ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

যুক্তরাষ্ট্রে চলতি মাস থেকেই বদলাচ্ছে ভিসার নিয়ম, যা জানা জরুরি


যুক্তরাষ্ট্রে চলতি মাস থেকেই বদলাচ্ছে ভিসার নিয়ম, যা জানা জরুরি

যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও বিনিময় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিদের জন্য বৈধ অবস্থানের মেয়াদ নির্ধারণের নিয়মে পরিবর্তন আসছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এফ, জে ও আই শ্রেণির অস্থায়ী ভিসাধারীদের আর আগের মতো অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য অবস্থানের অনুমতি দেওয়া হবে না। পরিবর্তে, নির্দিষ্ট সময়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি দেওয়া হবে। এই নিয়মটি ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।

নতুন নিয়মে এফ-১ শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমোদিত সময় সাধারণত তাদের শিক্ষাক্রম শেষ হওয়ার তারিখ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হবে। তবে এই সময়সীমা সর্বোচ্চ চার বছর হতে পারে। যদি কোনো শিক্ষার্থীর শিক্ষাক্রম চার বছরের বেশি হয়, তাহলে তাকে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় অবস্থানের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য আবেদন করতে হবে। ফলে দীর্ঘমেয়াদি উচ্চশিক্ষা, গবেষণা বা শিক্ষাক্রমে থাকা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন নিয়মটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

এতদিন এফ-১ শিক্ষার্থীরা সাধারণত ‘অবস্থানের মেয়াদ পর্যন্ত’ যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি পেতেন। অর্থাৎ, শিক্ষার্থী যতদিন অনুমোদিত শিক্ষাক্রমে নিয়ম মেনে পড়াশোনা করতেন, ততদিন তাদের অবস্থানের মেয়াদ বহাল থাকত। নতুন নিয়মে এই ব্যবস্থা পরিবর্তন করে প্রবেশের সময় নির্দিষ্ট শেষ তারিখ দেওয়ার বিধান করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত

নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর, যদি কোনো শিক্ষার্থীর অনুমোদিত অবস্থানের সময় শেষ হয়ে যায় এবং তিনি আরও সময় যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে চান, তাহলে তাকে মেয়াদ বাড়ানোর জন্য আবেদন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীকে তার শিক্ষাক্রমের বর্তমান অবস্থা এবং যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা প্রমাণ করতে হতে পারে। আবেদন অনুমোদিত হলে নতুন মেয়াদে অবস্থানের সুযোগ পাওয়া যাবে।

শুধু এফ-১ শিক্ষার্থী নয়, জে-১ বিনিময় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিদের ওপরও নতুন নিয়ম প্রযোজ্য হবে। একই সঙ্গে বিদেশি সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের জন্য ব্যবহৃত আই শ্রেণির অবস্থানের মেয়াদও নির্দিষ্ট সময়ের আওতায় আনা হচ্ছে। ফলে পরিবর্তনটি শুধু আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী নয়, যুক্তরাষ্ট্রে থাকা আরও কিছু অস্থায়ী ভিসাধারীর ওপরও প্রভাব ফেলবে।

তবে ১৫ সেপ্টেম্বরের আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ অবস্থানে থাকা শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে পরিবর্তনটি কীভাবে প্রযোজ্য হবে, তা নিয়ে আলাদা বিধান রয়েছে। নতুন নিয়মের কারণে বৈধভাবে অবস্থানরত সব শিক্ষার্থীকে ১৫ সেপ্টেম্বরেই যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হবে, এমন নয়। তাদের ক্ষেত্রে নতুন নিয়মের পরিবর্তনকালীন বিধান এবং অনুমোদিত অবস্থানের তথ্য বিবেচনা করা হবে।

নতুন বিধানে পড়াশোনা শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার জন্য এফ-১ শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত সময়ের নিয়মেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে। ১৫ সেপ্টেম্বরের পর নতুন করে প্রবেশকারী শিক্ষার্থীদের জন্য পড়াশোনা বা অনুমোদিত কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার সময় ৩০ দিন করার বিধান রাখা হয়েছে। তবে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে পরিবর্তনকালীন নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে।

আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান আতঙ্ক, তিন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তা

নতুন নিয়ম নিয়ে ইতোমধ্যে আইনি চ্যালেঞ্জও হয়েছে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, বিশ্ববিদ্যালয় ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সংগঠন ফেডারেল আদালতে মামলা করেছে। মামলাকারীদের দাবি, নতুন নিয়মের কারণে শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অন্যদিকে স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা দপ্তর নিয়মটির পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেছে, এর মাধ্যমে অস্থায়ী ভিসাধারীদের অবস্থান ও ভিসার শর্ত মানার বিষয়টি আরও কার্যকরভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা দপ্তরের চূড়ান্ত বিধিমালায় বলা হয়েছে, এফ ও জে শ্রেণির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়ের অবস্থান চালু করার পাশাপাশি মেয়াদ বাড়ানোর জন্য নতুন প্রক্রিয়া থাকবে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি থাকা যথেষ্ট হবে না; যুক্তরাষ্ট্রে তাদের বৈধ অবস্থানের সময়সীমার দিকেও নিয়মিত নজর রাখতে হবে।

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার সময় শিক্ষাক্রমের মেয়াদ বেড়ে গেলে, পড়াশোনার পরিকল্পনায় পরিবর্তন হলে কিংবা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শিক্ষাক্রম শেষ করা সম্ভব না হলে আগেভাগেই বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা প্রয়োজন হতে পারে। নিজের অবস্থানের নথি, শিক্ষাক্রমের শেষ তারিখ এবং অবস্থান বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।

নতুন নিয়মটি ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও এর বিরুদ্ধে করা মামলার কারণে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আদালতের কোনো সিদ্ধান্ত আসে কি না, সেটিও নজরে থাকবে। তাই আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কার্যালয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করাই গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুন: বিলবোর্ডের ছবিকে রাস্তা ভেবে সজোরে ট্রাক চালালেন চালক, অতঃপর প্রাণ হারালেন

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নটর ডেম কলেজের একাদশ শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:৪৪ পি.এম


নটর ডেম কলেজের একাদশ শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ

রাজধানীর নটর ডেম কলেজে একাদশ শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে ফলাফলটি প্রকাশ করা হয়।

নটর ডেম কলেজের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে ফলাফলটি দেখা যাচ্ছে।

ফল প্রকাশের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের জন্য ভর্তিচ্ছু প্রার্থীদের এসএসসি পরীক্ষায় প্রাপ্ত জিপিএ এবং ভর্তি লিখিত পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে মৌখিক পরীক্ষার জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত করা হয়েছে। মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত প্রার্থীদের আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর ভর্তি আবেদনের রোল নম্বর অনুযায়ী নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী নির্দিষ্ট কক্ষে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।

এতে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, মৌখিক পরীক্ষার শুরু হওয়ার ৩০ মিনিট আগে কলেজ গেটে উপস্থিত থাকতে হবে। এসএসসিতে প্রাপ্ত জিপিএ, ভর্তি লিখিত পরীক্ষা এবং মৌখিক পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে মেধাক্রম অনুযায়ী চূড়ান্তভাবে ভর্তির জন্য মনোনয়ন প্রদান করা হবে। ১৫ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টার মধ্যে কলেজ ওয়েবসাইটে চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করবে।

মৌখিক পরীক্ষার দিন প্রার্থীদের যা সঙ্গে আনতে হবে তা হলো: লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মৌখিক পরীক্ষার দিনে ভর্তি আবেদনের প্রবেশপত্র; এসএসসি পরীক্ষার মূল রেজিস্ট্রেশন কার্ড; এসএসসি পরীক্ষার মূল প্রবেশপত্র; এসএসসি পরীক্ষার ট্রান্সক্রিপ্ট/মার্কশিটের প্রিন্ট কপি এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমের সনদ থাকলে তা সঙ্গে আনতে হবে।

তবে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মোবাইল ফোন এবং অন্য কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে নটর ডেম কলেজ ক্যাম্পাসে মৌখিক পরীক্ষা দিতে আসা শিক্ষার্থীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আলভারেজকে ছাড়াই অ্যাথলেটিকোর দল ঘোষণা, রিয়াল সোসিয়েদাদের বিপক্ষে মাঠে নামছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

রবিবার, ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:৪৪ পি.এম


আলভারেজকে ছাড়াই অ্যাথলেটিকোর দল ঘোষণা, রিয়াল সোসিয়েদাদের বিপক্ষে মাঠে নামছে

অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ লা লিগায় রিয়াল সোসিয়েদাদের বিরুদ্ধে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সান সেবাস্তিয়ানে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের স্কোয়াডে দলের অন্যতম তারকা ফুটবলার হুলিয়ান আলভারেজের নাম নেই।

আলভারেজকে স্কোয়াডের বাইরে রাখার কারণ সম্পর্কে অ্যাথলেটিকো এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মুন্দো দেপোর্তিভো জানাচ্ছে, অতিরিক্ত পেশির ক্লান্তির কারণে তাকে বিশ্রাম দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাজাদাহোন্দায় ম্যাচের পূর্ববর্তী শেষ অনুশীলন সেশন সম্পূর্ণ না করেই অস্বস্তি অনুভব করে মাঠ ছাড়েন আলভারেজ। যদিও কোনো আনুষ্ঠানিক মেডিকেল রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়নি, তবুও অ্যাথলেটিকো সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে আলভারেজকে সান সেবাস্তিয়ানে না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আলভারেজের পাশাপাশি স্কোয়াডে আরও দুই খেলোয়াড় নেই। পেশির চোটের কারণে তরুণ মিডফিল্ডার পাবলো বাররিওসও স্কোয়াড থেকে বাদ পড়েছেন। এছাড়া, প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতির সময় পাওয়া পেশির চোট থেকে এখনও পুরোপুরি সেরে না ওঠায় নরওয়ের স্ট্রাইকার অ্যালেকজান্ডার সরলোথও দলের বাইরে রয়েছেন।

তিন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে ছাড়া মাঠে নামলেও সোসিয়েদাদের বিপক্ষে শক্তিশালী দল গঠন করেছেন সিমিওনে।

গোলকিপার: হুয়ান মুসো, ইয়ান অবলাক, সালভাদোর এসকিবেল।

ডিফেন্ডার: ডেভিড হাঙ্কো, মার্ক পোবিল, ক্রিস্টিয়ান রোমেরো, আলেহান্দ্রো গ্রিমালদো, রুবেন লে নরম্যান্ড, হোর্হে দোমিঙ্গেজ, দানি মার্তিনেজ।

মিডফিল্ডার: ওবেইদ ভার্গাস, রদ্রিগো মেন্দোজা, জনি কার্দোসো, কোকে রিমারেকসিওন, মার্কোস ইয়োরেন্তে, মোর্তেন হুলমান্ড, হাভি কাস্তিয়ো।

ফরোয়ার্ড: কাং-ইন লি, অ্যালেক্স বায়েনা, আদেমোলা লুকমান, জোনাথন ডেভিড, আর্নাউ ওরতিজ, জুলিয়ানো সিমিওনে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পশ্চিমবঙ্গে ২৫২ মাদরাসা বন্ধের নির্দেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:৪৫ পি.এম


পশ্চিমবঙ্গে ২৫২ মাদরাসা বন্ধের নির্দেশ

পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকার ইসলামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পর্যালোচনার অংশ হিসেবে ২৫২টি মাদরাসা বন্ধের নোটিশ জারি করেছে। প্রথম ধাপে আরও ১০০টি মাদরাসাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির একটি প্রতিবেদনে সম্প্রতি এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। রাজ্য সরকার জানিয়েছে, যদি এসব প্রতিষ্ঠান বৈধ অনুমোদনের প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হয়, তবে সেগুলো বন্ধ করে দেয়া হবে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বন্ধের নির্দেশ পাওয়া ২৫২টি মাদরাসার মধ্যে বেশিরভাগই খারিজি সম্প্রদায়ের। মালদায় অন্তত ৪৪টি, উত্তর দিনাজপুরে ৩৭টি, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ৩২টি এবং নদীয়া ও মুর্শিদাবাদে ২৫টি করে মাদরাসা রয়েছে।

সংখ্যালঘুবিষয়ক মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু সতর্ক করে বলেছেন, কারণ দর্শানোর নোটিশ পাওয়া মাদরাসাগুলোকে বৈধ অনুমোদনের প্রমাণ দিতে হবে। অন্যথায়, সেগুলো বন্ধ করে দেয়া হবে।

গত জুন মাসে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের স্বীকৃত ও অননুমোদিত মাদরাসার সংখ্যা নির্ধারণে জরিপের নির্দেশ দিয়েছিলেন। এরপর সংখ্যালঘুবিষয়ক ও মাদরাসা শিক্ষা দপ্তর কলকাতা এবং রাজ্যের ২২টি জেলায় জরিপ পরিচালনা করে।

জরিপে মাদরাসাগুলোর পরিচালন ব্যবস্থা, শিক্ষার্থীদের ভর্তি ও সংগঠন, অর্থের উৎস এবং নিবন্ধনের অবস্থা খতিয়ে দেখা হয়।

টুডু জানান, জরিপের ফলাফলের ভিত্তিতে প্রথম ধাপে ২৫২টি মাদরাসা বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া, গুরুতর অনিয়মের কারণে আরও ১০০টি মাদরাসাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে। বৈধ অনুমোদন বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হলে এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে বৈধ অনুমোদন নিয়ে ২ হাজার ১৩২টি মাদরাসা কার্যক্রম চালাচ্ছে। অপরদিকে, অননুমোদিত মাদরাসার সংখ্যা ২ হাজার ৩৯৬টি।

পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী ও বিজেপির জ্যেষ্ঠ নেতা অগ্নিমিত্রা পাল মাদরাসাগুলোর বিরুদ্ধে নেয়া পদক্ষেপকে সঠিক বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, এসব প্রতিষ্ঠানে ‘দেশবিরোধী শিক্ষা’ দেয়া হতো।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশভিত্তিক সন্ত্রাসীরা এসব অননুমোদিত মাদরাসায় আশ্রয় নিত। আমরা শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও সুশৃঙ্খল করতে চাই।’

তবে তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেছেন, মাদরাসা মূলত একটি শিক্ষাব্যবস্থা। তাই মাদরাসার সঙ্গে ‘সন্ত্রাসবাদের’ যোগসূত্র টানা ঠিক নয়।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পানিতে তলিয়ে গিয়েও অলৌকিকভাবে বেঁচে গেল ২০ দিনের তানিশা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:৪৫ পি.এম


পানিতে তলিয়ে গিয়েও অলৌকিকভাবে বেঁচে গেল ২০ দিনের তানিশা

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের নিকট পদ্মা নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় অলৌকিকভাবে বেঁচে গেছে মাত্র ২০ দিনের শিশু তানিশা। নৌকা ডুবে যাওয়ার পর প্রবল স্রোতে মায়ের হাত থেকে ছুটে গিয়ে পানিতে তলিয়ে গেলেও, শেষ পর্যন্ত আবার মায়ের কোলে ফিরে এসেছে শিশুটি। প্রায় এক ঘণ্টা ২০ মিনিট পদ্মার স্রোতে ভেসে থাকার পর তানিশাসহ ১০ বাংলাদেশিকে উদ্ধার করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেল পাঁচটার দিকে আলীমনগর ঘাট থেকে ১২ জন যাত্রী নিয়ে জহুরপুরটেক গ্রামের দিকে যাওয়ার সময় পদ্মা নদীতে নৌকাটি ডুবে যায়। এই ঘটনায় মো. ওয়াসিম (২৩) সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও, মো. মোস্তফা (৬০) এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। বাকি ১০ জনকে ভারতীয় জলসীমা থেকে জীবিত উদ্ধার করে বিএসএফ।

তানিশা সদর উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের জহুরপুর বেলপাড়া এলাকার মো. সোহেল ও তানিয়া খাতুন দম্পতির কন্যা।

স্থানীয় সূত্র ও উদ্ধারকাজে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নৌকাটি ডুবে যাওয়ার পর মুহূর্তেই যাত্রীরা পানিতে পড়ে যান। প্রবল স্রোত ও বাতাসের মধ্যে তারা যে যার মতো করে ভেসে থাকার চেষ্টা করেন। কেউ নৌকার কাঠের পাটাতন, কেউ বস্তা, কেউ বৈঠা কিংবা ভাসমান জিনিস আঁকড়ে ধরে প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা করেন।

শিশু তানিশাকে শুরু থেকেই শক্ত করে ধরে রেখেছিলেন তার মা তানিয়া খাতুন। কিন্তু স্রোতের তীব্রতায় একপর্যায়ে মায়ের হাত থেকে ছুটে যায় শিশুটি। পানিতে তলিয়ে গেলেও কিছুক্ষণ পর তানিয়া আবার তাকে খুঁজে পান। এরপর দুই পা দিয়ে শিশুটিকে আঁকড়ে ধরে পানির ওপর তুলে রাখেন তিনি।

নাতনিকে বাঁচাতে তানিশার নানা মো. ইব্রাহিমও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সাঁতার জানা ইব্রাহিম এক হাত উঁচু করে তানিশাকে ধরে স্রোতের মধ্যে ভেসে থাকার চেষ্টা করেন। এ সময় অন্যরা নৌকার পাটাতন, বস্তা, বৈঠা ও অন্যান্য ভাসমান জিনিসের সাহায্যে নিজেদের টিকিয়ে রাখেন।

এভাবে প্রায় এক ঘণ্টা ২০ মিনিট স্রোতের সঙ্গে ভেসে যাওয়ার পর তারা ভারতীয় সীমান্তের কাছাকাছি চলে যান। পরে তাদের দেখতে পেয়ে বিএসএফের ৭১ ব্যাটালিয়নের খান্দুয়া ক্যাম্পের সদস্যরা স্পিডবোট নিয়ে উদ্ধার অভিযানে নামে।

বিএসএফ সদস্যরা তানিশাসহ ১০ জনকে উদ্ধার করে নদীর তীরে নিয়ে যান। সে সময় শিশুটির অবস্থা ছিল অত্যন্ত দুর্বল। পানিতে দীর্ঘ সময় থাকার কারণে তানিশা প্রায় নিস্তেজ হয়ে পড়েছিল। পরে বিএসএফ সদস্যরা তাকে স্থানীয় একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যান। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা শিশুটিকে সুস্থ বলে জানান।

উদ্ধারকাজে থাকা ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে বাখের আলী বিজিবি ক্যাম্পের সুবেদার শরিফুল ইসলাম বলেন, নৌকা ডোবার পর তানিশাকে তার মা শক্ত করে ধরে রেখেছিলেন। প্রবল স্রোতের মধ্যে তারা ভাসমান কাঠ, বৈঠা ও নৌকার বিভিন্ন অংশ ধরে থাকার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে শিশুটি মায়ের হাত থেকে ছুটে পানিতে তলিয়ে যায়। পরে তার মা আবার তাকে খুঁজে পান এবং শক্ত করে ধরে রাখেন।

ফরিদপুর বিওপির কোম্পানি কমান্ডার শহিদুল ইসলাম বলেন, তানিশার নানা সাঁতার জানতেন। তিনি শিশুটিকে এক হাত উঁচু করে ধরে স্রোতের মধ্যে ভেসে থাকার চেষ্টা করেন। অন্যরাও নৌকার পাটাতন, বস্তা ও বৈঠার মতো ভাসমান জিনিস ধরে ছিলেন।

নারায়ণপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রবিউল ইসলাম রবু বলেন, প্রবল স্রোতের মধ্যে তানিশাকে বাঁচিয়ে রাখাই ছিল পরিবারের সদস্যদের সবচেয়ে বড় চেষ্টা। শিশুটি একবার পানিতে তলিয়ে গেলেও তার মা তাকে উদ্ধার করে আবার বুকের কাছে তুলে নেন। পরে নানা এক হাত উঁচু করে শিশুটিকে ধরে রাখেন। এভাবেই তারা দীর্ঘ সময় পানিতে ভেসে ছিলেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৩ বিজিবি) সূত্রে জানা গেছে, নৌকাডুবির পর মো. ওয়াসিম সাঁতরে তীরে উঠে আসেন। অপর ১১ জন নিখোঁজ হন। পরে বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটের দিকে বিএসএফের ৭১ ব্যাটালিয়নের খান্দুয়া ক্যাম্পের সদস্যরা ১০ বাংলাদেশিকে জীবিত উদ্ধার করেন। তাদের মধ্যে চারজন পুরুষ, তিনজন নারী ও তিনজন শিশু ছিলেন।

উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশিদের দেশে ফেরাতে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে যোগাযোগের পর রাতে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে ফরিদপুর বিওপি ও খান্দুয়া বিএসএফ ক্যাম্পের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে বিএসএফের উদ্ধার করা ১০ জনকে বাংলাদেশে ফেরত দেওয়া হয়। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে তাদের স্বজন মো. ইসমাইল হোসেনের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

বাংলাদেশে ফেরত আসা ব্যক্তিরা হলেন মো. রাসেল (২৬), মো. ইব্রাহিম (৫০), মো. সওদাগর (৪০), মো. ইব্রাহিম (৬০), সখিনা (৪৫), নিলুফা (৩৫), তানিয়া (২২), তার ২০ দিনের শিশু তানিশা, সানাউল্লাহ (৯) ও আল আমিন (৯)। তাদের সবার বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের জহুরপুর বকরীপাড়া এলাকায়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৩ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, পদ্মা নদীতে নৌকাডুবির পর বিএসএফের খান্দুয়া ক্যাম্পের সদস্যরা স্পিডবোট নিয়ে ১০ বাংলাদেশিকে উদ্ধার করেন। পরে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাদের বাংলাদেশে ফেরত আনা হয়। উদ্ধার হওয়া সবাই বর্তমানে সুস্থ রয়েছেন।

নিখোঁজ মো. মোস্তফা (৬০) একই এলাকার বাসিন্দা। তার বাবার নাম মৃত আলতাব হোসেন। তাকে উদ্ধারে স্থানীয় লোকজন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

উত্তাল পদ্মার স্রোতে নৌকাডুবির পর ২০ দিনের তানিশার জীবিত ফিরে আসাকে বিরল সৌভাগ্য হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। মৃত্যুভয়, প্রবল স্রোত আর দীর্ঘ সময় পানিতে ভেসে থাকার পর মায়ের বুক ও নানার শক্ত হাতের আশ্রয়ে শেষ পর্যন্ত নিরাপদে ঘরে ফিরেছে নবজাতক এই শিশুটি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%