শুক্রবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:৩১ পি.এম
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় স্ত্রীর গলায় ছুরিকাঘাতের অভিযোগের পর শামীম হোসেন (৩৫) নামে এক ইজিবাইকচালক আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গেছে।
এই ঘটনা ঘটেছে বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে, ফতুল্লার কুতুবপুর ইউনিয়নের চিতাশাল ১ নম্বর গলির ফারুক হোসেন খোকনের বাড়ির দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে। দুপুর দেড়টার দিকে শামীমের মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ।
শামীম হোসেন শরীয়তপুর জেলার গোসাইরহাট উপজেলার রানীশাহ গ্রামের মৃত নুরু বেপারীর পুত্র। আহত ময়ূরী বেগম (৩০) একই গ্রামের জয়নাল মাদবরের কন্যা। তাদের তিনটি সন্তান রয়েছে।
প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, শামীম ও ময়ূরী বেগমের মধ্যে পারিবারিক বিষয় নিয়ে প্রায়ই ঝগড়া হতো। বুধবার সকাল ১০টার দিকে তাদের মধ্যে ঝগড়ার এক পর্যায়ে শামীম বাসা থেকে বের হয়ে যান। কিছুক্ষণ পর তিনি আবার ফিরে এসে ময়ূরী বেগমের গলায় ছুরিকাঘাত করেন।
ময়ূরী বেগম গলা ধরে দৌড়ে বাড়ির বাইরে চলে যান। এরপর শামীম ঘরের দরজা বন্ধ করে ফ্যানের সঙ্গে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন।
এ সময় শামীমের মা পাশের ঘর থেকে এসে চিৎকার করলে আশপাশের ফ্ল্যাটের লোকজন এগিয়ে আসেন। পরে থানায় খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ময়ূরীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। একই সঙ্গে শামীমের মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
নিহতের বড় ভাই মোস্তফা জানিয়েছেন, শামীম-ময়ূরীর এক ছেলে ফাহিম (১০) এবং দুই মেয়ে ফাতেমা (৪) ও ফিরিস্তা (১) রয়েছে। তিনজনই শিশু। শামীম কেন এই ঘটনা ঘটিয়েছেন, তা তিনি জানাতে পারেননি।
ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মাহবুব আলম জানিয়েছেন, আহত নারীকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তিনি সুস্থ হলে ঘটনার কারণ জানা যাবে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে হায়ালুরোনিক অ্যাসিড সমৃদ্ধ সিরামের ব্যবহার ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এটি ত্বককে কোমল, টানটান ও উজ্জ্বল দেখাতে সাহায্য করে এবং এর জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। তবে নিয়ম মেনে ব্যবহার না করলে কাঙ্ক্ষিত ফলের পরিবর্তে ত্বক টানটান ও শুষ্ক অনুভূতি দিতে পারে।
হায়ালুরোনিক অ্যাসিড মূলত একটি উপাদান যা পানি ধরে রাখার ক্ষমতা রাখে। এর ফলে এটি ত্বকের আর্দ্রতা বৃদ্ধি করে এবং ত্বককে কিছুটা সজীব ও ভরাট দেখাতে সহায়তা করে। তবে, শুধুমাত্র সিরাম ব্যবহার করলেই ত্বকের আর্দ্রতা আটকে থাকে না। এর পর ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি।
হায়ালুরোনিক অ্যাসিড কীভাবে কাজ করে
হায়ালুরোনিক অ্যাসিড ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সক্ষম। এটি ত্বকের উপরের স্তরে পানির পরিমাণ বাড়িয়ে ত্বককে নরম ও ভরাট দেখাতে সাহায্য করে। কিছু সিরামে বিভিন্ন আকারের হায়ালুরোনিক অ্যাসিড অণু ব্যবহার করা হয়, যাতে ত্বকের উপরের স্তরের পাশাপাশি কিছুটা গভীর স্তরেও আর্দ্রতা পৌঁছাতে পারে।
তবে একটি বিষয় মনে রাখা প্রয়োজন—হায়ালুরোনিক অ্যাসিড ত্বকে পানি ধরে রাখতে সাহায্য করলেও এটি নিজে থেকে সেই পানি আটকে রাখতে পারে না। তাই এর ওপর ময়েশ্চারাইজার লাগানো অপরিহার্য।
সিরাম মাখার পর ময়েশ্চারাইজার কেন জরুরি
ত্বকে পানি যোগ করা এবং সেই পানি ধরে রাখা এক বিষয় নয়। হায়ালুরোনিক অ্যাসিড ত্বকে আর্দ্রতা যোগ করে, আর ময়েশ্চারাইজার সেই আর্দ্রতা ধরে রাখতে সহায়তা করে।
সুতরাং, শুধুমাত্র হায়ালুরোনিক অ্যাসিড সিরাম মেখে রেখে দিলে বিশেষ করে শুষ্ক পরিবেশে ত্বকের পানি দ্রুত বাষ্প হয়ে যেতে পারে। এতে উল্টো ত্বক টানটান বা শুষ্ক মনে হতে পারে।
সহজ নিয়ম হলো—সিরাম ত্বকে আর্দ্রতা দেবে, আর ময়েশ্চারাইজার সেই আর্দ্রতা ধরে রাখবে।
শুষ্ক আবহাওয়ায় সাবধান
আবহাওয়ার আর্দ্রতার ওপরও হায়ালুরোনিক অ্যাসিডের কার্যকারিতা অনেকটা নির্ভর করে। বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকলে এটি পরিবেশ থেকে পানি ধরে ত্বকের আর্দ্রতা বাড়াতে সহায়তা করতে পারে।
কিন্তু শুষ্ক আবহাওয়ায় বাতাসে পানির পরিমাণ কম থাকে। আবার ঘরে সব সময় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র চললেও বাতাস শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। এ সময় ত্বকে হায়ালুরোনিক অ্যাসিড লাগিয়ে তার ওপর ময়েশ্চারাইজার না দিলে ত্বক আরও টানটান লাগতে পারে।
তাহলে শুষ্ক আবহাওয়ায় হালকা ভেজা ত্বকে সিরাম লাগিয়ে সঙ্গে সঙ্গে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা উত্তম।
কোন ত্বকে ব্যবহার করা যায়
হায়ালুরোনিক অ্যাসিড সাধারণত বিভিন্ন ধরনের ত্বকে ব্যবহার করা যায়। শুষ্ক ত্বকে এটি আর্দ্রতা বাড়াতে সহায়তা করে। আবার তৈলাক্ত ও ব্রণপ্রবণ ত্বকের জন্যও হালকা, তেলমুক্ত সিরাম উপযোগী হতে পারে।
ত্বক তৈলাক্ত হলেও ত্বকের ভেতরে পানির ঘাটতি থাকতে পারে। সে ক্ষেত্রে ভারী তেলতেলে উপাদান ব্যবহার না করেও হায়ালুরোনিক অ্যাসিডের মাধ্যমে ত্বকে আর্দ্রতা যোগ করা সম্ভব।
কীভাবে ব্যবহার করবেন
হায়ালুরোনিক অ্যাসিড সিরাম ব্যবহারের নিয়ম খুব সহজ।
প্রথমে: মৃদু উপাদানের পরিষ্কারক দিয়ে মুখ পরিষ্কার করুন।
এরপর: ত্বক পুরোপুরি শুকিয়ে না নিয়ে সামান্য ভেজা অবস্থায় কয়েক ফোঁটা সিরাম লাগান।
তারপর: সিরাম লাগানোর পর ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। শুষ্ক আবহাওয়ায় তুলনামূলক ঘন ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা যেতে পারে।
দিনের বেলায়: ময়েশ্চারাইজারের পর অবশ্যই সূর্যরোধী ক্রিম ব্যবহার করুন।
অন্য উপাদানের সঙ্গেও ব্যবহার করা যায়
হায়ালুরোনিক অ্যাসিডের সঙ্গে ভিটামিন সি, নিয়াসিনামাইড ও রেটিনলযুক্ত ত্বকের যত্নের উপাদান ব্যবহার করা যায়। সাধারণভাবে পাতলা ও পানিভিত্তিক উপাদান আগে এবং ঘন উপাদান পরে ব্যবহার করা হয়।
তবে রেটিনলের মতো কিছু উপাদান ত্বক শুষ্ক করতে পারে। সে ক্ষেত্রে হায়ালুরোনিক অ্যাসিড ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সহায়ক হতে পারে।
যে ভুলে উল্টো শুষ্ক হতে পারে ত্বক
হায়ালুরোনিক অ্যাসিড ব্যবহারের সবচেয়ে সাধারণ ভুল হলো একেবারে শুকনো ত্বকে সিরাম লাগিয়ে তার ওপর কিছু না দেওয়া।
শুষ্ক ত্বক ও শুষ্ক বাতাসে এভাবে ব্যবহার করলে ত্বক টানটান লাগতে পারে। তাই সিরাম ব্যবহারের আগে ত্বক সামান্য ভেজা রাখা এবং পরে ময়েশ্চারাইজার লাগানো গুরুত্বপূর্ণ।
ত্বকে সিরাম লাগানোর পরও যদি টানটান বা শুষ্ক অনুভূতি হয়, তাহলে ব্যবহারের পদ্ধতিটি খেয়াল করুন। বিশেষ করে ময়েশ্চারাইজার বাদ পড়ছে কি না, সেটি দেখুন।
ব্যবহারের আগে যা মনে রাখবেন
হায়ালুরোনিক অ্যাসিড সাধারণত বেশির ভাগ ত্বকের জন্য উপযোগী। তবে যেকোনো নতুন ত্বকের যত্নের পণ্য ব্যবহারের আগে সংবেদনশীল ত্বকের ক্ষেত্রে অল্প জায়গায় পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো।
আর ত্বকে কোনো নির্দিষ্ট সমস্যা বা রোগ থাকলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, হায়ালুরোনিক অ্যাসিডকে শুধু সিরাম হিসেবে দেখলে হবে না। ত্বকে আর্দ্রতা যোগ করার পর সেটি ধরে রাখার ব্যবস্থাও করতে হবে। তাই ভেজা ত্বকে সিরাম, এরপর ময়েশ্চারাইজার—এই সহজ নিয়ম মেনে চললেই এর উপকার ভালোভাবে পাওয়া যেতে পারে।
সূত্র: ওশি হারবালস
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
এক বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে রাজু আহমেদ লিখেছিলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, রিকমেন্ডেড জজ, ১৮তম বিজেএস’। এটি তখন ছিল তার ভবিষ্যতের একটি স্বপ্ন। এক বছর পর সেই স্বপ্নটি বাস্তবে রূপ নিয়েছে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আল-ফিকহ অ্যান্ড ল বিভাগের শিক্ষার্থী রাজু আহমেদ ১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় সিভিল জজ হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। তার মেধাক্রম ২৬তম।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন সচিবালয়ের ওয়েবসাইটে ১৮তম বিজেএস পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল প্রকাশিত হয়। এতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ২০০ জন প্রার্থীকে সাময়িকভাবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ১৯ জন শিক্ষার্থী অন্তর্ভুক্ত আছেন। এই ১৯ জনের মধ্যে আইন বিভাগের ১৪ জন, আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগের চারজন এবং আল-ফিকহ অ্যান্ড ল বিভাগের একজন শিক্ষার্থী রয়েছেন।
রাজু আহমেদ বর্তমানে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আল-ফিকহ অ্যান্ড ল বিভাগের স্নাতকোত্তর ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র। মাস্টার্স শেষ হওয়ার আগেই তিনি সিভিল জজ হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। তার বাড়ি চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার ১২ নম্বর খাসকররা ইউনিয়নের কায়েতপাড়া গ্রামে। রাজুর এই সাফল্যে তার গ্রামবাসী এবং বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনন্দের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
রাজু আহমেদ বলেন, "মাস্টার্সে পড়াশোনা চলমান থাকায় একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি জুডিশিয়ারির প্রস্তুতি নেওয়া এবং দুটোকে সামলে চলা চ্যালেঞ্জিং ছিল।" তিনি উল্লেখ করেন, "ইবিতে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই জজ হওয়ার ইচ্ছা ছিল। প্রথম থেকেই পড়াশোনার ইচ্ছা থাকলেও সেভাবে শুরু করতে পারিনি। মূল প্রস্তুতি শুরু করি তৃতীয় বর্ষ থেকে। নিজের স্বপ্নের কথা এক বছর আগে লিখে রেখেছিলাম। এক বছর পর সেটি বাস্তবে দেখতে পেয়ে আপ্লুত।"
এক বছর আগে দেওয়া সেই ফেসবুক পোস্টের প্রসঙ্গে রাজু আহমেদ বলেন, "সময়টা তখন ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫, বাংলাদেশের বিজয় দিবস। সেদিন থেকেই মনে মনে একটি স্বপ্ন বুনেছিলাম—১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসে (বিজেএস) একজন সিভিল জজ হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হতে হবে।" তিনি আরও জানান, "সেই স্বপ্ন পূরণের পথ মোটেও সহজ ছিল না। এই দীর্ঘ যাত্রায় জীবনের অনেক কিছুই ত্যাগ করতে হয়েছে, অনেক কিছু থেকে নিজেকে দূরে রাখতে হয়েছে।"
তিনি বলেন, "প্রতিটি কঠিন সময়ে পাশে পেয়েছি আমার মা-বাবা, বোন, দুলাভাই, মামা, বন্ধুবান্ধব, শিক্ষক, প্রিয়জন ও বড় ভাইদের। তাদের দোয়া, ভালোবাসা, সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণা আমাকে প্রতিনিয়ত এগিয়ে যেতে সাহস দিয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ, আজ সেই স্বপ্ন সত্যি হয়েছে। ১৮তম বিজেএসে সিভিল জজ হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছি, মেধাক্রম ২৬তম।"
নিজের সাফল্যের জন্য সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে রাজু বলেন, "আল্লাহ তাআলা আমাকে আমার প্রত্যাশার চেয়েও অনেক বেশি দান করেছেন। তার এই অশেষ রহমত ও মেহেরবানির জন্য আমি চিরকৃতজ্ঞ। এই অর্জন শুধু আমার একার নয়। আমার পথচলায় যারা কোনো না কোনোভাবে পাশে ছিলেন, সাহস দিয়েছেন, উৎসাহ দিয়েছেন, দোয়া করেছেন কিংবা আমার ওপর বিশ্বাস রেখেছেন—প্রত্যেকের প্রতি আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।"
রাজুর এই সাফল্যে তার পরিবার, গ্রামের মানুষ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে। মাস্টার্সের পড়াশোনার পাশাপাশি ধারাবাহিক প্রস্তুতি নিয়ে এমন সাফল্য অর্জন অন্য শিক্ষার্থীদের কাছেও অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
আজ ২৫ সেপ্টেম্বর, বিশ্ব ফুসফুস দিবস। ফুসফুস শরীরে অক্সিজেন পৌঁছানোর ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং শরীর থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড বের করে দেওয়ার কাজ করে। তবে ধূমপান, বায়ুদূষণ, ঘরের ধোঁয়া এবং বিভিন্ন পরিবেশগত কারণে ফুসফুস প্রতিনিয়ত ঝুঁকির সম্মুখীন হচ্ছে।
ফুসফুসের স্বাস্থ্য সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করার উদ্দেশ্যে প্রতি বছর ২৫ সেপ্টেম্বর বিশ্ব ফুসফুস দিবস উদযাপন করা হয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০২৬ সালে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে দীর্ঘস্থায়ী বাধাজনিত ফুসফুসের রোগ বা সিওপিডির কারণে প্রায় ৩৪ লাখ মানুষের মৃত্যু ঘটে। একই সময়ে হাঁপানিতে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা আনুমানিক ৩৬ কোটি ৩০ লাখ ছিল এবং এই রোগে মৃত্যু হয়েছে প্রায় ৪ লাখ ৪২ হাজার মানুষের।
ফুসফুসের ক্ষতির একটি প্রধান কারণ হলো ধূমপান। সিগারেট, বিড়ি, চুরুট অথবা হুক্কার ধোঁয়া দীর্ঘদিন ধরে গ্রহণ করলে দীর্ঘস্থায়ী বাধাজনিত ফুসফুসের রোগ, দীর্ঘস্থায়ী ব্রঙ্কাইটিস, এমফিসেমা এবং ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। শুধু নিজের ধূমপান নয়, অন্যের ধোঁয়ার সংস্পর্শেও ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এছাড়া যানবাহনের ধোঁয়া, শিল্পকারখানার নির্গত ধোঁয়া, নির্মাণকাজের ধুলা এবং আবর্জনা পোড়ানোর ধোঁয়া শ্বাসতন্ত্রের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
ঘরের পরিবেশও ফুসফুসের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কাঠ বা কয়লার মতো জ্বালানি দিয়ে রান্নার সময় যদি পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা না থাকে, তাহলে ঘরের ভেতরে ধোঁয়া জমে যায়। দীর্ঘ সময় এমন পরিবেশে থাকলে শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা বাড়তে পারে। শিশু, নারী এবং বয়স্করা এই ধরনের ঝুঁকিতে তুলনামূলক বেশি পড়তে পারেন।
ফুসফুসের রোগের লক্ষণ সবসময় একই রকম হয় না। দীর্ঘদিন ধরে কাশি, কফ, বারবার শ্বাসকষ্ট, সামান্য পরিশ্রমেই হাঁপিয়ে যাওয়া, শ্বাস নেওয়ার সময় শব্দ হওয়া, বুক ভার লাগা অথবা ঘন ঘন শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ হলে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা উচিত।
দীর্ঘস্থায়ী কাশি, জ্বর, রাতে ঘাম এবং অকারণে ওজন কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ থাকলে যক্ষ্মার বিষয়টিও বিবেচনা করা প্রয়োজন।
ফুসফুসের স্বাস্থ্য রক্ষার প্রথম পদক্ষেপ হলো ধূমপান এবং তামাক থেকে দূরে থাকা। ঘরে ধোঁয়ামুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা, বায়ুদূষণ এড়িয়ে চলা এবং ঘরে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা করা অত্যন্ত জরুরি। সংক্রমণ প্রতিরোধে নিয়মিত হাত ধোয়া এবং প্রয়োজনীয় টিকা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম সামগ্রিক শারীরিক সক্ষমতা বজায় রাখতে সহায়তা করে।
তবে দীর্ঘস্থায়ী কিংবা তীব্র শ্বাসকষ্টকে অবহেলা করা উচিত নয়। প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক বুকের এক্স-রে, সিটি স্ক্যান, শ্বাসের পরীক্ষা, রক্ত বা কফ পরীক্ষা এবং অন্যান্য পরীক্ষা করতে পারেন।
হঠাৎ তীব্র শ্বাসকষ্ট, ঠোঁট নীলচে হয়ে যাওয়া, তীব্র বুকব্যথা অথবা কাশির সঙ্গে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রক্ত গেলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।
ফুসফুসের যত্ন নেওয়া শুধুমাত্র একটি দিনের বিষয় নয়। প্রতিদিন ধোঁয়ামুক্ত বাতাসে থাকা, স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলা এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার মাধ্যমে ফুসফুসকে সুস্থ রাখা সম্ভব। নিরাপদ শ্বাসের জন্য সচেতনতা ও যত্ন—দুটিই অপরিহার্য।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাস, যা পাহাড়, ঝরনা এবং সবুজের নৈসর্গিক সৌন্দর্যে ঘেরা, সেখানে ভোরের নীরবতায় একটি মায়া হরিণের দেখা মিলেছে। ক্যাম্পাসের জীববৈচিত্র্যের এক অনন্য দৃশ্য হিসেবে হরিণটির এমন বিচরণ একটি শিক্ষার্থীর ক্যামেরায় ধরা পড়েছে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ভোর পৌনে ৬টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া হলের খোলা উঠোনে হরিণটিকে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। হলটির বাসিন্দা ও হল সংসদের নির্বাহী সদস্য উম্মে হাবিবা এই দৃশ্যটি ক্যামেরাবন্দি করেন।
ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে উম্মে হাবিবা জানান, সকাল ৬টার দিকে জানালার পাশে দাঁড়িয়ে বাইরে তাকানোর সময় হঠাৎ দূরে একটি প্রাণী চোখে পড়ে, যা হরিণের মতো মনে হচ্ছিল। তবে তখনো স্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছিল না। প্রাণীটি কিছু একটা খাচ্ছিল, প্রথমে মনে হয়েছিল কুকুর কিংবা বুনো ছাগল। পরে তার মাথা ওঠানো-নামানোর ধরন দেখে বুঝতে পারি, এটি সম্ভবত একটি হরিণ। এরপর কৌতূহল সামলাতে না পেরে হলের চতুর্থ তলা থেকে দ্রুত নিচে নেমে যাই।
নিচে নেমে হরিণটিকে আরও কাছ থেকে দেখতে পান উম্মে হাবিবা। সেই মুহূর্তের বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, নিচে গিয়ে দেখি, মাঝারি আকৃতির একটি মায়া হরিণ দূরের ঝোপঝাড়ের পাশে দাঁড়িয়ে আছে। আমাকে দেখে সেটি ধীরে ধীরে এগিয়ে আসে। কিছুক্ষণ সে আমার দিকে অপলক তাকিয়ে ছিল। মুহূর্তটি এতটাই বিস্ময়কর ছিল যে, আমিও স্থির হয়ে গিয়েছিলাম।
কিছুক্ষণ পর হরিণটি আবার পাহাড়ের দিকে চলে যায়। উম্মে হাবিবা বলেন, এরপর হঠাৎ কী ভেবে যেন দৌড়ে পাহাড়ের দিকে চলে যায়। এত কাছ থেকে তাকে দেখেছি যে, আমার দিকে এগিয়ে আসা ও তাকিয়ে থাকার ভঙ্গি দেখে একসময় আমিই কিছুটা ভয় পেয়ে আর সামনে এগোতে পারিনি।
এই ঘটনাকে বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ক্যাম্পাস জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় দৃশ্যগুলোর একটি হয়ে থাকবে এই মুহূর্তটি। মাঝে মাঝে ভাবি, ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যাওয়ার সময় হয়েছে, অথচ চোখে পড়ার মতো তেমন কিছুই তো দেখলাম না। হয়তো আল্লাহ আমার সেই আক্ষেপটুকুও কবুল করে নিয়েছেন।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিস্তৃত পাহাড়ি ও বনাঞ্চলে বিভিন্ন প্রজাতির বন্যপ্রাণীর আবাস রয়েছে। এসব প্রাণীর আবাস ও বিচরণস্থল নিরাপদ রাখা জরুরি বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
চবির প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক ড. ফরিদ আহসান বলেন, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, শিক্ষার্থী এবং বিশ্ববিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। হরিণগুলোর বিচরণস্থল অবাধ ও নিরাপদ রাখতে হবে। বিকেলে ক্যাম্পাসের গহিনে প্রাণীদের চলাচলের এলাকায় হাঁটাহাঁটি করা যাবে না।
ক্যাম্পাসে আগে বিভিন্ন সময়ে মায়া হরিণের দেখা মিললেও বর্তমানে লোকালয়ের কাছাকাছি তাদের উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে কম চোখে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে হরিণসহ বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক আবাসস্থল ও চলাচলের পথ রক্ষায় সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ