ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বাংলাদেশি ব্যবসায়ী শরিফুলের ‘অপহরণ নাটক’ ফাঁস, কায়রোতে বিপাকে নিরীহ প্রবাসীরা


বাংলাদেশি ব্যবসায়ী শরিফুলের ‘অপহরণ নাটক’ ফাঁস, কায়রোতে বিপাকে নিরীহ প্রবাসীরা

বাংলাদেশি ব্যবসায়ী শরিফুল ইসলামের কথিত অপহরণের নাটক অবশেষে কায়রোর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। দেশে এক কোটি টাকারও বেশি ঋণের বোঝা এড়াতে এবং পাওনাদারদের হাত থেকে বাঁচতেই শরিফুল মিসরে এসে এই অপহরণের নাটক মঞ্চস্থ করেছিলেন বলে আদালতে ও তদন্তকারীদের কাছে নিজেই স্বীকার করেছেন।

তবে এই সাজানো ঘটনার কারণে মিসরের ন্যাশনাল সিকিউরিটির চিরুনি অভিযানে চরম হয়রানির শিকার হয়েছেন বেশ কয়েকজন নিরীহ বাংলাদেশি প্রবাসী।

ঋণের বোঝা এড়াতে ‘মানসিক বিকারগ্রস্ততার’ নাটক

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

অনুসন্ধানে জানা যায়, কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার বুড়াপাড়া গ্রামের আয়নাল হকের ছেলে শরিফুল ইসলাম দেশে একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ছিলেন। কিন্তু ব্যবসায়িক লোকসানের কারণে তিনি প্রায় এক কোটি টাকারও বেশি ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন। পাওনাদারদের হাত থেকে বাঁচতে তিনি মিসরে আসার সিদ্ধান্ত নেন। তাকে মিসরে আসার ব্যাপারে সহযোগিতা করেন নাসিমা আক্তার নামের এক নারী।

সে সময় শরিফুল অভিযোগ করেছিলেন, প্রায় ছয় মাস আগে ঢাকার কাস্টমস অফিসে মিসরপ্রবাসী নাসিমা আক্তার নামে এক নারীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। ওই নারী মিসর থেকে কমলা, খেজুর, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানির ব্যবসার সুযোগ রয়েছে বলে তাকে জানান। একইসঙ্গে দূতাবাস থেকে ভিসার প্রয়োজন নেই জানিয়ে শ্রীলঙ্কা হয়ে ‘ওকে-টু-বোর্ড’ ভিসায় কায়রো আসার পরামর্শ দেন এবং সব ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দেন।

শরিফুলের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, পরিকল্পনা ছিল মিসরে পৌঁছানোর পর তিনি নাসিমাকে যাতায়াত ও অন্যান্য খরচ বাবদ পেমেন্ট করবেন। কায়রো এয়ারপোর্টে পৌঁছানোর পর নাসিমার পরিচিত ব্যক্তিরা তাকে সাদর অভ্যর্থনা জানান। নাসিমা তাকে রান্না করে খাওয়ান এবং পরদিন সকালে একটি কারখানায় কাজের ব্যবস্থাও করে দেন। কিন্তু পূর্বপ্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পেমেন্ট না করে, ওই রাতেই (রাত ২টায়) সাদাত সিটির বেলকু ফ্যাক্টরি থেকে কৌশলে পালিয়ে যান শরিফুল।

পরবর্তীতে এই প্রতিবেদক ও কায়রো আদালতের ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে শরিফুল স্বীকার করেন যে, তিনি ভেবেছিলেন মিসরে গিয়ে অপহরণের নাটক সাজালে দেশের পাওনাদাররা তাকে ভুলে যাবে এবং নিজেকে মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত প্রমাণ করে তিনি পার পেয়ে যাবেন।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

ভুল তথ্যে কায়রো গোয়েন্দা বাহিনীর চিরুনি অভিযান

শরিফুল পালিয়ে যাওয়ার পর পুলিশে অভিযোগ দায়ের করলে কায়রোর গোয়েন্দা বিভাগ (আমান উদ দৌলা) মাদি এলাকায় একটি চিরুনি অভিযান চালায়। শরিফুল আরবি ভাষা না জানায়, অভিযানের সময় তিনি যাকে দেখেই ইশারা করেছেন বা মাথা নাড়িয়েছেন, তাকেই পুলিশ আটক করে। এভাবে মোট ৭ জন নিরীহ বাংলাদেশিকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে ৩ জনকে ছেড়ে দেওয়া হলেও বাকি ৪ জনকে মাদি থানায় আটকে রাখা হয়।

পরবর্তীতে শরিফুলসহ আটককৃতদের কায়রো ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে হাজির করা হলে আদালত সবাইকে জামিন দেন। তবে বিদেশি নাগরিক হওয়ায় থানা থেকে সম্পূর্ণ মুক্তি পেতে মিসরের ‘ন্যাশনাল সিকিউরিটি’ বা জাতীয় নিরাপত্তা বিভাগের ছাড়পত্রের প্রয়োজন হয়। কায়রোর ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট কথিত বাদী শরিফুলের মিথ্যাচারের জন্য তাকে বড় অঙ্কের জরিমানা করতে চাইলে এই প্রতিবেদকের বিশেষ অনুরোধে আদালত জরিমানামওকুফ করে তাকে অবিলম্বে দেশত্যাগের নির্দেশ দেন।

নেপথ্যে ছিল মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার চিঠি

আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত

এই পুরো ঘটনার পেছনে প্রভাব বিস্তার করেছিল ঢাকা থেকে পাঠানো একটি সরকারি সুপারিশনামা। শরিফুলের আপন মামাতো ভাই, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপসচিব এবং পরিচালক (প্রশাসন ও উন্নয়ন) মো. সাইদুর রহমান স্বাক্ষরিত একটি চিঠি কায়রোস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে পাঠানো হয়। ওই চিঠিতে দাবি করা হয়েছিল, কুষ্টিয়ার শরিফুলকে কায়রো বিমানবন্দর থেকে ৪-৫ জন বাংলাদেশি অপহরণ করেছে এবং তার সঙ্গে থাকা ৪৫ হাজার মার্কিন ডলার ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাকে দ্রুত উদ্ধার করে দেশে পাঠানোর সুপারিশ করা হয় চিঠিতে। এই চিঠির পরই নড়েচড়ে বসে বাংলাদেশ দূতাবাস। দূতাবাস স্থানীয় থানায় অভিযোগ দায়ের করলে মিসরের ন্যাশনাল সিকিউরিটি তদন্তে নামে এবং শরিফুলকে সহায়তাকারী নিরীহ প্রবাসীদের গ্রেফতার করে।

শেষরক্ষা হলো না নির্দোষ প্রবাসীদের, সবারই ভিসা বাতিল

এই মিথ্যা অপহরণ নাটকের বলি হয়ে শেষ পর্যন্ত চারজন প্রবাসীকেই মিসর ছাড়তে হয়েছে। গত ৮ জুলাই অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে শরিফুল ইসলামসহ অভিযুক্ত সাজানো অপহৃতা নাসিমা আক্তার এবং শফিকুল ইসলাম রিপন নামের এক শ্রমিককে দেশে ফেরত পাঠায় মিসরের ন্যাশনাল সিকিউরিটি। বেলকু ফ্যাক্টরির বাংলাদেশিদের দায়িত্বশীল ‘মুদির’ (ম্যানেজার) জজ মিয়াকে তদন্তের স্বার্থে রেখে দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে গত ১৪ জুলাই তাকেও মিসরে বৈধ বসবাসের অনুমতি (বিজনেস ভিসা) বাতিল করে বাংলাদেশে ডিপোর্ট করা হয়।

শরিফুলের ইউ-টার্ন

আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়ে ৪, হাসপাতালে ভর্তি ১৮৫১ জন

মিসর ত্যাগ করার দিন শরিফুল ইসলাম একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে সম্পূর্ণ ঘটনার দায় স্বীকার করে বলেন, আসলে এসব নাটক করার কোনো ইচ্ছে আমার ছিল না। এক গণমাধ্যমকর্মীর খপ্পরে পড়ে আমি এই ভুল কাজগুলো করেছি। আমি আমার ভুলের জন্য সবার কাছে ক্ষমা চাচ্ছি।

নীরব ভূমিকায় বাংলাদেশ দূতাবাস

পুরো ঘটনার বিষয়ে এবং সরকারের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার চিঠির ভিত্তিতে নির্দোষ প্রবাসীদের হয়রানি ও বিতাড়নের বিষয়ে জানতে কায়রোস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রধান আতাউল হক এবং কাউন্সিলর জাকির হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তারা কল ধরেননি এবং পরবর্তীতে খুদে বার্তারও কোনো জবাব দেননি।

আরও পড়ুন: প্রাথমিক শিক্ষা সংস্কারে ৫ বিষয়ে অগ্রাধিকার ঘোষণা প্রতিমন্ত্রীর

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের হাতে উঠছে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়নশিপ রিং

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শুক্রবার, ১৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:৫২ পি.এম


বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের হাতে উঠছে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়নশিপ রিং

ফুটবল বিশ্বকাপে সাধারণত চ্যাম্পিয়ন দলের জন্য ট্রফির পাশাপাশি মেডেল প্রদান করা হয়। কিন্তু এবার ফিফা অন্য পুরস্কারের ব্যবস্থা করেছে। এবারই প্রথম চ্যাম্পিয়ন দলকে ‘চ্যাম্পিয়নশিপ রিং’ প্রদান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফিফা।

যুক্তরাষ্ট্রের এনবিএ, এনএফএল কিংবা এমএলবির মতো প্রখ্যাত লিগগুলোতে চ্যাম্পিয়নশিপ রিংয়ের ঐতিহ্য দীর্ঘকাল ধরে প্রচলিত রয়েছে। এবারের বিশ্বকাপে এই চ্যাম্পিয়নশিপ রিং প্রথার যাত্রা শুরু হলো।

ফিফার ওয়েবসাইট অনুযায়ী, চ্যাম্পিয়নশিপ রিংয়ের ব্যাপারে বলা হয়েছে, বিশ্বকাপের বছরটিকে স্মরণীয় করে রাখতে মোট ২ হাজার ২৬টি রিং প্রস্তুত করা হবে। এর মধ্যে মাত্র ৩০টি রিং থাকবে চ্যাম্পিয়ন দলের খেলোয়াড় এবং কোচিং স্টাফদের জন্য নির্ধারিত। বাকি ১ হাজার ৯৯৬টি রিং হবে অফিশিয়াল লাইসেন্সপ্রাপ্ত পণ্য, যা বিশ্বজুড়ে সমর্থকদের জন্য বাজারে উপলব্ধ করা হবে।

রিংয়ের এক পাশে থাকবে বিশ্বকাপ ট্রফির নকশা, অন্য পাশে থাকবে চ্যাম্পিয়ন দলের পরিচয়, রং এবং তাদের প্রতীক। বিজয়ী দলের জন্য প্রস্তুত প্রতিটি রিং থাকবে আলাদা সিরিয়াল নম্বরযুক্ত। সবার আঙুলের মাপ অনুযায়ী তৈরি হবে রিং, যা সত্যায়নপত্রের সঙ্গে যুক্ত থাকবে।

ফাইনাল পরবর্তী পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানেই বিজয়ী দলের অধিনায়ক এবং প্রধান কোচকে স্মারক হিসেবে অস্থায়ী রিং প্রদান করা হবে। এরপর খেলোয়াড় ও স্টাফদের সঠিক মাপ অনুযায়ী ৩০টি রিং প্রস্তুত করে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের হাতে পরানো হবে।

এবারের বিশ্বকাপ ফাইনালে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা মুখোমুখি হবে স্পেনের। আগামী ১৯ জুলাই রাত ১টায় নিউ ইয়র্ক জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে এই বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ। এবং এ ম্যাচে বিজয়ী দলের খেলোয়াড়দের হাতে চ্যাম্পিয়নশিপ রিং পরানো হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জুরাছড়ির বন্যাকবলিত মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণে এমপি দীপেন দেওয়ান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:৫৩ পি.এম


জুরাছড়ির বন্যাকবলিত মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণে এমপি দীপেন দেওয়ান

ভারী বর্ষণ এবং প্লাবনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত রাঙ্গামাটির দুর্গম জুরাছড়ি এলাকা পরিদর্শন করেছেন রাঙ্গামাটি-২৯৯ আসনের সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান।

এদিন (শুক্রবার) সকালে তিনি প্লাবিত এলাকা, আশ্রয়কেন্দ্র এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খোঁজখবর নেন। তিনি সাথে সাথে তাদের হাতে ত্রাণ সহায়তা তুলে দেন।

দীপেন দেওয়ান পরিদর্শনকালে বলেন, "দুর্যোগে পাহাড়ের প্রতিটি মানুষের পাশে সরকার আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।" তিনি যোগ করেন, "ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।"

দীপেন আরও বলেন, "দুর্যোগ সাহসিকতার সঙ্গে মোকাবিলা করতে হবে।" যেসব কৃষকের জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের জন্য বিশেষ প্রণোদনার ব্যবস্থা করা হবে, যাতে কৃষি কার্যক্রম দ্রুত পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়। তিনি অবশ্যই বলেন, "পার্বত্য অঞ্চলের প্রতিটি কৃষক ও সাধারণ মানুষের পাশে সরকার সবসময় থাকবে।"

পরে দীপেন দেওয়ান উপজেলা পরিষদে তাঁর কার্যালয়ে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। ওই সময় বন্যা পরিস্থিতি, ত্রাণ কার্যক্রম এবং ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

পরিদর্শনকালে জুরাছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব দাস, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সাইফুল ইসলাম পনির, জিয়া পরিষদ সোনালী ব্যাংক পিএলসির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সুভাষ চন্দ্র চাকমা, জেলা তাঁতী দলের আহ্বায়ক মো. শফি, ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর সুমন, যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক মো. নাজিম উদ্দিনসহ উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬: কার ঘরে লাভ, কার কাঁধে ক্ষতির বোঝা?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শুক্রবার, ১৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:৫৭ পি.এম


বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬: কার ঘরে লাভ, কার কাঁধে ক্ষতির বোঝা?

আগের যেকোনো আসরের তুলনায় এবারের বিশ্বকাপটি সবচেয়ে বড়। অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাচও বেড়েছে। ফলে দর্শকসংখ্যার বৃদ্ধির পাশাপাশি শত শত কোটি ডলারের বাণিজ্যও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

তবে এই বিশাল আর্থিক আয়ের ভাগ সবাই সমানভাবে পাচ্ছেন না। কেউ বিপুল লাভবান হচ্ছেন, আবার কেউ আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা বিশ্বকাপ থেকে সবচেয়ে বেশি আয় করছে। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ থেকে ফিফা রেকর্ড ৭.৬ বিলিয়ন ডলার আয়ে পৌঁছেছিল। ২০২৬ সালের যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো বিশ্বকাপে ৪৮টি দলের অংশগ্রহণের ফলে সেই আয় আরও বৃদ্ধি পাবে বলেই আশা করা হচ্ছে।

ডয়চে ব্যাংক রিসার্চের সিনিয়র স্ট্র্যাটেজিস্ট ম্যারিয়ন লাবোর বলেছেন, চার বছরে ফিফার মোট আয় প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। সম্প্রচার স্বত্ব, লাইসেন্সিং, আতিথেয়তা, স্পনসরশিপ, টিকিট বিক্রি এবং নিজস্ব পুনঃবিক্রয় প্ল্যাটফর্ম থেকে এই আয় আসে। পুনঃবিক্রয় প্ল্যাটফর্মে ফিফা ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের কাছ থেকে ১৫ শতাংশ ফি নেয়।

ভবিষ্যতে বিশ্বকাপ ৬৪ দলে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে চীন ও ভারতের মতো বড় বাজার যুক্ত হলে দর্শক ও আয়; দুটিই আরও বাড়বে।

বিশ্বকাপ দেখার স্বপ্ন পূরণ হলেও, দর্শকদের জন্য এটি বেশ ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে। টিকিটের উচ্চ মূল্য এবং চাহিদা অনুযায়ী মূল্য বৃদ্ধির ফিফার নীতির বিষয়ে সমালোচনা করা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বলেন, প্যারাগুয়ের বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বোধনী ম্যাচের সম্ভাব্য এক হাজার ডলারের টিকিট তিনি কিনতেন না।

নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফাইনালের অফিসিয়াল টিকিটের মূল্য ছিল ৩২ হাজার ৯৭০ ডলার। কিছু পুনঃবিক্রয় টিকিটের দাম ২০ লাখ ডলারেরও বেশি ছিল। এ ছাড়া বিমানভাড়া, হোটেল ও খাবারের খরচ দর্শকদের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।

নিউ জার্সিতে মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ৩০ মিনিটের ট্রেন যাত্রার ফিরতি ভাড়া ১২.৯০ ডলার থেকে ১৫০ ডলারে উন্নীত হয়েছিল। পরে সমালোচনার মুখে তা কমানো হলেও, এটি আগের চেয়ে বেশি ছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বকাপ সম্প্রচারের জন্য সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করলেও, দর্শকসংখ্যা ও স্পনসরদের আগ্রহের কারণে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে তারা বিপুল আয় করছে। এবারের বিশ্বকাপে ফিফা প্রথমবারের মতো হাইড্রেটিং ব্রেক চালু করেছে।

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এটিকে পুরোপুরি খেলোয়াড়দের স্বার্থে নেয়া সিদ্ধান্ত বলছেন এবং দাবি করছেন, এর মাধ্যমে ফিফা অতিরিক্ত কোনো রাজস্ব আয় করছে না।

কিন্তু খেলোয়াড়দের পানি পানের জন্য দেয়া ৯০ সেকেন্ডের বিরতি সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠান ও স্পনসরদের জন্য নতুন বাণিজ্যিক সুযোগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে, যেখানে দর্শকরা বিজ্ঞাপন বিরতির সঙ্গে অভ্যস্ত।

মার্কিন সম্প্রচারকারী ফক্স স্পোর্টস, যারা বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্বের জন্য প্রায় ৪৮৫ মিলিয়ন ডলার দিয়েছে, তারা এই হাইড্রেটিং ব্রেককে স্পনসরকৃত বিরতি হিসেবে ব্যবহার করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ফক্সে বিশ্বকাপ চলাকালে ৩০ সেকেন্ডের একটি বিজ্ঞাপনের গড় মূল্য ২ থেকে ৩ লাখ ডলার। শেষ দিকের মার্কিন ম্যাচগুলোতে এই মূল্য ৭ লাখ ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত পৌঁছায়। ফলে শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রে হাইড্রেটিং ব্রেকের বিজ্ঞাপন থেকে প্রায় ২৫০ মিলিয়ন ডলার আয় হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ডয়চে ব্যাংক রিসার্চের ম্যারিয়ন লাবোর বলেন, পানি পানের বিরতিগুলো এখন মূলত বিজ্ঞাপনের একটি মাধ্যম হয়ে উঠেছে। ভবিষ্যতেও এই বিরতি চালু থাকবে, কারণ বড় পরিসরের আয়োজনই এখন ফিফার ব্যবসায়িক কৌশলের অংশ।

তবে যুক্তরাজ্যের বিবিসি ও আইটিভিতে খেলা দেখা দর্শকরা এই বিরতির সময় বিজ্ঞাপন দেখেননি। কারণ বিবিসিতে কোনো বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন প্রচার করা হয় না এবং আইটিভিও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিজ্ঞাপনের সংখ্যা সীমিত রাখে।

অন্যদিকে অ্যাডিডাস, কোকা-কোলাসহ বিশ্বকাপের আনুষ্ঠানিক স্পনসররা নিজেদের ব্র্যান্ড প্রচারের জন্য বিপুল অর্থ ব্যয় করলেও, ব্যাপক প্রচারণার মাধ্যমে তারা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে।

জার্মান ক্রীড়াসামগ্রী নির্মাতা অ্যাডিডাস, প্রতিদ্বন্দ্বী নাইকির সঙ্গে প্রতিযোগিতায় লামিন ইয়ামাল, জুড বেলিংহ্যাম ও লিওনেল মেসিকে নিয়ে নির্মিত 'ব্যাকইয়ার্ড লেজেন্ডস' বিজ্ঞাপনের জন্য প্রায় ৫ কোটি পাউন্ড ব্যয় করেছে।

তবে ফিফা স্টেডিয়ামের ভেতরে অনানুষ্ঠানিক ব্র্যান্ডের উপস্থিতি কমানোর চেষ্টা করলেও, কিছু ব্র্যান্ড পরোক্ষভাবে প্রচার পেয়েছে। যেমন, সান ফ্রান্সিসকোর লেভিস স্টেডিয়ামের বাইরে থাকা লেভিস ব্র্যান্ডের লোগো আলোচনায় আসে।

বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক সফলতার আরেকটি বড় নাম ইংল্যান্ডের সাবেক তারকা ডেভিড বেকহ্যাম। অ্যাডিডাসের বিজ্ঞাপনে তাঁর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি সংস্করণ ব্যবহার করা হয়েছে।

হোম ডিপো থেকে শুরু করে ব্যাংক অব আমেরিকাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনে নিয়মিত দেখা যায় তাঁকে। অবসরের এক দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও, বেকহ্যাম এখনও যুক্তরাষ্ট্রে ফুটবলের অন্যতম বড় মুখ।

তাঁর সহ-মালিকানাধীন ক্লাব ইন্টার মায়ামি বর্তমানে প্রায় ১.৪৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যে মেজর লিগ সকারের সবচেয়ে মূল্যবান ফ্র্যাঞ্চাইজি হিসেবে বিবেচিত। মাঠে বিশ্বকাপ জিততে না পারলেও, মাঠের বাইরে বাণিজ্যিক দুনিয়ায় ডেভিড বেকহ্যাম নিঃসন্দেহে বড় বিজয়ী।

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর ১৬টি আয়োজক শহরে বিশ্বকাপ উপলক্ষে বিপুলসংখ্যক দর্শক ও পর্যটক এসেছে। এতে আতিথেয়তা, হোটেল এবং স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যে সাময়িক গতি ফিরেছে।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সুফল দীর্ঘমেয়াদে তেমন প্রভাব ফেলবে না। স্কটল্যান্ডের সমর্থকেরা বোস্টনে ব্যাপক উপস্থিতি দেখিয়ে শহরের অর্থনীতিতে সাময়িক প্রভাব ফেললেও, দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক লাভ সীমিত বলেই মনে করছেন তারা।

ফিফার হিসাবে, বিশ্বকাপের মাধ্যমে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রায় ৪১ বিলিয়ন ডলার যুক্ত হবে। এর মধ্যে শুধু যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতেই যোগ হবে প্রায় ১৭ বিলিয়ন ডলার। পাশাপাশি আতিথেয়তা ও আবাসন খাতে প্রায় ১ লাখ ৮৫ হাজার নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে।

তবে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট প্র্যাকটিসের ফেলো এবং অক্সফোর্ড গ্লোবাল প্রজেক্টসের প্রধান নির্বাহী আলেকজান্ডার বুডজিয়ার বলেন, এত বড় ক্রীড়া আয়োজনের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সুফল সাধারণত বাস্তবে দেখা যায় না। বিশ্বকাপ চলাকালে অনেক পর্যটক ভিড় ও বিশৃঙ্খলা এড়ানোর জন্য ওই শহরগুলোতে ভ্রমণ করেন না। ফলে প্রত্যাশিত পর্যটক প্রবাহ তৈরি হয় না। যে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়, তার বেশিরভাগই আতিথেয়তা খাতের স্বল্প বেতনের চাকরি। এটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে, কিন্তু সম্পদ তৈরি করে না।

সরকারি তথ্যেও দেখা গেছে, টুর্নামেন্ট শুরুর আগে মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের পাব, বার ও রেস্তোরাঁয় কর্মী নিয়োগ বেড়ে গিয়েছিল। তবে সেই প্রবৃদ্ধি ছিল অল্প সময়ের জন্য। আর বুডজিয়ারের মতে, বড় ক্রীড়া আসরের প্রকৃত অর্থনৈতিক সুফল এসে থাকে পুনর্গঠন ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প থেকে। যেমন, ২০১২ সালের অলিম্পিকের পর লন্ডনের স্ট্র্যাটফোর্ড এলাকায় পুনর্নির্মাণ ও আবাসন প্রকল্প।

কিন্তু এবারের বিশ্বকাপে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিদ্যমান স্টেডিয়াম, হোটেল, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও পরিবহন অবকাঠামো ব্যবহৃত হয়েছে। ফলে নতুন উন্নয়ন প্রকল্প থেকে উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক সুবিধা পাওয়ার সুযোগ খুবই সীমিত।

বিশ্বকাপ ঘিরে হোটেল খাতও প্রত্যাশিত ব্যবসা পায়নি। শিল্পসংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় এবার অনেক আয়োজক শহরেই হোটেল বুকিং কম হয়েছে।

ব্রিটিশ কলাম্বিয়া হোটেল অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে সাতটি ম্যাচ আয়োজন হলেও জুন ও জুলাই মাসে হোটেল বুকিং আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম ছিল। বিশ্বকাপ মানে টানা ৪০ দিন হোটেল পূর্ণ থাকে না। বরং নির্দিষ্ট ম্যাচের দিনগুলোতেই চাহিদা বাড়ে।

যুক্তরাষ্ট্রের হোটেল মালিকরাও প্রত্যাশিত সাড়া পাননি। আমেরিকান হোটেল অ্যান্ড লজিং অ্যাসোসিয়েশন (এএইচএলএ) অভিযোগ করেছে, ফিফা নিজেদের ব্যবহারের জন্য অতিরিক্ত কক্ষ ব্লক বুকিং করে কৃত্রিম চাহিদা তৈরি করেছে। যদিও ফিফা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

ডয়চে ব্যাংক রিসার্চের ম্যারিয়ন লাবোর বলেন, ১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপেও একই ধরনের পরিস্থিতি দেখা গিয়েছিল। এপ্রিল মাসেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৮০ শতাংশ হোটেল মালিক জানিয়েছিলেন, বুকিং তাদের প্রত্যাশার চেয়ে কম। নিউইয়র্কের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ এবং সিয়াটলের প্রায় ৮০ শতাংশ হোটেল মালিকও একই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। অনেকেই বিশ্বকাপকে তাদের ব্যবসার জন্য 'অপ্রাসঙ্গিক ঘটনা' বলেও মন্তব্য করেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া বাজির আসর।

জুয়া শিল্পসংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠান ম্যাকোয়ারির হিসাব অনুযায়ী, পুরো টুর্নামেন্টে প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলারের বাজি ধরা হতে পারে। এর মানে প্রতি ম্যাচে গড়ে প্রায় ৫০ কোটি ডলারের বাজি। এর প্রধান কারণ ৪৮ দলের বিশ্বকাপে ম্যাচের সংখ্যা ২০২২ সালের ৬৪টি থেকে বেড়ে ১০০টিরও বেশি হচ্ছে।

প্যাডি পাওয়ার, বেটফেয়ার ও স্কাই বেটের মালিক ফ্লটার এন্টারটেইনমেন্ট জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিলে বাজার সম্প্রসারণের কারণে আগের বিশ্বকাপের তুলনায় বাজির পরিমাণ দ্বিগুণ হতে পারে।

ম্যাকোয়ারির বিশ্লেষক চ্যাড বেইনন বলেন, এখন ম্যাচ শুরুর আগে বাজি ধরার চেয়ে খেলা চলাকালে তাৎক্ষণিকভাবে বাজি ধরার প্রবণতা অনেক বেশি বেড়েছে। বর্তমানে মাঠে যা ঘটছে, তার ওপর ভিত্তি করে সঙ্গে সঙ্গে সিদ্ধান্ত নেওয়াই মূল বিষয়। আগে মানুষ ম্যাচ শুরুর আগেই বাজি ধরত এবং পরে শুধু খেলা দেখত।

যুক্তরাষ্ট্রে ক্রীড়া বাজি এখনও তুলনামূলক নতুন শিল্প। ২০১৮ সাল পর্যন্ত এটি শুধু নেভাদা অঙ্গরাজ্যে বৈধ ছিল। পরে সুপ্রিম কোর্টের এক রায়ের মাধ্যমে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ক্রীড়া বাজি বৈধ হয়েছে।

কিন্তু ক্যালিফোর্নিয়া ও টেক্সাসসহ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে এখনও এটি অবৈধ। এসব অঞ্চলে বিকল্প হিসেবে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে প্রেডিকশন মার্কেট, যা আইনগতভাবে জুয়ার আওতায় পড়ে না। ফলে যে কোনো অঙ্গরাজ্য থেকেই মানুষ খেলাধুলার ফলাফল নিয়ে অংশ নিতে পারেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফিলিস্তিনি বন্দিদের রাখতে কুমিরঘেরা কারাগারের প্রস্তাব দিলেন ইসরাইলি মন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ১৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:৫৮ পি.এম


ফিলিস্তিনি বন্দিদের রাখতে কুমিরঘেরা কারাগারের প্রস্তাব দিলেন ইসরাইলি মন্ত্রী

ফিলিস্তিনি বন্দিদের জন্য কুমিরবেষ্টিত একটি উচ্চ-নিরাপত্তা কারাগার নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছেন ইসরাইলের কট্টর ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির। এ প্রস্তাবটি ইতোমধ্যে ইসরায়েলি কারা কর্তৃপক্ষ (আইপিএস) সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের অংশ হিসেবে বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন ও ব্যয় নিরূপণের মাধ্যমে পরীক্ষা করছে, এমনটি হিব্রু গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দেখা গেছে।

বেন-গভির এই পরিকল্পনাকে ‘অ্যালিগেটর আলকাট্রাজ’ নাম দিয়েছেন তিনি। তিনি জানান, এই পরিকল্পনাটি যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার এভারগ্লেডস জলাভূমি অঞ্চলের একটি কারাগার থেকে অনুপ্রাণিত এবং সেখানে প্রাকৃতিকভাবে অ্যালিগেটরের (এক প্রজাতির কুমির) উপস্থিতি রয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আজ শুক্রবার (১৭ জুলাই) ইসরাইলের পরিবেশ সুরক্ষামন্ত্রী ইদিত সিলমান নীল নদের কুমিরকে ‘তত্ত্বাবধানে থাকা বন্য প্রাণী’ হিসেবে পুনঃশ্রেণিবদ্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন। এই সিদ্ধান্তের ফলে কারাগার প্রাঙ্গণে পরীক্ষামূলকভাবে কুমির রাখার ব্যবস্থা উন্মুক্ত হবে।

হিব্রু গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, উত্তর ইসরাইলের অধিকৃত গোলান মালভূমির হামাত গাদের এলাকায় এই কারাগার নির্মাণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এখানে প্রায় ২০০ থেকে ২৫০টি কুমির নিয়ে এই অঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ কুমির খামার রয়েছে।

গত ১ জানুয়ারি, ইসরাইলি কারা কর্তৃপক্ষ আইপিএসের উপ-কমিশনারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের একটি প্রতিনিধি দল হামাত গাদের কুমির খামার পরিদর্শন করেছিল। তারা কুমির পালন, খাদ্য ব্যবস্থাপনা, শীতকালীন আচরণ, নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করেন।

হামাত গাদেরের প্রধান নির্বাহী ইয়োসি মুসানেজাদ জানান, এটি ছিল একটি ‘শিক্ষামূলক সফর’। তিনি বলেছেন, ‘খাঁচায় কুমির পালন মোটেও সহজ নয়। এটি কোনো পোষা কুকুর নয়। এর জন্য বিশেষ যত্ন, পানির সঠিক ব্যবস্থাপনা এবং কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রয়োজন।’

বেন-গভির দাবি করেছেন যে এই ব্যবস্থা নিরাপত্তা জোরদার ও পালানোর ঝুঁকি কমানোর ক্ষেত্রে ব্যয়-সাশ্রয়ী হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘একটি ছোট কুমিরের দাম প্রায় ৮ হাজার ডলার এবং বড় কুমিরের দাম প্রায় ২০ হাজার ডলার। প্রয়োজনীয় যে বাজেট লাগবে, আমি তা দিতে প্রস্তুত।’

তবে প্রস্তাবটি মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। মানবাধিকার সংস্থা বিতসেলেম-এর চেয়ারম্যান অরলি নয় একটি মন্তব্যে একে ‘ইসরাইলের বর্তমান নীতির আরেকটি ভয়াবহ ও বিকৃত উদাহরণ’ বলেছেন। তাঁর ভাষায়, ‘ন্যায়বিচারের পথ বেছে নেওয়ার আগে কর্তৃপক্ষ যেন সব ধরনের অমানবিক উপায়ই চেষ্টা করতে প্রস্তুত।’

এই প্রস্তাবকে ঘিরে ইসরাইলের কারা নীতি এবং ফিলিস্তিনি বন্দিদের প্রতি আচরণ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%