০৬:৪১ পি.এম
গ্রামাঞ্চলে দীর্ঘ সময় ধরে চলা লোডশেডিংয়ের প্রেক্ষিতে, বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ স্থাপনায় হামলা এবং ভাঙচুরের তথ্য তুলে ধরে ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি নিরাপত্তা চেয়ে পুলিশকে একটি চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশন।
বুধবার (১২ আগস্ট) এ সংগঠনটির দপ্তর সম্পাদক মাহবুবুর রহমান স্বাক্ষরিত চিঠিটি পুলিশের মহাপরিদর্শক-আইজিপির কাছে প্রেরণ করা হয়েছে। পল্লী বিদ্যুতের একজন কর্মকর্তা গণমাধ্যমের কাছে চিঠিটি পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চত করেছেন।
পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশনের চিঠিতে উল্লেখ করা হয় যে, জ্বালানি সংকট ও তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন চাহিদার সাথে সঙ্গতি রাখছে না। তাই বিদ্যুতের সরবরাহ কমে গেছে। বিশেষ করে পল্লী বিদ্যৎ সমিতির আওতাধীন গ্রাম অঞ্চলে অতিরিক্ত লোডশেডিং হচ্ছে, যার ফলে এসব এলাকায় 'জনরোষ বৃদ্ধি পাচ্ছে'।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
নিরাপত্তার কারণে কিছু এলাকায় বিদ্যুতের উপকেন্দ্র ও কার্যালয়ে হামলার শিকার হওয়ার চিত্রও চিঠিটি তুলে ধরেছে।
গত কয়েক দিনে ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সম্মিলিত গড় চাহিদা ছিল ৮ থেকে ৯ হাজার মেগাওয়াটের মতো। কিন্তু এর বিপরীতে গড়ে মাত্র ৫ থেকে ৬ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে, যা চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর ফলে, কিছু কিছু এলাকায় দিনে ৮ ঘণ্টা, ১০ ঘণ্টা এমনকি ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে। দীর্ঘ সময় ধরে লোডশেডিংয়ের কারণে সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে পল্লী বিদ্যুতের উপকেন্দ্রে হামলা এবং ভাঙচুর ঘটাচ্ছে।
এ পরিস্থিতিতে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিরাপত্তাহীনতা এবং আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। তাই, প্রতিটি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন গ্রিড, উপকেন্দ্র ও কার্যালয়ে নিরাপত্তা জোরদার করতে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে আইজিপিকে।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
চলমান বিদ্যুৎ সংকটের জন্য গ্যাসের ঘাটতি অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, বলছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। সেই দিন সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সাথে তিনি বলেন যে, পর্যাপ্ত গ্যাস না পাওয়া গেলে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো প্রয়োজন অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম হবে না।
প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন যে, বঙ্গোপসাগরের বৈরী পরিস্থিতির কারণে সামিটের ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে নতুন এলএনজি খালাস করা সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে, দুর্ঘটনার পর এক্সেলারেট এনার্জির এলএনজি টার্মিনালও এখনও পুরো সক্ষমতায় চালানোর সুবিধা পাচ্ছে না।
তিনি আরো উল্লেখ করেন, এক্সেলারেট টার্মিনাল থেকে এখনো ফুল ক্যাপাসিটির কাজ করা যাচ্ছে না। দেশি উৎপাদন রাতারাতি বৃদ্ধি করা সম্ভব নয়, এটি একটা পরিস্থিতি যা আমরা সবাই জানি। এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি ব্যাপার।
আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন