প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
স্থানীয় বাসিন্দা ও দমকলকর্মীদের মতে, ইসরাইলি সামরিক বাহিনী ইচ্ছাকৃতভাবে দক্ষিণ লেবাননে দাবানল সৃষ্টি করছে। তাদের অভিযোগ, ইসরাইলের বোমা হামলা ও ড্রোন হামলার ফলস্বরূপ বনাঞ্চল পুড়ে যাচ্ছে। আজ বুধবার (১২ আগস্ট) দ্য গার্ডিয়ানের একটি প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো জানাচ্ছে, দীর্ঘকাল ধরেই ইসরাইল লেবাননের প্রাকৃতিক পরিবেশকে লক্ষ্যবস্তু করার চেষ্টা চালিয়ে আসছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোর দাবানল সেই দীর্ঘমেয়াদি কৌশলেরই একটি অংশ।
গত মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দক্ষিণ লেবননের খিয়ামের বাইরে একটি বনাঞ্চলে ইসরাইলি বাহিনী ফ্লেয়ার নিক্ষেপ করার পর সেখানকার পরিবেশে আগুন লেগে যায়। দমকলকর্মীরা যখন আগুন নিভানোর চেষ্টা করছিলেন, তখন কাছাকাছি এলাকায় আবারও ড্রোন হামলা চালায় ইসরাইল। নিরাপত্তার কারণে দমকলকর্মীদের ঘটনাস্থল থেকে সরে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
নাবাতিয়েহ অঞ্চলের বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের প্রধান হুসেইন ফাকিহ এসব তথ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এখন আমাদের বেশিরভাগ অভিযানই আগুন নিভানোর জন্য হচ্ছে। ইতোমধ্যে বিশাল পরিমাণ বনাঞ্চল পুড়ে গেছে। যদিও সঠিক পরিসংখ্যান নেই, তবে ফ্রন্টলাইনের কাছাকাছি অবস্থিত অঞ্চলের প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ জমি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
গত ১৭ জুন হিজবুল্লাহ ও ইসরাইলের মধ্যে আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি হয়ে গেলেও ইসরাইলি হামলার ঘটনা থামছে না। প্রায় দুই মাস পেরিয়ে গেলেও দক্ষিণ লেবাননে প্রায় প্রতিদিনই আগুন ও দাবানলের ঘটনা ঘটছে, বিশেষত জলপাইবাগান ও কৃষিজমিতে এসব আগুন লাগছে।
দমকলকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের পোস্ট করা ভিডিও এবং আনুষ্ঠানিক বক্তব্যেও দাবানলের ব্যাপারে প্রতীকী তথ্য দেখা যায়। দাবানলের বিষয়ে ইসরাইলের সামরিক বাহিনীর বক্তব্য জানতে চাওয়া হলেও তারা কোনো এক ধরনের জবাব দেয়নি।
ফাকিহ বলেন, যুদ্ধবিরতির পরপরই তারা এসব কার্যক্রম শুরু করেছে। প্রতিদিন অগ্নিসংযোগকারী বোমা ব্যবহার করছে। ছোট ড্রোন এসে দাহ্য পদার্থ নিক্ষেপ করে। বনাঞ্চলে সাদা ফসফরাসের গোলা নিক্ষেপ করা হয়। দিনের বেলায় আলোকসৃষ্টিকারী ফ্লেয়ারও নিক্ষেপ করা হয়, যা গাছপালায় আগুন লাগাতে সাহায্য করে।
দক্ষিণ লেবাননের অন্যান্য অঞ্চলের দমকলকর্মী ও বাসিন্দারাও একই ধরনের অভিযোগ করেছেন। শুক্রবার কাফারচৌবা এবং জেজিন ও পশ্চিম বেকা উপত্যকার মধ্যবর্তী দুটি ঘন বনাঞ্চলে ইসরাইলি গোলাবারুদ ব্যবহার করে বড় ধরনের দাবানল সৃষ্টি হয়েছে।
কাফারচৌবার বেসামরিক প্রতিরক্ষা কেন্দ্রের প্রধান সামির হারদান জানিয়েছেন, শুক্রবার বিকেলে একটি ড্রোন বনাঞ্চলে গোলাবারুদ ফেললে সেখানে আগুন ধরে যায়। শনিবার আগুন নিভানোর পর রোববার আবারও আরেকটি ড্রোন সেখানে আগুন লাগায়।
দমকলকর্মীদের কার্যক্রম পরিচালনার আগে লেবাননের সেনাবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করা প্রয়োজন হয়। সেনাবাহিনী সেই অনুরোধটি ইসরাইলি বাহিনী ও সংঘাত এড়ানোর সমন্বয়কারী দলের কাছে পাঠায়। তবে আগুন নেভানোর জন্য মাত্র দুটি স্থানে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। অন্যান্য এলাকাগুলিতে আগুন জ্বললেও সেখানে যেতে দেওয়া হয়নি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন