বিষয়গুলো সরকার পরিকল্পনায় বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে।
চট্টগ্রামে একসঙ্গে একাধিক বন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রামকে একটি লজিস্টিক হাব তৈরির পূর্ব পরিকল্পনা এবারের বাজেটে প্রতিফলিত হয়েছে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরকে কার্গো ও যাত্রী পরিবহনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলারও পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি আরো উল্লেখ করেন, এখানে একটি চাইনিজ ইকোনমিক জোন গড়ে উঠবে। পাশাপাশি ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের লাকসাম অংশের উন্নয়নের মাধ্যমে ট্রেনে যাতায়াতের সময় প্রায় দুই ঘণ্টা কমিয়ে আনার পরিকল্পনাও রয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রামকে কেন্দ্র করে একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক করিডর ও লজিস্টিক হাব গড়ে উঠবে। এতে বন্দরগুলোর কার্যক্রম আরও উন্নত হবে।
অন্যদিকে মাতারবাড়িতেও বড় ধরনের উন্নয়ন কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে, বলেছেন আমির খসরু মাহমুদ। তিনি বলেন, সব মিলিয়ে এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও লজিস্টিক সম্ভাবনাকে সামনে রেখেই বাজেট পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে কয়েক বছর সময় লাগবে। সরকার যত দ্রুত সম্ভব কাজ শুরু করার চেষ্টা করছে।
বাজেট বাস্তবায়ন নিয়ে নানা আলোচনা হচ্ছে, প্রশ্নের উত্তরে অর্থমন্ত্রী বলেন, এত বড় বাজেট বাস্তবায়ন সহজ কাজ নয়। বিশেষ করে আগের সরকারগুলোর রেখে যাওয়া পরিস্থিতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে বর্তমানে দেশের অর্থনীতি কঠিন অবস্থার মধ্যে রয়েছে। তাই আগে ভঙ্গুর অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে হবে, তারপর সম্ভাবনার পথে এগোতে হবে। ইনশাআল্লাহ, তৃতীয় বা চতুর্থ বছর থেকে দেশের কাঙ্ক্ষিত সমৃদ্ধির পথে হাঁটা শুরু হবে এবং অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে।
অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, বাংলাদেশ তার সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগিয়ে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী অর্থনীতিতে পরিণত হবে। সরকার যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, বাংলাদেশ ধীরে ধীরে সেদিকেই এগিয়ে যাবে। নতুন নতুন প্রকল্পের পাশাপাশি সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ, ক্যাপিটাল মার্কেটে বিনিয়োগ এবং ফান্ড ম্যানেজারদের বিনিয়োগ আসছে। বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগের একটি গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য। তাই এ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন