বুধবার, ৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১০:৪০ পি.এম
সংসদ ভবন, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভোলার উন্নয়নে একগুচ্ছ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন।
আজ বুধবার বিকেলে সংসদ অধিবেশনে ভোলা-৪ আসনের নুরুল ইসলাম নয়নের একটি সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এই তথ্য জানান।
তিনি উল্লেখ করেন, ‘ভোলার যে প্রাকৃতিক সম্পদ আছে, সেই সম্পদ আমরা দেশের মানুষের জন্য যেমন ব্যবহার করতে চাই, পাশাপাশি ভোলার মানুষ যাতে উপকৃত হয় সেটিও আমাদের লক্ষ্য।’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘ভোলা একটি দ্বীপ জেলা। এজন্য আমাদের প্রথম পরিকল্পনা হচ্ছে এই জেলাকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা। সেতু নির্মাণ করে সড়ক যোগাযোগের মাধ্যমে আমরা এটি সম্পন্ন করতে চাই। দ্বিতীয়ত, ভোলায় ৫০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে একটি ইউরিয়া সার কারখানা স্থাপন করতে চাই।’
ভোলায় শিল্পায়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বেসরকারি পর্যায়ের উদ্যোক্তাদের আমরা উৎসাহিত করছি। ইতোমধ্যে বেশ কিছু উদ্যোক্তা সেখানে শিল্পকারখানা স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। আমরা আরও কিছু মানুষের সঙ্গে আলোচনা করছি, যারা সেখানে কলকারখানা স্থাপন করবেন। এর মাধ্যমে আমরা ভোলাকে গড়ে তুলতে চাই। সেখানকার মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে তাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে চাই।
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বিকেল সাড়ে তিনটায় সংসদ অধিবেশন শুরু হয়। দিনের কার্যসূচি অনুযায়ী প্রথম ৩০ মিনিট ছিলো প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্ব।
আজ প্রধানমন্ত্রীর জন্য আটটি তারকা চিহ্নিত প্রশ্ন নির্ধারিত ছিলো। এরমধ্যে তিনটি প্রশ্ন এবং সাতটি সম্পূরক প্রশ্নের উত্তর তিনি প্রদান করেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকার সাভারে ৯ বছরের শিশু মিফতাহুল জান্নাত ওরফে শালমী মন্ডলের রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শিশুটির বাবা রিপন মন্ডলের অভিযোগ, তার মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে প্রচারের চেষ্টা করা হয়ে থাকতে পারে। এ ঘটনায় তিনি সাভার মডেল থানায় লিখিত এজাহার দিয়েছেন এবং দুই ব্যক্তিকে আসামি করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠছে-মাত্র ৯ বছর বয়সী একটি শিশু কীভাবে আত্মহত্যা করল, আর মৃত্যুর পর তার মায়ের ব্যক্তিগত ও বৈবাহিক সম্পর্ক নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছে, তার সঙ্গে শিশুটির মৃত্যুর কোনো যোগসূত্র আছে কি না? তবে এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো তদন্তাধীন। শিশুটির মৃত্যুকে হত্যা নাকি আত্মহত্যা হিসেবে গণ্য করা হবে, তা ময়নাতদন্ত ও তদন্তের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে।
৯ বছরের শালমীর মৃত্যু ঘিরে নানা প্রশ্ন:
মিফতাহুল জান্নাত ওরফে শালমী মন্ডল (৯) আশুলিয়ার বিশমাইল এলাকার মর্নিং গ্লোরী স্কুলের বাংলা ভার্সনের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৮ আগস্ট ২০২৬ সকাল আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে শিশুটি তার মায়ের সঙ্গে বাসা থেকে বের হয়। তার মা মৌসুমী আক্তার কর্মস্থল ঢাকার আজিমপুর সিভিল সার্জন অফিসের উদ্দেশে রওনা দেন এবং শালমী আশুলিয়ার বিশমাইল এলাকায় অবস্থিত স্কুলে যায়। স্কুল শেষে অন্যান্য দিনের মতো শিশুটি তার মায়ের বর্তমান বাসায় ফিরে আসে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু ওইদিন রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে শিশুটির বাবার কাছে আসে তার মৃত্যুর সংবাদ। সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নার্স ইনচার্জ মার্গারেট দুলি ফোন করে শিশুটির বাবা রিপন মন্ডলকে জানান, তার মেয়ে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কোয়ার্টারের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষে মারা গেছে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান বাবা।
মরদেহ দেখে বাবার সন্দেহ: রিপন মন্ডলের অভিযোগ, ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি তার মেয়েকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। শিশুটির গায়ে স্কুল ড্রেস ছিল। তবে নিচের অংশে পাজামা ছিল না বলে অভিযোগে উল্লেখ করেছেন তিনি। মেয়ের শারীরিক অবস্থা এবং ঘটনাস্থলে থাকা ব্যক্তিদের কথাবার্তা তার কাছে সন্দেহজনক মনে হয় বলে দাবি করেন রিপন। তার সন্দেহ, তার মেয়েকে কোনো কারণে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে এবং পরে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে প্রচার করার চেষ্টা করা হতে পারে। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই তিনি থানায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করেন।
‘৯ বছরের শিশু কীভাবে আত্মহত্যা করে?’
শিশুটির বাবার অভিযোগের পাশাপাশি সামাজিকভাবেও এখন সবচেয়ে বেশি যে প্রশ্নটি সামনে এসেছে তা হলো-মাত্র ৯ বছরের একটি শিশু কেন এবং কীভাবে আত্মহত্যা করবে? তবে বয়স কম হওয়া আত্মহত্যাকে অসম্ভব করে না; আবার শুধু বয়সের ভিত্তিতে এটিকে আত্মহত্যা বা হত্যা-কোনোটিই নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। শিশুটি কী পরিস্থিতির মধ্যে ছিল, তার মানসিক অবস্থা কেমন ছিল, মৃত্যুর আগে কোনো ঘটনা ঘটেছিল কি না এবং ঘটনাস্থলে কী ধরনের আলামত পাওয়া গেছে-এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা প্রয়োজন। পরিবারের পক্ষ থেকে তাই দাবি করা হয়েছে, বিষয়টি সাধারণ আত্মহত্যার ঘটনা হিসেবে না দেখে গভীরভাবে তদন্ত করা হোক।
মায়ের নতুন সম্পর্ক ও বিয়ে ঘিরে প্রশ্ন: অভিযোগপত্রে শিশুটির বাবা তার সাবেক স্ত্রী মৌসুমী আক্তারের ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও পরবর্তী বিবাহ নিয়েও একাধিক অভিযোগ তুলেছেন। রিপন মন্ডলের দাবি, দাম্পত্য জীবনে বনিবনা না হওয়ায় প্রায় তিন বছর আগে মৌসুমী আক্তার তাকে তালাক দেন। এরপর তার সঙ্গে ডা. আশরাফুল ইসলাম আরিফের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। অভিযোগে আরও দাবি করা হয়েছে, পরবর্তীতে মৌসুমী আক্তার ও ডা. আশরাফুল ইসলাম আরিফ বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। শিশুটির মৃত্যুর সঙ্গে এই সম্পর্ক বা পরবর্তী বিয়ের কোনো যোগসূত্র ছিল কি না-এমন কোনো প্রমাণ এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। তবে শিশুটির বাবা যেহেতু তার অভিযোগে বিষয়টি উল্লেখ করেছেন, তাই তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট সময়ের পারিবারিক পরিস্থিতি ও ঘটনাপ্রবাহ যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন অভিযোগকারী পক্ষ।
‘মৃত্যুর পরও কেন এই প্রশ্ন?’
শিশুটির মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে আরেকটি বিষয়ও আলোচনায় এসেছে। অভিযোগকারীর বক্তব্য অনুযায়ী, তার সাবেক স্ত্রী পরবর্তীতে অন্য একজন চিকিৎসকের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। এ কারণে সামাজিকভাবে প্রশ্ন উঠেছে-শিশুটির সঙ্গে তার মায়ের সম্পর্ক কেমন ছিল, মৃত্যুর আগে শিশুটির পারিবারিক পরিবেশ কেমন ছিল এবং ওইদিন বাসায় ঠিক কী ঘটেছিল? তবে এসব প্রশ্নের উত্তর অনুমান বা সামাজিক আলোচনার মাধ্যমে নয়, বরং তদন্ত ও প্রমাণের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
থানায় এজাহার, এখনো মামলা হয়নি-অভিযোগ: শিশুটির বাবা রিপন মন্ডল সাভার মডেল থানায় উপস্থিত হয়ে দুই ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করে লিখিত এজাহার দিয়েছেন বলে দাবি করেছেন। তার অভিযোগ, এত গুরুতর একটি ঘটনার পরও পুলিশ এখনো মামলা গ্রহণ করেনি। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শিশুটির ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে ঘটনার বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মীরা সাভার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন মেডিকেল থেকে আসার পর সেটি পর্যালোচনা করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশের এই বক্তব্যের ফলে এখন সবার নজর ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের দিকে। পোস্টমর্টেম রিপোর্টই হতে পারে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ শালমী মন্ডলের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ময়নাতদন্তে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে চিকিৎসাবিজ্ঞানভিত্তিক তথ্য পাওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি প্রয়োজন হলে ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে আরও আলামত যাচাই করা সম্ভব হতে পারে। শিশুটির মৃত্যু আত্মহত্যা, দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনো কারণে হয়েছে-তা নির্ধারণে ময়নাতদন্তের তথ্য তদন্তকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। তবে শুধু পোস্টমর্টেম রিপোর্টই নয়, ঘটনাস্থলের আলামত, সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, শিশুটির স্কুলে উপস্থিতি ও ছুটির তথ্য, বাসায় ফেরার সময় এবং মৃত্যুর আগে ও পরে কারা সেখানে ছিলেন-সবকিছু একসঙ্গে যাচাই করা প্রয়োজন।
তদন্তে সামনে আসতে পারে আরও তথ্য: ঘটনাটি তদন্ত করতে হলে ১৮ আগস্ট সকাল থেকে রাত পর্যন্ত শিশুটির গতিবিধির একটি পূর্ণাঙ্গ টাইমলাইন তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ। সকাল সাড়ে ৭টায় বাসা থেকে বের হওয়ার পর সে কখন স্কুলে পৌঁছায়, কখন স্কুল ছুটি হয়, কার সঙ্গে স্কুল থেকে বের হয়, কখন বাসায় ফিরে আসে এবং বাসায় ফেরার পর তার সঙ্গে কারা ছিলেন- এসব তথ্য তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। এ ছাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কোয়ার্টারে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকলে তার ফুটেজ পরীক্ষা করা যেতে পারে। মৃত্যুর আগে শিশুটির সঙ্গে কারও ফোনে যোগাযোগ হয়েছিল কি না, কোনো মেসেজ বা ডিজিটাল যোগাযোগ ছিল কি না-প্রয়োজন হলে এসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় আসতে পারে।
মানবাধিকার সংস্থার নজরে ঘটনাটি: শিশুটির পরিবারের অভিযোগ এবং ঘটনাটিকে ঘিরে ওঠা বিভিন্ন প্রশ্নের পর বিষয়টি একটি মানবাধিকার সংগঠনের নজরেও এসেছে। বাংলাদেশ মানবাধিকার সংবাদ ও সংস্থার কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রনি শিকদার জানিয়েছেন, তারা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছেন। তিনি বলেন, “ন্যায়বিচারের জন্য যতটুকু করার প্রয়োজন, ততটুকু করব আমরা। আমরা তদন্তে আছি।” রনি শিকদারের বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনাটির বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও যাচাই করা হচ্ছে। ভুক্তভোগী পরিবারের ন্যায়বিচারের স্বার্থে আইনগত সহযোগিতার বিষয়টিও তারা বিবেচনা করছেন।
হাইকোর্টে যাওয়ার প্রস্তুতির কথা: মানবাধিকার সংগঠনটির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, প্রয়োজন হলে ন্যায়বিচারের স্বার্থে আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার বিষয়টিও তারা বিবেচনা করছে। জনস্বার্থে বিষয়টি আইনগতভাবে পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন সংগঠনের সংশ্লিষ্টরা। তবে আদালতে যাওয়ার বিষয়টি এখনো একটি সম্ভাব্য আইনগত পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য থেকে জানা গেছে।
‘শিশুটির মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত চাই’
শিশুটির পরিবারের দাবি, তারা কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে আগেই অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করতে চান না। তারা চান, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসুক।
যদি তদন্তে হত্যার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। আর যদি আত্মহত্যা হয়ে থাকে, তাহলে শিশুটি কেন এমন সিদ্ধান্ত নিল এবং তার পেছনে কোনো প্ররোচনা, নির্যাতন বা পারিবারিক কারণ ছিল কি না-সেটিও তদন্তে উঠে আসুক। পরিবারের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ যেন কোনোভাবেই আড়ালে না থাকে। তদন্তের স্বার্থে যেসব প্রশ্নের উত্তর জরুরি শালমী মন্ডলের মৃত্যু নিয়ে বর্তমানে বেশ কয়েকটি প্রশ্ন সামনে রয়েছে-
১. ৯ বছরের শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী?
২. মৃত্যুর আগে সে কার সঙ্গে ছিল?
৩. স্কুল থেকে বাসায় ফেরার পর তার সঙ্গে কী ঘটেছিল?
৪. মৃত্যুর সময় বাসায় কারা উপস্থিত ছিলেন?
৫. শিশুটির শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল কি না?
৬. ঘটনাস্থল থেকে কী কী আলামত উদ্ধার করা হয়েছে?
৭. স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কোয়ার্টারে সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে কি না?
৮. স্কুল থেকে শিশুটির ফেরার সময় ও পথের কোনো তথ্য পাওয়া যায় কি না?
৯. শিশুটির মৃত্যুর আগে কোনো অস্বাভাবিক আচরণ বা যোগাযোগ হয়েছিল কি না?
১০. ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে মৃত্যুর কারণ কী উল্লেখ করা হয়?
১১. অভিযোগে উল্লিখিত ব্যক্তিদের সঙ্গে শিশুটির মৃত্যুর কোনো যোগসূত্র তদন্তে পাওয়া যায় কি না?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর পাওয়া গেলেই ঘটনার প্রকৃত চিত্র পরিষ্কার হতে পারে।
অভিযোগ বনাম প্রমাণ-তদন্তই নির্ধারণ করবে সত্য: শিশুটির বাবা যে অভিযোগ করেছেন, তা নিঃসন্দেহে গুরুতর। কিন্তু অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো ব্যক্তিকে অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে চিহ্নিত করা যায় না। বিশেষ করে শিশুটির মায়ের ব্যক্তিগত সম্পর্ক, বিবাহ এবং তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে করা অভিযোগগুলোও তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। একইভাবে শিশুটির মৃত্যু আত্মহত্যা-এমন কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তও ময়নাতদন্ত ও তদন্ত শেষ হওয়ার আগে দেওয়া উচিত নয়। কারণ একটি শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় প্রকৃত সত্য নির্ধারণের জন্য আবেগ নয়, প্রয়োজন নির্ভরযোগ্য প্রমাণ। এখন নজর ময়নাতদন্ত রিপোর্ট ও তদন্তের দিকে সাভারে ৯ বছরের স্কুলছাত্রী শালমী মন্ডলের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় এখন পরিবারের দাবি, পুলিশের বক্তব্য এবং মানবাধিকার সংগঠনের উদ্যোগ-তিনটি বিষয় সামনে এসেছে।
পরিবার চাইছে ন্যায়বিচার।
পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর মানবাধিকার সংগঠন বলছে, তারা বিষয়টি তদন্ত করছে এবং প্রয়োজন হলে আইনগতভাবে উচ্চ আদালত পর্যন্ত যাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। সব মিলিয়ে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে আসার পর তদন্ত কোন দিকে যায়, পুলিশ মামলা গ্রহণ করে কি না এবং তদন্তে নতুন কোনো তথ্য বা আলামত বেরিয়ে আসে কি না-সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছে নিহত শিশুটির পরিবার ও স্থানীয়রা। একটি ৯ বছরের শিশুর মৃত্যু যেন কোনোভাবেই অমীমাংসিত না থাকে-এটাই পরিবারের প্রধান দাবি।
এই প্রতিবেদনে উল্লিখিত হত্যা, সম্পর্ক, বিবাহ ও অন্যান্য অভিযোগ সংশ্লিষ্ট অভিযোগকারীর বক্তব্য ও থানায় দেওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। এগুলো কোনোভাবেই প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে। শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্ত, পুলিশি তদন্ত ও অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হবে। এই সংবাদ ধারাবাহিক চলব........
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে খোলা হিসাবের সংখ্যা ২০২৬ সালের জুন শেষে ২৭.২২ মিলিয়নে পৌঁছেছে। আগের প্রান্তিকের তুলনায় এই পরিসংখ্যান ২ দশমিক ৭৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
এই তথ্য ‘এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ত্রৈমাসিক প্রতিবেদন, এপ্রিল-জুন ২০২৬’ শীর্ষক বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশনা থেকে জানা গেছে।
প্রতিবেদন অনুসারে, ৩০ জুন পর্যন্ত ৩০টি ব্যাংক ১৫ হাজার ৪২৪ জন এজেন্টের মাধ্যমে পরিচালিত ২০ হাজার ৫৯৭টি আউটলেটের মাধ্যমে এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা প্রদান করছিল। এই সময়ে এজেন্টের সংখ্যা ১ দশমিক ৫৮ শতাংশ এবং আউটলেটের সংখ্যা ১ দশমিক ২৭ শতাংশ বেড়েছে।
মোট ২ কোটি ৭২ লাখ ২৪ হাজার ২৫৬টি এজেন্ট ব্যাংকিং হিসাবের মধ্যে ১ কোটি ৩৫ লাখ ৫৮ হাজার ৯১৮টি বা প্রায় ৫০ শতাংশ হিসাব নারীদের। অন্যদিকে, ২ কোটি ৩০ লাখ ২৭ হাজার ৭৫৫টি হিসাব বা ৮৫ শতাংশ হিসাব গ্রামীণ এলাকার গ্রাহকদের।
প্রতিবেদনটি উল্লেখ করে, এজেন্ট ব্যাংকিং হিসাবের ক্রমবর্ধমান সংখ্যা বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে এ সেবার চাহিদা বৃদ্ধির প্রতিফলন। নারীদের গ্রাহকদের হিসাব ৩ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে, যা পুরুষ গ্রাহকদের তুলনায় বেশি।
এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে আমানতও ধারাবাহিকভাবে বেড়ে চলেছে। জুন শেষে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সংগৃহীত মোট আমানতের পরিমাণ ৫১৯,০৭২.৯২ মিলিয়ন টাকা। আগের প্রান্তিকের তুলনায় এই আমানত ১ দশমিক ৯৬ শতাংশ এবং এক বছর আগের তুলনায় ১৩ দশমিক ৮২ শতাংশ বেড়েছে।
এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ঋণ বিতরণে আরও শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। জুন শেষে মোট ঋণ বিতরণের পরিমাণ ৪০৮,৭০৩.৯৭ মিলিয়ন টাকা। আগের প্রান্তিকের তুলনায় ঋণ বিতরণ বেড়েছে ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ এবং এক বছরের ব্যবধানে বেড়েছে ৪০ দশমিক ৮৯ শতাংশ।
জুনে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ঋণ-আমানত অনুপাত বেড়ে ৭৮ দশমিক ৭৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা মার্চে ছিল ৭৪ দশমিক ১৬ শতাংশ। এতে এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটের মাধ্যমে ঋণ বিতরণের গতি বৃদ্ধি পেয়েছে। ৩০টি ব্যাংকের মধ্যে ২৩টি ব্যাংক ঋণ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বিতরণ করা মোট ঋণের ৬৪ দশমিক ১৭ শতাংশ বা ২৬২,২৬৩.৯৯ মিলিয়ন টাকা গ্রামীণ এলাকার গ্রাহকরা পেয়েছেন। তবে নারীরা পেয়েছেন মাত্র ৫২,০০২.০৬ মিলিয়ন টাকা বা মোট ঋণের ১২ দশমিক ৭২ শতাংশ। প্রতিবেদনে নারীদের ঋণপ্রাপ্তির সুযোগ বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা প্রতীয়মান হয়েছে।
এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে দেশে আসা রেমিট্যান্স বিতরণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা অব্যাহত রয়েছে। জুন শেষে এজেন্টদের মাধ্যমে বিতরণ করা মোট অভ্যন্তরীণ রেমিট্যান্সের পরিমাণ ২,১৪৯.০৪১ মিলিয়ন টাকা। আগের প্রান্তিকের তুলনায় এই পরিমাণ ১ দশমিক ৭৬ শতাংশ এবং এক বছরের ব্যবধানে ১৬ দশমিক ৮৭ শতাংশ বেড়েছে।
এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বিতরণ করা মোট রেমিট্যান্সের ৯০ দশমিক ৪৪ শতাংশ গ্রামীণ এলাকার সুবিধাভোগীরা পেয়েছেন। এতে দেশের বড় শহরগুলোর বাইরে বসবাসকারী মানুষের কাছে রেমিট্যান্স পৌঁছানোর ক্ষেত্রে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের গুরুত্ব স্পষ্ট হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার ব্যাংকিং সুবিধাবঞ্চিত জনগণের কাছে ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দিয়ে এজেন্ট ব্যাংকিং আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ঋণ-আমানত অনুপাত বৃদ্ধির ফলে উদ্যোক্তাদের জন্য অর্থায়নের সুযোগ বাড়ছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে কটেজ, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ (সিএমএসএমই) এবং নারী উদ্যোক্তাদের ঋণ প্রদানের পাশাপাশি প্রান্তিক জনগণের জন্য পুনঃঅর্থায়ন স্কিম বাস্তবায়নে ব্যাংকগুলোকে উৎসাহিত করছে।
এজেন্ট ব্যাংকিং উদ্যোক্তা হিসেবেও নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ছে। ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ২৮টি ব্যাংক ১ হাজার ৭৭৬ জন নারী উদ্যোক্তার মালিকানাধীন ২ হাজার ১০৬টি আউটলেটের মাধ্যমে সেবা দিচ্ছিল।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নারী উদ্যোক্তাদের মালিকানাধীন আউটলেটগুলো দেশের মোট এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটের ১০ দশমিক ২২ শতাংশ। এসব আউটলেটে ২৩ লাখ ৪০ হাজার হিসাব রয়েছে, যার মধ্যে ১৯ লাখ ৪০ হাজার হিসাব গ্রামীণ এলাকার গ্রাহকদের।
বাংলাদেশে ব্যাংক ২০১৩ সালে এজেন্ট ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু করে। ভৌগোলিকভাবে দুর্গম এলাকায় বসবাসকারী জনগণের কাছে ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দেওয়ার বিকল্প মাধ্যম হিসেবে এই ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হয়। এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটের মাধ্যমে গ্রাহকরা আমানত, ঋণ, রেমিট্যান্স, বিভিন্ন ধরনের বিল পরিশোধ এবং সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা গ্রহণ করতে পারেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বিএনপি জানিয়েছে, আগামী ২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে নির্বাচনের আয়োজন সাবেক মহাসচিব ও বর্তমান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শূন্য আসনে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে।
১২ সেপ্টেম্বর শনিবার রাতে, বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের কাছে এ তথ্য তুলে ধরেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
তিনি জানান, ওই আসনে বিএনপির প্রার্থী হতে আগ্রহী ব্যক্তিরা আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে পারবেন। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ১৬ সেপ্টেম্বর।
রিজভী আরও বলেন, ১৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হবে মনোনয়ন বোর্ডের সভা। বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটিই এই মনোনয়ন বোর্ডের দায়িত্ব পালন করবে। সভায় চূড়ান্ত প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, ২৯ অক্টোবরের শূন্য আসনের নির্বাচনের জন্য দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ের নির্ধারিত সময়সূচি এটি।
এর আগে, শনিবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক শুরু হয়। বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে আলোচনা হয় ডেঙ্গু পরিস্থিতি, দলের সাংগঠনিক শূন্যপদ পূরণসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শুরুর সময় প্রায় ৪ হাজার নবীন শিক্ষার্থীকে বরণ করে নিয়েছে শাখা ইসলামী ছাত্রশিবির।
শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তন অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু হয়। ‘নবীনবরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের ফুল, কলমদানি, কুরআন, অনুপ্রেরণামূলক বইসহ বিভিন্ন উপহার প্রদান করা হয়।
এ সময় আমন্ত্রিত অতিথিদের মাধ্যমে নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। শিক্ষার্থীরা পূর্বনির্ধারিত গুগল ফর্মের মাধ্যমে নিবন্ধন করে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন এবং নিবন্ধন কোড সংগ্রহ করে অনুষ্ঠানে প্রবেশ করেন।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মেহেদী হাসানের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের (রুয়া) সভাপতি মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান। প্রধান আলোচক হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় এমন একটি জায়গা, যেখানে লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষা দেয়, কিন্তু অল্প কিছু সংখ্যক পড়ার সুযোগ পায়। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরু থেকেই সবাইকে পড়াশোনায় আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানান। দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে তিনি মানুষ গড়ার কারিগর হিসেবে দেখতে চান।
তিনি আরও বলেন, দেশের ইতিহাসে শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করার জন্য অনেক পরিকল্পনা করা হয়েছিল। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির হলো দেশের ছাত্রছাত্রীদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ ঠিকানা। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, শিবির আগামীর বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবে।
প্রধান আলোচকের বক্তব্যে নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, শিক্ষার্থীদের উচিত এখন থেকেই নিজেদের গড়ে তোলা। ভবিষ্যতে কোথায় নিজেদের দেখতে চান, তার লক্ষ্য ঠিক করা উচিত। তিনি বলেন, নিজের অধ্যয়নরত বিষয়ে গভীর ধারণা রাখতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের নতুন স্বপ্নগুলো যেন বিনষ্ট না হয়। তিনি একটি নতুন প্রজন্ম গড়ে তোলার কথা বলেন, যে প্রজন্ম ভবিষ্যতে দেশের সেবায় নিজেকে সর্বোচ্চ নিয়োজিত রাখবে।
দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে তিনি মন্তব্য করেন, আমাদের দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা পৃথিবীর অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক পিছিয়ে। শিক্ষিত যুবকদের সঠিকভাবে কাজে লাগানো হয় না, ফলে তারা বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে কর্মস্থান হিসেবে বিদেশকে বেছে নেয়। তিনি বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা অবশ্যই দলীয়করণ থেকে বের হয়ে আসতে হবে।
অনুষ্ঠানে মেহেদী হাসানের সঞ্চালনায় আরও উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল, সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ, রাকসু ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ, শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল, প্রায় ৪ হাজার নিবন্ধিত নবীন শিক্ষার্থীসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ