শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১১:২৯ এম
দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী রাশমিকা মান্দানা বিকিনি কিংবা শরীরের বেশি অংশ প্রকাশ পায় এমন পোশাক পরতে অস্বস্তি বোধ করেন। চরিত্রের প্রয়োজনে এমন পোশাক পরতে হলেও, তিনি নিজের অস্বস্তি ও ব্যক্তিগত সীমারেখার কথা স্পষ্টভাবে জানাতে চান। তবে সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পর কোনো দৃশ্য বা পোশাক নিয়ে আপত্তি জানানো সহজ নয়, সে কথাও তিনি স্বীকার করেছেন।
সম্প্রতি, স্বামী ও অভিনেতা বিজয় দেবেরাকোন্ডার সঙ্গে করণ জোহরের সঞ্চালনায় ‘কফি উইথ করণ’ এর নবম মৌসুমে হাজির হয়ে এসব বিষয়ে আলোচনা করেন রাশমিকা। সেখানে অভিনয়শিল্পীদের ব্যক্তিগত পছন্দ, খোলামেলা পোশাক এবং কোনো দৃশ্য নিয়ে অস্বস্তি প্রকাশের স্বাধীনতার বিষয়টি উঠে আসে।
রাশমিকা জানান, বাণিজ্যিক সিনেমায় অভিনয়ের ক্ষেত্রে অনেক সময় এমন পোশাক পরতে হয়, যা অভিনয়শিল্পীর ব্যক্তিগত পছন্দের সঙ্গে মেলে না। তবে চরিত্রের প্রয়োজনে সবকিছু মেনে নেওয়া উচিত, তিনি মনে করেন না।
এ প্রসঙ্গে অভিনেত্রী বলেন, "কিছু বিষয় আছে, যেগুলোতে আমি স্বচ্ছন্দ নই। আমি জানি, কিছু চরিত্রের প্রয়োজনে বিকিনি বা এ ধরনের পোশাক দরকার হতে পারে। কিন্তু এমন ক্ষেত্রেও আমি বলব, শরীরের বেশি অংশ প্রকাশ পায় এমন পোশাকে আমি অস্বস্তি বোধ করি। আমি সে ধরনের মানুষ নই।"
নিজের পছন্দ-অপছন্দের বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান রাখেন বলেও জানান রাশমিকা। তার ভাষ্য, কিছু পোশাক পরতে পুরোপুরি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন না তিনি। তাই নিজের জন্য নির্দিষ্ট কিছু সীমারেখা ঠিক করে রেখেছেন। সাধারণত এমন পরিচালকদের সঙ্গে কাজ করতে পছন্দ করেন, যারা তার সিদ্ধান্ত ও ব্যক্তিগত সীমারেখাকে সম্মান করেন।
বিজয় দেবেরাকোন্ডাও রাশমিকার বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেন। তার মতে, কোনো দৃশ্য বা পোশাক নিয়ে আপত্তি জানানোর মতো নিরাপদ ও সহযোগিতাপূর্ণ পরিবেশ থাকা জরুরি। কারণ, সিনেমায় কাজ করতে রাজি হওয়ার পর নিজের অস্বস্তির কথা জানালে পেশাদারত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে এমন আশঙ্কা অনেক অভিনয়শিল্পীর মধ্যে কাজ করে।
বিজয় বলেন, "কোনো সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পর অভিনয়শিল্পীরা ভাবতে পারেন, নির্দিষ্ট দৃশ্য বা পোশাক নিয়ে আপত্তি জানালে অন্যরা তাদের দায়িত্ব পালনে অনীহা আছে বলে মনে করবেন।" এই চাপের কারণে অনেক সময় নিজের অস্বস্তি উপেক্ষা করেই রাজি হয়ে যান তারা।
বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বিজয় বলেন, অভিনয়শিল্পীদের নিজের অবস্থানে অনড় থাকার ক্ষেত্রে সমর্থন দেওয়া প্রয়োজন। কোনো দৃশ্য নিয়ে আপত্তি জানালে তাদের এমন প্রশ্নের মুখে পড়তে হতে পারে, "তুমি তো অভিনেত্রী, এই সিনেমায় কাজ করতে রাজি হয়েছ। এটা কি তোমার কাজ নয়?" এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই নিজেদের পেশাদারত্ব নিয়ে সন্দেহে ভোগেন এবং বিষয়টি এড়িয়ে যেতে চান। পরে তা প্রকাশ্যে এলে তাদের মনে হতে পারে, শুরুতেই আপত্তি জানানো উচিত ছিল।
রাশমিকাও স্বীকার করেন, কোনো দৃশ্যে অভিনয় করতে না চাইলে পরিচালকের সামনে সরাসরি ‘না’ বলা তার জন্যও কঠিন। নিজের অস্বস্তির কথা জানাতে অনেক সময় দ্বিধায় পড়েন তিনি। এ ক্ষেত্রে বিজয়ের সঙ্গে কথা বলে সাহস পান।
রাশমিকার কথায়, "অভিনয়শিল্পীদের এমন পরিবেশ দিতে হবে, যেখানে তারা সহজেই প্রশ্ন করতে পারবেন। আমারও কখনো কখনো বলতে কষ্ট হয়, আমি এটা করতে চাই না। তখন বিজয়ের সঙ্গে অনেকবার কথা বলতে হয়। আমি তাকে বলি, বিষয়টি জানাতে চাই। সে বলে, তুমি বলতে পারো। অবশ্যই বলা উচিত।"
সব মিলিয়ে, অভিনয়শিল্পীদের পেশাদারিত্বের পাশাপাশি ব্যক্তিগত স্বাচ্ছন্দ্য ও সম্মতির গুরুত্বের বিষয়টি সামনে এনেছেন রাশমিকা ও বিজয়। তাদের বক্তব্য, কোনো পোশাক বা দৃশ্য নিয়ে অস্বস্তি থাকলে তা প্রকাশ করার স্বাধীনতা থাকা জরুরি। সিনেমায় কাজ করতে সম্মত হওয়া মানেই সব ধরনের দৃশ্য বা পোশাকের বিষয়ে বিনা প্রশ্নে রাজি হওয়া নয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমর জানিয়েছেন, তিনি তার ওয়াশিংটন ডিসির বাড়িটি ছেড়ে অন্য কোথাও যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। এ সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ের তল্লাশি।
ইলহান ওমর উল্লেখ করেছেন, ওই অভিযানের ফলে তার বাড়িটি অনাকাঙ্ক্ষিত মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে এবং তিনি নিজেকে নিরাপত্তাহীন মনে করছেন। এবিসি নিউজের একটি প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
গত সপ্তাহে মিনেসোটা থেকে নির্বাচিত ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমরের বাড়িতে এফবিআই তল্লাশি চালায়। তার পরিবারের সদস্যদের অভিবাসন সংক্রান্ত নথিপত্রে জালিয়াতির অভিযোগের কারণে চলমান ফৌজদারি তদন্তের অংশ হিসেবে এ অভিযান পরিচালিত হয়। এ ঘটনায় তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যকে সমনও পাঠানো হয়েছে।
সোমালিয়ায় জন্ম নেওয়া ইলহান ওমর যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন। বুধবার এমএস নাউকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে তিনি অভিযোগগুলো অস্বীকার করেন। বাড়িতে তল্লাশির পর এটি ছিল তার প্রথম সাক্ষাৎকার।
ইলহান ওমর বলেন, “আমি নিশ্চিত যে আমি কোনো অন্যায় করিনি।”
দীর্ঘদিন ধরে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থক ও রক্ষণশীল ভাষ্যকারদের একটি অংশ অভিযোগ করে আসছেন যে, ইলহান ওমর তার ভাইকে বিয়ে করে অভিবাসন জালিয়াতি করেছেন এবং নিজের অভিবাসন ইতিহাস সম্পর্কে ভুল তথ্য দিয়েছেন। তবে ওমর বারবার এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। অভিযোগগুলোর পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
ইলহান ওমরের অভিযোগ, তার বাড়িতে তল্লাশির ঘটনা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থকরা দীর্ঘদিন ধরে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন, তাদের সন্তুষ্ট করার জন্যই এ অভিযান চালানো হয়েছে।
এমএস নাউয়ের উপস্থাপক ক্রিস হেইসকে ওমর বলেন, তারা বারবার ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন, আমার সঙ্গে কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে। আমার বিশ্বাস, তারা কিছু একটা করতেই চেয়েছিলেন। যাতে বলতে পারেন, দেখুন, আমরা তার বাড়িতে অভিযান চালিয়েছি।
তল্লাশির পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ওমর অভিযোগ করেন, ট্রাম্প প্রশাসন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন করতে কেন্দ্রীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ব্যবহার করছে।
ওমর লেখেন, “গত ১০ বছর ধরে ট্রাম্প ভিত্তিহীন মিথ্যা ও অপপ্রচারের মাধ্যমে আমাকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছেন। এটি তার রাজনৈতিকভাবে ভয় দেখানোর প্রচারণার সর্বশেষ ধাপ। আমাকে নীরব করা যাবে না।” সূত্র: জেরুজালেম পোস্ট
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
গাজীপুরের কালীগঞ্জে একটি চিহ্নিত মাদক কারবারিকে আটক করার পর থানায় ফেরার সময় অজ্ঞাত একটি গাড়ি (কাভার্ডভ্যান) চাপায় পুলিশের এক এসআই এবং স্থানীয় একজন ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও দুজন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ভোররাতে কালীগঞ্জ সরকারি শ্রমিক কলেজের সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন—কালীগঞ্জ থানার এসআই মিজানুর রহমান (৩০) এবং তুমুলিয়া এলাকার মৃত ওয়াজ উদ্দিন মোল্লার ছেলে রফিকুল ইসলাম মোল্লা (৪৫)। আহতদের মধ্যে এসআই জাবেদ ওমর (২৮) এবং গাড়িচালক রাব্বি (২৮) রয়েছেন। তাদের মধ্যে জাবেদ বর্তমানে ঢাকায় চিকিৎসাধীন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তুমুলিয়া এলাকায় মৃত শহিদ মিয়ার ছেলে চিহ্নিত মাদক কারবারি আহিদ মিয়াকে (৪৫) আটক করতে শুক্রবার রাত পৌনে তিনটার দিকে এসআই মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে একটি পুলিশ টিম অভিযানে যায়। পরে তাকে বাড়ি থেকে আটক করা হয়। থানায় ফেরার পথে কালীগঞ্জ সরকারি শ্রমিক কলেজের সামনে গাড়ি থামিয়ে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে একজনের সঙ্গে কথা বলছিলেন পুলিশ সদস্য মিজানুর রহমান, জাবেদ ওমর এবং রাব্বি। হঠাৎ করে ঘোড়াশালমুখী একটি অজ্ঞাত গাড়ি (কাভার্ডভ্যান) তাদের চাপা দিয়ে চলে যায়।
ঘটনার সময় অন্যান্য পুলিশ সদস্যরা আহত চারজনকে উদ্ধার করে রাত তিনটা ৫০ মিনিটে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। কর্তব্যরত চিকিৎসক সেখানে রফিকুল ইসলাম মোল্লাকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিক চিকিৎসার পর গুরুতর আহত মিজানুর রহমান ও জাবেদ ওমরকে ঢাকায় পাঠানো হয়। পরে তাদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে সকাল ছয়টা ৪৭ মিনিটে চিকিৎসকেরা মিজানুর রহমানকে মৃত ঘোষণা করেন।
[[
কালীগঞ্জ থানার ওসি মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘দুর্ঘটনার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মিজানুর রহমানের মৃত্যু হয়েছে। জাবেদ ওমর গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন। রাব্বি প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। চাপা দেওয়া গাড়িটি শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মৃত্যু দ্বারা সত্যিকারের ভালোবাসা কখনো মুছে ফেলা সম্ভব নয়। ৯৩ বছর বয়সী মার্কিন নাগরিক ক্ল্যারেন্স পারভিস এই সত্যটি প্রমাণ করেছেন। ১৯৪৮ সালে ক্যারোলিনের সঙ্গে তার পরিচয় ঘটে এবং পরবর্তী বছর ১৯৪৯ সালে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। দীর্ঘ ৬৩ বছরের সুখী দাম্পত্য জীবনে যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ার রেইডসভিলের ‘স্মিথস’ রেস্তোরাঁয় একসঙ্গে দুপুরের খাবার খাওয়া তাদের জন্য একটি প্রিয় রুটিন হয়ে উঠেছিল। তবে স্ত্রীর মৃত্যুর পরও তিনি আজও একই টেবিলে খেতে বসেন, সঙ্গে স্ত্রীর একটি ছবির উপস্থিতি নিয়ে।
দুজনে একসঙ্গে গল্প করতে করতে খাবার উপভোগ করা ছিল তাদের সম্পর্কের একটি বিশেষ দিক। ২০১৩ সালে স্ত্রীর মৃত্যুর পর ক্ল্যারেন্স একাকীত্বের শিকার হন। কিন্তু স্ত্রীর প্রতি তার গভীর ভালোবাসা এবং দীর্ঘদিনের স্মৃতি তিনি কোনোভাবেই ভুলতে পারেননি। তাই তিনি এখনো প্রিয় রেস্তোরাঁয় খেতে বসে টেবিলের ওপাশে স্ত্রীর একটি বাঁধানো ছবি রেখে দেন। ক্ল্যারেন্সের বিশ্বাস, শারীরিকভাবে স্ত্রীর অনুপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও, আত্মিকভাবে ক্যারোলিন তার পাশে আছেন।
এটি শুধু রেস্তোরাঁর বিষয় নয়, স্ত্রীর প্রতি তার গভীর অনুরাগ তাকে প্রতিদিন সকালে ক্যারোলিনের সমাধিতে যাওয়ার জন্যও উদ্বুদ্ধ করে। তিনি দিনের মধ্যে একাধিকবার সেখানে গিয়ে স্ত্রীর কাছাকাছি থাকার অনুভূতি অনুভব করেন। ২০১৭ সালে তাদের এই হৃদয়স্পর্শী গল্পটি বিশ্বজুড়ে ভাইরাল হয়ে লাখো মানুষের হৃদয় জয় করে। ক্ল্যারেন্স পারভিস প্রমাণ করেছেন, প্রিয় মানুষটি চলে গেলেও, ছোট ছোট স্মৃতি এবং অভ্যাসের মাধ্যমে সত্যিকারের ভালোবাসা চিরকাল বেঁচে থাকে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সকালের নাশতায় ভাত খাওয়ার অভ্যাস অনেক বাঙালির মধ্যে প্রচলিত। কিছু মানুষ আগের রাতের অবশিষ্ট ভাত খান, আবার কেউ গরম ভাতের সঙ্গে ডিমভাজি বা সবজি নিয়ে দিন শুরু করেন। তবে প্রশ্ন হলো, সকালে ভাত খাওয়ার এই অভ্যাস কি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, নাকি এটি শরীরে শক্তি জোগানোর একটি কার্যকর উপায়?
স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট হেলথশটসের প্রতিবেদনে পুষ্টিবিদ নেহা পাঠানিয়া উল্লেখ করেছেন, পরিমিত পরিমাণে এবং সুষম খাদ্যতালিকার অংশ হিসেবে সকালের নাশতায় ভাত খাওয়া যেতে পারে। তবে ভাতের সঙ্গে সবজি ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সকালে ভাত খাওয়ার উপকারিতা
ভাত হল কার্বোহাইড্রেটের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস। এটি শরীরে শক্তি যোগাতে সাহায্য করে। সকালের নাশতায় ভাত খেলে দিনের শুরুতে দৈনন্দিন কাজের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি পাওয়া সম্ভব।
এছাড়া, ভাতের সঙ্গে মটরশুঁটি, গাজর, শিম, পালংশাক বা অন্যান্য সবজি যোগ করলে খাবারের পুষ্টিগুণ বাড়ানো সম্ভব। ডিম, মাছ বা ডালের মতো প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবারও নাশতায় অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। এতে খাবারটি আরো সুষম হয়ে ওঠে।
শুধু ভাত খাওয়াই কি যথেষ্ট?
সকালের নাশতায় শুধুমাত্র ভাত খাওয়ার পরিবর্তে বিভিন্ন ধরনের পুষ্টিকর খাবার রাখা অধিকতর উপকারী। কারণ, শরীরের সুস্থতার জন্য কার্বোহাইড্রেটের পাশাপাশি প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর চর্বি, ভিটামিন ও খনিজ উপাদানও প্রয়োজন।
সাদা ভাতের পাশাপাশি লাল চাল বা কম প্রক্রিয়াজাত চাল বেছে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এসব চালের পুষ্টিগুণ ও আঁশের পরিমাণ চালের ধরন অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে।
ডায়াবেটিস ও ওজন নিয়ন্ত্রণে যা মনে রাখা জরুরি
ভাত খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়তে পারে। বিশেষ করে সাদা ভাত দ্রুত হজম হওয়ার কারণে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে রক্তে শর্করা দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে। তাই ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ভাতের পরিমাণ এবং সঙ্গে কী খাবার খাচ্ছেন, সে বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে চাইলে অতিরিক্ত ভাত খাওয়া এড়িয়ে চলা উচিত। তবে ভাত একেবারে বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। ব্যক্তির শারীরিক চাহিদা, দৈনন্দিন কাজের ধরন এবং স্বাস্থ্যগত অবস্থার ওপর নির্ভর করে ভাতের উপযুক্ত পরিমাণ নির্ধারণ করা উচিত।
রাতে ভাত খাওয়া কি ক্ষতিকর?
রাতে ভাত খাওয়া উচিত নয় এমন ধারণা প্রচলিত থাকলেও, শুধুমাত্র রাতের বেলা ভাত খেলেই শরীরের ক্ষতি হয়, এমন নয়। দিনের কোন সময়ে খাওয়া হচ্ছে, তার পাশাপাশি মোট খাদ্যগ্রহণ, খাবারের পরিমাণ এবং শারীরিক সক্রিয়তাও গুরুত্বপূর্ণ।
সুতরাং, সকালে, দুপুরে কিংবা রাতে যেকোনো সময় ভাত খাওয়ার ক্ষেত্রে পরিমিতি ও সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।
তাহলে সকালে ভাত খাওয়ার অভ্যাস কি বাদ দিতে হবে?
পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী, সকালের নাশতায় পরিমিত ভাত খাওয়া যেতে পারে। ভাতের সঙ্গে ডিম, মাছ, ডাল বা সবজি রাখলে খাবারটি আরো পুষ্টিকর হতে পারে।
অতএব, সকালে ভাত খেলেই শরীরের ক্ষতি হয় এমন ধারণার ভিত্তি নেই। বরং কতটা ভাত খাওয়া হচ্ছে, খাবারের সঙ্গে কী রয়েছে এবং ব্যক্তির শারীরিক চাহিদা কেমন, সেদিকেই নজর দেওয়া উচিত।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ