প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
বাংলাদেশে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে খোলা হিসাবের সংখ্যা ২০২৬ সালের জুন শেষে ২৭.২২ মিলিয়নে পৌঁছেছে। আগের প্রান্তিকের তুলনায় এই পরিসংখ্যান ২ দশমিক ৭৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
এই তথ্য ‘এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ত্রৈমাসিক প্রতিবেদন, এপ্রিল-জুন ২০২৬’ শীর্ষক বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশনা থেকে জানা গেছে।
প্রতিবেদন অনুসারে, ৩০ জুন পর্যন্ত ৩০টি ব্যাংক ১৫ হাজার ৪২৪ জন এজেন্টের মাধ্যমে পরিচালিত ২০ হাজার ৫৯৭টি আউটলেটের মাধ্যমে এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা প্রদান করছিল। এই সময়ে এজেন্টের সংখ্যা ১ দশমিক ৫৮ শতাংশ এবং আউটলেটের সংখ্যা ১ দশমিক ২৭ শতাংশ বেড়েছে।
মোট ২ কোটি ৭২ লাখ ২৪ হাজার ২৫৬টি এজেন্ট ব্যাংকিং হিসাবের মধ্যে ১ কোটি ৩৫ লাখ ৫৮ হাজার ৯১৮টি বা প্রায় ৫০ শতাংশ হিসাব নারীদের। অন্যদিকে, ২ কোটি ৩০ লাখ ২৭ হাজার ৭৫৫টি হিসাব বা ৮৫ শতাংশ হিসাব গ্রামীণ এলাকার গ্রাহকদের।
প্রতিবেদনটি উল্লেখ করে, এজেন্ট ব্যাংকিং হিসাবের ক্রমবর্ধমান সংখ্যা বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে এ সেবার চাহিদা বৃদ্ধির প্রতিফলন। নারীদের গ্রাহকদের হিসাব ৩ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে, যা পুরুষ গ্রাহকদের তুলনায় বেশি।
এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে আমানতও ধারাবাহিকভাবে বেড়ে চলেছে। জুন শেষে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সংগৃহীত মোট আমানতের পরিমাণ ৫১৯,০৭২.৯২ মিলিয়ন টাকা। আগের প্রান্তিকের তুলনায় এই আমানত ১ দশমিক ৯৬ শতাংশ এবং এক বছর আগের তুলনায় ১৩ দশমিক ৮২ শতাংশ বেড়েছে।
এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ঋণ বিতরণে আরও শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। জুন শেষে মোট ঋণ বিতরণের পরিমাণ ৪০৮,৭০৩.৯৭ মিলিয়ন টাকা। আগের প্রান্তিকের তুলনায় ঋণ বিতরণ বেড়েছে ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ এবং এক বছরের ব্যবধানে বেড়েছে ৪০ দশমিক ৮৯ শতাংশ।
জুনে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ঋণ-আমানত অনুপাত বেড়ে ৭৮ দশমিক ৭৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা মার্চে ছিল ৭৪ দশমিক ১৬ শতাংশ। এতে এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটের মাধ্যমে ঋণ বিতরণের গতি বৃদ্ধি পেয়েছে। ৩০টি ব্যাংকের মধ্যে ২৩টি ব্যাংক ঋণ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বিতরণ করা মোট ঋণের ৬৪ দশমিক ১৭ শতাংশ বা ২৬২,২৬৩.৯৯ মিলিয়ন টাকা গ্রামীণ এলাকার গ্রাহকরা পেয়েছেন। তবে নারীরা পেয়েছেন মাত্র ৫২,০০২.০৬ মিলিয়ন টাকা বা মোট ঋণের ১২ দশমিক ৭২ শতাংশ। প্রতিবেদনে নারীদের ঋণপ্রাপ্তির সুযোগ বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা প্রতীয়মান হয়েছে।
এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে দেশে আসা রেমিট্যান্স বিতরণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা অব্যাহত রয়েছে। জুন শেষে এজেন্টদের মাধ্যমে বিতরণ করা মোট অভ্যন্তরীণ রেমিট্যান্সের পরিমাণ ২,১৪৯.০৪১ মিলিয়ন টাকা। আগের প্রান্তিকের তুলনায় এই পরিমাণ ১ দশমিক ৭৬ শতাংশ এবং এক বছরের ব্যবধানে ১৬ দশমিক ৮৭ শতাংশ বেড়েছে।
এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বিতরণ করা মোট রেমিট্যান্সের ৯০ দশমিক ৪৪ শতাংশ গ্রামীণ এলাকার সুবিধাভোগীরা পেয়েছেন। এতে দেশের বড় শহরগুলোর বাইরে বসবাসকারী মানুষের কাছে রেমিট্যান্স পৌঁছানোর ক্ষেত্রে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের গুরুত্ব স্পষ্ট হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার ব্যাংকিং সুবিধাবঞ্চিত জনগণের কাছে ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দিয়ে এজেন্ট ব্যাংকিং আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ঋণ-আমানত অনুপাত বৃদ্ধির ফলে উদ্যোক্তাদের জন্য অর্থায়নের সুযোগ বাড়ছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে কটেজ, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ (সিএমএসএমই) এবং নারী উদ্যোক্তাদের ঋণ প্রদানের পাশাপাশি প্রান্তিক জনগণের জন্য পুনঃঅর্থায়ন স্কিম বাস্তবায়নে ব্যাংকগুলোকে উৎসাহিত করছে।
এজেন্ট ব্যাংকিং উদ্যোক্তা হিসেবেও নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ছে। ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ২৮টি ব্যাংক ১ হাজার ৭৭৬ জন নারী উদ্যোক্তার মালিকানাধীন ২ হাজার ১০৬টি আউটলেটের মাধ্যমে সেবা দিচ্ছিল।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নারী উদ্যোক্তাদের মালিকানাধীন আউটলেটগুলো দেশের মোট এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটের ১০ দশমিক ২২ শতাংশ। এসব আউটলেটে ২৩ লাখ ৪০ হাজার হিসাব রয়েছে, যার মধ্যে ১৯ লাখ ৪০ হাজার হিসাব গ্রামীণ এলাকার গ্রাহকদের।
বাংলাদেশে ব্যাংক ২০১৩ সালে এজেন্ট ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু করে। ভৌগোলিকভাবে দুর্গম এলাকায় বসবাসকারী জনগণের কাছে ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দেওয়ার বিকল্প মাধ্যম হিসেবে এই ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হয়। এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটের মাধ্যমে গ্রাহকরা আমানত, ঋণ, রেমিট্যান্স, বিভিন্ন ধরনের বিল পরিশোধ এবং সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা গ্রহণ করতে পারেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন