প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকার ইসলামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পর্যালোচনার অংশ হিসেবে ২৫২টি মাদরাসা বন্ধের নোটিশ জারি করেছে। প্রথম ধাপে আরও ১০০টি মাদরাসাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির একটি প্রতিবেদনে সম্প্রতি এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। রাজ্য সরকার জানিয়েছে, যদি এসব প্রতিষ্ঠান বৈধ অনুমোদনের প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হয়, তবে সেগুলো বন্ধ করে দেয়া হবে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বন্ধের নির্দেশ পাওয়া ২৫২টি মাদরাসার মধ্যে বেশিরভাগই খারিজি সম্প্রদায়ের। মালদায় অন্তত ৪৪টি, উত্তর দিনাজপুরে ৩৭টি, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ৩২টি এবং নদীয়া ও মুর্শিদাবাদে ২৫টি করে মাদরাসা রয়েছে।
সংখ্যালঘুবিষয়ক মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু সতর্ক করে বলেছেন, কারণ দর্শানোর নোটিশ পাওয়া মাদরাসাগুলোকে বৈধ অনুমোদনের প্রমাণ দিতে হবে। অন্যথায়, সেগুলো বন্ধ করে দেয়া হবে।
গত জুন মাসে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের স্বীকৃত ও অননুমোদিত মাদরাসার সংখ্যা নির্ধারণে জরিপের নির্দেশ দিয়েছিলেন। এরপর সংখ্যালঘুবিষয়ক ও মাদরাসা শিক্ষা দপ্তর কলকাতা এবং রাজ্যের ২২টি জেলায় জরিপ পরিচালনা করে।
জরিপে মাদরাসাগুলোর পরিচালন ব্যবস্থা, শিক্ষার্থীদের ভর্তি ও সংগঠন, অর্থের উৎস এবং নিবন্ধনের অবস্থা খতিয়ে দেখা হয়।
টুডু জানান, জরিপের ফলাফলের ভিত্তিতে প্রথম ধাপে ২৫২টি মাদরাসা বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া, গুরুতর অনিয়মের কারণে আরও ১০০টি মাদরাসাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে। বৈধ অনুমোদন বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হলে এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে বৈধ অনুমোদন নিয়ে ২ হাজার ১৩২টি মাদরাসা কার্যক্রম চালাচ্ছে। অপরদিকে, অননুমোদিত মাদরাসার সংখ্যা ২ হাজার ৩৯৬টি।
পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী ও বিজেপির জ্যেষ্ঠ নেতা অগ্নিমিত্রা পাল মাদরাসাগুলোর বিরুদ্ধে নেয়া পদক্ষেপকে সঠিক বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, এসব প্রতিষ্ঠানে ‘দেশবিরোধী শিক্ষা’ দেয়া হতো।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশভিত্তিক সন্ত্রাসীরা এসব অননুমোদিত মাদরাসায় আশ্রয় নিত। আমরা শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও সুশৃঙ্খল করতে চাই।’
তবে তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেছেন, মাদরাসা মূলত একটি শিক্ষাব্যবস্থা। তাই মাদরাসার সঙ্গে ‘সন্ত্রাসবাদের’ যোগসূত্র টানা ঠিক নয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন