ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সরকারি পুকুর ভরাটের অভিযোগ উঠেছে


ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সরকারি পুকুর ভরাটের অভিযোগ উঠেছে

প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন, ২০০০ অনুযায়ী, কোনো পুকুর বা জলাশয়ের স্বাভাবিক চরিত্র পরিবর্তন বা ভরাট করা সম্পূর্ণ অবৈধ। উচ্চ আদালতের সুস্পষ্ট রায় অনুযায়ী, ব্যক্তিমালিকানাধীন পুকুর বা জলাশয়ও ইচ্ছেমতো ভরাট করা কিংবা এর শ্রেণি পরিবর্তন করা যাবে না। কিন্তু এই আইনকে উপেক্ষা করে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মালিকানাধীন পুকুর ব্যক্তিগত অর্থে ভরাট করার অভিযোগ উঠেছে এক ইউপি চেয়ারম্যান ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে মাদারীপুর সদর উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের ৪৬ নম্বর চরনাচনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ৪৬ নম্বর চরনাচনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোলঘেঁষে প্রায় ৪০ শতাংশ জমির পুরো পুকুরটি বিদ্যালয়ের সম্পত্তি। তবে সদর উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ফায়েকুজ্জামান বাবুল এবং ৪৬ নম্বর চরনাচনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুমন মিয়ার যোগসাজশে গত এক সপ্তাহ ধরে দিনের আলোতে প্রকাশ্যে পুকুরটি ভরাট করা হচ্ছে।

ইউপি চেয়ারম্যান সরকারি ভাবে একটি প্রকল্প অনুমোদনের চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু ব্যর্থ হন। সেই প্রকল্পের আশায় ব্যক্তিগত অর্থ দিয়ে পুকুরটি ভরাট করে ফেলেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে, তিনি এখনো সরকারি অর্থ থেকে সমন্বয় করার জন্য পাঁয়তারা করছেন। সরকারি আইনকে উপেক্ষা করে পুকুরটি ভরাট করায় পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের পুকুরটি গোসল করা থেকে শুরু করে বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। পুকুরটির অস্তিত্ব বিলীন হওয়ায় আশপাশের পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। এলাকার অগ্নিকাণ্ডের সময়ও পুকুরটি ব্যাপক ভূমিকা রাখত। কিন্তু ইউপি চেয়ারম্যান ক্ষমতার অপব্যবহার করে স্কুলের জমিতে থাকা পুকুরটি ভরাট করেছেন। প্রতিবাদ করলে মামলা-হামলার ভয় দেখানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। ঘটনাটির সঙ্গে এক ইউপি সদস্যও জড়িত বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের পাশাপাশি সচেতন মহল ঘটনার বিচার দাবি করেছেন।

স্থানীয় পরিবেশভিত্তিক সংগঠন ফ্রেন্ডস অব নেচার-এর নির্বাহী পরিচালক রাজন মাহমুদ মন্তব্য করেন, "পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পুকুর বাঁচিয়ে রাখতে সবার এগিয়ে আসতে হবে। জলাশয় বা পুকুর ভরাট করা গুরুতর অপরাধ। এই ঘটনায় জড়িতদের দৃশ্যমান বিচার হওয়া উচিত।" তিনি সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে অনুরোধ করেন সবাইকে আইনের আওতায় আনার জন্য। পাশাপাশি ভরাট করা পুকুরটি পুনঃখনন করে আগের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার দাবি জানান।

মাদারীপুর উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ বলেন, "পুকুরটি ভরাটের পেছনে অবশ্যই কোনো অসৎ উদ্দেশ্য রয়েছে। তা না হলে ইউপি চেয়ারম্যান তাঁর ব্যক্তিগত অর্থ দিয়ে পুকুরটি ভরাট করতেন না।" তিনি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ভরাটকৃত পুকুরটির বালু অপসারণের দাবি জানান।

অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান মো. ফায়েকুজ্জামান বাবুল বলেন, "সরকারি প্রকল্প অনুমোদন হওয়ার কথা। কিন্তু সেটি বাস্তবায়ন হয়নি। জনস্বার্থে ব্যক্তিগত তহবিল থেকে স্কুলের পুকুরটি ভরাট করেছি। এতে খরচ প্রায় ২৫ লাখ টাকা। এটা নিয়ে তো কারও কোনো আপত্তি থাকার কথা নয়।"

আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুমন মিয়া বলেন, “ইউপি চেয়ারম্যান ফায়েকুজ্জামান বাবুল পুকুরটি ভরাট করেছেন। তিনিই ভালো জানবেন। আমার কাছে পুকুর ভরাট করার কোনো অনুমতিপত্র নেই। এটি ভরাট করে খেলার মাঠ বাড়ানো হবে। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার মান উন্নয়নে পুকুরটি ভরাট করতে দেওয়া হয়েছে।”

মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকিয়া সুলতানা জানান, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবগত করা হয়েছে। ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নলেজে বিষয়টি রয়েছে। তিনি বলেন, "আমরা দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।"

মাদারীপুরের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফজলে এলাহী বলেন, শিক্ষক চাইলেই স্কুলের পুকুর ভরাট করতে পারেন না। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষা অধিদপ্তরের একজন সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের মাদারীপুরের উপপরিচালক জেসমিন আক্তার বানু বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান কোনো অবস্থাতেই বিদ্যালয়ের পুকুর ভরাট করতে পারেন না। তিনি জানান, খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরও পড়ুন: ধামরাইয়ে পরিত্যক্ত গোডাউনে আগুন, ৫ লাখ টাকার সম্পদ উদ্ধার

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রথম বিভাগ হকি লিগের জন্য দলবদল প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

রবিবার, ৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:৩৬ পি.এম


প্রথম বিভাগ হকি লিগের জন্য দলবদল প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে

দীর্ঘ তিন বছরের বিরতির পর অবশেষে মাঠে ফিরছে প্রথম বিভাগ হকি লিগ। আগামী ২০ সেপ্টেম্বর এই লিগ শুরু করার চূড়ান্ত লক্ষ্য নিয়ে রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্লাবগুলোর খেলোয়াড় দলবদল প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

এই দলবদল প্রক্রিয়া রোববার এবং সোমবার— এই দুই দিনব্যাপী চলবে।

প্রথম বিভাগ হকি লিগ কমিটির চেয়ারম্যান হারুন-অর-রশীদ এই উদ্যোগের ব্যাপারে অত্যন্ত আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

তিনি জানিয়েছেন, প্রতিটি ক্লাব শুরু থেকেই অত্যন্ত স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিচ্ছে। লিগের সফল আয়োজনের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ক্লাবগুলোর সঙ্গে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

লিগ কমিটির চেয়ারম্যান বলেছেন, মাঠে খেলা না থাকলে ক্রীড়াঙ্গনের বৈচিত্র্য হারিয়ে যায়। আমাদের এত চমৎকার মাঠ থাকা সত্ত্বেও গত তিন বছর কোনো হকি টুর্নামেন্ট হয়নি, যা সত্যি চিন্তার বিষয় ছিল।

তিনি আরও জানিয়েছেন, "আমরা শুরু থেকেই যেকোনো মূল্যে খেলা মাঠে গড়ানোর জন্য তৎপর ছিলাম। ক্লাবগুলোর আন্তরিক সহযোগিতা ছাড়া এই আয়োজন সফল করা সম্ভব নয়। আমরা আশাবাদী যে, দলবদল থেকে শুরু করে পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে ক্লাবগুলোর এই সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।"

আয়োজক ও ক্লাবগুলো বিশ্বাস করে যে, একটি সুন্দর ও জাঁকজমকপূর্ণ লিগ আয়োজনের মাধ্যমে আবারও হকির মাঠে দর্শক ফিরবে।

প্রথম বিভাগ হকি লিগে অংশগ্রহণকারী ক্লাবের তালিকা হলো— ওয়ারী ক্লাবম, হকি ঢাকা ইউনাইটেড, পিডব্লিউডি, কম্বাইন্ড এসসি, মুক্ত বিহঙ্গ তরুণ সংঘ, ব্যাচেলরস এসসি, ফরাসগঞ্জ এসসি, শিশুকিশোর সংঘ, ওয়ান্ডারার্স ক্লাব, রায়ের বাজার এসসি ও ঢাকা ইয়ং স্টার ক্লাব।

বাকি ক্লাবগুলো আগামীকাল দলবদল সম্পন্ন করবে বলে জানা গেছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী ঝুঁকি নিয়ে জরাজীর্ণ ভবনে পাঠ নিচ্ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:৩৬ পি.এম


প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী ঝুঁকি নিয়ে জরাজীর্ণ ভবনে পাঠ নিচ্ছে

প্রতিষ্ঠার ৫৪ বছর অতিক্রম করার পরও খুলনার পাইকগাছা উপজেলার লস্কর ইউনিয়নের কড়ুলিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামোতে কোনো পরিবর্তন আসেনি। বিদ্যালয়ের পুরনো ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে, পলেস্তারা খসে পড়েছে এবং রড বেরিয়ে এসেছে। বৃষ্টির সময় ছাদ থেকে পানি পড়ে শ্রেণিকক্ষে। এমন বিপজ্জনক পরিবেশে প্রতিদিন প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী পাঠ নিচ্ছে।

১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়টি ১৯৮৫ সালের ১ জানুয়ারি এমপিওভুক্ত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে স্থানীয় শিক্ষার্থীদের মাধ্যমিক শিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও, শিক্ষার্থীর সংখ্যা ও শিক্ষা কার্যক্রম বৃদ্ধি পেলেও ভবনের উন্নয়ন হয়নি।

বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, ভবনের দেয়াল ও ছাদের বিভিন্ন অংশে ফাটল রয়েছে। অনেক স্থানে পলেস্তারা উঠে গিয়ে রড বেরিয়ে পড়েছে। বর্ষাকালে ছাদ দিয়ে পানি পড়ায় শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাবেরা খাতুন জানান, "অন্য স্কুলের সুন্দর ও নিরাপদ ভবন দেখে আমাদেরও এমন একটি শ্রেণিকক্ষে বসে ক্লাস করতে ইচ্ছে করে। বৃষ্টির দিনে ছাদ দিয়ে পানি পড়ে, তখন পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়া কঠিন হয়ে যায়।"

অন্য শিক্ষার্থী সুমি আক্তার বলেন, "পুরোনো এই ভবনে ক্লাস করার সময় সব সময় ভয় লাগে। আমরা চাই, আমাদের স্কুলটিও নিরাপদ ও সুন্দর হোক।"

অভিভাবকেরাও বিদ্যালয়ের ভবন নিয়ে উদ্বিগ্ন। তাদের মতে, পুরোনো ভবনে সাময়িক সংস্কার করে সমস্যার সমাধান হবে না। শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন ভবন নির্মাণের প্রয়োজন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুস্তাক আহম্মেদ মন্তব্য করেন, "প্রায় ২০০ শিক্ষার্থীকে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে নিয়ে প্রতিদিন পাঠদান করানো মানসিক চাপের বিষয়। ভবনটির অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে শুধু চুনকাম বা জোড়াতালি দিয়ে এর সমাধান হবে না।"

বিদ্যালয়ে বর্তমানে ১২ জন শিক্ষক কর্মরত থাকলেও সাতটি পদ শূন্য রয়েছে বলে জানান প্রধান শিক্ষক। তার মতে, শিক্ষকসংকটের পাশাপাশি ভবনের নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেবে।

এলাকাবাসীর ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার আলো ছড়ানো প্রতিষ্ঠানটির এমন অবস্থা চলতে পারে না। কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা এখন শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ফোন আলাপে বাংলাদেশ ও মিশরের সম্পর্ক জোরদার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:৩৬ পি.এম


দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ফোন আলাপে বাংলাদেশ ও মিশরের সম্পর্ক জোরদার

বাংলাদেশ ও মিশরের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন উভয় দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

নীল ইল-আখবরের তথ্য অনুযায়ী, মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. বদর আবদেল-আতি এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) টেলিফোনে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।

মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নির্বাচনের জন্য দেশটির প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে সংসদ নির্বাচনে তার দলের বিজয়ের পর তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ায়ও অভিনন্দন জানান।

এছাড়া, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান ড. বদর আবদেল-আতি। এই মাসে শুরু হতে যাওয়া অধিবেশনের এক বছরের সভাপতিত্বকালে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে সমন্বয় ও পরামর্শ অব্যাহত রাখার আশা প্রকাশ করেন তিনি।

তিনি উল্লেখ করেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোর আকাঙ্ক্ষা ও অগ্রাধিকার তুলে ধরা, জাতিসংঘ সংস্কারের উদ্যোগকে এগিয়ে নেওয়া এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা জোরদারে সাধারণ পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

টেলিফোন আলাপে দুই দেশের সামগ্রিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা হয়। মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিয়মিত দ্বিপক্ষীয় পরামর্শ অব্যাহত রাখা, দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকগুলো কার্যকর করা এবং অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র খুঁজে বের করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এ সময় ওষুধশিল্প, বস্ত্র ও তৈরি পোশাক, মৎস্যচাষ এবং চামড়াশিল্পে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি সুয়েজ খাল অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর মধ্যে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়েও আলোচনা করেন দুই মন্ত্রী।

মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এসব খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধি পেলে দুই দেশের বাণিজ্যিক বিনিময়ের পরিমাণ বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক বিনিয়োগ উৎসাহিত করা সম্ভব হবে। দুই দেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র উন্মোচনেও এটি ভূমিকা রাখবে।

আলোচনায় মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন অঞ্চলের সর্বশেষ পরিস্থিতিও উঠে আসে। ড. বদর আবদেল-আতি আঞ্চলিক সংকট ও সংঘাতের উত্তেজনা কমাতে এবং এর নেতিবাচক প্রভাব নিয়ন্ত্রণে মিশরের অব্যাহত প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার ঝুঁকি থেকে অঞ্চলকে রক্ষা করতে মিশর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হাফেজ জায়েদের স্বপ্ন ইউরোপে গিয়েও পূরণ হলো না

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:৩৭ পি.এম


হাফেজ জায়েদের স্বপ্ন ইউরোপে গিয়েও পূরণ হলো না

২৪ বছর বয়সী কোরআনের হাফেজ জায়েদ আলী শাহ, কম খরচে ইউরোপে যাওয়ার স্বপ্ন নিয়ে বাড়ি ছেড়েছিলেন। দালাল চক্রের খপ্পরে পড়ে অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে গ্রিসে পৌঁছালেও, তাঁর স্বপ্ন পূরণ হয়নি। নির্যাতন ও অনাহারে থাকার পর, গ্রিসে পৌঁছানোর চার দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান জায়েদ আলী।

দেড় মাস পর, রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ওই যুবকের প্রাণহীন নিথর দেহ গ্রামে ফিরে আসে। পরে দুপুরে জানাজার নামাজ শেষে তাঁকে নিজ গ্রামে দাফন করা হয়। হৃদয়বিদারক এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

জায়েদ আলী সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পৌরসভার শেরপুর গ্রামের মৃত শাহ রহিম আলীর ছেলে। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে জায়েদ ছিলেন সবার ছোট ও আদরের। তবুও সংসারের হাল ধরতে গত সাত মাস আগে সার্বিয়া যাওয়ার জন্য বাড়ি ছাড়েন জায়েদ। কিন্তু দালাল চক্রের প্রতারণার শিকার হয়ে সার্বিয়ার বদলে লিবিয়া হয়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে দেড় মাস আগে গ্রিসে পৌঁছান তিনি।

লিবিয়ায় অবস্থানকালে, অমানবিক শারীরিক নির্যাতন ও অনাহারে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। পরে তাঁকে গ্রিসের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৪০ দিন আগে তাঁর মৃত্যু ঘটে। পরে বাংলাদেশ দূতাবাসের সহযোগিতায় শনিবার জায়েদের মরদেহ দেশে ফেরত আনা হয়।

জায়েদের বড় ভাই রাহেদ শাহ জানিয়েছেন, গত সাত মাস আগে দালালের সঙ্গে ১৩ লাখ টাকায় তাঁর ভাইকে সার্বিয়া পাঠানোর চুক্তি হয়। কিন্তু দালাল প্রতারণা করে তাঁকে লিবিয়া পাঠায়। সেখানে তাঁকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়। নির্যাতন থেকে জায়েদকে বাঁচাতে, তিনি দালাল চক্রকে আরও ৯ লাখ টাকা দেন। তবুও তিনি তাঁর ভাইকে বাঁচাতে পারেননি। তাঁরা এর বিচার চান।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%