প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন, ২০০০ অনুযায়ী, কোনো পুকুর বা জলাশয়ের স্বাভাবিক চরিত্র পরিবর্তন বা ভরাট করা সম্পূর্ণ অবৈধ। উচ্চ আদালতের সুস্পষ্ট রায় অনুযায়ী, ব্যক্তিমালিকানাধীন পুকুর বা জলাশয়ও ইচ্ছেমতো ভরাট করা কিংবা এর শ্রেণি পরিবর্তন করা যাবে না। কিন্তু এই আইনকে উপেক্ষা করে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মালিকানাধীন পুকুর ব্যক্তিগত অর্থে ভরাট করার অভিযোগ উঠেছে এক ইউপি চেয়ারম্যান ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে মাদারীপুর সদর উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের ৪৬ নম্বর চরনাচনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ৪৬ নম্বর চরনাচনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোলঘেঁষে প্রায় ৪০ শতাংশ জমির পুরো পুকুরটি বিদ্যালয়ের সম্পত্তি। তবে সদর উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ফায়েকুজ্জামান বাবুল এবং ৪৬ নম্বর চরনাচনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুমন মিয়ার যোগসাজশে গত এক সপ্তাহ ধরে দিনের আলোতে প্রকাশ্যে পুকুরটি ভরাট করা হচ্ছে।
ইউপি চেয়ারম্যান সরকারি ভাবে একটি প্রকল্প অনুমোদনের চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু ব্যর্থ হন। সেই প্রকল্পের আশায় ব্যক্তিগত অর্থ দিয়ে পুকুরটি ভরাট করে ফেলেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে, তিনি এখনো সরকারি অর্থ থেকে সমন্বয় করার জন্য পাঁয়তারা করছেন। সরকারি আইনকে উপেক্ষা করে পুকুরটি ভরাট করায় পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের পুকুরটি গোসল করা থেকে শুরু করে বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। পুকুরটির অস্তিত্ব বিলীন হওয়ায় আশপাশের পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। এলাকার অগ্নিকাণ্ডের সময়ও পুকুরটি ব্যাপক ভূমিকা রাখত। কিন্তু ইউপি চেয়ারম্যান ক্ষমতার অপব্যবহার করে স্কুলের জমিতে থাকা পুকুরটি ভরাট করেছেন। প্রতিবাদ করলে মামলা-হামলার ভয় দেখানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। ঘটনাটির সঙ্গে এক ইউপি সদস্যও জড়িত বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের পাশাপাশি সচেতন মহল ঘটনার বিচার দাবি করেছেন।
স্থানীয় পরিবেশভিত্তিক সংগঠন ফ্রেন্ডস অব নেচার-এর নির্বাহী পরিচালক রাজন মাহমুদ মন্তব্য করেন, "পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পুকুর বাঁচিয়ে রাখতে সবার এগিয়ে আসতে হবে। জলাশয় বা পুকুর ভরাট করা গুরুতর অপরাধ। এই ঘটনায় জড়িতদের দৃশ্যমান বিচার হওয়া উচিত।" তিনি সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে অনুরোধ করেন সবাইকে আইনের আওতায় আনার জন্য। পাশাপাশি ভরাট করা পুকুরটি পুনঃখনন করে আগের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার দাবি জানান।
মাদারীপুর উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ বলেন, "পুকুরটি ভরাটের পেছনে অবশ্যই কোনো অসৎ উদ্দেশ্য রয়েছে। তা না হলে ইউপি চেয়ারম্যান তাঁর ব্যক্তিগত অর্থ দিয়ে পুকুরটি ভরাট করতেন না।" তিনি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ভরাটকৃত পুকুরটির বালু অপসারণের দাবি জানান।
অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান মো. ফায়েকুজ্জামান বাবুল বলেন, "সরকারি প্রকল্প অনুমোদন হওয়ার কথা। কিন্তু সেটি বাস্তবায়ন হয়নি। জনস্বার্থে ব্যক্তিগত তহবিল থেকে স্কুলের পুকুরটি ভরাট করেছি। এতে খরচ প্রায় ২৫ লাখ টাকা। এটা নিয়ে তো কারও কোনো আপত্তি থাকার কথা নয়।"
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুমন মিয়া বলেন, “ইউপি চেয়ারম্যান ফায়েকুজ্জামান বাবুল পুকুরটি ভরাট করেছেন। তিনিই ভালো জানবেন। আমার কাছে পুকুর ভরাট করার কোনো অনুমতিপত্র নেই। এটি ভরাট করে খেলার মাঠ বাড়ানো হবে। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার মান উন্নয়নে পুকুরটি ভরাট করতে দেওয়া হয়েছে।”
মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকিয়া সুলতানা জানান, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবগত করা হয়েছে। ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নলেজে বিষয়টি রয়েছে। তিনি বলেন, "আমরা দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।"
মাদারীপুরের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফজলে এলাহী বলেন, শিক্ষক চাইলেই স্কুলের পুকুর ভরাট করতে পারেন না। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষা অধিদপ্তরের একজন সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সরকার বিভাগের মাদারীপুরের উপপরিচালক জেসমিন আক্তার বানু বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান কোনো অবস্থাতেই বিদ্যালয়ের পুকুর ভরাট করতে পারেন না। তিনি জানান, খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন