শুক্রবার, ৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১২:০৯ এম
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) নতুন একটি মামলা দায়ের করেছে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার বোন শেখ রেহানার বিরুদ্ধে, যেখানে অভিযোগ করা হয়েছে ২৭৬ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা সংগ্রহ ও আত্মসাতের।
অভিযোগে বলা হয়েছে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের নামে বিভিন্ন ব্যাংকের করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা ফান্ড (সিএসআর) থেকে এই অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে। মামলায় বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) সাবেক সভাপতি ও এক্সিম ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম মজুমদারকেও আসামি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুদকের সহকারী পরিচালক মো. ইসমাইল হোসেন ঢাকার সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এ মামলা দায়ের করেন। দুদক সচিব মো. সাইদুর রহমান খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে ৪১টি ব্যাংকের সিএসআর ফান্ড থেকে মোট ২৭৬ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট’-এর জন্য সংগ্রহ করেছেন। এতে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, ‘দ্য ট্রাস্টস অ্যাক্ট, ১৮৮২’-এর আওতায় শেখ হাসিনা ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের সভাপতি এবং শেখ রেহানা ছিলেন সহ-সভাপতি। ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
দুদক জানিয়েছে, বাংলাদেশের ৪১টি তফসিলি ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত তথ্য ও রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করে তারা দেখতে পায়, তৎকালীন বিএবি সভাপতি মো. নজরুল ইসলাম মজুমদার তার প্রভাব খাটিয়ে বিএবির নির্বাহী কমিটির সভায় আলোচ্যসূচিতে না থাকা সত্ত্বেও ‘বিবিধ’ আলোচনার মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ট্রাস্টে অর্থ দেওয়ার বিষয়টি উপস্থাপন করেন। পরে নির্বাহী কমিটির সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ ট্রাস্টের অনুকূলে দেওয়ার জন্য বিভিন্ন ব্যাংকে চিঠি পাঠানো হয়। এর ফলস্বরূপ ৪১টি ব্যাংকের সিএসআর ফান্ড থেকে মোট ২৭৬ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা সংগ্রহ করা হয়।
দুদকের অভিযোগ, বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার অনুযায়ী ‘পলিসি গাইডলাইন অন করপোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি ফর ব্যাংকস অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশনস’-এ সিএসআর অর্থ ব্যয়ের বিষয়ে নির্দেশনা থাকলেও ট্রাস্টে এ ধরনের অনুদান দেওয়ার কোনো বিধান নেই।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, দুদকের সরেজমিন পরিদর্শনে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট’-এর ঠিকানায় দাপ্তরিক কার্যক্রমের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে ট্রাস্টটি সমাজসেবা অধিদপ্তর ও এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান নয় বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
দুদকের ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রাস্টের প্রতিশ্রুত কার্যক্রম বাস্তবায়নের প্রমাণও অনুসন্ধানে পাওয়া যায়নি। অভিযোগ করা হয়েছে যে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা ব্যক্তিগত লাভের অসৎ উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলে বিএবির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করে ব্যাংকগুলোর সিএসআর ফান্ড থেকে অর্থ সংগ্রহ করেছেন।
এজাহারে মো. নজরুল ইসলাম মজুমদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে যে, বিএবির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রভাব খাটিয়ে ৪১টি ব্যাংকের সিএসআর ফান্ড থেকে ট্রাস্টে অর্থ দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভূমিকা রেখেছেন। এই ফান্ডের অর্থ ট্রাস্টে অনুদান দেওয়ার বিধান না থাকা সত্ত্বেও ক্ষমতার অপব্যবহার করে ব্যাংকগুলোকে অর্থ প্রদানে বাধ্য করার অভিযোগও আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯ ও ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট অভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। ক্ষমতার অপব্যবহার ও জালিয়াতি করে রাজউকের আবাসন প্রকল্পে ১০ কাঠা করে ৬০ কাঠার প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে ৬টি মামলা করেছে দুদক।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রশাসনিক গতিশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে শীর্ষ পর্যায়ের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদে পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন কর্মকর্তাদের পদায়ন করা হয়েছে অতিরিক্ত মহাপরিচালক (উন্নয়ন), অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অবকাঠামো) এবং পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক পদে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন অনুবিভাগ থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়, যেখানে এই পরিবর্তনের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের উপসচিব কামরুল হাসান প্রজ্ঞাপনটিতে স্বাক্ষর করেন।
প্রজ্ঞাপনের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপকের (চলতি দায়িত্ব) পদে থাকা মো. সুবক্তগীনকে পদোন্নতি দিয়ে ঢাকার রেলভবনে অতিরিক্ত মহাপরিচালক-অবকাঠামো (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, ঢাকায় অতিরিক্ত মহাপরিচালক-উন্নয়ন (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা মামুনুল ইসলামকে স্থানান্তর করে চট্টগ্রাম পূর্বাঞ্চলের নতুন মহাব্যবস্থাপক (চলতি দায়িত্ব) বানানো হয়েছে।
এছাড়া, বর্তমানে অতিরিক্ত মহাপরিচালক-অবকাঠামো (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে কর্মরত আল ফাত্তাহ মো. মাসউদুর রহমানকে অতিরিক্ত মহাপরিচালক-উন্নয়ন (চলতি দায়িত্ব) পদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মূল পদায়নের পাশাপাশি তিনি পূর্বের ন্যায় মেগা প্রকল্প 'যমুনা সেতু রেল সংযোগ প্রজেক্টের' প্রকল্প পরিচালক হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করবেন।
মন্ত্রণালয়ের জারি করা নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, জনস্বার্থে গৃহীত এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত দেশে ১৫ হাজার ৭১৭টি শিশু নিখোঁজের সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে, এখনো ২ হাজার ৩৮ শিশু নিখোঁজ রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। শিশু নিখোঁজের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর জনমনে উদ্বেগ, উৎকন্ঠা ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ সদরদপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন জানিয়েছেন, সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত দেশে ১৫ হাজারের বেশি শিশু নিখোঁজ হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছে। এসব প্রতিবেদনে নিখোঁজ শিশুদের পরবর্তী অবস্থা, কতজন উদ্ধার হয়েছে বা পরিবারের কাছে ফিরে এসেছে, সে বিষয়গুলো উল্লেখ না থাকায় শিশু নিখোঁজের প্রকৃত চিত্র সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয়নি।
তিনি বলেন, জনমনে বিভ্রান্তি দূর করার জন্য স্থানীয় থানার মাধ্যমে বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। যাচাইয়ের ফলে জানা গেছে, জানুয়ারি থেকে জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত শূন্য থেকে নয় বছর বয়সী শিশুদের নিখোঁজের ঘটনায় ৪৭৪টি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে। এর মধ্যে ৪০৬ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে, এবং ৬৮ জন এখনও উদ্ধার হয়নি।
একই সময়ে, ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী ১৫ হাজার ২৪৩ শিশুর নিখোঁজের জিডি করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ২৭৩ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে এবং ১ হাজার ৯৭০ জন এখনও উদ্ধার হয়নি।
পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, দুই বয়সসীমা মিলিয়ে মোট ১৫ হাজার ৭১৭ শিশুর নিখোঁজের জিডি হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ জন উদ্ধার হয়েছে। এখনো ২ হাজার ৩৮ জন নিখোঁজ রয়েছে, যা মোট নিখোঁজের প্রায় ১৩ শতাংশ।
পুলিশ জানিয়েছে, শূন্য থেকে ৯ বছর বয়সী শিশুরা সাধারণত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অপরিচিত স্থানে ঘুরতে গিয়ে পথ হারাচ্ছে, পরিবারের সদস্যদের নাম-ঠিকানা বলতে না পারা এবং একাকী বাড়ি ফেরার সময় অন্যত্র চলে যাওয়ার কারণে নিখোঁজ হচ্ছে।
অন্যদিকে, ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সীদের নিখোঁজ হওয়ার পেছনে অভিমান, পড়ালেখার চাপ, অনৈতিক কাজে জড়িয়ে লজ্জার ভয়ে পালিয়ে থাকা, স্বাধীনভাবে জীবনযাপনের আকাঙ্ক্ষা, পরিবারের কাছ থেকে অর্থ বা অন্য সুবিধা আদায়ের চেষ্টা, পারিবারিক কলহ ও অশান্তি এবং বন্ধু বা সহপাঠীদের প্রভাবের মতো বিভিন্ন কারণ রয়েছে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, বর্তমানে অনলাইন জিডি সুবিধা চালু হওয়ায় নিখোঁজ সংক্রান্ত জিডির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে শিশু নিখোঁজের জিডি হয়েছিল ১৭ হাজার ৮০৮টি। ২০২৪ সালে তা কমে ১৬ হাজার ৪১৪ হলেও ২০২৫ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ২২ হাজার ৫৫০টিতে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর প্রথমবারের মতো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ অধিবেশনে যোগদান করে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েছেন ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ও বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাস। ২০০৬ সালের পর দীর্ঘ বিরতি দিয়ে সংসদে ফিরে এসে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করার সময় একপর্যায়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। পরে রুদ্ধকণ্ঠে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে প্রথমবারের মতো বক্তব্য দেন মির্জা আব্বাস। সংসদ অধিবেশনে হুইল চেয়ারে বসে বক্তব্য রাখেন বিএনপির এই প্রবীণ রাজনীতিবিদ।
জাতীয় সংসদ অধিবেশনে স্পিকারের অনুমতি নিয়ে মির্জা আব্বাস জানান, তিনি দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ মাস চিকিৎসাধীন ছিলেন। নির্বাচনের পরপরই একটি দলীয় রাজনৈতিক সভায় অংশ নেওয়ার সময় তিনি গুরুতর স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। এরপর জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে তাকে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় অবস্থান করতে হয়েছে। চিকিৎসা সম্পূর্ণ না হলেও এবং শরীর পুরোপুরি সুস্থ না থাকা সত্ত্বেও, নিছক ভালোবাসা, আবেগ ও জনগণের প্রতি গভীর মানবিক দায়বদ্ধতার কারণে তিনি আজকের সংসদে উপস্থিত হতে বাধ্য হয়েছেন।
সংসদ অধিবেশনে দাঁড়িয়ে বক্তব্য দেওয়ার সময় আবেগে তার কণ্ঠ বারবার বুজে আসছিল এবং তিনি নিজের অশ্রু সংবরণের চেষ্টা করছিলেন।
বক্তব্যের শুরুতে মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করে মির্জা আব্বাস শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং বাংলাদেশের গণতন্ত্রের আপসহীন নেত্রী সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে।
তিনি গভীর আবেগঘন কণ্ঠে জানান, ২০০৬ সালের পর আজ আবার এই পবিত্র কক্ষে একজন সংসদ সদস্য হিসেবে দাঁড়িয়ে কথা বলার সুযোগ পাওয়া তার রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম আবেগপূর্ণ ও স্মরণীয় মুহূর্ত। এটি তার জন্য পরম আনন্দের ও চরম গর্বের বিষয়।
নিজের শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসা সফর নিয়ে কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক এই উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, তার অসুস্থতার খবর শুনে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার স্বয়ং তাকে দেখতে গিয়েছিলেন। এ ছাড়া মাননীয় রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সার্বিকভাবে নিয়মিত তার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর রেখেছেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্পিকারের এই মানবিক ও আন্তরিক আচরণ তাকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছিল উল্লেখ করে মির্জা আব্বাস বলেন, এটি কেবল একজন অসুস্থ মানুষের প্রতি সাধারণ সমবেদনা ছিল না, বরং তা ছিল আমাদের সংসদীয় গণতন্ত্রের এক অপূর্ব ও মানবিক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তাদের এই আন্তরিকতা ও ভালোবাসা তিনি কোনোদিন ভুলবেন না বলেও উল্লেখ করেন।
সংসদীয় রাজনীতির প্রকৃত দর্শন পুনর্ব্যক্ত করে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, আজ এই সংসদে ফিরে এসে তার মনে হচ্ছে রাজনীতি কেবল দলীয় পার্থক্য বা রাজনৈতিক সংঘাতের বিষয় নয়; রাজনীতি মূলতঃ মানুষের সেবা করার জন্য। মহান সংসদ কোনো নেহাত বিতর্কের মঞ্চ নয়, এটি গণমানুষের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটানোর পবিত্রতম স্থান।
তিনি বলেন, আল্লাহ তাআলা যেন তাকে দ্রুত পূর্ণ সুস্থতা দান করেন, যাতে নির্বাচনি এলাকা তথা সমগ্র বাংলাদেশের মানুষের জন্য জীবনের বাকি সময়টুকু নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে কাজ করে যেতে পারেন।
বক্তব্যের শেষভাগে তিনি তাকে দেখতে আসা, খোঁজখবর নেওয়া এবং অসুস্থতার দিনগুলোতে যার যার অবস্থান থেকে দোয়া ও প্রার্থনা করা সব সহকর্মী সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক সহযোদ্ধা এবং দেশবাসীর প্রতি চিরকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, ২০০৬ সালের দীর্ঘ ব্যবধানের পর আজ আবার সংসদে দাঁড়িয়ে তিনি কেবল একটি কথাই বলতে চান, তিনি মানুষের কাছে, মানুষের সেবায় এবং প্রিয় বাংলাদেশের সমৃদ্ধির স্বার্থে কাজ করতেই আবার ফিরে এসেছেন। দেশ ও জাতির সেবায় যেন বাকি জীবনটুকু আত্মনিয়োগ করতে পারেন, সেজন্য দলমত নির্বিশেষে দেশের সব মানুষের কাছে দোয়া চেয়ে তিনি নিজের বক্তব্য শেষ করেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের নারীমুক্তি আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব, প্রখ্যাত সাংবাদিক ও নারীবাদী অধিকারকর্মী গ্লোরিয়া স্টেইনেম আর বেঁচে নেই। তার বয়স ছিল ৯২ বছর মৃত্যুর সময়।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্ক সিটিতে নিজের বাসভবনে তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। সামাজিক মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে স্টেইনেমের প্রতিষ্ঠিত ফাউন্ডেশন নিশ্চিত করেছে যে, তার জীবনের শেষ মুহূর্তে স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীরা তার পাশে ছিলেন।
লেখক, সাংবাদিক এবং সাময়িকী সম্পাদক হিসেবে পাঁচ দশকেরও বেশি সময়ের কর্মজীবনে নারীদের সামাজিক ও রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় তিনি আপসহীন ভূমিকা পালন করেছেন। যৌন বৈষম্য দূরীকরণের লক্ষ্যে তিনি গড়ে তুলেছিলেন 'উইমেনস অ্যাকশন অ্যালায়েন্স'। পরবর্তীতে নারী অধিকার এবং বৈষম্যবিরোধী সাংবাদিকতাকে নতুন মাত্রা দিতে তিনি সহপ্রতিষ্ঠাতা হিসেবে প্রকাশ করেন ঐতিহাসিক 'মিস' ম্যাগাজিন। এই প্রকাশনা প্রচলিত গৃহস্থালি বা রূপচর্চাবিষয়ক আলোচনার বাইরে এসে রাজনীতি, সমাজ এবং নারীর স্বতন্ত্র পরিচয়ের গল্প তুলে ধরার জন্য বিশ্বজুড়ে সমাদৃত হয়।
বিশেষ করে সত্তর দশকে নারীর প্রজনন স্বাধীনতা ও গর্ভপাতের অধিকার রক্ষার লড়াইয়ে তিনি ছিলেন অগ্রণী কণ্ঠস্বর। ২২ বছর বয়সে লন্ডনে আইনি জটিলতার মুখোমুখি হয়ে গর্ভপাত করানোর যে তিক্ত অভিজ্ঞতা তিনি লাভ করেছিলেন, তা তাকে এ বিষয়ে আজীবন সোচ্চার করে রেখেছিল। ১৯৭৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক 'রো বনাম ওয়েড' রায়ে গর্ভপাতের সাংবিধানিক স্বীকৃতি পাওয়ায় তিনি উল্লাস প্রকাশ করেছিলেন। তবে ২০২২ সালে সেই রায় বাতিল হওয়ার ঘটনাও নিজের জীবদ্দশায় প্রত্যক্ষ করেন এই বিদগ্ধ নারী।
নারীবাদে সীমাবদ্ধ না থেকে, কর্মক্ষেত্রে সমান মজুরি, সমলিঙ্গের বিয়ের আইনি স্বীকৃতি, মৃত্যুদণ্ড প্রথা বিলোপ এবং নারী যৌনাঙ্গ বিকৃতি রোধে বিশ্বজুড়ে চলা সচেতনতামূলক আন্দোলনে স্টেইনেম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
সামাজিক সমতা অর্জনে কয়েক দশকের একনিষ্ঠ নিবেদনের মাধ্যমে আমেরিকান সমাজব্যবস্থায় নারী অধিকার আন্দোলনের প্রধান অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছিলেন গ্লোরিয়া স্টেইনেম। তার প্রয়াণে বিশ্বজুড়ে নারী অধিকার কর্মীদের মাঝে এক গভীর শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ