ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ফরিদপুরে আমের বাগান বাড়ছে, দেশীয় ফলের গাছ কমছে


ফরিদপুরে আমের বাগান বাড়ছে, দেশীয় ফলের গাছ কমছে

একসময় ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার গ্রামাঞ্চলে প্রায় প্রতিটি বাড়ির আঙিনা, পুকুরপাড় অথবা জমির আইলে গাব, বাতাবি লেবু, কদবেল, চালতা, রয়েল, ঢেউয়া, পিচফল, ডালিম, বরই, জাম, জামরুল, কাঠবাদাম, কামরাঙা, আতাসহ বিভিন্ন দেশীয় ফলের গাছ দেখা যেত। মৌসুম এলেই এসব গাছে ফল ধরত এবং পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের মধ্যে ফল ভাগ করে দেওয়া হতো। তবে সময়ের সাথে সাথে সেই চিত্র পরিবর্তিত হচ্ছে। দেশীয় ফলের গাছ কমে যাচ্ছে এবং পরিকল্পিতভাবে আমের বাগান বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সদর ইউনিয়নের সদরপুর, কৃষ্ণপুর, বিষ্ণুপুর, ভাষানচর, ঢেউখালী, আকোটেরচর, চরমানাইর, চরনাসিরপুর এবং নারিকেলবাড়িয়া সহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় একসময় বাড়ির আশপাশে প্রচুর দেশীয় ফলের গাছ ছিল। বর্তমানে অনেক বাড়িতে পুরোনো গাছ নেই। বসতবাড়ি সম্প্রসারণ, নতুন স্থাপনা নির্মাণ এবং জায়গার সংকটের কারণে অনেক পুরোনো গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। সেইসাথে নতুন করে দেশীয় ফলের চারা লাগানোর প্রবণতাও কমে গেছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, বাড়ির জায়গা সংকুচিত হওয়া, কৃষিজমির ব্যবহার পরিবর্তন, পুরোনো গাছের বয়স, অপরিকল্পিতভাবে গাছ কাটা এবং নতুন চারা না লাগানোর কারণে দেশীয় ফলের গাছের সংখ্যা কমছে। বিদেশি এবং বাণিজ্যিক ফলের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেকেই দ্রুত আর্থিক লাভের আশায় ফলের বাগান করার দিকে ঝুঁকছেন।

আরও পড়ুন: সৌরশক্তিচালিত সেচে কৃষি খাতে ব্যয় কমছে, উৎপাদন বাড়ছে

এতে একদিকে স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠা দেশীয় ফলের গাছ কমছে, অন্যদিকে পরিকল্পিত বাণিজ্যিক ফলের বাগান বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্থানীয়দের মতে, অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক ফল চাষের পাশাপাশি দেশীয় ফলের গাছ টিকিয়ে রাখার উদ্যোগও প্রয়োজন। কারণ এসব গাছ শুধু ফলের উৎস নয়, গ্রামীণ পরিবেশ এবং স্থানীয় জীববৈচিত্র্যেরও অংশ।

তবে দেশীয় ফলের গাছ কমলেও সদরপুরের বিভিন্ন এলাকায় আমের বাগান বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে আম্রপালি এবং হাড়িভাঙা জাতের আমের চারা লাগাতে কৃষক এবং পরিবারগুলো আগ্রহী হচ্ছেন। কম জায়গায় বাগান করা যায়, বাজারে চাহিদা রয়েছে এবং ফল বিক্রি করে আয় করা সম্ভব হওয়ায় এ জাতের আমের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

মৌসুমে সদরপুরের বিভিন্ন বাজারে বাতাবি লেবু, কদবেল এবং ডালিমসহ দেশীয় ফলের চাহিদা থাকলেও স্থানীয় সরবরাহ আগের তুলনায় কমে গেছে। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই এসব ফল বাইরে থেকে এনে বিক্রি করতে হচ্ছে। আকার এবং মানভেদে একটি বাতাবি লেবু ৫০ থেকে ১০০ টাকা বা তারও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

সদরপুর বাজারের ফল ক্রেতা মহসিন মিয়া বলেন, "আগে বাড়ির আশপাশেই বাতাবি লেবুসহ বিভিন্ন দেশীয় ফল পাওয়া যেত। এখন অনেক ফল বাজার থেকে কিনতে হয়। বাড়িতে আবার দেশীয় ফলের গাছ থাকা দরকার।"

আরও পড়ুন: সদরপুরের মাঠে আমনের সবুজ ঢেউ, কৃষকদের প্রত্যাশা ও দুশ্চিন্তা

আরেক ফল বিক্রেতা রুবেল হোসেন বলেন, "আগের তুলনায় অনেক দেশীয় ফল কম পাওয়া যায়। চাহিদা রয়েছে, কিন্তু স্থানীয় সরবরাহ কম।"

সদরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হাবিবুল বাশার চৌধুরী বলেন, "দেশীয় ফল পুষ্টির উৎস হওয়ার পাশাপাশি গ্রামীণ পরিবেশ এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই এসব ফলের গাছ সংরক্ষণে কৃষি, পরিবেশ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থকে গুরুত্ব দিতে হবে।" তিনি আরও বলেন, "আমের মতো লাভজনক ফলের বাগান কৃষকের আয় বাড়াতে পারে। তবে বাণিজ্যিক ফল চাষের পাশাপাশি বাতাবি লেবু, কদবেল, ঢেউয়া, ডালিমসহ অন্যান্য দেশীয় ফলের গাছ সংরক্ষণেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।"

সংশ্লিষ্টদের মতে, বাড়ির আঙিনা, পুকুরপাড় এবং জমির আইলে পরিকল্পিতভাবে দেশীয় ফলের চারা লাগানো হলে একদিকে পরিবারের পুষ্টির চাহিদা পূরণ হবে এবং অন্যদিকে স্থানীয় বাজারেও এসব ফলের সরবরাহ বাড়বে। বাণিজ্যিক ফলের চাষের পাশাপাশি দেশীয় ফলের গাছ সংরক্ষণ করা গেলে গ্রামীণ পরিবেশের ঐতিহ্যও টিকে থাকবে। আগামী প্রজন্মও তখন নিজেদের গ্রামের গাছ থেকেই ফিরে পেতে পারে দেশীয় ফলের সেই পরিচিত স্বাদ এবং সৌন্দর্য।

আরও পড়ুন: রাতের আঁধারে সার পাচারের সময় হাতেনাতে ধরল এলাকাবাসী

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিয়ের দেড় বছর পর রেজিস্ট্রি করলেন আদার-আলেখা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:০৪ পি.এম


বিয়ের দেড় বছর পর রেজিস্ট্রি করলেন আদার-আলেখা

বলিউডের কাপুর পরিবারের সদস্য এবং অভিনেতা আদার জৈন ও আলেখা আদভানি আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। বিয়ের প্রায় দেড় বছর পর, রাজকীয় আয়োজনের মাধ্যমে অবশেষে তারা নিজেদের বিয়ের আইনি আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেছেন।

২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে জমকালো আয়োজনে তারা বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হন। তবে, তখন তাদের বিয়ের আইনি রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হয়নি। সম্প্রতি গণেশ চতুর্থীর দিনে, পারিবারিকভাবে তারা ম্যারেজ রেজিস্ট্রির আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে, সেই বিশেষ মুহূর্তের বেশ কয়েকটি ছবি শেয়ার করেছেন আদার ও আলেখা। ছবির সঙ্গে তারা মজার ক্যাপশনে উল্লেখ করেছেন, "ট্রায়াল পিরিয়ড শেষ। এবার আর ফেরত দেওয়া বা পরিবর্তন করার কোনো সুযোগ নেই।"

তারা আরও লেখেন, "অফিশিয়ালি মিস্টার অ্যান্ড মিসেস জৈন! অবশেষে আমার পছন্দের মানুষের সঙ্গে সম্পর্কটাকে আইনি রূপ দিলাম। আশীর্বাদ করার জন্য ধন্যবাদ গণপতি বাপ্পা।"

এই পোস্ট প্রকাশের পর, ভক্ত ও অনুরাগীদের মধ্যে প্রশ্ন ওঠে যে, তাহলে কি এতদিন তারা আইনিভাবে বিবাহিত ছিলেন না? মূলত, ২০২৫ সালে সামাজিক ও ধর্মীয় রীতিতে বিয়ে হলেও, ম্যারেজ রেজিস্ট্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা তখন বাকি ছিল। এবার সেই প্রক্রিয়াও তারা সম্পন্ন করেছেন।

আদার ও আলেখার নতুন পোস্টে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন কাপুর পরিবারের সদস্য ঋদ্ধিমা কাপুর সাহনি, সাবা পতৌদি এবং অভিনেতা সঞ্জয় কাপুরসহ অনেকেই।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাদের বিয়ের অনুষ্ঠানে বলিউডের তারকাদের উপস্থিতিতে বসেছিল চাঁদের হাট। রণবীর কাপুর, আলিয়া ভাট, কারিনা কাপুর, সাইফ আলি খান, কারিশমা কাপুরসহ কাপুর পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি আম্বানি পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন সেই জমকালো আয়োজনে।

এর আগে, অভিনেত্রী তারা সুতারিয়ার সঙ্গে সম্পর্কে ছিলেন আদার জৈন। সেই সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর, আলেখা আদভানির সঙ্গে তিনি সম্পর্কে জড়ান। কিংবদন্তি চলচ্চিত্র নির্মাতা রাজ কাপুরের নাতি আদার ২০১৭ সালে ‘কয়েদি ব্যান্ড’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক করেন। পরে তাকে ‘হ্যালো চার্লি’ সিনেমায় দেখা যায়।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এমপির মোবাইল নাম্বার হ্যাক, অতঃপর টাকা দাবি প্রতারক চক্রের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:০৪ পি.এম


এমপির মোবাইল নাম্বার হ্যাক, অতঃপর টাকা দাবি প্রতারক চক্রের

ময়মনসিংহ-৫ (মুক্তাগাছা) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ জাকির হোসেন বাবলুর মোবাইল নম্বর ক্লোন করার মাধ্যমে তার পরিচয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে টাকা দাবি করেছে একটি প্রতারক চক্র।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী, জনপ্রতিনিধি ও এমপির পরিচিত বিভিন্ন ব্যক্তির হোয়াটসঅ্যাপে তার পরিচয়ে খুদে বার্তা পাঠিয়ে টাকা চাওয়ার ঘটনা ঘটে।

এ বিষয়ে জানতে পেরে এমপি মোহাম্মদ জাকির হোসেন বাবলু তার অফিসিয়াল ফেসবুক আইডিতে একটি সতর্কতামূলক পোস্ট দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, বিষয়টি নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে প্রতারকরা এমপির ব্যবহৃত অফিসিয়াল মোবাইল নম্বরটি ক্লোন করে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠায়। সেখানে এমপির পরিচয় ব্যবহার করে জরুরি প্রয়োজনের কথা বলে টাকা দাবি করা হয়। তবে বার্তা পাওয়া কয়েকজন বিষয়টি সন্দেহজনক মনে করে টাকা না দিয়ে সরাসরি এমপির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে তারা তাকে ঘটনাটি জানান।

বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর এমপি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে সবাইকে সতর্ক করেন এবং তার পরিচয়ে কেউ টাকা চাইলে তা না দেওয়ার অনুরোধ জানান।

এ বিষয়ে সংসদ সদস্য মোহাম্মদ জাকির হোসেন বাবলু বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে পরিচিত কয়েকজন আমাকে ফোন করে টাকা চাওয়ার বিষয়টি জানান। তখনই মোবাইল নম্বর ক্লোনের বিষয়টি জানতে পারি। ইতোমধ্যে সবাইকে সতর্ক করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক পোস্ট দেওয়া হয়েছে। নম্বরটি হ্যাকারদের হাত থেকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।

এ ঘটনায় প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাটুরিয়ায় ইসলামিক ফাউন্ডশনের মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:০৫ পি.এম


সাটুরিয়ায় ইসলামিক ফাউন্ডশনের মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত

২৪ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সাটুরিয়া উপজেলার ইসলামিক ফাউন্ডশনের উদ্যোগে উপজেলা মডেল মসজিদের হল রুমে মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মো: আশরাফুল আলম, যিনি মাষ্টার ট্রেইনার, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, মানিকগঞ্জ।

এছাড়া আলোচনা করেন মো: মাইনুদ্দিন, ফিল্ড সুপারভাইজার, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, সাটুরিয়া।

সভায় উপস্থিত ছিলেন কাজি মো: হাবিবুর রহমান, মডেল কেয়ারটেকার, ইসলামিক ফাউন্ডেশন সাটুরিয়া।

মো: আল আমিন শিকদার, সাধারণ কেয়ারটেকার, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, সাটুরিয়া।

মো: রফিকুল ইসলাম, সাধারণ কেয়ারটেকার, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, সাটুরিয়া।

এবং মো: আমিনুল ইসলাম, সাধারণ কেয়ারটেকার, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, সাটুরিয়া সহ ইসলামিক ফাউন্ডশনের সকল শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দ।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গজারিয়ায় জমি নিয়ে বিরোধে ৭০ বছরের মাকে পিটিয়ে আহত করলো ছেলে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:০৫ পি.এম


গজারিয়ায় জমি নিয়ে বিরোধে ৭০ বছরের মাকে পিটিয়ে আহত করলো ছেলে

গজারিয়ায় পারিবারিক জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধের কারণে ৭০ বছর বয়সী রহিমা বেগম মারধরের শিকার হয়েছেন তার ছেলের হাতে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালে শয্যাশায়ী রহিমা বেগম ব্যথায় কাতরাচ্ছেন। ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার গুয়াগাছিয়া ইউনিয়নের বড় বসুর চর গ্রামে।

আহতের পারিবারিক সূত্র জানায়, বড় বসুর চর গ্রামের মৃত জব্বার বেপারীর বড় ছেলে আবু আহম্মেদ এবং ছোট ছেলে ইয়াছিন বেপারীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি-জমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন বিকেলে বড় ছেলে আবু আহম্মেদ ছোট ভাইয়ের বসতঘরের তালা ভেঙে দখল করতে যায়। এ সময় মা রহিমা বেগম বাধা দিয়ে বলেন, "আমার ছোট ছেলে ঢাকায় আছে। তাছাড়া থানায় যে শালিস বৈঠক হয়েছে, সেই রায় তো তুই মানিস নাই।" মায়ের কথায় ক্ষিপ্ত হয়ে বড় ছেলে আবু আহম্মেদ বৃদ্ধা মাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে। পরে স্থানীয়রা তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

ছোট ছেলে ইয়াছিন বেপারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমরা চার ভাই। আমি সবার ছোট এবং আমিই মায়ের সমস্ত ভরণপোষণ দিয়ে আসছি, বাকি তিন ভাইয়ের কেউ মায়ের কোনো খোঁজ নেয় না। আমি কাজের সূত্রে ঢাকায় থাকার সুযোগে বড় ভাই আমার ঘরের তালা ভেঙে দখল করতে আসে। মা বাধা দিলে তাকে মারধর করে।"

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত রহিমা বেগম অঝোরে কাঁদতে কাঁদতে বলেন, "নিজের পেটের সন্তান হয়ে জমি দখলের লোভে আমাকে এভাবে মারধর করবে তা ভাবিনি। সন্তান যখন পশু হয়, মায়ের বিচার চাওয়া ছাড়া আর কিছু থাকে না।" এদিকে ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত আবু আহম্মেদর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নকীব আকরাম জানান, "এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%