প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
গজারিয়ায় পারিবারিক জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধের কারণে ৭০ বছর বয়সী রহিমা বেগম মারধরের শিকার হয়েছেন তার ছেলের হাতে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালে শয্যাশায়ী রহিমা বেগম ব্যথায় কাতরাচ্ছেন। ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার গুয়াগাছিয়া ইউনিয়নের বড় বসুর চর গ্রামে।
আহতের পারিবারিক সূত্র জানায়, বড় বসুর চর গ্রামের মৃত জব্বার বেপারীর বড় ছেলে আবু আহম্মেদ এবং ছোট ছেলে ইয়াছিন বেপারীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি-জমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন বিকেলে বড় ছেলে আবু আহম্মেদ ছোট ভাইয়ের বসতঘরের তালা ভেঙে দখল করতে যায়। এ সময় মা রহিমা বেগম বাধা দিয়ে বলেন, "আমার ছোট ছেলে ঢাকায় আছে। তাছাড়া থানায় যে শালিস বৈঠক হয়েছে, সেই রায় তো তুই মানিস নাই।" মায়ের কথায় ক্ষিপ্ত হয়ে বড় ছেলে আবু আহম্মেদ বৃদ্ধা মাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে। পরে স্থানীয়রা তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
ছোট ছেলে ইয়াছিন বেপারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমরা চার ভাই। আমি সবার ছোট এবং আমিই মায়ের সমস্ত ভরণপোষণ দিয়ে আসছি, বাকি তিন ভাইয়ের কেউ মায়ের কোনো খোঁজ নেয় না। আমি কাজের সূত্রে ঢাকায় থাকার সুযোগে বড় ভাই আমার ঘরের তালা ভেঙে দখল করতে আসে। মা বাধা দিলে তাকে মারধর করে।"
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত রহিমা বেগম অঝোরে কাঁদতে কাঁদতে বলেন, "নিজের পেটের সন্তান হয়ে জমি দখলের লোভে আমাকে এভাবে মারধর করবে তা ভাবিনি। সন্তান যখন পশু হয়, মায়ের বিচার চাওয়া ছাড়া আর কিছু থাকে না।" এদিকে ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত আবু আহম্মেদর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নকীব আকরাম জানান, "এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন