রবিবার, ৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১০:৩৫ পি.এম
আজীবন বাবা-মার ভোগ-দখল করার অধিকার সম্পর্কিত ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল ২০২৬’ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে, যদিও সন্তানকে সম্পত্তি দান করার পরও এই অধিকার বজায় থাকবে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সংসদ অধিবেশনে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বিলটি উত্থাপন করেন। পরে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়।
বিলটিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, পিতা-মাতা বা পিতামহ/মাতামহ কর্তৃক তাদের সন্তান বা নাতি-নাতনিকে (অথবা বিপরীতক্রমে) সম্পত্তি দান করার পর, দাতা জীবিত থাকা অবস্থায় ওই সম্পত্তির ভোগাধিকার থাকবে। দাতার মৃত্যুর পর, গ্রহীতার মৃত্যু হলে সম্পত্তির ভোগাধিকার থাকবে এবং আইন অনুযায়ী সম্পত্তি গ্রহীতার ওয়ারিশদের কাছে স্থানান্তরিত হবে।
আইনমন্ত্রী বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে বলেন, বিদ্যমান আইনে সম্পত্তি হস্তান্তরের পদ্ধতি সম্পর্কে বিধান থাকলেও দাতার জীবনকাল পর্যন্ত সম্পত্তির ভোগাধিকার সংরক্ষণের বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট বিধান নেই।
প্রস্তাবিত জীবনকালীন ভোগাধিকার সংরক্ষণপূর্বক দান হবে সম্পত্তি হস্তান্তরে একটি স্বতন্ত্র পদ্ধতি। এই বিধান সকল ধর্মাবলম্বীর ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য হবে। ফলে প্রচলিত সাধারণ দান, মুসলিম আইনের অধীনে হেবা বা আইন দ্বারা স্বীকৃত অন্য কোনো প্রকার সম্পত্তি হস্তান্তরের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না বা সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি তৈরি করবে না।
তবে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান এবং অন্যান্য সংসদ সদস্যরা এটির বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন, উল্লেখ করে যে এটি কোরআন-সুন্নাহবিরোধী। বিরোধী দল এই বিলের ওপর ভোটে অংশ নেয়নি।
শফিকুর রহমান বলেন, “আমার প্রশ্ন হচ্ছে, আমরা কি কোরআনের মূল নীতিকে রাখব নাকি বাদ দেব? আমাদের কী বাদ দেওয়ার কোনো অধিকার আছে?” তিনি আরও বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, এটি খুবই সংবেদনশীল একটা বিষয়।”
তিনি কিছু বিষয় উল্লেখ করে দাবি করেন যে, আইনের সঙ্গে বেশ কিছু বিষয় সম্পৃক্ত নেই, ফলে সরাসরি সাংঘর্ষিক হচ্ছে।
পরে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানান, “এটা খুবই পরিষ্কার যে, এই আইনের অধীনে সম্পত্তি হস্তান্তর বা দান করা হলে কোনোভাবেই সেটি হেবা, অছিয়ত বা অন্য কোনো সম্পত্তি হস্তান্তরকে প্রভাবিত করবে না। অসহায়, বৃদ্ধ বাবা-মায়ের পাশে থাকার জন্যই এই আইন।”
পরে স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমেদ এই বিলের প্রস্তাবে ভোট দেন। এ সময় সংসদ কক্ষ থেকে বের হয়ে যান বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) ক্যাম্পাসে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, বিভাগভিত্তিক মারামারি প্রতিরোধ এবং শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য তিনটি দাবি উত্থাপন করেছে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। এই দাবির প্রেক্ষিতে সংগঠনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেছে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখার পক্ষ থেকে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপিটি জমা দেওয়া হয়।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে ক্যাম্পাসে বিভিন্ন ছোটখাটো ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও মারামারির ঘটনা ঘটছে। এর ফলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে এবং ক্যাম্পাসে ভীতি ও অস্বস্তিকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসন যদি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে যেকোনো সময় অপ্রীতিকর বা বড় ধরনের ঘটনা ঘটার আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।
শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং ক্যাম্পাসের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সংগঠনটির তিনটি দাবি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে—
১. বিভাগভিত্তিক সংঘর্ষ বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ:
ক্যাম্পাসে যেকোনো ধরনের সংঘর্ষ ও বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে সর্বোচ্চ কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। সাম্প্রতিক বিভাগভিত্তিক সংঘর্ষের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে সিসিটিভি ফুটেজ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যের ভিত্তিতে দায়ীদের শনাক্ত করে একাডেমিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
২. নিরাপত্তা জোরদার:
ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকসহ গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাকর্মী এবং সার্বক্ষণিক নজরদারি বৃদ্ধি করা হবে। যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা শুরুতেই নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
৩. কাউন্সেলিং ও সচেতনতা বৃদ্ধি:
বিভাগভিত্তিক বিরোধ নিরসনের জন্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের নিয়ে নিয়মিত ‘কাউন্সেলিং’ এবং সচেতনতামূলক সভার আয়োজন করা হবে। শিক্ষার্থীদের মানসিক উৎকণ্ঠা কমানো এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সহনশীলতা বৃদ্ধিতে প্রশাসনিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
স্মারকলিপিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপদ শিক্ষাজীবন এবং ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন, ২০০০ অনুযায়ী, কোনো পুকুর বা জলাশয়ের স্বাভাবিক চরিত্র পরিবর্তন বা ভরাট করা সম্পূর্ণ অবৈধ। উচ্চ আদালতের সুস্পষ্ট রায় অনুযায়ী, ব্যক্তিমালিকানাধীন পুকুর বা জলাশয়ও ইচ্ছেমতো ভরাট করা কিংবা এর শ্রেণি পরিবর্তন করা যাবে না। কিন্তু এই আইনকে উপেক্ষা করে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মালিকানাধীন পুকুর ব্যক্তিগত অর্থে ভরাট করার অভিযোগ উঠেছে এক ইউপি চেয়ারম্যান ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে মাদারীপুর সদর উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের ৪৬ নম্বর চরনাচনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ৪৬ নম্বর চরনাচনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোলঘেঁষে প্রায় ৪০ শতাংশ জমির পুরো পুকুরটি বিদ্যালয়ের সম্পত্তি। তবে সদর উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ফায়েকুজ্জামান বাবুল এবং ৪৬ নম্বর চরনাচনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুমন মিয়ার যোগসাজশে গত এক সপ্তাহ ধরে দিনের আলোতে প্রকাশ্যে পুকুরটি ভরাট করা হচ্ছে।
ইউপি চেয়ারম্যান সরকারি ভাবে একটি প্রকল্প অনুমোদনের চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু ব্যর্থ হন। সেই প্রকল্পের আশায় ব্যক্তিগত অর্থ দিয়ে পুকুরটি ভরাট করে ফেলেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে, তিনি এখনো সরকারি অর্থ থেকে সমন্বয় করার জন্য পাঁয়তারা করছেন। সরকারি আইনকে উপেক্ষা করে পুকুরটি ভরাট করায় পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের পুকুরটি গোসল করা থেকে শুরু করে বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। পুকুরটির অস্তিত্ব বিলীন হওয়ায় আশপাশের পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। এলাকার অগ্নিকাণ্ডের সময়ও পুকুরটি ব্যাপক ভূমিকা রাখত। কিন্তু ইউপি চেয়ারম্যান ক্ষমতার অপব্যবহার করে স্কুলের জমিতে থাকা পুকুরটি ভরাট করেছেন। প্রতিবাদ করলে মামলা-হামলার ভয় দেখানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। ঘটনাটির সঙ্গে এক ইউপি সদস্যও জড়িত বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের পাশাপাশি সচেতন মহল ঘটনার বিচার দাবি করেছেন।
স্থানীয় পরিবেশভিত্তিক সংগঠন ফ্রেন্ডস অব নেচার-এর নির্বাহী পরিচালক রাজন মাহমুদ মন্তব্য করেন, "পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পুকুর বাঁচিয়ে রাখতে সবার এগিয়ে আসতে হবে। জলাশয় বা পুকুর ভরাট করা গুরুতর অপরাধ। এই ঘটনায় জড়িতদের দৃশ্যমান বিচার হওয়া উচিত।" তিনি সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে অনুরোধ করেন সবাইকে আইনের আওতায় আনার জন্য। পাশাপাশি ভরাট করা পুকুরটি পুনঃখনন করে আগের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার দাবি জানান।
মাদারীপুর উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ বলেন, "পুকুরটি ভরাটের পেছনে অবশ্যই কোনো অসৎ উদ্দেশ্য রয়েছে। তা না হলে ইউপি চেয়ারম্যান তাঁর ব্যক্তিগত অর্থ দিয়ে পুকুরটি ভরাট করতেন না।" তিনি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ভরাটকৃত পুকুরটির বালু অপসারণের দাবি জানান।
অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান মো. ফায়েকুজ্জামান বাবুল বলেন, "সরকারি প্রকল্প অনুমোদন হওয়ার কথা। কিন্তু সেটি বাস্তবায়ন হয়নি। জনস্বার্থে ব্যক্তিগত তহবিল থেকে স্কুলের পুকুরটি ভরাট করেছি। এতে খরচ প্রায় ২৫ লাখ টাকা। এটা নিয়ে তো কারও কোনো আপত্তি থাকার কথা নয়।"
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুমন মিয়া বলেন, “ইউপি চেয়ারম্যান ফায়েকুজ্জামান বাবুল পুকুরটি ভরাট করেছেন। তিনিই ভালো জানবেন। আমার কাছে পুকুর ভরাট করার কোনো অনুমতিপত্র নেই। এটি ভরাট করে খেলার মাঠ বাড়ানো হবে। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার মান উন্নয়নে পুকুরটি ভরাট করতে দেওয়া হয়েছে।”
মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকিয়া সুলতানা জানান, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবগত করা হয়েছে। ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নলেজে বিষয়টি রয়েছে। তিনি বলেন, "আমরা দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।"
মাদারীপুরের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফজলে এলাহী বলেন, শিক্ষক চাইলেই স্কুলের পুকুর ভরাট করতে পারেন না। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষা অধিদপ্তরের একজন সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সরকার বিভাগের মাদারীপুরের উপপরিচালক জেসমিন আক্তার বানু বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান কোনো অবস্থাতেই বিদ্যালয়ের পুকুর ভরাট করতে পারেন না। তিনি জানান, খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
দীর্ঘ তিন বছরের বিরতির পর অবশেষে মাঠে ফিরছে প্রথম বিভাগ হকি লিগ। আগামী ২০ সেপ্টেম্বর এই লিগ শুরু করার চূড়ান্ত লক্ষ্য নিয়ে রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্লাবগুলোর খেলোয়াড় দলবদল প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
এই দলবদল প্রক্রিয়া রোববার এবং সোমবার— এই দুই দিনব্যাপী চলবে।
প্রথম বিভাগ হকি লিগ কমিটির চেয়ারম্যান হারুন-অর-রশীদ এই উদ্যোগের ব্যাপারে অত্যন্ত আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
তিনি জানিয়েছেন, প্রতিটি ক্লাব শুরু থেকেই অত্যন্ত স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিচ্ছে। লিগের সফল আয়োজনের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ক্লাবগুলোর সঙ্গে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
লিগ কমিটির চেয়ারম্যান বলেছেন, মাঠে খেলা না থাকলে ক্রীড়াঙ্গনের বৈচিত্র্য হারিয়ে যায়। আমাদের এত চমৎকার মাঠ থাকা সত্ত্বেও গত তিন বছর কোনো হকি টুর্নামেন্ট হয়নি, যা সত্যি চিন্তার বিষয় ছিল।
তিনি আরও জানিয়েছেন, "আমরা শুরু থেকেই যেকোনো মূল্যে খেলা মাঠে গড়ানোর জন্য তৎপর ছিলাম। ক্লাবগুলোর আন্তরিক সহযোগিতা ছাড়া এই আয়োজন সফল করা সম্ভব নয়। আমরা আশাবাদী যে, দলবদল থেকে শুরু করে পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে ক্লাবগুলোর এই সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।"
আয়োজক ও ক্লাবগুলো বিশ্বাস করে যে, একটি সুন্দর ও জাঁকজমকপূর্ণ লিগ আয়োজনের মাধ্যমে আবারও হকির মাঠে দর্শক ফিরবে।
প্রথম বিভাগ হকি লিগে অংশগ্রহণকারী ক্লাবের তালিকা হলো— ওয়ারী ক্লাবম, হকি ঢাকা ইউনাইটেড, পিডব্লিউডি, কম্বাইন্ড এসসি, মুক্ত বিহঙ্গ তরুণ সংঘ, ব্যাচেলরস এসসি, ফরাসগঞ্জ এসসি, শিশুকিশোর সংঘ, ওয়ান্ডারার্স ক্লাব, রায়ের বাজার এসসি ও ঢাকা ইয়ং স্টার ক্লাব।
বাকি ক্লাবগুলো আগামীকাল দলবদল সম্পন্ন করবে বলে জানা গেছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
প্রতিষ্ঠার ৫৪ বছর অতিক্রম করার পরও খুলনার পাইকগাছা উপজেলার লস্কর ইউনিয়নের কড়ুলিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামোতে কোনো পরিবর্তন আসেনি। বিদ্যালয়ের পুরনো ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে, পলেস্তারা খসে পড়েছে এবং রড বেরিয়ে এসেছে। বৃষ্টির সময় ছাদ থেকে পানি পড়ে শ্রেণিকক্ষে। এমন বিপজ্জনক পরিবেশে প্রতিদিন প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী পাঠ নিচ্ছে।
১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়টি ১৯৮৫ সালের ১ জানুয়ারি এমপিওভুক্ত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে স্থানীয় শিক্ষার্থীদের মাধ্যমিক শিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও, শিক্ষার্থীর সংখ্যা ও শিক্ষা কার্যক্রম বৃদ্ধি পেলেও ভবনের উন্নয়ন হয়নি।
বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, ভবনের দেয়াল ও ছাদের বিভিন্ন অংশে ফাটল রয়েছে। অনেক স্থানে পলেস্তারা উঠে গিয়ে রড বেরিয়ে পড়েছে। বর্ষাকালে ছাদ দিয়ে পানি পড়ায় শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাবেরা খাতুন জানান, "অন্য স্কুলের সুন্দর ও নিরাপদ ভবন দেখে আমাদেরও এমন একটি শ্রেণিকক্ষে বসে ক্লাস করতে ইচ্ছে করে। বৃষ্টির দিনে ছাদ দিয়ে পানি পড়ে, তখন পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়া কঠিন হয়ে যায়।"
অন্য শিক্ষার্থী সুমি আক্তার বলেন, "পুরোনো এই ভবনে ক্লাস করার সময় সব সময় ভয় লাগে। আমরা চাই, আমাদের স্কুলটিও নিরাপদ ও সুন্দর হোক।"
অভিভাবকেরাও বিদ্যালয়ের ভবন নিয়ে উদ্বিগ্ন। তাদের মতে, পুরোনো ভবনে সাময়িক সংস্কার করে সমস্যার সমাধান হবে না। শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন ভবন নির্মাণের প্রয়োজন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুস্তাক আহম্মেদ মন্তব্য করেন, "প্রায় ২০০ শিক্ষার্থীকে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে নিয়ে প্রতিদিন পাঠদান করানো মানসিক চাপের বিষয়। ভবনটির অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে শুধু চুনকাম বা জোড়াতালি দিয়ে এর সমাধান হবে না।"
বিদ্যালয়ে বর্তমানে ১২ জন শিক্ষক কর্মরত থাকলেও সাতটি পদ শূন্য রয়েছে বলে জানান প্রধান শিক্ষক। তার মতে, শিক্ষকসংকটের পাশাপাশি ভবনের নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেবে।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার আলো ছড়ানো প্রতিষ্ঠানটির এমন অবস্থা চলতে পারে না। কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা এখন শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ