ঢাকা শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ক্রিকেট ইতিহাসের সেরা ১০ ব্যাটার কে কে?


ক্রিকেট ইতিহাসের সেরা ১০ ব্যাটার কে কে?

ক্রিকেটের ইতিহাসে খেলার ধরন সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়েছে, নতুন প্রযুক্তির আবির্ভাব ঘটেছে, এবং ব্যাটিংয়ে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে। টেস্টের ধৈর্যশীল ব্যাটিং থেকে ওয়ানডের আগ্রাসী মেজাজ, কিংবা টি-টোয়েন্টির ঝোড়ো ব্যাটিং—এই তিন ফরম্যাটেই অসংখ্য কিংবদন্তি নিজেদের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন।

তবে ক্রিকেট ইতিহাসের সেরা ব্যাটার কারা, সেই আলোচনা আজও সমান জনপ্রিয়। সেরা ব্যাটারের সংজ্ঞা একেকজনের কাছে একেক রকম হতে পারে।

ক্যারিয়ারের রান, ব্যাটিং গড়, সেঞ্চুরি, ধারাবাহিকতা, প্রতিপক্ষের ওপর আধিপত্য এবং ম্যাচ জেতানোর সামর্থ্য বিবেচনায় সর্বকালের সেরা ১০ ব্যাটারের একটি তালিকা তৈরি করা সম্ভব। যদিও এই তালিকা নিয়ে মতভেদ থাকতে পারে, তবুও ক্রিকেট ইতিহাসে কয়েকজন ব্যাটারের শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে বিতর্ক তুলনামূলকভাবে কম। চলুন ক্রিকেট ইতিহাসের সেরা ১০ ব্যাটার সম্পর্কে জানি।

আরও পড়ুন: ক্রিকেটে নতুন প্রযুক্তি ‘সনিক’ আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে সহায়তা করবে

১. ডন ব্র্যাডম্যান (অস্ট্রেলিয়া)

ক্রিকেট ইতিহাসের সর্বকালের সেরা ব্যাটারদের আলোচনায় সবার আগে স্যার ডন ব্র্যাডম্যানের নাম আসে। টেস্ট ক্রিকেটে ৯৯.৯৪ গড় তার অসাধারণ শ্রেষ্ঠত্বের প্রতীক হয়ে রয়েছে। মাত্র ৫২ টেস্টে ৬ হাজার ৯৯৬ রান এবং ২৯টি সেঞ্চুরি করেছেন তিনি। টেস্টে তার এই অবিশ্বাস্য পরিসংখ্যান তাকে ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে অনন্য ব্যাটারদের একজন করে রেখেছে।

২. শচীন টেন্ডুলকার (ভারত)

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দীর্ঘ সময় ধরে ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে শচীন টেন্ডুলকারের তুলনা পাওয়া কঠিন। টেস্ট ও ওয়ানডে মিলিয়ে ৩৪ হাজার ৩৫৭ রান এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১০০টি সেঞ্চুরি তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অর্জন। টেস্টে ১৫ হাজার ৯২১ এবং ওয়ানডেতে ১৮ হাজার ৪২৬ রান করে তিনি দুই ফরম্যাটেই সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন। দুই দশকের বেশি সময় ধরে বিশ্ব ক্রিকেটে নিজের আধিপত্য ধরে রেখেছিলেন এই কিংবদন্তি।

আরও পড়ুন: স্পেনে রাজকীয় আমন্ত্রণে মেসি, আজ গ্রহণ করবেন পুরস্কার

৩. স্যার ভিভ রিচার্ডস (ওয়েস্ট ইন্ডিজ)

আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের সংজ্ঞা বদলে দেওয়া ক্রিকেটারদের মধ্যে ভিভ রিচার্ডস অন্যতম। তার সময়ের বোলারদের ওপর দাপট দেখানোর পাশাপাশি টেস্ট ও ওয়ানডে—দুই ফরম্যাটেই অসাধারণ পারফরম্যান্স করেছেন তিনি। টেস্টে ৮ হাজার ৫৪০ এবং ওয়ানডেতে ৬ হাজার ৭২১ রান করেন রিচার্ডস। আধুনিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের আগ্রাসী ব্যাটিংয়েও তার খেলার ধরন মানানসই হতো বলে মনে করেন অনেক ক্রিকেট বিশ্লেষক।

৪. ব্রায়ান লারা (ওয়েস্ট ইন্ডিজ)

নান্দনিক ব্যাটিং, বড় ইনিংস খেলার ক্ষমতা এবং রেকর্ড গড়ার দক্ষতায় ব্রায়ান লারা ছিলেন অনন্য। টেস্ট ক্রিকেটে তার সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ অপরাজিত ৪০০ রান, যা এখনো পুরুষদের টেস্ট ক্রিকেটে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর। টেস্টে ১১ হাজার ৯৫৩ এবং ওয়ানডেতে ১০ হাজার ৪০৫ রান করেছেন তিনি। প্রতিপক্ষের বোলিং আক্রমণকে একাই চাপে ফেলার ক্ষমতা তাকে সর্বকালের সেরাদের কাতারে জায়গা দিয়েছে।

আরও পড়ুন: ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের জন্য দল ঘোষণা করলো বাংলাদেশ

৫. কুমার সাঙ্গাকারা (শ্রীলংকা)

শ্রীলংকার ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা ব্যাটার কুমার সাঙ্গাকারা। নিখুঁত টেকনিক, ধারাবাহিকতা এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যাটিং করার দক্ষতায় তিনি বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয়েছেন। টেস্ট ও ওয়ানডে—দুই ফরম্যাটেই তার পারফরম্যান্স ছিল ঈর্ষণীয়। উইকেটকিপার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি, যা তার ক্রিকেটীয় দক্ষতাকে আরও বিস্তৃত করেছে। টেস্ট ক্রিকেটে তার মোট রান ১২ হাজার ৪০০, ওয়ানডেতে ১৪ হাজার ২৩৪ এবং টি-টোয়েন্টিতে ১ হাজার ৩৮২।

৬. রিকি পন্টিং (অস্ট্রেলিয়া)

অস্ট্রেলিয়ার সোনালি যুগের অন্যতম প্রধান ব্যাটার রিকি পন্টিং। টেস্ট ও ওয়ানডে ক্রিকেটে দীর্ঘদিন ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের পাশাপাশি বড় ম্যাচে রান করার জন্যও পরিচিত ছিলেন তিনি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ২৭ হাজারের বেশি রান করেছেন পন্টিং। অধিনায়ক হিসেবেও বিশ্বকাপ জয়ের অভিজ্ঞতা তার ক্যারিয়ারকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।

আরও পড়ুন: ‘এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ ২০২৬’ অধিনায়ক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

৭. জ্যাক ক্যালিস (দক্ষিণ আফ্রিকা)

জ্যাক ক্যালিস মূলত অলরাউন্ডার হিসেবে পরিচিত হলেও ব্যাটার হিসেবেও তিনি সর্বকালের সেরাদের একজন। টেস্টে ১৩ হাজার ২৮৯ এবং ওয়ানডেতে ১১ হাজার ৫৭৯ রান করেছেন তিনি। দুই ফরম্যাটেই তার ব্যাটিং গড় ছিল ৫০-এর ওপরে। দীর্ঘ সময় ধরে ধারাবাহিকভাবে রান করার সামর্থ্য তাকে এই তালিকায় জায়গা করে দিয়েছে।

৮. বিরাট কোহলি (ভারত)

আধুনিক ক্রিকেটের অন্যতম সেরা ব্যাটার বিরাট কোহলি। বিশেষ করে ওয়ানডে ক্রিকেটে রান তাড়া করার দক্ষতা, চাপের মধ্যে ব্যাটিং এবং ধারাবাহিক সেঞ্চুরি করার ক্ষমতা তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। শচীন টেন্ডুলকারের ওয়ানডে সেঞ্চুরির রেকর্ডও ভেঙেছেন তিনি। তিন ফরম্যাটেই নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়ে চলেছেন এই ভারতীয় তারকা।

আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্র পেল নারী ক্লাব বিশ্বকাপের আয়োজনের দায়িত্ব

৯. সুনীল গাভাস্কার (ভারত)

টেস্ট ক্রিকেটে দুর্দান্ত ওপেনিং ব্যাটিংয়ের জন্য স্মরণীয় হয়ে আছেন সুনীল গাভাস্কার। বিশেষ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের শক্তিশালী পেস আক্রমণের বিপক্ষে তার সাফল্য ক্রিকেট ইতিহাসে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। টেস্টে ১০ হাজারের বেশি রান করা প্রথম ব্যাটার ছিলেন তিনি। কঠিন পরিস্থিতিতে দীর্ঘ সময় উইকেটে টিকে থাকার ক্ষমতা তাকে কিংবদন্তির মর্যাদা দিয়েছে।

১০. এবি ডি ভিলিয়ার্স (দক্ষিণ আফ্রিকা)

ব্যাটিংয়ের বহুমুখিতা ও উদ্ভাবনী শট খেলার জন্য এবি ডি ভিলিয়ার্স ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে বিশেষ জনপ্রিয়। টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি—তিন ফরম্যাটেই নিজের দক্ষতা দেখিয়েছেন তিনি। মাঠের চারদিকে শট খেলার ক্ষমতা এবং অল্প সময়ে ম্যাচের চিত্র বদলে দেওয়ার সামর্থ্য তাকে আধুনিক ক্রিকেটের অন্যতম সেরা ব্যাটারে পরিণত করেছে। তিন ফরম্যাটের সকল আন্তর্জাতিক ম্যাচ মিলিয়ে তার মোট রান ২০ হাজারের বেশি।

আরও পড়ুন: কিউইদের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচে ঈশান কিষাণের চোটে ভারতকে ধাক্কা

সেরা কে—ব্র্যাডম্যান, শচীন নাকি কোহলি?

সর্বকালের সেরা ব্যাটার নির্ধারণ করতে গেলে ভিন্ন যুগের ক্রিকেটারদের তুলনা করা কঠিন। ব্র্যাডম্যানের টেস্ট গড় অবিশ্বাস্য, শচীন টেন্ডুলকারের আন্তর্জাতিক রান ও সেঞ্চুরির রেকর্ড অনন্য, আর বিরাট কোহলি আধুনিক সাদা বলের ক্রিকেটে ধারাবাহিকতার অসাধারণ উদাহরণ।

অন্যদিকে, ভিভ রিচার্ডসের আগ্রাসন, ব্রায়ান লারার বড় ইনিংস খেলার সামর্থ্য এবং রিকি পন্টিংয়ের বড় ম্যাচে পারফরম্যান্সও তাদের শ্রেষ্ঠত্বের দাবি জোরালো করে।

টেস্ট ক্রিকেটে আধিপত্যের বিচারে ডন ব্র্যাডম্যান এবং তিন ফরম্যাটে দীর্ঘমেয়াদি অর্জন ও ধারাবাহিকতার বিচারে শচীন টেন্ডুলকারের নাম সবার আগে আসে। তবে ক্রিকেটের সেরা ব্যাটার বেছে নেওয়া শেষ পর্যন্ত নির্ভর করে ব্যক্তিগত পছন্দ, পরিসংখ্যান এবং কোন যুগের ক্রিকেটকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে তার ওপর।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লাকসামে দুর্ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পর ঢাকা-চট্টগ্রাম আপ লাইনে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:২১ পি.এম


লাকসামে দুর্ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পর ঢাকা-চট্টগ্রাম আপ লাইনে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক

কুমিল্লার লাকসামের নাওটি রেলস্টেশনে ঘটে যাওয়া ট্রেন দুর্ঘটনার প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের আপ লাইনে ট্রেন চলাচল আবার স্বাভাবিক হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ক্ষতিগ্রস্ত রেললাইন মেরামতের কাজ সম্পন্ন হয়। এরপর দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে দুর্ঘটনাকবলিত ট্রেনের ইঞ্জিন ও বগিগুলো লাকসাম রেলওয়ে জংশনে নিয়ে আসা হয়। লাকসাম রেলওয়ে জংশনের স্টেশন মাস্টার মো. ওমর ফারুক ভূঁইয়া নিশ্চিত করেছেন যে ট্রেনের ইঞ্জিন ও বগি উদ্ধার এবং রেললাইন মেরামতের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

এর আগে, বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী কর্ণফুলী কমিউটার ট্রেনটি লাকসাম উপজেলার আজগরা ইউনিয়নের নাওটি রেলস্টেশনের আউটার সিগন্যালের কাছে লাইনচ্যুত হয়ে যায়। এই ঘটনায় ইঞ্জিনসহ চারটি বগির চাকা লাইন থেকে ছিটকে পড়ে এবং বগিগুলো কাত হয়ে যায়। এ সময় হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে অন্তত ১০ জন যাত্রী আহত হন, তবে কেউ নিহত হননি।

দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানের জন্য রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা ফারহান মাহমুদকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন- বিভাগীয় প্রকৌশলী আবু ইমতিয়াজ রাফি, বিভাগীয় যান্ত্রিক প্রকৌশলী আবদুল্লাহ আল মাসুদ ও রেজওয়ানুল ইসলাম এবং বিভাগীয় সিগন্যাল ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী আশিকুর রহমান।

এদিকে, দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ফেনী রেলওয়ে জংশনে কর্মরত ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী (পথ) গোলাম সরোয়ারকে সাময়িক বরখাস্ত করার বিষয়টি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

কর্ণফুলী কমিউটার ট্রেনের চালক মোয়াজ্জেম হোসেন জানিয়েছেন, নাওটি রেলস্টেশনে রেললাইন মেরামতের কাজ চলার বিষয়ে তাঁকে কোনো তথ্য জানানো হয়নি। নাঙ্গলকোট রেলস্টেশন থেকে লাইন ক্লিয়ার পাওয়ার পর ট্রেনটি ছেড়ে আসে।

রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা ও তদন্ত কমিটির প্রধান ফারহান মাহমুদ বলেছেন, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় যাঁদের দায়ী পাওয়া যাবে, তাঁদের বিরুদ্ধে রেলওয়ের আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে অবাধ-সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ: স্পিকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:২১ পি.এম


স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে অবাধ-সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ: স্পিকার

ভোলা, ২২ অক্টোবর, ২০২৬ : জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম বলেছেন, সরকারকে নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত করার প্রয়োজন রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, গত ১৭ বছর ধরে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি। তাই আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হবে।

আজ বৃহস্পতিবার ভোলা সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

স্পিকার আরও বলেন, একজন ব্যক্তি যদি অর্থশালী বা বিত্তবান না হন, তবে তার জনপ্রিয়তা এবং সমাজে গ্রহণযোগ্যতা থাকা উচিত। তাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া উচিত। এজন্য নির্বাচন কমিশনকে এমন একটি পদ্ধতি তৈরি করতে হবে, যা সাধারণ মানুষের জন্য নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করবে।

তিনি বলেন, আমার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা থেকে বলা যায়- আগামী ১০ বছরেও শেখ হাসিনা ফেরার সম্ভাবনা নেই। আওয়ামী লীগ তাদের ক্ষমতার সময় এমন একটি পরিবেশ তৈরি করেছিল, যেখানে সমাজের সৎ, ভালো ও নিরপেক্ষ মানুষের জন্য নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা সম্ভব ছিল না। তাই নির্বাচনী ব্যবস্থার আমূল সংস্কার এখন অপরিহার্য।

ভোলার খনিজ গ্যাসের সম্ভাবনা তুলে ধরে স্পিকার আরো বলেন, এ জেলায় পর্যাপ্ত পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাস বিদ্যমান। এই গ্যাস সারাদেশের বর্তমানের রির্জাভের সমান। আশা করা হচ্ছে ভোলায় আরো গ্যাস ভান্ডার রয়েছে। ভোলার সাধারণ মানুষের গ্যাস প্রয়োজন। ভোলাবাসী দীর্ঘদিন ধরে কষ্ট পাচ্ছে। গ্যাস ভোলাবাসীর ন্যায্য অধিকার এবং তাদের দীর্ঘদিনের দাবি। এই বিষয়ে আমি জ্বালানি মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করবো।

নিজ নির্বাচনী এলাকা লালমোহন-তজুমদ্দিনে তিনদিনের সফর শেষে স্পিকার আজ বেলা সাড়ে ১১টায় ঢাকার উদ্দেশ্যে ভোলা ত্যাগ করেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
যুগান্তরে সংবাদ প্রকাশ

উত্তরা থেকে ‘দে লাড়া’ গ্রুপের নেতা পিচ্চি সানি গ্রেফতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:২২ পি.এম


উত্তরা থেকে ‘দে লাড়া’ গ্রুপের নেতা পিচ্চি সানি গ্রেফতার

রাজধানীর উত্তরা এলাকায় আলোচিত ‘দে লাড়া’ কিশোর গ্যাংয়ের মূলহোতা সাকিব হাসান সানি, যিনি পিচ্চি সানি নামেও পরিচিত, তাকে (২৩) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে মাদক কারবার, নারী ও শিশু নির্যাতনসহ বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগে রাজধানীর একাধিক থানায় অন্তত সাতটি মামলা রয়েছে।

বুধবার (২১ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে উত্তরা পশ্চিম থানাধীন ৭ নম্বর সেক্টরের বিএনএস সেন্টার এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বিএনএস সেন্টার এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি গোপন আস্তানা থেকে সানিকে আটক করা হয়। এই সময় তার দলের অন্য সদস্যরা পালিয়ে গেলেও পুলিশ সানিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

পিচ্চি সানি ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের উত্তরা পূর্ব থানা শাখার সাবেক সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক। এর আগে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার অভিযোগে অস্ত্রসহ তাকে গ্রেফতার করেছিল র‌্যাব-১।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের সময় উত্তরার বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর সংঘবদ্ধ হামলায় পিচ্চি সানির সরাসরি সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সে সময় আন্দোলন দমনে স্থানীয় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের সংগঠিত করে লাঠিসোঁটা হাতে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় অংশ নিতে দেখা গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উত্তরাজুড়ে বিস্তৃত কিশোর গ্যাং নেটওয়ার্কের আড়ালে পিচ্চি সানি সরকারবিরোধী নাশকতার পরিকল্পনায় যুক্ত রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি ঢাকা-১৮ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য খসরু চৌধুরীর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) নূর মোহাম্মদের অন্যতম সঙ্গী।

এ ছাড়া ‘দে লাড়া’ গ্রুপের বিরুদ্ধে মাদক কারবার, চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে দীর্ঘদিন ধরে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে পিচ্চি সানির বিরুদ্ধে। উত্তরার বিভিন্ন সেক্টর ছাড়াও উত্তরখান, দক্ষিণখান ও টঙ্গীর বিভিন্ন এলাকায় গ্রুপটির কার্যক্রম রয়েছে। বিশেষ করে উত্তরা ৮ নম্বর সেক্টর থেকে টঙ্গী রেলস্টেশন পর্যন্ত রেলপথসংলগ্ন এলাকায় মাদক কেনাবেচায় গ্রুপটির সম্পৃক্ততার তথ্য একাধিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

পুলিশ সূত্র জানায়, চলতি বছরের ৩০ আগস্ট চার সহযোগীসহ উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছিল সানি। ওই সময় তার কাছ থেকে নগদ ১০ লাখ টাকা ও একটি হোন্ডা সিভিক গাড়ি উদ্ধার করা হয়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নথি অনুযায়ী, পিচ্চি সানির বিরুদ্ধে দক্ষিণখান থানায় চারটি, উত্তরা পূর্ব থানায় একটি এবং উত্তরা পশ্চিম থানায় দুটি মামলার তথ্য রয়েছে। ২০১৮ থেকে ২০২৬ সালের বিভিন্ন সময়ে এসব মামলা দায়ের করা হয়।

সর্বশেষ গ্রেফতারের বিষয়ে জানতে চাইলে উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি খালিদ মনসুর যুগান্তরকে বলেন, "কিশোর গ্যাং নেতা পিচ্চি সানিকে বুধবার রাতে উত্তরার বিএনএস সেন্টার এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। উত্তরায় কিশোর গ্যাং দমনে পুলিশ সবসময় তৎপর রয়েছে।"

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভিটামিন সি নিয়ে ক্যানসার চিকিৎসায় নতুন আশার আলো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:২৩ পি.এম


ভিটামিন সি নিয়ে ক্যানসার চিকিৎসায় নতুন আশার আলো

ভিটামিন সি মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখা, ক্ষত দ্রুত সেরে ওঠা এবং কোষের ক্ষতি থেকে রক্ষা করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে, প্রাক-ক্যানসার বা ব্লাড ক্যানসারের ঝুঁকিতে থাকা রোগীদের মধ্যে দীর্ঘকাল ধরে ভিটামিন সি-র ঘাটতি দেখা যায়। এই ঘাটতি পূরণ হলে রোগীদের শারীরিক অবস্থার উন্নতি বা চিকিৎসার সুফল পাওয়া যাবে কিনা, তা নিয়ে বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা চালিয়ে আসছেন।

সম্প্রতি ‘ইভিটা’ নামের একটি ফেজ ২ ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের নতুন ফলাফলে দেখা গেছে, ভিটামিন সি সাপ্লিমেন্টেশন রক্তকণিকার প্রাক-ক্যানসার ও প্রাথমিক পর্যায়ের ব্লাড ক্যানসারে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য অত্যন্ত উপকারী হতে পারে।

‘ভ্যান অ্যান্ডেল ইনস্টিটিউট-স্ট্যান্ড আপ টু ক্যানসার’ এপিজেনেটিক্স ড্রিম টিমের উদ্যোগে পরিচালিত এই র্যান্ডমাইজড, ডাবল-ব্লাইন্ড ও প্লেসিবো-নিয়ন্ত্রিত গবেষণাটি আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটির জার্নাল ‘সিএএনসিইআর’-এ প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষণায় ১০৯ জন রোগীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল, যারা ক্লোনাল সাইটোপেনিয়া অব আনডিটারমাইন্ড সিগনিফিকেন্স (CCUS) অথবা মাইলোডিসপ্লাস্টিক সিন্ড্রোম (MDS)—এই দুই অবস্থার যেকোনো একটিতে ভুগছিলেন। এই রোগগুলো পরবর্তীতে লিউকেমিয়া বা ব্লাড ক্যানসারে রূপ নিতে পারে, যা সাধারণত বয়স্কদের মধ্যে বেশি দেখা যায়।

গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের এক বছর ধরে প্রতিদিন ১,০০০ মিলিগ্রাম মুখে খাওয়ার ভিটামিন সি দেওয়া হয়। ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায় যে, ট্রায়াল শুরুর আগে অর্ধেকের বেশি রোগীর শরীরে ভিটামিন সি-র ঘাটতি ছিল। নিয়মিত সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের পর তা স্বাভাবিক মাত্রায় ফিরে আসে।

যারা ভিটামিন সি গ্রহণ করেছিলেন, গবেষণা ও ফলো-আপের সময় তাদের শারীরিক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা জটিলতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। ভিটামিন সি রোগপ্রতিরোধ সংক্রান্ত কিছু বিশেষ অণু বা সাইটোকাইনের মাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনে, যা প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।

প্রায় তিন বছরের ফলো-আপের পর দেখা যায়, যারা ভিটামিন সি খেয়েছিলেন, তারা প্লেসিবো বা নকল ওষুধ খাওয়া রোগীদের তুলনায় দীর্ঘ সময় বেঁচে ছিলেন। তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য আরও বড় পরিসরে ফেজ ৩ ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল প্রয়োজন।

প্রাক-ক্যানসার চিকিৎসায় নতুন আশার আলো

বর্তমানে ব্লাড ডিসঅর্ডারের প্রাথমিক পর্যায়ে রোগীদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের প্রধান কাজ হলো নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা করে রোগ পর্যবেক্ষণ করা। কারণ, রোগটিকে আগেভাগে থামানোর মতো নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা এতদিন ছিল না। এ ছাড়া বয়স বা শারীরিক জটিলতার কারণে অনেকেই স্টেম সেল ট্রান্সপ্লান্টেশনের মতো বড় চিকিৎসা নিতে পারেন না। এমন অবস্থায় ভিটামিন সি-র মতো সহজলভ্য ও নিরাপদ একটি উপাদান যদি চিকিৎসায় সহায়ক হতে পারে, তবে তা রোগীদের জন্য এক বড় স্বস্তির বিষয় হবে।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ভিটামিন সি কেবল একটি সাধারণ পুষ্টি উপাদান নয়; এটি কোষের জিনগত কার্যক্রম ও স্বাভাবিক বিকাশ নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে ‘TET2’ নামের একটি এনজাইমকে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে ভিটামিন সি, যা ক্ষতিকর কোষের বৃদ্ধি রোধ করতে কাজ করে।

বিশেষজ্ঞদের মতামত

গবেষণার অন্যতম গবেষক ও ভ্যান অ্যান্ডেল ইনস্টিটিউটের বিশিষ্ট অধ্যাপক ড. পিটার এ. জোন্স বলেন, ‘ক্যানসার পুরোপুরি জেঁকে বসার আগেই তা প্রতিরোধ করার ভাবনা থেকেই আমরা এই গবেষণাটি করেছি। রক্তকোষে স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরিয়ে আনতে ভিটামিন সি কীভাবে কাজ করে, তা নিয়ে আমরা আরও কাজ করছি।’

ইউনিভার্সিটি অব কোপেনহেগেনের হেমাটোলজিস্ট অধ্যাপক ড. কার্সেন বলেন, ‘এই প্রাথমিক ফলাফলগুলো আমাদের বড় পরিসরে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল পরিচালনার পথ দেখাচ্ছে। যদিও এখনই চিকিৎসায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় আসেনি, তবে এটি আমাদের বেশ আশাবাদী করে তুলেছে।’

ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে গবেষণা সফল হলে ব্লাড ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে এবং রোগীদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে ভিটামিন সি এক নতুন ও সহজ সমাধান হিসেবে যুক্ত হতে পারে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৯
মাগরিব ০৫:২৬
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%