রবিবার, ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৮:৪৪ পি.এম
অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ লা লিগায় রিয়াল সোসিয়েদাদের বিরুদ্ধে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সান সেবাস্তিয়ানে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের স্কোয়াডে দলের অন্যতম তারকা ফুটবলার হুলিয়ান আলভারেজের নাম নেই।
আলভারেজকে স্কোয়াডের বাইরে রাখার কারণ সম্পর্কে অ্যাথলেটিকো এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মুন্দো দেপোর্তিভো জানাচ্ছে, অতিরিক্ত পেশির ক্লান্তির কারণে তাকে বিশ্রাম দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাজাদাহোন্দায় ম্যাচের পূর্ববর্তী শেষ অনুশীলন সেশন সম্পূর্ণ না করেই অস্বস্তি অনুভব করে মাঠ ছাড়েন আলভারেজ। যদিও কোনো আনুষ্ঠানিক মেডিকেল রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়নি, তবুও অ্যাথলেটিকো সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে আলভারেজকে সান সেবাস্তিয়ানে না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আলভারেজের পাশাপাশি স্কোয়াডে আরও দুই খেলোয়াড় নেই। পেশির চোটের কারণে তরুণ মিডফিল্ডার পাবলো বাররিওসও স্কোয়াড থেকে বাদ পড়েছেন। এছাড়া, প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতির সময় পাওয়া পেশির চোট থেকে এখনও পুরোপুরি সেরে না ওঠায় নরওয়ের স্ট্রাইকার অ্যালেকজান্ডার সরলোথও দলের বাইরে রয়েছেন।
তিন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে ছাড়া মাঠে নামলেও সোসিয়েদাদের বিপক্ষে শক্তিশালী দল গঠন করেছেন সিমিওনে।
গোলকিপার: হুয়ান মুসো, ইয়ান অবলাক, সালভাদোর এসকিবেল।
ডিফেন্ডার: ডেভিড হাঙ্কো, মার্ক পোবিল, ক্রিস্টিয়ান রোমেরো, আলেহান্দ্রো গ্রিমালদো, রুবেন লে নরম্যান্ড, হোর্হে দোমিঙ্গেজ, দানি মার্তিনেজ।
মিডফিল্ডার: ওবেইদ ভার্গাস, রদ্রিগো মেন্দোজা, জনি কার্দোসো, কোকে রিমারেকসিওন, মার্কোস ইয়োরেন্তে, মোর্তেন হুলমান্ড, হাভি কাস্তিয়ো।
ফরোয়ার্ড: কাং-ইন লি, অ্যালেক্স বায়েনা, আদেমোলা লুকমান, জোনাথন ডেভিড, আর্নাউ ওরতিজ, জুলিয়ানো সিমিওনে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকার ইসলামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পর্যালোচনার অংশ হিসেবে ২৫২টি মাদরাসা বন্ধের নোটিশ জারি করেছে। প্রথম ধাপে আরও ১০০টি মাদরাসাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির একটি প্রতিবেদনে সম্প্রতি এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। রাজ্য সরকার জানিয়েছে, যদি এসব প্রতিষ্ঠান বৈধ অনুমোদনের প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হয়, তবে সেগুলো বন্ধ করে দেয়া হবে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বন্ধের নির্দেশ পাওয়া ২৫২টি মাদরাসার মধ্যে বেশিরভাগই খারিজি সম্প্রদায়ের। মালদায় অন্তত ৪৪টি, উত্তর দিনাজপুরে ৩৭টি, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ৩২টি এবং নদীয়া ও মুর্শিদাবাদে ২৫টি করে মাদরাসা রয়েছে।
সংখ্যালঘুবিষয়ক মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু সতর্ক করে বলেছেন, কারণ দর্শানোর নোটিশ পাওয়া মাদরাসাগুলোকে বৈধ অনুমোদনের প্রমাণ দিতে হবে। অন্যথায়, সেগুলো বন্ধ করে দেয়া হবে।
গত জুন মাসে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের স্বীকৃত ও অননুমোদিত মাদরাসার সংখ্যা নির্ধারণে জরিপের নির্দেশ দিয়েছিলেন। এরপর সংখ্যালঘুবিষয়ক ও মাদরাসা শিক্ষা দপ্তর কলকাতা এবং রাজ্যের ২২টি জেলায় জরিপ পরিচালনা করে।
জরিপে মাদরাসাগুলোর পরিচালন ব্যবস্থা, শিক্ষার্থীদের ভর্তি ও সংগঠন, অর্থের উৎস এবং নিবন্ধনের অবস্থা খতিয়ে দেখা হয়।
টুডু জানান, জরিপের ফলাফলের ভিত্তিতে প্রথম ধাপে ২৫২টি মাদরাসা বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া, গুরুতর অনিয়মের কারণে আরও ১০০টি মাদরাসাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে। বৈধ অনুমোদন বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হলে এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে বৈধ অনুমোদন নিয়ে ২ হাজার ১৩২টি মাদরাসা কার্যক্রম চালাচ্ছে। অপরদিকে, অননুমোদিত মাদরাসার সংখ্যা ২ হাজার ৩৯৬টি।
পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী ও বিজেপির জ্যেষ্ঠ নেতা অগ্নিমিত্রা পাল মাদরাসাগুলোর বিরুদ্ধে নেয়া পদক্ষেপকে সঠিক বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, এসব প্রতিষ্ঠানে ‘দেশবিরোধী শিক্ষা’ দেয়া হতো।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশভিত্তিক সন্ত্রাসীরা এসব অননুমোদিত মাদরাসায় আশ্রয় নিত। আমরা শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও সুশৃঙ্খল করতে চাই।’
তবে তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেছেন, মাদরাসা মূলত একটি শিক্ষাব্যবস্থা। তাই মাদরাসার সঙ্গে ‘সন্ত্রাসবাদের’ যোগসূত্র টানা ঠিক নয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের নিকট পদ্মা নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় অলৌকিকভাবে বেঁচে গেছে মাত্র ২০ দিনের শিশু তানিশা। নৌকা ডুবে যাওয়ার পর প্রবল স্রোতে মায়ের হাত থেকে ছুটে গিয়ে পানিতে তলিয়ে গেলেও, শেষ পর্যন্ত আবার মায়ের কোলে ফিরে এসেছে শিশুটি। প্রায় এক ঘণ্টা ২০ মিনিট পদ্মার স্রোতে ভেসে থাকার পর তানিশাসহ ১০ বাংলাদেশিকে উদ্ধার করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেল পাঁচটার দিকে আলীমনগর ঘাট থেকে ১২ জন যাত্রী নিয়ে জহুরপুরটেক গ্রামের দিকে যাওয়ার সময় পদ্মা নদীতে নৌকাটি ডুবে যায়। এই ঘটনায় মো. ওয়াসিম (২৩) সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও, মো. মোস্তফা (৬০) এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। বাকি ১০ জনকে ভারতীয় জলসীমা থেকে জীবিত উদ্ধার করে বিএসএফ।
তানিশা সদর উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের জহুরপুর বেলপাড়া এলাকার মো. সোহেল ও তানিয়া খাতুন দম্পতির কন্যা।
স্থানীয় সূত্র ও উদ্ধারকাজে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নৌকাটি ডুবে যাওয়ার পর মুহূর্তেই যাত্রীরা পানিতে পড়ে যান। প্রবল স্রোত ও বাতাসের মধ্যে তারা যে যার মতো করে ভেসে থাকার চেষ্টা করেন। কেউ নৌকার কাঠের পাটাতন, কেউ বস্তা, কেউ বৈঠা কিংবা ভাসমান জিনিস আঁকড়ে ধরে প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা করেন।
শিশু তানিশাকে শুরু থেকেই শক্ত করে ধরে রেখেছিলেন তার মা তানিয়া খাতুন। কিন্তু স্রোতের তীব্রতায় একপর্যায়ে মায়ের হাত থেকে ছুটে যায় শিশুটি। পানিতে তলিয়ে গেলেও কিছুক্ষণ পর তানিয়া আবার তাকে খুঁজে পান। এরপর দুই পা দিয়ে শিশুটিকে আঁকড়ে ধরে পানির ওপর তুলে রাখেন তিনি।
নাতনিকে বাঁচাতে তানিশার নানা মো. ইব্রাহিমও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সাঁতার জানা ইব্রাহিম এক হাত উঁচু করে তানিশাকে ধরে স্রোতের মধ্যে ভেসে থাকার চেষ্টা করেন। এ সময় অন্যরা নৌকার পাটাতন, বস্তা, বৈঠা ও অন্যান্য ভাসমান জিনিসের সাহায্যে নিজেদের টিকিয়ে রাখেন।
এভাবে প্রায় এক ঘণ্টা ২০ মিনিট স্রোতের সঙ্গে ভেসে যাওয়ার পর তারা ভারতীয় সীমান্তের কাছাকাছি চলে যান। পরে তাদের দেখতে পেয়ে বিএসএফের ৭১ ব্যাটালিয়নের খান্দুয়া ক্যাম্পের সদস্যরা স্পিডবোট নিয়ে উদ্ধার অভিযানে নামে।
বিএসএফ সদস্যরা তানিশাসহ ১০ জনকে উদ্ধার করে নদীর তীরে নিয়ে যান। সে সময় শিশুটির অবস্থা ছিল অত্যন্ত দুর্বল। পানিতে দীর্ঘ সময় থাকার কারণে তানিশা প্রায় নিস্তেজ হয়ে পড়েছিল। পরে বিএসএফ সদস্যরা তাকে স্থানীয় একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যান। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা শিশুটিকে সুস্থ বলে জানান।
উদ্ধারকাজে থাকা ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে বাখের আলী বিজিবি ক্যাম্পের সুবেদার শরিফুল ইসলাম বলেন, নৌকা ডোবার পর তানিশাকে তার মা শক্ত করে ধরে রেখেছিলেন। প্রবল স্রোতের মধ্যে তারা ভাসমান কাঠ, বৈঠা ও নৌকার বিভিন্ন অংশ ধরে থাকার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে শিশুটি মায়ের হাত থেকে ছুটে পানিতে তলিয়ে যায়। পরে তার মা আবার তাকে খুঁজে পান এবং শক্ত করে ধরে রাখেন।
ফরিদপুর বিওপির কোম্পানি কমান্ডার শহিদুল ইসলাম বলেন, তানিশার নানা সাঁতার জানতেন। তিনি শিশুটিকে এক হাত উঁচু করে ধরে স্রোতের মধ্যে ভেসে থাকার চেষ্টা করেন। অন্যরাও নৌকার পাটাতন, বস্তা ও বৈঠার মতো ভাসমান জিনিস ধরে ছিলেন।
নারায়ণপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রবিউল ইসলাম রবু বলেন, প্রবল স্রোতের মধ্যে তানিশাকে বাঁচিয়ে রাখাই ছিল পরিবারের সদস্যদের সবচেয়ে বড় চেষ্টা। শিশুটি একবার পানিতে তলিয়ে গেলেও তার মা তাকে উদ্ধার করে আবার বুকের কাছে তুলে নেন। পরে নানা এক হাত উঁচু করে শিশুটিকে ধরে রাখেন। এভাবেই তারা দীর্ঘ সময় পানিতে ভেসে ছিলেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৩ বিজিবি) সূত্রে জানা গেছে, নৌকাডুবির পর মো. ওয়াসিম সাঁতরে তীরে উঠে আসেন। অপর ১১ জন নিখোঁজ হন। পরে বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটের দিকে বিএসএফের ৭১ ব্যাটালিয়নের খান্দুয়া ক্যাম্পের সদস্যরা ১০ বাংলাদেশিকে জীবিত উদ্ধার করেন। তাদের মধ্যে চারজন পুরুষ, তিনজন নারী ও তিনজন শিশু ছিলেন।
উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশিদের দেশে ফেরাতে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে যোগাযোগের পর রাতে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে ফরিদপুর বিওপি ও খান্দুয়া বিএসএফ ক্যাম্পের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে বিএসএফের উদ্ধার করা ১০ জনকে বাংলাদেশে ফেরত দেওয়া হয়। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে তাদের স্বজন মো. ইসমাইল হোসেনের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
বাংলাদেশে ফেরত আসা ব্যক্তিরা হলেন মো. রাসেল (২৬), মো. ইব্রাহিম (৫০), মো. সওদাগর (৪০), মো. ইব্রাহিম (৬০), সখিনা (৪৫), নিলুফা (৩৫), তানিয়া (২২), তার ২০ দিনের শিশু তানিশা, সানাউল্লাহ (৯) ও আল আমিন (৯)। তাদের সবার বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের জহুরপুর বকরীপাড়া এলাকায়।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৩ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, পদ্মা নদীতে নৌকাডুবির পর বিএসএফের খান্দুয়া ক্যাম্পের সদস্যরা স্পিডবোট নিয়ে ১০ বাংলাদেশিকে উদ্ধার করেন। পরে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাদের বাংলাদেশে ফেরত আনা হয়। উদ্ধার হওয়া সবাই বর্তমানে সুস্থ রয়েছেন।
নিখোঁজ মো. মোস্তফা (৬০) একই এলাকার বাসিন্দা। তার বাবার নাম মৃত আলতাব হোসেন। তাকে উদ্ধারে স্থানীয় লোকজন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
উত্তাল পদ্মার স্রোতে নৌকাডুবির পর ২০ দিনের তানিশার জীবিত ফিরে আসাকে বিরল সৌভাগ্য হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। মৃত্যুভয়, প্রবল স্রোত আর দীর্ঘ সময় পানিতে ভেসে থাকার পর মায়ের বুক ও নানার শক্ত হাতের আশ্রয়ে শেষ পর্যন্ত নিরাপদে ঘরে ফিরেছে নবজাতক এই শিশুটি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার-২০২৬-এ অংশগ্রহণ করেছে, যেখানে ছয়টি গবেষণাগারের ১৬টি উদ্ভাবন প্রদর্শিত হচ্ছে।
ঢাকার আগারগাঁওয়ের নভোথিয়েটারে শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) শুরু হওয়া এই তিন দিনব্যাপী মেলায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে রাবির গবেষণালব্ধ উদ্ভাবন প্রদর্শন করা হচ্ছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর মো. ফরিদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। তিনি মেলায় অংশগ্রহণকারী রাবির গবেষক ও উদ্ভাবক দলের নেতৃত্ব দেন।
ফেয়ারে অংশ নেওয়া রাবির গবেষণাগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে; ফার্মেসি বিভাগের প্রফেসর মামুনুর রশীদ ও প্রফেসর এ এইচ এম খুরশীদ আলমের মলিকুলার ফার্মাকোলজি গবেষণাগার, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের প্রফেসর মো. আবু রেজার এমবিপিএসএল আই-হাব, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর মামুনুর রশিদ তালুকদারের প্লাজমা ইঞ্জিনিয়ারিং গবেষণাগার, ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর মো. হাসনাত কবীরের থ্রিডি প্রিন্টিং গবেষণাগার, প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর মো. আনোয়ার হোসেনের প্ল্যান্ট মলিকুলার বায়োটেকনোলজি গবেষণাগার এবং ফলিত রসায়ন ও রসায়ন প্রকৌশল বিভাগের প্রফেসর মোহাম্মদ তৌফিক আলমের ফার্মাসিউটিক্যাল অ্যান্ড প্রোটিন কেমিস্ট্রি গবেষণাগার।
এই গবেষণাগারগুলো স্বাস্থ্য, জীবপ্রযুক্তি, প্লাজমা প্রযুক্তি, থ্রিডি প্রিন্টিং, উদ্ভিদ জৈবপ্রযুক্তি ও ফার্মাসিউটিক্যালসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিচালিত গবেষণার উদ্ভাবনী ফলাফল মেলায় প্রদর্শন করছে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মেলায় রাবির স্টলগুলো পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা রাবির গবেষক ও উদ্ভাবকদের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং প্রদর্শিত বিভিন্ন উদ্ভাবন সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেন।
এই তিন দিনব্যাপী বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ারে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও উদ্ভাবকরা নিজেদের গবেষণা ও উদ্ভাবন তুলে ধরছেন। এতে নতুন প্রযুক্তি ও গবেষণাভিত্তিক উদ্ভাবন সাধারণ মানুষের সামনে উপস্থাপনের পাশাপাশি গবেষক, উদ্ভাবক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
ফেয়ারে অংশ নেওয়া রাবির ছাত্র উপদেষ্টা ও ফার্মেসি বিভাগের মলিকুলার ফার্মাকোলজি গবেষণাগারের প্রফেসর ড. এ এইচ এম খুরশীদ আলম বলেন, ‘আধুনিক ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও উচ্চমূল্যের বিষয়টি বিবেচনা করে আমরা দৈনন্দিন খাদ্য উপাদানের মধ্যে রোগ প্রতিরোধে সম্ভাবনাময় উপাদান খুঁজে বের করার উদ্যোগ নিই। প্রথম পর্যায়ে দেশের বাজার থেকে ৬৮টি শাকসবজি, ফলমূল ও মসলাজাতীয় খাদ্য উপাদান সংগ্রহ করে সেগুলোর নির্যাস তৈরি করা হয়। পরে ক্যানসার সেল লাইনের ওপর পরীক্ষা চালিয়ে পালং শাক, লেবুর খোসা, ধনিয়ার পাতা ও টমেটো—এই চারটি উপাদান নিয়ে আরও গবেষণা করা হয়। এসব নির্যাস ক্যানসার কোষের বৃদ্ধি ও বিস্তার রোধ এবং অ্যাপোপটোসিস বা কোষমৃত্যু প্রক্রিয়ায় সম্ভাব্য কার্যকারিতা যাচাই করা হয়েছে। পরবর্তী পর্যায়ে মাউস মডেলেও সম্মিলিত নির্যাসের কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হয়।’
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) ও রাবি গবেষণা টিমের আহ্বায়ক প্রফেসর ড. মামুনুর রশীদ এ বিষয়ে বলেন, ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ারে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারটি স্টলে ছয়টি গবেষণাগারের উদ্ভাবন প্রদর্শন করা হচ্ছে। এ বিষয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং আমি এর আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে ই-মেইলের মাধ্যমে গবেষণালব্ধ ও বাজারজাতকরণের সম্ভাবনাময় উদ্ভাবন সম্পর্কে তথ্য আহ্বান করা হয়।’
তিনি আরও জানান, ‘সেখান থেকে যাচাই-বাছাই করে কয়েকটি গবেষণাগারের উদ্ভাবন নির্বাচন করা হয়েছে। এসব উদ্ভাবনের মাধ্যমে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ও শিক্ষকদের সৃজনশীল চিন্তা এবং বাজারমুখী গবেষণার সম্ভাবনা তুলে ধরা হচ্ছে। এর বাইরে বিশ্ববিদ্যালয়ে আরও অনেক উদ্ভাবনী গবেষণা চলমান রয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত মুসলিমদের জন্য যারা সুদ এড়িয়ে চলতে চান, তাদের মাঝে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার, গাড়ি কেনা এবং বাড়ির ফাইন্যান্সিং নিয়ে দ্বিধা দেখা দেয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক ব্যবস্থায় কিছু ক্ষেত্রে সুদ ছাড়াই এসব সুবিধা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে। ইসলামি স্কলার ও ফিকহ বিশেষজ্ঞদের বিভিন্ন মতামত অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে কিছু বিকল্প ব্যবহারের অনুমোদন পাওয়া যায়। তবে প্রতিটি আর্থিক চুক্তির শর্ত আলাদাভাবে যাচাই করা আবশ্যক।
ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রথমত একটি বিষয় স্পষ্ট করা প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্রে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করলে যে সুদ দিতে হবে, এমন নয়। যেসব কার্ডে গ্রেস পিরিয়ড রয়েছে, সেখানে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুরো স্টেটমেন্ট ব্যালেন্স পরিশোধ করলে সাধারণ কেনাকাটার ওপর সুদ না দেওয়ার সুযোগ থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের কনজিউমার ফাইন্যান্সিয়াল প্রোটেকশন ব্যুরো জানাচ্ছে, বেশিরভাগ ক্রেডিট কার্ডে কেনাকাটার জন্য গ্রেস পিরিয়ড থাকে। তবে সব কার্ডে গ্রেস পিরিয়ড থাকা বাধ্যতামূলক নয় এবং কার্ডভেদে শর্ত আলাদা হতে পারে।
অর্থাৎ, যদি কেউ এক মাসে ক্রেডিট কার্ড দিয়ে ১ হাজার ডলারের কেনাকাটা করেন এবং নির্ধারিত তারিখের মধ্যে পুরো ১ হাজার ডলার পরিশোধ করেন, তাহলে গ্রেস পিরিয়ড প্রযোজ্য থাকলে ওই কেনাকাটার জন্য সুদ দিতে হবে না। কিন্তু যদি পুরো ব্যালেন্স পরিশোধ না করে শুধু ন্যূনতম পেমেন্ট করা হয়, তাহলে সুদ আরোপ হতে পারে। ক্যাশ অ্যাডভান্সের ক্ষেত্রে সাধারণ কেনাকাটার মতো নিয়ম প্রযোজ্য নয় এবং সেখানে দ্রুত সুদ শুরু হতে পারে।
এই বাস্তবতার সঙ্গে ইসলামি ফিকহের কিছু মতামতেরও মিল রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অ্যাসেম্বলি অব মুসলিম জুরিস্টস অব আমেরিকা বা এএমজেএর একটি ফতোয়ায় বলা হয়েছে, পশ্চিমা দেশগুলোতে প্রয়োজনের বাস্তবতা বিবেচনায় ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের ক্ষেত্রে শর্তসাপেক্ষে ছাড় রয়েছে। ব্যবহারকারীকে নিশ্চিত হতে হবে যে তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুরো পাওনা পরিশোধ করতে পারবেন এবং সুদ কার্যকর হওয়ার সুযোগ তৈরি করবেন না। এএমজেএর আরেকটি সিদ্ধান্তে গ্রেস পিরিয়ডের মধ্যে পুরো পাওনা পরিশোধ করার শর্তে প্রয়োজনের ক্ষেত্রে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের অনুমতির কথা বলা হয়েছে।
তবে এর অর্থ এই নয় যে সব ধরনের ক্রেডিট কার্ডকে ইসলামি স্কলাররা সুদমুক্ত বা শরিয়াহসম্মত বলে ঘোষণা করেছেন। বরং বিষয়টি শর্তসাপেক্ষ। বিশেষ করে যে চুক্তিতে বিলম্ব হলে সুদ দিতে হয়, সেটি গ্রহণ করা নিয়ে আলেমদের মধ্যে সতর্কতা রয়েছে। তাই কোনো কার্ড নেওয়ার আগে তার চুক্তি, সুদের শর্ত, গ্রেস পিরিয়ড, ক্যাশ অ্যাডভান্সের নিয়ম এবং বিলম্বিত পেমেন্টের শর্ত ভালোভাবে দেখা জরুরি।
গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে সুদ এড়িয়ে চলতে চান এমন ক্রেতাদের জন্য কিছু বিকল্প রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন গাড়ি নির্মাতা ও ডিলার নির্দিষ্ট গাড়ি, নির্দিষ্ট মেয়াদ ও নির্দিষ্ট যোগ্যতার ক্রেতাদের জন্য শূন্য শতাংশ বা ০ শতাংশ এপিআর ফাইন্যান্সিং অফার করে। তবে এ ধরনের অফার সবার জন্য প্রযোজ্য নয়। ভালো ক্রেডিট স্কোর, নির্দিষ্ট গাড়ির মডেল, ডাউন পেমেন্ট, ঋণের মেয়াদ কিংবা অন্য কোনো শর্ত থাকতে পারে।
ইসলামি ফাইন্যান্স বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. মঞ্জের কাহফের প্রকাশিত ফতোয়াতেও যুক্তরাষ্ট্রে ০ শতাংশ গাড়ি ফাইন্যান্সিং নিয়ে ইতিবাচক মতামত পাওয়া যায়। তিনি একটি ক্ষেত্রে এমন গাড়ি কেনার ব্যবস্থা অনুমোদনযোগ্য বলেছেন, যেখানে ক্রেতার সঙ্গে সরাসরি চুক্তিতে সুদের অর্থ পরিশোধের বাধ্যবাধকতা নেই এবং ডিলার নিজস্ব খরচের অংশ হিসেবে অন্য কোনো অর্থ পরিশোধ করে। তার ব্যাখ্যায় মূল বিষয় হলো ক্রেতার সঙ্গে করা চুক্তির প্রকৃতি।
আরেকটি ফতোয়ায় ড. মঞ্জের কাহফ যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে সুদভিত্তিক ফাইন্যান্সিং এড়িয়ে চলার কথা বলেন এবং উল্লেখ করেন যে বিভিন্ন গাড়ি ডিলারের কাছ থেকে ০ শতাংশ ফাইন্যান্সিংয়ের সুযোগ পাওয়া যায়। তবে বাজারের অফার এবং চুক্তির শর্ত সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। ফলে কোনো নির্দিষ্ট গাড়ির অফার শরিয়াহসম্মত কি না, তা চুক্তি দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়াই নিরাপদ।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ০ শতাংশ এপিআর লেখা থাকলেই কোনো গাড়ির ফাইন্যান্সিং স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইসলামি দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য হয়ে যায় না। চুক্তিতে বিলম্বের সুদ, অতিরিক্ত চার্জ, মালিকানা, লিজের কাঠামো এবং অন্যান্য শর্ত কী আছে, তা দেখতে হবে। একইভাবে কোনো ডিলার যদি গাড়ির দাম বাড়িয়ে নির্দিষ্ট কিস্তিতে বিক্রি করে, সেটি সরাসরি সুদভিত্তিক ঋণের সমান কি না, তা চুক্তির কাঠামোর ওপর নির্ভর করে।
বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রে সুদ এড়িয়ে চলতে চান এমন মুসলিমদের জন্য তুলনামূলকভাবে বেশি বিকল্প তৈরি হয়েছে। প্রচলিত মর্টগেজের পরিবর্তে ইসলামিক হোম ফাইন্যান্সিং প্রতিষ্ঠানগুলো মুরাবাহা, ইজারা এবং ডিমিনিশিং মুশারাকার মতো কাঠামো ব্যবহার করে থাকে। ডিমিনিশিং মুশারাকায় সাধারণভাবে ক্রেতা এবং ফাইন্যান্সিং প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে বাড়ির মালিক হন। ক্রেতা মাসিক পেমেন্টের মাধ্যমে ধীরে ধীরে ফাইন্যান্সিং প্রতিষ্ঠানের মালিকানার অংশ কিনে নেন। শেষ পর্যন্ত বাড়ির সম্পূর্ণ মালিকানা ক্রেতার কাছে চলে আসে। মুরাবাহায় ফাইন্যান্সিং প্রতিষ্ঠান বাড়ি কিনে নির্ধারিত লাভ যোগ করে গ্রাহকের কাছে একটি নির্দিষ্ট মোট মূল্যে বিক্রি করে। আর ইজারায় লিজ বা ভাড়া ভিত্তিক কাঠামোর মাধ্যমে মালিকানা হস্তান্তরের ব্যবস্থা থাকতে পারে।
বাড়ির ফাইন্যান্সিং নিয়ে এএমজেএর অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের ইসলামিক হোম ফাইন্যান্সিং প্রতিষ্ঠানগুলোর চুক্তি নিয়ে পর্যালোচনার পর এএমজেএর রেসিডেন্ট ফতোয়া কমিটি কিছু প্রতিষ্ঠানের কাঠামো নির্দিষ্ট শর্তে শরিয়াহসম্মত হিসেবে গ্রহণ করেছে। তাদের পর্যালোচনায় মুরাবাহা, ডিমিনিশিং মুশারাকা এবং ইজারার মতো চুক্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও সাম্প্রতিকভাবে, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে এএমজেএর রেসিডেন্ট ফতোয়া কমিটি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়া কোম্পানির ডিমিনিশিং পার্টনারশিপ বা ধীরে ধীরে মালিকানা হস্তান্তরভিত্তিক হোম ফাইন্যান্সিং চুক্তি পর্যালোচনা করে সেটিকে ইসলামি আইনের অধীনে গ্রহণযোগ্য বলে মত দিয়েছে। তবে কমিটি একই সঙ্গে স্বাধীন শরিয়াহ তদারকি বোর্ড রাখার পরামর্শ দিয়েছে এবং চুক্তিতে নির্ধারিত শর্তগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।
এএমজেএর আগের পর্যালোচনায় মুবরাক মর্টগেজের মুরাবাহা চুক্তিকেও শরিয়াহসম্মত হিসেবে গ্রহণযোগ্য বলা হয়েছে। তবে একই প্রতিষ্ঠান স্পষ্ট করেছে, কোনো কোম্পানির চুক্তি পরিবর্তিত হলে আগের ফতোয়ার অবস্থানও পরিবর্তিত হতে পারে। অর্থাৎ শুধু কোনো প্রতিষ্ঠানের নাম ইসলামিক ফাইন্যান্সের সঙ্গে যুক্ত থাকলেই সেটির বর্তমান চুক্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রহণযোগ্য ধরে নেওয়া যাবে না।
এখানে ভোক্তাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ইসলামিক ফাইন্যান্স মানে শুধু প্রচলিত সুদের নাম পরিবর্তন করা নয়। প্রকৃত মালিকানা কার, সম্পদের ঝুঁকি কে বহন করছে, লাভ কীভাবে নির্ধারিত হচ্ছে, বিলম্ব হলে কী হচ্ছে, বাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ ও ইন্স্যুরেন্সের দায়িত্ব কার এবং চুক্তি শেষ হলে সম্পদের মালিকানা কীভাবে হস্তান্তর হবে, এসব বিষয় বিবেচনা করা প্রয়োজন।
তাহলে যুক্তরাষ্ট্রে সুদ এড়িয়ে চলতে চান এমন মুসলিমদের জন্য বাস্তব কিছু পথ রয়েছে। ক্রেডিট কার্ডের ক্ষেত্রে গ্রেস পিরিয়ডের মধ্যে পুরো ব্যালেন্স পরিশোধ করে সুদ এড়ানোর সুযোগ কিছু ইসলামি ফিকহ বিশেষজ্ঞ শর্তসাপেক্ষে অনুমোদন করেছেন। গাড়ির ক্ষেত্রে প্রকৃত ০ শতাংশ ফাইন্যান্সিং কিংবা চুক্তির কাঠামো অনুযায়ী শরিয়াহসম্মত বিকল্প বিবেচনা করা যেতে পারে। আর বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে মুরাবাহা, ইজারা ও ডিমিনিশিং মুশারাকার মতো ফাইন্যান্সিং ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রে চালু রয়েছে।
তবে এগুলো কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা পরিবারের জন্য আর্থিক কিংবা ধর্মীয় সিদ্ধান্তের নির্দেশনা নয়। একজনের জন্য যে ব্যবস্থা উপযুক্ত হতে পারে, অন্যজনের জন্য তা নাও হতে পারে। বিশেষ করে ইসলামি ফাইন্যান্সের ক্ষেত্রে আলেমদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে এবং চুক্তির সামান্য পরিবর্তনেও ধর্মীয় সিদ্ধান্ত বদলে যেতে পারে।
তাহলে সুদ এড়িয়ে চলতে চান এমন কেউ ক্রেডিট কার্ড, গাড়ি বা বাড়ির ফাইন্যান্সিং নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পুরো চুক্তি ভালোভাবে পড়ুন, মোট কত টাকা পরিশোধ করতে হবে তা হিসাব করুন, সব ধরনের ফি ও জরিমানার শর্ত দেখুন এবং প্রয়োজন হলে যোগ্য ও বিশ্বস্ত ইসলামি স্কলার বা ইসলামিক ফাইন্যান্স বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা সুরক্ষা সংস্থার তথ্যও যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ