বৃহস্পতিবার, ১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৯:৪৪ পি.এম
রাজধানী ঢাকার মিরপুরে অবস্থিত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার (মা ও শিশুস্বাস্থ্য কেন্দ্র) ভাঙচুরের ঘটনায় নাম জড়ানোয় বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি পদত্যাগ করেছেন, যা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে হয়েছে।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে জামায়াতে ইসলামী আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সরকারের উদ্দেশে একটি বার্তা প্রদান করেছেন, যেখানে তিনি জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ দাবি করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে তিনি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ বার্তা প্রকাশ করেন।
বার্তায় জামায়াত আমির উল্লেখ করেন, রাতের অন্ধকারে রাড্ডা ক্লিনিক দখলের ঘটনায় সরকার ও সরকারি দল অবশেষে সাংগঠনিক পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে। তবে, তিনি উল্লেখ করেন যে, এত বড় অপকর্মের জন্য শুধুমাত্র সাংগঠনিক পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়। কালপ্রিটদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, "দেশবাসী দৃশ্যমান ও বিশ্বাসযোগ্য আইনি পদক্ষেপ দেখতে চায়।"
ডা. শফিকুর রহমান এও উল্লেখ করেন যে, ক্ষতিগ্রস্ত ও লুণ্ঠিত স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি টেকসইভাবে পুনর্নির্মাণের দায়িত্ব সরকারের পালন করতে হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের চ্যালেঞ্জ, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে উত্তরণের পথ নিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) একটি বিশেষ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। বক্তারা সেমিনারে দেশের জ্বালানি খাতে গবেষণা, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার এবং গ্রিন ট্রানজিশনের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জামাল নজরুল ইসলাম বিজ্ঞান ভবনের ফ্যাকাল্টি অব ইঞ্জিনিয়ারিং গ্যালারি রুমে ‘দ্য ক্লিন এনার্জি হরাইজন: অ্যাডভান্সিং পাওয়ার ইনোভেশন অ্যান্ড গ্রিন টেকনোলজিস’ শীর্ষক সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার রিসার্চ কাউন্সিল (বিইপিআরসি) ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেল (আইকিউএসি) যৌথভাবে এই সেমিনারের আয়োজন করে।
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিইপিআরসির চেয়ারম্যান (সিনিয়র সচিব) মোহাম্মদ ওয়াহিদ হোসেন, এনডিসি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুনুর রশীদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আইকিউসির পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আবু রেজা। স্বাগত বক্তব্য দেন আইকিউসির অতিরিক্ত পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. মনিমুল হক।
আয়োজকরা জানান, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও গ্রিন টেকনোলজির অগ্রগতি, বিদ্যুৎ খাতে উদ্ভাবন এবং বাংলাদেশের টেকসই জ্বালানি রূপান্তরের সম্ভাবনা নিয়ে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের উদ্দেশ্যেই সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, গবেষক ও সংশ্লিষ্ট খাতের ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন।
সেমিনারের টেকনিক্যাল সেশনে দেশের জ্বালানি খাতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বিইপিআরসির পরিচালক (ইনোভেশন) ড. হাসান মাহমুদ কাউন্সিলের পরিচিতি ও কার্যক্রম তুলে ধরেন। তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার সালমা সুলতানা বাংলাদেশের গ্যাস খাতের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও টেকসই জ্বালানিতে উত্তরণের বিষয়ে আলোচনা করেন।
এছাড়া শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম বাংলাদেশের এনার্জি সিকিউরিটি, এক্সপ্লোরেশন ও গ্রিন ট্রানজিশন নিয়ে বক্তব্য দেন। পরে অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে ওপেন ডিসকাশন অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিইপিআরসি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওয়াহিদ হোসেন বলেন, বাংলাদেশে গবেষণার জন্য বরাদ্দ খুবই কম। ভালো গবেষণার জন্য যে পরিমাণ অর্থ প্রয়োজন, অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা পাওয়া যায় না। কিছু প্রতিষ্ঠান সর্বোচ্চ ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ফান্ড দেয়, যা বড় পরিসরের গবেষণার জন্য যথেষ্ট নয়। বিইপিআরসি বর্তমানে প্রাথমিকভাবে গবেষণার জন্য ৪ কোটি টাকা ফান্ড করছে। গবেষণার উদ্দেশ্য শুধু মানসম্মত জার্নালে গবেষণাপত্র প্রকাশ করা নয়; বরং গবেষণার ফল দেশের ও জনগণের কী উপকারে আসবে, সেটিকে গুরুত্ব দিতে হবে।
উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মামুনুর রশীদ বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে অতীতে নেওয়া বিভিন্ন নীতি ও চুক্তির প্রভাব আমরা এখন দেখতে পাচ্ছি। নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় টেকসই ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো প্রয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে উদ্ভাবিত নতুন ধারণা ও প্রযুক্তিকে বাস্তব প্রয়োগের পাশাপাশি বাজারজাত করার উদ্যোগ নিতে হবে। সরকারি সহায়তা ও অনুদানের মাধ্যমে এসব উদ্ভাবনকে এগিয়ে নেওয়া গেলে দেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়বে।
আইকিউসির পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আবু রেজা বলেন, সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য জ্বালানি খাতে আমদানিনির্ভরতা কমাতে হবে। তেল, গ্যাস ও এলপিজি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বিশেষ করে দেশের ভবনগুলোর ছাদ কাজে লাগিয়ে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করা গেলে বিদ্যুতের চাহিদার একটি বড় অংশ পূরণ করা সম্ভব। এতে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের পাশাপাশি দেশের নিজস্ব জ্বালানি সক্ষমতাও বাড়বে।
অনুষ্ঠানের শেষে অতিথিদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইকিউসির অতিরিক্ত পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
গাড়ির ভেতরটিকেও নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গাড়ির অভ্যন্তরে ময়লা জমে গেলে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হতে পারে এবং অগোছালো পরিবেশ পুরো গাড়ির চেহারা নষ্ট করে দেয়। বিশেষ করে সিটের নিচে খাবারের প্যাকেট, দরজার পাশে খালি পানীয়ের ক্যান, অথবা এদিক-ওদিক ছড়িয়ে থাকা তার গাড়ির অভ্যন্তরীণ পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তবে কিছু সহজ অভ্যাসের মাধ্যমে গাড়ি পরিপাটি রাখা সম্ভব।
ছোট বর্জ্য ফেলার পাত্র রাখুন
যদি গাড়িতে খাবার বা পানীয় খাওয়ার অভ্যাস থাকে, তাহলে প্যাকেট, টিস্যু ও কাগজের কাপ জমে যেতে পারে। এসব জিনিস গাড়ির বাইরে রাস্তায় ফেলে দেওয়া মোটেও ভালো অভ্যাস নয়। তাই গাড়ির ভেতরে একটি ছোট বেতের ঝুড়ি বা ব্যাগ রাখা যেতে পারে। জমে থাকা ময়লা সেখানে ফেলুন।
সপ্তাহে অন্তত একবার পাত্রটি পরিষ্কার করা উচিত। পেট্রোল নেওয়ার সময় বা কোথাও অপেক্ষা করার সুযোগ পেলে গাড়িতে জমে থাকা ময়লা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলে দিন।
ঋতু অনুযায়ী জিনিস রাখুন
সারা বছর গাড়িতে প্রয়োজনের অতিরিক্ত জিনিস জমিয়ে রাখলে জায়গা কমে যায় এবং গাড়িটি অগোছালো দেখায়। বর্ষাকালে ছাতা বা শীতকালে গরম কাপড় দরকার হতে পারে। তবে ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে অপ্রয়োজনীয় এসব জিনিস গাড়ি থেকে নামিয়ে ফেলতে হবে।
ছোট বাক্সে গুছিয়ে রাখুন
পেন, টিস্যু, চিরুনি বা ঠোঁটের প্রসাধনীর মতো ছোটখাটো প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো এদিক-ওদিক ছড়িয়ে না রেখে একটি ছোট বাক্সে রাখা যেতে পারে। এতে গাড়ির ভেতর গোছানো থাকবে এবং প্রয়োজনের সময় জিনিসগুলো সহজে পাওয়া যাবে।
গাড়ির পেছনের অংশে প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জাম, গাড়ির প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ ও বাজারের ব্যাগ আলাদা করে রাখা যেতে পারে। গাড়ির ছোট ড্রয়ারে বিমার কাগজপত্রসহ প্রয়োজনীয় নথিও গুছিয়ে রাখা সম্ভব।
পকেটযুক্ত আসনঢাকা ব্যবহার করুন
গাড়িতে শিশু থাকলে তাদের খেলনা, আঁকার খাতা, বই ও পেনসিল ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে পারে। এ সমস্যা এড়াতে পকেটযুক্ত আসনঢাকা ব্যবহার করা যেতে পারে। আসনের পেছনে ফিতার সাহায্যে এটি লাগিয়ে রাখা সম্ভব। ফলে পেছনের আসনে বসা শিশুরা সহজেই প্রয়োজনীয় জিনিস বের করে নিতে পারবে।
ব্যবহারের পর জিনিস নামিয়ে ফেলুন
গাড়িতে প্রয়োজনীয় কোনো জিনিস নিয়ে বের হলে যাত্রা শেষে সেটি গাড়িতে রেখে দেবেন না। প্রয়োজন শেষ হলে জিনিসটি গাড়ি থেকে নামিয়ে ফেলুন। একই সঙ্গে জমে থাকা ময়লা পরিষ্কার করে রাখুন। এতে গাড়ির ভেতরে অপ্রয়োজনীয় জিনিস জমবে না এবং দীর্ঘদিন পরও গাড়ি পরিপাটি রাখা সহজ হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার একটি পরিবার খ্রিষ্টান ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছে। একই পরিবারের পাঁচ সদস্য সম্পূর্ণ নিজেদের ইচ্ছা ও ধর্মীয় অনুভূতির ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেন।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নওগাঁ জেলা আদালতে স্থানীয় আলেম ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে অ্যাফিডেভিটের মাধ্যমে কালেমা পাঠ করে আনুষ্ঠানিকভাবে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হন তারা।
ইসলাম ধর্ম গ্রহণকারী সদস্যরা হলেন- ধামইরহাট উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের সোনাদিঘী এলাকার বাসিন্দা মি. পিউস মুর্মু (বর্তমান নাম- মো. আবু মুছা), তার স্ত্রী মাগ্দানিলা সরেন (মোসা. ফাতেমা বিবি) এবং তাদের তিন সন্তান আন্তনী মুর্মু (মো. হাসান), পিত্তর মুর্মু (মো. হুসাইন) ও ফুলমনি আন্না (মোসা. আমেনা)।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ইসলামের বিভিন্ন বিষয় ও জীবনব্যবস্থা সম্পর্কে জানার সুযোগ পেয়েছেন ওই পরিবারের সদস্যরা। ধীরে ধীরে ইসলামের জীবনদর্শন, আচার-অনুষ্ঠান ও নৈতিকতার প্রতি তাদের গভীর আগ্রহ জন্মায়। এরপর পরিবারের সবাই স্বেচ্ছায় ও সজ্ঞানে ইসলাম ধর্ম গ্রহণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন। ধর্মান্তরিত হওয়ার পর তারা নিয়মিত নামাজ আদায়সহ ইসলামের বিধি-বিধান মেনে চলার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
এ বিষয়ে পরিবারের পক্ষে মোসা. ফাতেমা বিবি বলেন, "নিজেদের স্বাধীন সিদ্ধান্ত ও বিশ্বাস থেকেই আমরা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছি। ইসলাম সম্পর্কে জানার পর আমরা এ ধর্মের প্রতি গভীরভাবে আকৃষ্ট হই। সবকিছু জেনেই আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা আগামী দিনগুলোতে সমাজের সবার সঙ্গে মিলেমিশে ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে বসবাস করতে চাই।"
এদিকে একই পরিবারের পাঁচ সদস্যের ইসলাম গ্রহণের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় কৌতূহল ও ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়। স্থানীয় মুসল্লিরা তাদের ইসলামিক জীবনযাপনে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও দিকনির্দেশনা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ধামইরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী তাহমিনা সারমিন জানান, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন এবং ওই পরিবারটি সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছে। ধর্মান্তরিত হওয়ার আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত না বললেও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের সংবিধানে প্রত্যেক নাগরিকের নিজ পছন্দের ধর্ম পালনের পূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে। তাদের কাছে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করা শ্রেয় মনে হয়েছে বিধায় তারা এটি করেছেন এবং আইনি দিক থেকেও এতে কোনো বাধা নেই।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
শারীরিক সীমাবদ্ধতা অনেকের জন্য বাধা হয়ে দাঁড়ালেও, দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি এবং দায়িত্ববোধ থাকলে সেই সীমাবদ্ধতাকে জয় করা সম্ভব। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) পরিবেশ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মাসুদ এমনই একটি উদাহরণ। এক হাতের প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও, শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা, ক্যাম্পাসের পরিবেশ এবং কল্যাণমূলক কাজে নিয়মিতভাবে সক্রিয় রয়েছেন তিনি।
আব্দুল্লাহ আল মাসুদ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনফরমেশন সায়েন্স এন্ড লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। রাকসু নির্বাচনে ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট’ থেকে পরিবেশ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক পদে ৬ হাজার ১৬৩ ভোট পেয়ে তিনি জয়ী হন।
দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই শিক্ষার্থীদের সমস্যা নিয়ে কাজ শুরু করেছেন মাসুদ। ক্যাম্পাসের পরিবেশ সংরক্ষণ, পরিচ্ছন্নতা, শিক্ষার্থীদের সচেতনতা বৃদ্ধি, মাদকবিরোধী অভিযান এবং পরিবেশবান্ধব বিভিন্ন উদ্যোগে তাকে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে দেখা যায়। শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে নিজের দায়িত্ব পালনের পথে বাধা হিসেবে না দেখে বরং শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করার প্রেরণা হিসেবে নিয়েছেন তিনি।
সহপাঠী ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মাসুদ নিজের শারীরিক সীমাবদ্ধতার কথা বিবেচনায় না এনে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। শিক্ষার্থীদের সমস্যা শুনে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি সমাধানের জন্যও কাজ করেন তিনি। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন প্রান্তে পরিবেশগত সমস্যা চিহ্নিত করা এবং সেগুলো নিয়ে কাজ করার ক্ষেত্রেও তিনি সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন।
মাসুদের উল্লেখযোগ্য কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে, ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় অবস্থিত ড্রেন ও নর্দমাগুলোতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান, ক্যাম্পাসে অবস্থিত দোকানগুলোর খাবার মনিটরিং, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, দফায় দফায় মাদকবিরোধী অভিযান, ক্যাম্পাসে অপ্রয়োজনীয় ব্যানার-ফেস্টুন অপসারণ, অতিথি পাখিদের নিবিড় পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন, খাবারের মূল্য তালিকা সংযোজন, মশার উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে কীটনাশক ও ফগার মেশিন দিয়ে মশক নিধন কর্মসূচি।
এছাড়াও, শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন অধিকার আদায়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে মতবিনিময় সভা ও স্মারকলিপি প্রদান করেন বলেও তিনি জানান।
মাসুদের দায়িত্ব পালনের বিষয়টি শুধুমাত্র তার শারীরিক সক্ষমতার সঙ্গে তুলনা করার নয়; বরং প্রতিকূলতার মধ্যেও দায়িত্বের প্রতি তার আন্তরিকতার বিষয়টি শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলাদা দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফাহিম হাসান বলেন, "অন্যান্য সম্পাদকের কাজের চাইতে মাসুদ ভাইয়ের কাজগুলো আমাদের আকৃষ্ট করেছে। এক হাতে কাজ করতে না পারা সত্ত্বেও আমাদের জন্য বিভিন্ন কল্যাণমূলক কাজ, বিশেষ করে খাবার মনিটরিং, মাদকবিরোধী অভিযান, এসব কাজ সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।"
জানতে চাইলে আব্দুল্লাহ আল মাসুদ বলেন, "শারীরিক সীমাবদ্ধতা আমার জন্য একটি বাস্তবতা। কিন্তু এটি যেন শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করার ক্ষেত্রে বাধা না হয়, সেটাই আমার চেষ্টা। আমাকে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, সেটি আন্তরিকতার সঙ্গে পালন করতে চাই। শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন ও সমস্যাগুলো নিয়ে কাজ করাই আমার মূল লক্ষ্য।"
তিনি আরও বলেন, "আমি মনে করি, আমার এক হাত নয়; আমার দুই হাতই আছে। আমার সঙ্গে থাকা ২৮ হাজার শিক্ষার্থীর হাতই আমার হাত। তাদের ভালোবাসা, সহযোগিতা ও কৃতজ্ঞতাই আমাকে কাজের অনুপ্রেরণা দেয়। এর আগে একটি সংগঠনের সভাপতি হিসেবে শারীরিকভাবে চ্যালেঞ্জড মানুষদের নিয়েও কাজ করেছি। আর রাকসুর দায়িত্বকে আমি শিক্ষার্থীদের দেওয়া একটি আমানত মনে করি। সেই আমানত যথাযথভাবে রক্ষা করার অনুপ্রেরণাই আমাকে সবসময় কাজ করতে উৎসাহিত করে।"
কাজ করতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পাওয়া কোনো স্মরণীয় অভিজ্ঞতা আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মাসুদ বলেন, "শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতার মধ্যে সবচেয়ে বেশি নাড়া দিয়েছে মাদকসংক্রান্ত বিষয়টি। রাকসুর দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রক্টরিয়াল বডির সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে রাতে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নিয়েছি। সেখানে গিয়ে দেখেছি, প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের অনেক মেধাবী শিক্ষার্থীও মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি প্রতিষ্ঠানে এত কম বয়সী শিক্ষার্থীদের মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি আগে এভাবে উপলব্ধি করিনি। কাছ থেকে বিষয়টি দেখার পর সত্যিই খুব খারাপ লেগেছে এবং শিক্ষার্থীদের নিয়ে আরও দায়িত্বশীলভাবে কাজ করার তাগিদ অনুভব করেছি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ